📄 সম্ভাব্য ও ঘটিতব্য বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতেন
এখনো ঘটেনি-এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অপছন্দনীয় ছিল। কারণ, তা একপ্রকার কৃত্রিমতা। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোটেই লৌকিকতাকারী ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ
'বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না আর আমি লৌকিকতাকারীও নই। '২০৭
অন্যদিকে, যে বিষয়টি ঘটবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করার গুরুত্ব রয়েছে অনেক। যাতে যখন তা ঘটবে, শরিয়তের আলোকে সে সময়ের করণীয় জানা থাকে।
হুজাইফা বিন ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মানুষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্তম বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চাইত। কিন্তু আমি মন্দে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় মন্দ বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চাইতাম।
এ রকম একটি প্রশ্ন করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা জাহিলিয়াত ও মন্দের মাঝে ডুবে ছিলাম। এরপর আল্লাহ আমাদের ইসলামের মতো একটি উত্তম নিয়ামতে ভূষিত করলেন। এ উত্তমের পর কি কোনো মন্দ আছে আমাদের ভাগ্যে?"
হাঁ।
সে মন্দের পর কি উত্তমতা আছে?
হাঁ, আছে। তবে তা ধোঁয়ায় ধূমায়িত।
কেমন ধোঁয়া?
এক দল লোক আমার সুন্নাত ছেড়ে ভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করবে। তারা আমার হিদায়াতের পথ ছেড়ে ভ্রান্ত পথে চলে যাবে। তুমি তাদের কতককে দেখবে। আর কতক তোমার অজ্ঞাতে থাকবে।
এর পরে কি কোনো মন্দ থাকবে?
হাঁ, জাহান্নামের দরোজার কিছু আহ্বানকারী। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে, তাদের নিয়ে তারা জাহান্নামে ফেলবে।
হে আল্লাহর রাসুল, তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন।
বলছি, শোনো। আমাদের গায়ের রংয়ের মতোই তাদের গায়ের রং হবে। তারা আমাদের ভাষায় কথা বলবে।
হে আল্লাহর রাসুল, সে সময় যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আমার করণীয় কী হবে?
তুমি মুসলিমদের জামাআত ও আমিরকে আঁকড়ে ধরবে।
যদি সে সময় মুসলিমদের কোনো জামাআত ও ইমাম না থাকে?
তুমি সব দল ছেড়ে পৃথক থাকবে। যদিও তোমাকে গাছের শিকড় কামড়ে থাকতে হয় এবং এ অবস্থাতেই তোমার মৃত্যু হয়, তবে তা-ই তোমার জন্য মঙ্গলজনক। '২০৮
রাফি বিন খাদিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আগামী দিনে শত্রুর মোকাবিলায় যাব। তখন যদি পশু জবাইয়ের জন্য আমাদের সাথে ছুরি না থাকে, তবে আমরা কী করব?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এমন বস্তু দিয়ে কাটবে, যা দিয়ে কাটলে রক্ত প্রবাহিত হয়। সাথে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে, এরপর খাবে। তবে সিন ও জুফুর ব্যতীত। এর ব্যাখ্যা বলছি। সিন হচ্ছে, পশুর রক্ত প্রবাহিত হলে, রগগুলো ঠিকমতো কাটা হয় না, এমন জবাই। আর জুফুর হচ্ছে, হাবশাবাসীর মতো জবাই।”২০৯-২১০
টিকাঃ
২০৭. সুরা সাদ, ৩৮: ৮৬।
২০৮. সহিহুল বুখারি: ৩৬০৬, সহিহু মুসলিম: ১৮৪৭। শব্দউৎস: সহিহু মুসলিম।
২০৯. হাবশার অধিবাসীগণ ছাগলকে যেখান দিয়ে জবাই করে, সেখানটাতে নখ দিয়ে রক্ত ঝরায়। সবশেষে পশুটা শ্বাসরোধে মারা পড়ে।
২১০. সহিহুল বুখারি: ২৪৮৮, সহিহু মুসলিম: ১৯৬৮।
📄 করণীয় নির্ধারণের জন্য ঘটিতব্য বিভিন্ন বিরোধ সম্পর্কে অবহিত করতেন
আবু জার গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কেমন অবস্থা হবে, যখন আমিররা সময় হলেও দেরিতে সালাত পড়বে অথবা সালাতের প্রাণ বেরিয়ে গেলে সালাত আদায় করবে?"
আমি বললাম, "আমাকে তখন কী করতে হবে?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সময়মতো সালাত পড়বে। যদি তোমার পড়ার পরে তাদের জামাআত পাও, তবে জামাআত ধরবে। জামাআতের সে সালাত তোমার জন্য নফল হবে।"২১১
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "সালাতের প্রাণ বেরিয়ে গেলে"-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সালাত পড়তে দেরি করবে। দেরিতে পড়া সালাতকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের সাথে তুলনা করেছেন, যার আত্মা বেরিয়ে গেছে।
সময়ের চেয়ে দেরি করার অর্থ হচ্ছে, উত্তম ওয়াক্ত থেকে দেরি করা, সালাতের ওয়াক্ত চলে যাওয়া নয়। কেননা, বর্ণিত বিষয়টি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আমিরদের মধ্যে এভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে, তারা উত্তম ওয়াক্ত থেকে দেরি করে সালাত পড়তেন। তাই বাস্তবে ঘটা অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই হাদিসের এ অংশটার অর্থ ধরতে হবে। '২১২
টিকাঃ
২১১. সহিহু মুসলিম: ৬৪৮।
২১২. ইমাম নববি শারহু সহিহি মুসলিম: ৫/১৪৭।
📄 উত্তর জানা না থাকলে উত্তর দিতেন না
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসলেন। তাঁদের সামনে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করে অজুর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমার জ্ঞান ফিরে আসলো। আমি তখন তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আমার সম্পদ কী করব? আমার কেবল কয়েকজন বোন আছে।"
তিনি আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না। কিছুক্ষণ পর আমাকে রেখে তিনি বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর মিরাসের আয়াত নাজিল হলো:
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ، وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ ، فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الظُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ ، وَإِن كَانُوا إِخْوَةٌ رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
"তারা আপনার নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-পুত্রহীন ব্যক্তির মিরাসের বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার এক বোন থাকে, তাহলে সে উক্ত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে অর্ধাংশ পাবে। আর যদি কোনো নারীর সন্তান না থাকে, তাহলে তার ভাই তদীয় উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যদি দুই বোন থাকে, তাহলে তাদের উভয়ের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ। যদি তার ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তাহলে পুরুষ দুই নারীর সমতুল্য অংশ পাবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য বর্ণনা করছেন, যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।"২১৩_২১৪"
الْكَلَالَةِ অর্থ-এমন মৃত, যার কোনো সন্তান নেই এবং পিতাও নেই, যারা তার ওয়ারিশ হতে পারত। অধিকাংশ ভাষাবিদের মত এটি।
আবার অনেকে বলেন, যার কোনো সন্তান নেই, সে-ই كلالة।
আরও বলা হয়, যার ওয়ারিশ হওয়ার মতো পিতা ও মাতা কেউই থাকে না, সে كلالة।২১৫
বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদিসের পরিচ্ছেদের নাম দিয়েছেন, 'যে বিষয়ে ওহি নাজিল হয়নি, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, আমি জানি না, অথবা ওহি নাজিল হওয়া পর্যন্ত প্রশ্নকারীর কথার উত্তর দিতেন না।'
টিকাঃ
২১৩. সুরা আন-নিসা, ৪: ১৭৬।
২১৪. সহিহুল বুখারি: ১৯৪, সহিহু মুসলিম: ১৬১৬।
২১৫. আওনুল মাবুদ: ৮/৬৭।
📄 কখনো প্রশ্ন শুনেই তারির অপেক্ষায় চুপ হয়ে থাকতেন
সফওয়ান বিন ইয়ালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই ছিলাম। ইত্যবসরে জিইরানার এক লোক আসলো। সে জুব্বা পরিহিত ছিল। জুব্বার ওপর খালুক সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। লোকটি বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি উমরার ইহরাম করেছি। উমরায় আমার কী করণীয়?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ হয়ে রইলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি নাজিল করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যখন ওহি নাজিল হতো, তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে ঢেকে দিতেন।
ইয়ালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, "নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি নাজিলের মুহূর্ত দেখতে খুব ইচ্ছা করে।"
তাই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আসো। তুমি কি আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি নাজিলের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করো?"
আমি বললাম, "জি।"
তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাপড়ের এক দিক উল্টে দিলেন। আমি দেখলাম, তিনি উটের ছোট বাচ্চার মতো গুনগুন করে নাক ডাকছেন। ওহি নাজিল শেষ হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "উমরা সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী কোথায়? শোনো, তুমি এ জুব্বা খুলে ফেলো। তোমার গায়ে লাগা খালুকের চিহ্ন ধুয়ে ফেলো এবং হজের বিধিবিধানের মতো করে উমরা করো। "২১৬
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* এ হাদিস থেকে প্রসিদ্ধ এ মূলনীতির উৎপত্তি যে, যখন কাজি ও মুফতি কোনো মাসআলার হুকুম না জানে, তখন জানা পর্যন্ত বা মনে আসা পর্যন্ত সে মাসআলার জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।
* মুহরিমের জন্য হজ ও উমরার শুরু থেকে পুরোটা সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। কারণ, যে জিনিস সব সময় হারাম, তা শুরু থেকে অবশ্যই হারাম হবে।
* হজের মতো উমরাতেও সুগন্ধি লাগানো এবং সেলাই করা কাপড় পরা ইত্যাদি হারাম।
* যখন হজ-উমরার বিধান না জেনে বা ভুলে সুগন্ধি ব্যবহার করে ফেলে, তখন তাড়াতাড়ি তার প্রভাব দূর করা ওয়াজিব।
* না জেনে বা ভুলে সুগন্ধি ব্যবহার করে ফেললে, তার প্রভাব দূর করাই যথেষ্ট। এ জন্য কোনো কাফফারা দিতে হয় না।
* শরিয়তের কিছু কিছু বিধান তিলাওয়াতকৃত ওহি বা কুরআনের আয়াতরূপে আসেনি। ২১৭
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রুক্ষ প্রকৃতির ও সাহসী স্বভাবের এক বেদুইন এলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, (আপনার মৃত্যুর পর) আপনার নিকট হিজরত করতে হলে কোথায় হিজরত করতে হবে? আপনি যেখানে থাকতেন সেখানে হিজরত করতে হবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে কিংবা কোনো বিশেষ কওমের নিকট হিজরত করতে হবে, নাকি আপনার মৃত্যুর পর হিজরতের বিধান রহিত হয়ে যাবে?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। এরপর বললেন, "হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী লোকটি কোথায়?"
লোকটি বললেন, "আমি উপস্থিত, ইয়া রাসুলাল্লাহ।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তুমি সালাত কায়িম করো এবং জাকাত আদায় করো, তবে হাজরামাওতে মৃত্যুবরণ করলেও তুমি মুহাজির।"
অতঃপর এক লোক দাঁড়িয়ে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি জান্নাতবাসীদের পোশাক দেখেছেন? তা কি সুতার বুননে তৈরি নাকি জান্নাতের ফল থেকে ফেটে বের হওয়া?"
বেদুইনের এমন প্রশ্নে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা জ্ঞানীর নিকট অজ্ঞের প্রশ্ন করা দেখে আশ্চর্য হচ্ছ!"
বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। এরপর বললেন, "জান্নাতের পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী সে লোকটি কোথায়?"
লোকটি বললেন, "জি, আমি আছি।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না; বরং তা জান্নাতের ফল থেকে বের হয়ে আসবে।"২১৮
টিকাঃ
২১৬. সহিহুল বুখারি: ১৭৮৯, সহিহু মুসলিম: ১১৮০।
২১৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৮/৭৮।
২১৮. মুসনাদু আহমাদ: ৬৮৫১; হাইসামি ১৯৬৯ বলেন, এ হাদিসের সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। দেখুন, মাজমাউজ জাওয়ায়িদ ১০/৭৬৭।