📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 প্রশ্নকারীর অনুরোধে সম্ভবপর ক্ষেত্রে ছাড় দিতেন

📄 প্রশ্নকারীর অনুরোধে সম্ভবপর ক্ষেত্রে ছাড় দিতেন


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য তা হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারও জন্য তা হালাল করা হবে না। তবে আমার জন্য একটি দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। সুতরাং এখানকার ঘাস কাটা যাবে না। গাছ উপড়ানো যাবে না। এখানকার কোনো পশু শিকার করা যাবে না। এখান থেকে অন্যের কোনো পড়ে থাকা বস্তু ওঠানো যাবে না, তবে মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠাতে পারবে।"

আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, ইজখির২৭০ ব্যতীত। কারণ, তা গহনা তৈরিতে ও কবরের জন্য প্রয়োজন হয়।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ঠিক আছে ইজখির ব্যতীত।"২৭১

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, '(ইজখির ব্যতীত) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাক্যটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, হয়তো বাদ দেওয়ার আবেদনের সময় তাঁর নিকট ওহি এসেছে, ফলে তিনি এ উদ্ভিদকে বাদ দিয়েছেন। অথবা তাঁর নিকট প্রথমেই ওহি এসেছিল যে, যদি কেউ কোনো কিছু বাদ রাখার আবেদন করে, তবে তিনি যেন বাদ দেন। অথবা তিনি পুরো বিষয়টিতে ইজতিহাদ করেছেন। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। '২৭২

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য (কাবাকে কিছু সময়ের জন্য তাঁর জন্য হালাল করা) জানা যায়।
* শরিয়তের কল্যাণের উদ্দেশ্যে আলিমকে সংশোধন করে দেওয়া জায়িজ আছে। কোনো সমাবেশস্থলে সংশোধন করতে হলেও তা করা জায়িজ।
* আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে।
* মক্কার প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ তত্ত্বাবধান।
* মক্কা থেকে মদিনাতে হিজরতের ফরজ বিধান রহিত হওয়া এবং কিয়ামত পর্যন্ত কুফরের রাষ্ট্র থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরতের হুকুম বলবৎ থাকা। ২৭৩

টিকাঃ
২৭০. ইজখির হচ্ছে, একপ্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ।
২৭১. সহিহুল বুখারি: ১৩৪৯, সহিহু মুসলিম: ১৩৫৩।
২৭২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/১২৭।
২৭৩. ফাতহুল বারি: ৪/৫০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية