📄 ফতোয়াপ্রার্থীর অবস্থার প্রতি খেয়াল করতেন
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে স্পর্শ করা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন।'
এরপর আরেক ব্যক্তি এসে একই প্রশ্ন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন।
যার ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন বৃদ্ধ। আর যাকে নিষেধ করেছেন, তিনি ছিলেন যুবক।'২৫১
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বৃদ্ধ ও যুবকের মধ্যে পার্থক্য করতেন।
এ হাদিস থেকে উলামায়ে কিরাম মাসআলা বের করেছেন যে, যুবক ও যুবকের মতো যৌবনধারী পুরুষদের ক্ষেত্রে রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করা মাকরুহ। কারণ, এমন সময় তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে বিধায় হারামে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কা নেই, তাদের জন্য মাকরুহ নয়। ২৫২
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ বিষয়ে দ্বিমত নেই যে, যদি চুমু দিলে বীর্য না পড়ে, তবে সে চুমুতে সিয়াম বিনষ্ট হবে না।'২৫৩
টিকাঃ
২৫১. সুনানু আবি দাউদ: ২৩৮৭।
২৫২. মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বাজ: ১৫/৩১৫।
২৫৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/২১৫।
📄 সাহাবিরাও ফতোয়াপ্রার্থীর অবস্থা বিবেচনা করতেন
সাদ বিন উবাইদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এলেন। তাকে বললেন, "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার জন্য তাওবার সুযোগ আছে কি?"
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "না। তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত।"
এ ব্যক্তি চলে গেলে তার ছাত্ররা প্রশ্ন করলেন, "আপনি তো আমাদের ভিন্ন ফতোয়া দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, কোনো মুমিনকে হত্যা করলেও হত্যাকারী মুমিনের তাওবা কবুল হয়। কিন্তু আজ কেন ভিন্ন ফতোয়া দিলেন?”
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আমার ধারণা, এ লোকটি রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো মুমিনকে হত্যা করতে উদ্যত (তাই ফতোয়া জানতে এসেছিল)।”
এ কথা শুনে ছাত্ররা লোকটির পিছু নিল এবং সত্যিসত্যিই তাকে এমন কর্মে উদ্যত পেল। '২৫৪
টিকাঃ
২৫৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/২১৫।
📄 জিজ্ঞাসিত বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইতেন
আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামান পাঠালেন। আমি তখন বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, অনেক ধরনের পানীয় আছে সেখানে। কোনটা পান করব, আর কোনটা থেকে বিরত থাকব?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, "কী কী ধরনের পানীয়?"
আমি বললাম, "বিতউ ও মিজর।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বিতউ ও মিজর কী?"
আমি বললাম, "বিতউ মধু থেকে তৈরি হয়, আর মিজর তৈরি হয় ভুট্টা থেকে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার জানতে চাইলেন, "এ পানীয়তে নেশা হয় কি?"
আমি বললাম, "জি।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নেশাজাতীয় কিছু পান করবে না। আমি প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম ঘোষণা করেছি।"২৫৫
টিকাঃ
২৫৫. সুনানুন নাসায়ি: ৫৬০৩। সংক্ষেপে এসেছে, সহিহুল বুখারি: ৪৩৪৩, সহিহু মুসলিম: ১৭৩৩।
📄 জিজ্ঞাসিত বস্তুর স্বরূপ ও প্রকৃতি জানতে চাইতেন
আওফ বিন মালিক আশজায়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমরা জাহিলি যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চেয়ে আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাদের ঝাড়ফুঁকের ধরন আমার সামনে উপস্থাপন করো। যদি তোমাদের ঝাড়ফুঁকে কোনো শিরক না থাকে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।"২৫৬
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঝাড়ফুঁক থেকে নিষেধ করলেন। এরপর আমর বিন হাজম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরিবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা বিচ্ছুর কামড় দিলে একপ্রকার ঝাড়ফুঁক করি। আর আপনি ঝাড়ফুঁক থেকে নিষেধ করেছেন।" এ কথা বলে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে ঝাড়ফুঁক করে দেখাল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে পারলে, সে যেন তা করে।"২৫৭
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, '(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ করেছিলেন)-উলামায়ে কিরাম এর কয়েকটি উত্তর দিয়েছেন।
১. ঝাড়ফুঁক প্রথমে নিষিদ্ধ করেছিলেন। অতঃপর নিষেধাজ্ঞা রহিত করে তার অনুমতি দিয়েছেন।
২. নিষেধাজ্ঞা মূলত অজানা রুকইয়া সম্পর্কে ছিল।
৩. নিষেধাজ্ঞা মূলত সে লোকদের জন্য, যারা বিশ্বাস করে যে, রুকইয়া নিজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং উপকার করতে পারে, যেমনটা জাহিলি যুগের মানুষের বিশ্বাস ছিল। '২৫৮
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আলিমদের মাঝে ইজমা রয়েছে যে, ঝাড়ফুঁক জায়িজ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। যথা:
১. তা আল্লাহর কালাম, আল্লাহর নাম ও গুণবাচক নামসমূহের মাধ্যমে করতে হবে।
২. আরবি ভাষায় করতে হবে; অথবা অন্য ভাষায় হলে স্পষ্ট অর্থ বোঝা যেতে হবে।
৩. এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ঝাড়ফুঁক নিজে থেকে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না; বরং আল্লাহই মূল আরোগ্য দানকারী।' ২৫৯
টিকাঃ
২৫৬. সহিহু মুসলিম: ২২০০।
২৫৭. সহিহু মুসলিম: ২১৯৯।
২৫৮. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১৬৮।
২৫৯. ফাতহুল বারি: ১০/১৯৫।