📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 এই সুন্নাহর ওপর সালাফের আমলের দৃষ্টান্ত

📄 এই সুন্নাহর ওপর সালাফের আমলের দৃষ্টান্ত


মাসরুক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি উবাই বিন কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে একটি মাসআলা জানতে চাইলাম। উবাই (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "এমনটা ঘটেছে?"

আমি বললাম, “না, ঘটেনি।"

তিনি বললেন, "তাহলে ঘটা পর্যন্ত আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও।"২০৫

খারিজা বিন জাইদ বিন সাবিত (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'জাইদ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে একটা বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো। তিনি উত্তর না দিয়ে বললেন, "এমনটা ঘটেছে কি?"

উত্তরে বলা হলো, "না, ঘটেনি।"

তিনি বললেন, "তবে ঘটা পর্যন্ত বিষয়টি ফেলে রাখো।"২০৬

টিকাঃ
২০৫. আল-ইবানাহ: ৩১৬, জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহ: ২০৫৭।
২০৬. আল-ইবানাহ: ৩১৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সম্ভাব্য ও ঘটিতব্য বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতেন

📄 সম্ভাব্য ও ঘটিতব্য বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতেন


এখনো ঘটেনি-এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অপছন্দনীয় ছিল। কারণ, তা একপ্রকার কৃত্রিমতা। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোটেই লৌকিকতাকারী ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ

'বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না আর আমি লৌকিকতাকারীও নই। '২০৭

অন্যদিকে, যে বিষয়টি ঘটবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করার গুরুত্ব রয়েছে অনেক। যাতে যখন তা ঘটবে, শরিয়তের আলোকে সে সময়ের করণীয় জানা থাকে।

হুজাইফা বিন ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মানুষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্তম বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চাইত। কিন্তু আমি মন্দে পতিত হওয়ার আশঙ্কায় মন্দ বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চাইতাম।

এ রকম একটি প্রশ্ন করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা জাহিলিয়াত ও মন্দের মাঝে ডুবে ছিলাম। এরপর আল্লাহ আমাদের ইসলামের মতো একটি উত্তম নিয়ামতে ভূষিত করলেন। এ উত্তমের পর কি কোনো মন্দ আছে আমাদের ভাগ্যে?"

হাঁ।

সে মন্দের পর কি উত্তমতা আছে?

হাঁ, আছে। তবে তা ধোঁয়ায় ধূমায়িত।

কেমন ধোঁয়া?

এক দল লোক আমার সুন্নাত ছেড়ে ভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করবে। তারা আমার হিদায়াতের পথ ছেড়ে ভ্রান্ত পথে চলে যাবে। তুমি তাদের কতককে দেখবে। আর কতক তোমার অজ্ঞাতে থাকবে।

এর পরে কি কোনো মন্দ থাকবে?

হাঁ, জাহান্নামের দরোজার কিছু আহ্বানকারী। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে, তাদের নিয়ে তারা জাহান্নামে ফেলবে।

হে আল্লাহর রাসুল, তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন।

বলছি, শোনো। আমাদের গায়ের রংয়ের মতোই তাদের গায়ের রং হবে। তারা আমাদের ভাষায় কথা বলবে।

হে আল্লাহর রাসুল, সে সময় যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আমার করণীয় কী হবে?

তুমি মুসলিমদের জামাআত ও আমিরকে আঁকড়ে ধরবে।

যদি সে সময় মুসলিমদের কোনো জামাআত ও ইমাম না থাকে?

তুমি সব দল ছেড়ে পৃথক থাকবে। যদিও তোমাকে গাছের শিকড় কামড়ে থাকতে হয় এবং এ অবস্থাতেই তোমার মৃত্যু হয়, তবে তা-ই তোমার জন্য মঙ্গলজনক। '২০৮

রাফি বিন খাদিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আগামী দিনে শত্রুর মোকাবিলায় যাব। তখন যদি পশু জবাইয়ের জন্য আমাদের সাথে ছুরি না থাকে, তবে আমরা কী করব?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এমন বস্তু দিয়ে কাটবে, যা দিয়ে কাটলে রক্ত প্রবাহিত হয়। সাথে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে, এরপর খাবে। তবে সিন ও জুফুর ব্যতীত। এর ব্যাখ্যা বলছি। সিন হচ্ছে, পশুর রক্ত প্রবাহিত হলে, রগগুলো ঠিকমতো কাটা হয় না, এমন জবাই। আর জুফুর হচ্ছে, হাবশাবাসীর মতো জবাই।”২০৯-২১০

টিকাঃ
২০৭. সুরা সাদ, ৩৮: ৮৬।
২০৮. সহিহুল বুখারি: ৩৬০৬, সহিহু মুসলিম: ১৮৪৭। শব্দউৎস: সহিহু মুসলিম।
২০৯. হাবশার অধিবাসীগণ ছাগলকে যেখান দিয়ে জবাই করে, সেখানটাতে নখ দিয়ে রক্ত ঝরায়। সবশেষে পশুটা শ্বাসরোধে মারা পড়ে।
২১০. সহিহুল বুখারি: ২৪৮৮, সহিহু মুসলিম: ১৯৬৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 করণীয় নির্ধারণের জন্য ঘটিতব্য বিভিন্ন বিরোধ সম্পর্কে অবহিত করতেন

📄 করণীয় নির্ধারণের জন্য ঘটিতব্য বিভিন্ন বিরোধ সম্পর্কে অবহিত করতেন


আবু জার গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কেমন অবস্থা হবে, যখন আমিররা সময় হলেও দেরিতে সালাত পড়বে অথবা সালাতের প্রাণ বেরিয়ে গেলে সালাত আদায় করবে?"

আমি বললাম, "আমাকে তখন কী করতে হবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সময়মতো সালাত পড়বে। যদি তোমার পড়ার পরে তাদের জামাআত পাও, তবে জামাআত ধরবে। জামাআতের সে সালাত তোমার জন্য নফল হবে।"২১১

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "সালাতের প্রাণ বেরিয়ে গেলে"-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সালাত পড়তে দেরি করবে। দেরিতে পড়া সালাতকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের সাথে তুলনা করেছেন, যার আত্মা বেরিয়ে গেছে।

সময়ের চেয়ে দেরি করার অর্থ হচ্ছে, উত্তম ওয়াক্ত থেকে দেরি করা, সালাতের ওয়াক্ত চলে যাওয়া নয়। কেননা, বর্ণিত বিষয়টি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আমিরদের মধ্যে এভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে, তারা উত্তম ওয়াক্ত থেকে দেরি করে সালাত পড়তেন। তাই বাস্তবে ঘটা অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই হাদিসের এ অংশটার অর্থ ধরতে হবে। '২১২

টিকাঃ
২১১. সহিহু মুসলিম: ৬৪৮।
২১২. ইমাম নববি শারহু সহিহি মুসলিম: ৫/১৪৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উত্তর জানা না থাকলে উত্তর দিতেন না

📄 উত্তর জানা না থাকলে উত্তর দিতেন না


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসলেন। তাঁদের সামনে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করে অজুর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমার জ্ঞান ফিরে আসলো। আমি তখন তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আমার সম্পদ কী করব? আমার কেবল কয়েকজন বোন আছে।"

তিনি আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না। কিছুক্ষণ পর আমাকে রেখে তিনি বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর মিরাসের আয়াত নাজিল হলো:

يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ، وَهُوَ يَرِثُهَا إِن لَّمْ يَكُن لَّهَا وَلَدٌ ، فَإِن كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الظُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ ، وَإِن كَانُوا إِخْوَةٌ رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَن تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

"তারা আপনার নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-পুত্রহীন ব্যক্তির মিরাসের বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার এক বোন থাকে, তাহলে সে উক্ত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে অর্ধাংশ পাবে। আর যদি কোনো নারীর সন্তান না থাকে, তাহলে তার ভাই তদীয় উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যদি দুই বোন থাকে, তাহলে তাদের উভয়ের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ। যদি তার ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তাহলে পুরুষ দুই নারীর সমতুল্য অংশ পাবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য বর্ণনা করছেন, যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।"২১৩_২১৪"

الْكَلَالَةِ অর্থ-এমন মৃত, যার কোনো সন্তান নেই এবং পিতাও নেই, যারা তার ওয়ারিশ হতে পারত। অধিকাংশ ভাষাবিদের মত এটি।

আবার অনেকে বলেন, যার কোনো সন্তান নেই, সে-ই كلالة।

আরও বলা হয়, যার ওয়ারিশ হওয়ার মতো পিতা ও মাতা কেউই থাকে না, সে كلالة।২১৫

বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদিসের পরিচ্ছেদের নাম দিয়েছেন, 'যে বিষয়ে ওহি নাজিল হয়নি, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, আমি জানি না, অথবা ওহি নাজিল হওয়া পর্যন্ত প্রশ্নকারীর কথার উত্তর দিতেন না।'

টিকাঃ
২১৩. সুরা আন-নিসা, ৪: ১৭৬।
২১৪. সহিহুল বুখারি: ১৯৪, সহিহু মুসলিম: ১৬১৬।
২১৫. আওনুল মাবুদ: ৮/৬৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00