📄 উম্মাহর জন্য সবচেয়ে উপকারী বিষয়টি বাছাই করতেন
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মিরাজের রাতের কথা বললেন। তিনি বললেন, "আমি মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম। তিনি চিকন অবয়ববিশিষ্ট একজন মানুষ। যেন শানুআ গোত্রের কোনো লোক। ইসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম। তিনি মাঝারি গড়নের মানুষ। খাটোও নন, আবার লম্বাও নন। গায়ের রং লালচে। দেখে মনে হলো, যেন এইমাত্র গোসলখানা থেকে বের হয়ে এলেন। আর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মাঝে তার সাথে সবচেয়ে বেশি মিলযুক্ত পেলাম আমাকে।"
এরপর দুটি পাত্র আনা হলো আমার সামনে। একটিতে দুধ, অপরটিতে মদ। বলা হলো, যে পাত্র থেকে ইচ্ছে পান করুন। আমি দুধের বাটি নিয়ে পান করলাম। তখন বলা হলো, "আপনি ফিতরাত (সঠিক স্বভাব) গ্রহণ করেছেন। যদি আপনি মদের পাত্র বেছে নিতেন, তবে আপনার উম্মত গোমরাহ হয়ে যেত। "২৬৭
টিকাঃ
২৬৭. সহিহুল বুখারি: ৩৩৯৪, সহিহু মুসলিম: ১৬৮।
📄 অসারদের জন্য বিধানে ছাড় দিতেন
আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'মুজদালিফার রাতে সাওদা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর পূর্বে এবং মানুষের ভিড় হওয়ার আগেই মিনার দিকে রওনা হওয়ার অনুমতি চাইলেন। সাওদা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর শরীর ভারী ছিল। ধীরগতির মহিলা ছিলেন তিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগেই বেরিয়ে গেলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানে রয়ে গেলাম। অতঃপর পরবর্তী দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওনা হলাম। যদি আমি সাওদা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিতাম, তবে সেটাই আমার জন্য অধিক স্বস্তির হতো।'২৬৮
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাজিদের পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতগুলো মক্কায় কাটাতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। '২৬৯
টিকাঃ
২৬৮. সহিহুল বুখারি: ১৬৮০, সহিহু মুসলিম: ১২৯০।
২৬৯. সহিহুল বুখারি: ১৬৩৪, সহিহু মুসলিম: ১৩১৫।
📄 প্রশ্নকারীর অনুরোধে সম্ভবপর ক্ষেত্রে ছাড় দিতেন
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা মক্কাকে হারাম করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য তা হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারও জন্য তা হালাল করা হবে না। তবে আমার জন্য একটি দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। সুতরাং এখানকার ঘাস কাটা যাবে না। গাছ উপড়ানো যাবে না। এখানকার কোনো পশু শিকার করা যাবে না। এখান থেকে অন্যের কোনো পড়ে থাকা বস্তু ওঠানো যাবে না, তবে মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠাতে পারবে।"
আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, ইজখির২৭০ ব্যতীত। কারণ, তা গহনা তৈরিতে ও কবরের জন্য প্রয়োজন হয়।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ঠিক আছে ইজখির ব্যতীত।"২৭১
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, '(ইজখির ব্যতীত) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাক্যটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, হয়তো বাদ দেওয়ার আবেদনের সময় তাঁর নিকট ওহি এসেছে, ফলে তিনি এ উদ্ভিদকে বাদ দিয়েছেন। অথবা তাঁর নিকট প্রথমেই ওহি এসেছিল যে, যদি কেউ কোনো কিছু বাদ রাখার আবেদন করে, তবে তিনি যেন বাদ দেন। অথবা তিনি পুরো বিষয়টিতে ইজতিহাদ করেছেন। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। '২৭২
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য (কাবাকে কিছু সময়ের জন্য তাঁর জন্য হালাল করা) জানা যায়।
* শরিয়তের কল্যাণের উদ্দেশ্যে আলিমকে সংশোধন করে দেওয়া জায়িজ আছে। কোনো সমাবেশস্থলে সংশোধন করতে হলেও তা করা জায়িজ।
* আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে।
* মক্কার প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ তত্ত্বাবধান।
* মক্কা থেকে মদিনাতে হিজরতের ফরজ বিধান রহিত হওয়া এবং কিয়ামত পর্যন্ত কুফরের রাষ্ট্র থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরতের হুকুম বলবৎ থাকা। ২৭৩
টিকাঃ
২৭০. ইজখির হচ্ছে, একপ্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ।
২৭১. সহিহুল বুখারি: ১৩৪৯, সহিহু মুসলিম: ১৩৫৩।
২৭২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/১২৭।
২৭৩. ফাতহুল বারি: ৪/৫০।