📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের অসংলগ্ন আচরণের ধৈর্যধারণের দৃষ্টান্ত

📄 বেদুইনদের অসংলগ্ন আচরণের ধৈর্যধারণের দৃষ্টান্ত


আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জিইরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম। জায়গাটি মক্কা ও মদিনার মাঝখানে অবস্থিত ৩২৩। তাঁর সাথে তখন বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও ছিলেন। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক বেদুইন এসে বলল, "আপনি কি আমাকে ওয়াদাকৃত বস্তু থেকে দেবেন না?"৩২৪

তিনি উত্তর দিলেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করো।"

বেদুইন লোকটা বলল, "এ কথাটি আপনি অনেকবারই বলেছেন।"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত চেহারা নিয়ে বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে তাকালেন। তাঁদের বললেন, "সে সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা তা গ্রহণ করো।"

তাঁরা বললেন, "আমরা গ্রহণ করলাম।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানিভর্তি পাত্র আনার জন্য বললেন। পাত্র আনা হলে তিনি দুহাত ও মুখ ধুলেন। পানি দিয়ে কুলি করলেন। এরপর বললেন, "তোমরা এ পানির কিছু অংশ পান করো। কিছুটা তোমাদের মুখে ও বুকে ছিটিয়ে দাও এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো।"

তাঁরা পাত্রটা নিয়ে তা-ই করলেন। ওদিকে উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) পর্দার ভেতর থেকে বললেন, "তোমাদের মায়ের জন্য কিছুটা রেখো।" তারা উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর জন্য কিছুটা রাখলেন। '৩২৫

কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'বেদুইনের এমন কথা বলার কারণ হচ্ছে, তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্পর্কে জানতেন না, জানতেন না তাঁর দেওয়া সুসংবাদের মাহাত্ম্য সম্পর্কেও। তখন সে সুসংবাদ অন্যদের জন্য সাব্যস্ত হয়ে গেল, তারাও তা গ্রহণ করে নিলেন। ফলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বঞ্চিত হলেন।

البُشْرَى হচ্ছে আনন্দদায়ক সংবাদ। সুসংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তির মুখে আনন্দের রেখা ফুটে উঠে বলে সুসংবাদকে بُشْرَى শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এ শব্দটি মৌলিকভাবে ভালো সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অর্থের প্রশস্ততার কারণে মন্দ সংবাদের ক্ষেত্রেও কখনো সখনো ব্যবহৃত হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বললেন, "সুসংবাদ নাও।" কিন্তু সুসংবাদটা ঠিক কী, তা স্পষ্ট করেননি। কারণ, তিনি এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু বেদুইন নিজের অজ্ঞতাবশত তা ফিরিয়ে দিয়ে বঞ্চিত হয়ে গেল। পক্ষান্তরে যারা তার মাহাত্ম্য বুঝতে পেরেছেন, তারা ঠিকই তা লুফে নিলেন এবং বড় কল্যাণের সুসংবাদ ও মহাসৌভাগ্য অর্জন করে নিলেন।

আর তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পানিতে মুখ ধুয়ে তাতে কুলি করলেন এবং সাহাবিগণকে তা পান করতে এবং শরীরে মাখতে বললেন, এটা তাদের নিকট ভালোভাবে কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য করলেন। '৩২৬

টিকাঃ
৩২২. ফাতহুল বারি: ১০/৫০৬, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৪৭।
৩২৩. অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারের মতে, জায়গাটি মক্কার অধিক নিকটে মক্কা ও তায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত।
৩২৪. হতে পারে গনিমতের অংশ দেওয়ার ওয়াদাটা কেবল এ বেদুইন সাহাবির জন্য ছিল। আবার এও সম্ভাবনা আছে যে, ওয়াদাটা ব্যাপকভাবে সকলের জন্য প্রযোজ্য ছিল। আর এ বেদুইন সাহাবি তার অংশটা দ্রুত চেয়ে বসেছেন। কারণ, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণে হুনাইনের গনিমত জিইরানা নামক স্থানে একত্র করার আদেশ দিয়েছিলেন। আর তিনি মুসলিম সেনাদল নিয়ে তায়িফ অভিমুখী ছিলেন তখন। যখন সেখান থেকে ফিরলেন, তখন তিনি গনিমত বণ্টনের আদেশ দিলেন জিইরানাতে। কিন্তু অনেক নওমুসলিম গনিমতের বণ্টন ও তাদের অংশ পেতে দেরি হওয়ার কারণে তাদের এমন অবস্থা দেখা যায়। দেখুন, ফাতহুল বারি: ৮/৪৬।
৩২৫. সহিহুল বুখারি: ৪৩২৮, সহিহ মুসলিম: ৫০৩।
৩২৬. আল-মুফহিম: ৬/৪৪৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 হত্যা করার চেষ্টাকারী বেদুইনকেও মাফ করে দিতেন

📄 হত্যা করার চেষ্টাকারী বেদুইনকেও মাফ করে দিতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নাজদ অভিমুখে একটি যুদ্ধে গিয়েছিলেন। (যুদ্ধ শেষে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফিরে আসছিলেন, তিনিও তাঁর সাথে ফিরে আসছিলেন। ফেরার পথে দুপুরে প্রখর রোদ তাঁদের অসংখ্য কাঁটাওয়ালা বৃক্ষসংবলিত একটি উপত্যকায় নিয়ে আসলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে যাত্রাবিরতি দিলেন। কাফেলার লোকজন আলাদা আলাদা হয়ে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে লাগল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন পাতাবিশিষ্টি একটি গাছের নিচে বসলেন এবং তাঁর তলোয়ারটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখলেন।'

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা একচোট ঘুমিয়ে নিলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ডাকলেন। আমরা তাঁর নিকট আসলাম এবং দেখতে পেলাম, সেখানে একজন বেদুইন ৩২৭ বসে আছে।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি যখন ঘুমে ছিলাম, তখন এ লোকটি আমার তরবারি কোষমুক্ত করেছিল। আমি ঘুম থেকে জেগে উঠে তাকে কোষমুক্ত তলোয়ার হাতে দেখলাম। সে আমাকে বলল, "আমাকে আপনি ভয় করেন?" আমি বললাম, "না।” সে বলল, "আমার হাত থেকে আপনাকে কে বাঁচাবে?” আমি তিনবার বললাম, "আল্লাহই বাঁচাবেন।" এরপর তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যায়। আর এখন সে তোমাদের সামনে বসে আছে।"

তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বেদুইনকে কোনো শাস্তি দিলেন না। '৩২৮

অন্য বর্ণনায় আরও এসেছে, তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা উঠিয়ে নিয়ে বলেন, 'এবার তোমাকে কে বাঁচাবে?' সে বলল, 'আপনি ভালোর ধারক হোন।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি সাক্ষ্য দাও আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই আর আমি আল্লাহর রাসুল।'

বেদুইন উত্তর দিল, 'আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, কখনো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না। এমন সম্প্রদায়ের সাথেও যোগ দেবো না, যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করে।'

অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যেতে দিলেন। তখন সে নিজের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে বলল, 'আমি তোমাদের নিকট এলাম সবচেয়ে উত্তম মানুষটির কাছ থেকে। '৩২৯

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাস্তি দেননি, এর কারণ হলো, তিনি চেয়েছিলেন, এর মাধ্যমে যেন বেদুইনরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে নেয়।

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* আমিরের প্রতি কেউ রুক্ষ আচরণ করলে চাইলে তিনি শাস্তি দিতে পারেন, আবার চাইলে তিনি মাফও করে দিতে পারেন।
* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপম ধৈর্য ও সহনশীলতা।
* তাঁর বীরত্ব ও প্রতিপত্তির প্রমাণ। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করবেন এবং সকল দ্বীনের ওপর তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেন। ৩৩০

টিকাঃ
৩২৭. সে বেদুইনের নাম ছিল, গাওরাস বিন হারিস।
৩২৮. সহিহুল বুখারি: ২৯১০, সহিহু মুসলিম: ৮৪৩।
৩২৯. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৪৩২২; শাইখাইনের শর্তমতে সহিহ। হাফিজ জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-ও সনদ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-ও এ হাদিসকে সহিহ বলেছেন।
৩৩০. শারহু সহিহিল বুখারি: ৫/১০১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনরা বেশি প্রশ্ন করলেও ধৈর্য সহকারে জবাব দিতেন

📄 বেদুইনরা বেশি প্রশ্ন করলেও ধৈর্য সহকারে জবাব দিতেন


সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনেক কিছু জানতে চাইলেও অনেক প্রশ্ন তাঁরা ভয়ে ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মানের কারণে জিজ্ঞেস করতেন না। আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যাপারে চুপ থেকেছেন, সে ব্যাপারে জানতে চাইতেন না এ ভয়ে যে, যদি সেসব হারাম হয়ে যায় আর প্রশ্নকর্তা নিজেই যদি তাতে পরে লিপ্ত হয়ে গুনাহগার হয়ে যায়!

তাই যখনই কোনো বেদুইনকে তারা মদিনায় আসতে দেখতেন, তারা আনন্দিত হতেন এই ভেবে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করবেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলে তাঁরা সবাই উপকৃত হবেন।

নাওয়াস বিন সামআন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনায় আমি এক বছর অবস্থান করি। কিন্তু বেদুইন জীবন ছেড়ে মদিনায় হিজরত থেকে কেবল একটি কারণেই বিরত থাকি। সেটি হচ্ছে, জিজ্ঞাসা করার সুযোগ। কারণ, আমাদের কেউ হিজরত করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছুই জিজ্ঞেস করত না। '৩৩১

নাওয়াস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদিনায় এক বছর মেহমানের মতো ছিলেন। মদিনায় হিজরত ও মদিনাকে নিজের আবাস হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলেও দ্বীন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইবার আকাঙ্ক্ষা তাকে হিজরত থেকে বিরত রাখে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আকস্মিক কোনো কিছু জানতে চাওয়ার অনুমতি তাদের জন্য ছিল, মুহাজিরদের জন্য এমন সুযোগ হতো না। তাই বেদুইন বা অন্য ভিনদেশিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করলে মুহাজির সাহাবিরা খুশি হতেন। কারণ, তাদের জন্য প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল, তাদের প্রশ্ন করার ওজরও ছিল, কিন্তু মুহাজিরদের জন্য তা ছিল না বিধায় তাঁরা ভিনদেশিদের প্রশ্নের মাধ্যমে উপকৃত হতেন। ৩৩২

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'কিছু বিষয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করার ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাই আমরা আশা করতাম যে, সে বিষয়টি যদি কোনো বুদ্ধিমান বেদুইন এসে জিজ্ঞেস করে, তবে আমরাও উপকৃত হতাম তা শুনে।'

একদিন আমরা মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসা ছিলাম। ইত্যবসরে এক বেদুইন উটে চড়ে আসলেন। মসজিদে প্রবেশ করে উটকে বসালেন। এরপর উটটিকে একটি খুঁটিতে বেঁধে রেখে বললেন, "আপনাদের মাঝে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে?"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সকলের অগ্রভাগে হেলান দিয়ে ছিলেন। আমরা বললাম, "সুন্দর অবয়ববিশিষ্ট হেলান দেওয়া এ মানুষটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।"

লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, "হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমার আহ্বানের উত্তর দেওয়া হলো।'

আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব। জিজ্ঞাসাগুলো আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। তাই আপনি আমার ওপর রাগ করবেন না যেন!

তোমার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করো।

হে মুহাম্মাদ, আপনি আমাদের নিকট রাসুল হয়ে এসেছেন। দূত হয়ে এসেছেন। এক লোক বলল যে, আপনি নাকি বলেন, "আল্লাহ আপনাকে আমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন?"

সে লোকটি সত্য বলেছে।

তাহলে বলুন, আসমানের সৃষ্টিকর্তা কে?

আল্লাহ।

কে এ পাহাড়গুলো প্রতিস্থাপন করেছে, আর তাতে যা সৃষ্টি করার তা সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ।

যে আল্লাহ আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, জমিনের ওপর পাহাড় প্রতিস্থাপন করেছেন-সে আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, তিনিই কি আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ।"
সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের সম্পদে জাকাত ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে জাকাতের আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, “প্রতি বছর রমাজান মাসের রোজা আমাদের ওপর ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে রোজার আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের যারা সামর্থ্যবান তাদের ওপর বাইতুল্লাহর হজ করা ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

এরপর লোকটি ফিরে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, "সে সত্তার শপথ করে বলছি যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি এর ওপর কোনো কিছু বাড়াবও না, কোনো কিছু কমাবও না।" এ বলে তিনি চলে গেলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"৩৩৪

টিকাঃ
৩৩১. সহিহু মুসলিম: ২৫৫৩।
৩৩২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১১১।
৩৩৩. বেদুইন সে সাহাবি ছিলেন, জিমাম বিন সালাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
৩৩৪. সহিহুল বুখারি: ৬৩৩, সহিহু মুসলিম: ১২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন

📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে বললেন, "কিয়ামত কখন হবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বেদুইনের কথার উত্তর না দিয়ে আগের মতো কথা বলতে থাকলেন।

তখন একজন মন্তব্য করলেন, "তিনি শুনেছেন, তবে এ কথাটি অপছন্দ করেছেন বিধায় উত্তর দেননি।"

আরেকজন বললেন, "না, বরং তিনি শুনেনইনি। "৩৩৫

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, "কিয়ামত সম্পর্কে জানতে চাইল কে?"

বেদুইন বললেন, "আমি, হে আল্লাহর রাসুল।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যখন আমানত বিনষ্ট হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো।"

লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "আমানতের বিনষ্টতা কেমন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যখন অযোগ্যকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো। "৩৩৬

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* কেউ কিছু জানতে চাইলে, তাকে সে বিষয়ের ইলম শিক্ষা দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসে আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সাথে কথা শেষ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কোথায় সে প্রশ্নকর্তা?' এরপর তাকে প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
* শিক্ষার অন্যতম আদব হচ্ছে, শিক্ষার্থী শিক্ষককে সে সময় কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে না, যে সময় শিক্ষক অন্য কোনো কথা বা অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কারণ, তারাই অগ্রাধিকার পাবে, যারা আগে কথা শুরু করেছিল। তাদের সাথে কথা শেষ হওয়ার আগে কথার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো ঠিক নয়।
* শিক্ষার্থী যদিও প্রশ্ন করার সময় মূর্খতা বা রুক্ষতা দেখায়, তবুও শিক্ষক কোমলতার সাথে উত্তর দেবে। কারণ, হাদিসে আমরা দেখেছি কথা পূর্ণ করার আগে প্রশ্ন করলেও সে বেদুইন সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধমক দেননি।
* প্রশ্নকারী যদি উত্তর না বুঝে থাকে, তবে পুনরায় প্রশ্ন করা জায়িজ আছে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বোঝানোর পরও সে বেদুইন সাহাবি পুরো বিষয়টা বুঝতে পারেননি বলে আবারও প্রশ্ন করেছিলেন যে, 'আমানত বিনষ্ট হয় কীভাবে?'৩৩৭

টিকাঃ
৩৩৫. 'সাহাবিদের মাঝে এ দ্বিধার কারণ হচ্ছে, একজন লোকের প্রশ্নের উত্তর দেননি, এমনকি তিনি প্রশ্নকারীর প্রতি তাকানওনি; বরং এ বিষয়ে তিনি ছিলেন নির্লিপ্ত। ...এ থেকে বোঝা যায়, কারও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কেবল উল্লিখিত দুটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কখনো অন্যদের সাথে কথাগুলো পূর্ণ করা পর্যন্ত কৃত প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করার অবকাশ আছে।' দেখুন, ফাতহুল বারি : ১/১৪৩।
৩৩৬. সহিহুল বুখারি: ৫৯।
৩৩৭. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১/১২৭, উমদাতুল কারি: ২/৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00