📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অনর্থক প্রশ্ন ও বাড়াবাড়ি অপছন্দ করতেন

📄 অনর্থক প্রশ্ন ও বাড়াবাড়ি অপছন্দ করতেন


আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো, যেগুলো তিনি অপছন্দ করতেন। যখন এগুলো সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন। এরপর মানুষদের বললেন, "তোমরা যা ইচ্ছে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো। যা-ই আমার কাছে জানতে চাইবে, আমি তার উত্তর দেবো।"

এরপর এক লোক উঠে বলল, "আমার বাবা কে?"১৮৮

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার বাবা হুজাইফা।"

আরেকজন উঠে বলল, "আমার বাবা কে, হে আল্লাহর রাসুল?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "তোমার বাবা শাইবার গোলাম সালিম।"

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "আমি তখন ডানে-বামে তাকাতে লাগলাম। প্রত্যেককে দেখলাম, কাঁদতে কাঁদতে নিজেদের মাথা তাদের কাপড়ের তলে লুকাচ্ছে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁর চেহারায় বিরক্তির ভাব দেখতে পেলেন তখন বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করছি।"১৮৯

সহিহ বুখারির অন্য রিওয়ায়াতে আছে, 'তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং বললেন, "আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।" এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। '১৯০

কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) একটি আয়াতের সাথে এ হাদিসটি বর্ণনা করতেন। আয়াতটি হচ্ছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ

'হে ইমানদারগণ, তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কোরো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের জন্য তা কষ্টদায়ক হবে। '১৯১

মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ তিনটি কর্ম ঘৃণা করেন। এক. তর্ক-বিতর্ক। দুই. সম্পদ অপচয়। তিন. অধিক প্রশ্ন করা।"১৯২

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে অনর্থক বিষয়াদি পরিত্যাগ করা। '১৯৩

ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অধিকাংশ আলিমের মতে হাদিসে অধিক প্রশ্ন দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আকস্মিক সংঘটিত ঘটনা, কুটিল প্রশ্ন, জন্মদান ইত্যাদি বিষয়ক প্রশ্ন। '১৯৪

টিকাঃ
১৮৮. এ লোকটি যখন কারও সাথে বিবাদে লিপ্ত হতো, তখন লোকেরা তাকে মায়ের প্রতি সম্বন্ধ করে ডাকত।
১৮৯. সহিহুল বুখারি: ৯২, সহিহু মুসলিম ২৩৬০।
১৯০. সহিহুল বুখারি: ৯৩।
১৯১. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ১০১।
১৯২. সহিহুল বুখারি: ১৪৭৭, সহিহু মুসলিম ৫৯৩।
১৯৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৩১৭, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৯৭৬।
১৯৪. ফাতহুল বারি: ১৩/২৭০। -ঈষৎ পরিমার্জিত।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রশ্নকারীর সুবিধার্থে কখনো উচ্চকণ্ঠে উত্তর দিতেন

📄 প্রশ্নকারীর সুবিধার্থে কখনো উচ্চকণ্ঠে উত্তর দিতেন


সফওয়ান বিন আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক সফরে আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন হঠাৎ করে এক বেদুইন বেশ জোর গলায় ডাক দিল, "হে মুহাম্মাদ!" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও একই রকম উচ্চস্বরে জবাব দিলেন, "আসো।"

এদিকে আমরা বেদুইন লোকটিকে বললাম, "তোমার ধ্বংস হোক! কণ্ঠস্বর নিচু করো। কারণ, তুমি এখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অবস্থান করছ। আর এ বিষয়ে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পর্কে) ইতিপূর্বে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।"

কিন্তু সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি স্বর নিচু করতে অসমর্থ।"

এরপর সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইল, "এক ব্যক্তি একটি সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, কিন্তু কখনো তাদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিয়ামতের দিন মানুষ তার সাথেই থাকবে, যাকে সে ভালোবাসে। "১৯৫

টিকাঃ
১৯৫. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৩৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ফতোয়া দেওয়ার সময় প্রতারণা থেকে সতর্ক করতেন

📄 ফতোয়া দেওয়ার সময় প্রতারণা থেকে সতর্ক করতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি মক্কা-বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ, মৃত, শুকর ও মূর্তিপূজা হারাম করেছেন।"

জানতে চাওয়া হলো, "হে আল্লাহর রাসুল, মৃত জন্তুর চর্বির কী হুকুম? এ চর্বি দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেওয়া হয়। চামড়া পালিশ করা হয়। মানুষ প্রদীপ জ্বালায়।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না; এটি হারাম।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন। কারণ, আল্লাহ তাআলা যখন তাদের জন্য চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা (শরিয়তের ওপর প্রতারণার প্রলেপ দিয়ে) চর্বি গলিয়ে বিক্রি করতে শুরু করল আর তার দাম উপভোগ করতে লাগল। "১৯৬

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ইহুদিরা যে কাণ্ড করেছে, তোমরা সে রকম কিছু কোরো না। তারা আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল করত ছলচাতুরী করে। ১৯৭

শরিয়তের ওপর ছলচাতুরী করার মতো জঘন্য কাজ থেকে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেছেন আমাদের। বনি ইসরাইলের ঔদ্ধত্যের ঘটনা শুনিয়ে আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে-

وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ لَا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ - وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ - فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ - فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ

'আর তাদেরকে সমুদ্রের তীরে অবস্থিত সে জনপদ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করো-যখন তারা শনিবারের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসত, কিন্তু অন্যদিন মাছ তাদের কাছে আসত না। তাদের নাফরমানির কারণে এভাবে আমি তাদের পরীক্ষা করেছিলাম। যখন তাদের একদল লোক অপর দলের নিকট বলেছিল, "ওই জাতিকে তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দেবেন?" তারা উত্তরে বলল, "তোমাদের রবের নিকট দোষমুক্তির জন্য এবং এই আশা করছি যে, হয়তো তারা তাঁকে ভয় করবে।" অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদের বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম, যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর গুনাহগারদের পাকড়াও করলাম নিকৃষ্ট আজাবের মাধ্যমে তাদের নাফরমানির দরুন। অতঃপর যখন তারা বেপরোয়াভাবে নিষিদ্ধ কাজগুলো করতে থাকল, তখন আমি বললাম, “তোমরা ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।"১৯৮

ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তারা সেই সম্প্রদায়, যারা হারামের প্রতি আসক্তির কারণে হারামকে হালাল করার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেছিল। '১৯৯

সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তারা মাছ শিকারের জন্য ফন্দি আঁটল। গর্ত খুঁড়ল। জাল পেতে দিল। শনিবার দিন আসলে মাছ ধরা পড়ত সে গর্তের জালে। কিন্তু সেদিন তারা মাছ ছুঁয়েও দেখত না। রবিবার গিয়ে মাছগুলো নিয়ে আসত।'২০০

টিকাঃ
১৯৬. সহিহুল বুখারি: ২২৩৬, সহিহু মুসলিম: ১৫৮১।
১৯৭. ইবনে বাত্তাহ ইবতালিল হিয়াল গ্রন্থে (১/৪৭) বর্ণনা করেন। মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৯/২৯-এ দেখুন, ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। একইভাবে সুনানু আবি দাউদের শরাহ ৯/২৪৪-এ ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় তাফসির গ্রন্থে (১/২৯৩) বলেছেন, ভালো সনদ। তবে আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ভিন্নমত পোষণ করেছেন এ ক্ষেত্রে। তিনি আজ-জইফা গ্রন্থে (১/৬০৮) বলেছেন, হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসিরে তিনি বলেছেন, এর সনদ ভালো এবং অন্যরাও (এরূপ) বলেছেন। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) গায়াতুল মারাম গ্রন্থে (১১ পৃ.) হাদিসটিকে জইফ বলেছেন।
১৯৮. সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৬৩-১৬৬।
১৯৯. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৩/৪৯৩।
২০০. তাফসিরুস সাদি: ১/৩০৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অযাচিত বিষয়ে প্রশ্ন করা অপছন্দ করতেন

📄 অযাচিত বিষয়ে প্রশ্ন করা অপছন্দ করতেন


সাহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উয়াইমির আজলানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসিম বিন আদি আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন। তাকে বললেন, "হে আসিম, এক লোকের স্ত্রীকে আরেকটি পুরুষের সাথে দেখা গেল। সে কি তাকে হত্যা করবে? সে যদি ওই পুরুষকে হত্যা করে, তবে কি আপনারা তাকে হত্যা করবেন? এ ক্ষেত্রে আপনারা কী করবেন? আপনার অভিমত কী এ বিষয়ে? এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করুন।"

কথামতো আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানতে চাইলেন। এমন মাসআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করলেন। এমন প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় তিরস্কার করলেন তিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য কঠিন হয়ে পড়ল।

আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন বাড়িতে ফিরলেন, তখন উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এসে বললেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কী বলেছেন?"

আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তর করলেন, "তুমি কোনো কল্যাণ নিয়ে আসোনি আমার কাছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন প্রশ্ন করা অপছন্দ করেছেন।"

উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আল্লাহর শপথ, আমি নিজেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করব।"

উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রওনা হলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালেন। তারপর বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, এক লোক তার স্ত্রীর সাথে পরপুরুষকে দেখতে পেল। লোকটি কি তাকে হত্যা করবে? এরপর কী আপনারা উক্ত লোকটিকে হত্যা করবেন, নাকি অন্য কিছু করবেন?"২০১

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে বিধান নাজিল হয়েছে। যাও, তাকে নিয়ে আসো।"

উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার স্ত্রীকে নিয়ে এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিআনের ২০২ আদেশ দিলেন। উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদে স্ত্রীর প্রতি লিআন করলেন। এরপর বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমি তাকে আমার বিবাহবন্ধনে রাখি, তবে আমি তার ওপর জুলুমকারী হলাম।” (অন্য রিওয়ায়াতে এসেছে, তবে তার ওপর আমার এ কথা মিথ্যা হলো।) এ কথা বলে তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের আগেই) স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দিলেন।'

ইবনে শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ ঘটনার পর থেকে লিআন করার পরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদই বিধান হয়ে যায়। উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। তার ছেলেকে মায়ের প্রতি সম্বন্ধ করে ডাকা হতো। এরপর বিধান হলো, ছেলে তার মায়ের ওয়ারিশ হবে। আর মাও তার ছেলের ওয়ারিশ হবে।'

(হাদিসে ফিরে যাই) এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা লক্ষ রেখো। যদি এ মহিলা কালো রং ও বড় বড় চোখবিশিষ্ট, বড় নিতম্ববিশিষ্ট, ভরাট পায়ের গোছাবিশিষ্ট কালো ছেলে জন্ম দেয়-তবে আমি নিশ্চিত, উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সত্যই বলেছে। আর যদি রক্তিমাভ খাটোবিশেষ গিরগিটির মতো হয়, তবে উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার স্ত্রীর ওপর মিথ্যে অপবাদ দিল।"

অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যবাদী বলে প্রমাণিত হলেন এবং উয়াইমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যেমন বলেছিলেন, তেমনই একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করল। জন্মের পর সে ছেলেকে তার মায়ের প্রতি সম্বন্ধ করে ডাকা হতো। ২০০

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, '(এমন মাসআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করলেন। এমন প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় তিরস্কার করলেন তিনি): হাদিসের এ অংশের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন অপছন্দ করতেন। বিশেষ করে যদি তা কোনো মুসলিম পুরুষ বা মহিলার গোপনীয়তা প্রকাশ করে বা কোনো মুসলিম পুরুষ বা মহিলার ব্যাপারে অশ্লীলতা বা কুকর্মের কথা ছড়ানোর মতো কিছু হয়।

তবে হাঁ, এ ধরনের কোনো ঘটনা যদি দ্বীন সম্পর্কিত হয় এবং তা সংঘটিতও হয়, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, মুসলমানরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সংঘটিত কোনো বিষয়ের হুকুম জানতে চাইতেন, তখন তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন। তখন প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করতেন না। কিন্তু আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেনি। এর কারণ হলো, তিনি যে বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, তা তার ব্যাপারে ঘটেনি বিধায় এ সম্পর্কে প্রশ্ন করার কোনো প্রয়োজন তার ছিল না। তদুপরি বিষয়টি মুসলিম নর-নারীর ওপর অশ্লীলতার অপবাদযুক্ত ছিল এবং এতে ইহুদি ও মুনাফিক প্রভৃতি শ্রেণির জন্য ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রকাশের সুযোগ ছিল। '২০৪

টিকাঃ
২০১. সহিহু মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, 'এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে পরপুরুষের সাথে পেল। সে লোকটি যদি এ বিষয়ে কথা বলে, তবে সে একটি গুরুতর অভিযোগ করল। আর যদি সে চুপ থাকে, তবে সে এ অবস্থাতেই চুপ থাকল। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?'
২০২. লিআন হচ্ছে, আল্লাহর নামে শপথ করে স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেওয়া।
২০৩. সহিহুল বুখারি: ৪৭৪৫, সহিহু মুসলিম: ১৪৯২।
২০৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/১২০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00