📄 স্পষ্ট করে বোঝানোর জন্য যুক্তিভিত্তিক দলিল দিতেন
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "হে আল্লাহর নবি, কীভাবে কাফিরকে তার চেহারার ওপর হাশর করানো হবে?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "যে সত্তা দুনিয়ার বুকে মানুষকে পায়ে ভর করে চালাতে পারেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ওপরে মানুষকে চলাতে সক্ষম নন?"
কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) (আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করে এর স্বীকৃতি দিয়ে) বললেন, "জি, আমাদের রবের মর্যাদার কসম, অবশ্যই তিনি এর ওপর সক্ষম। "১৮২
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাশরের ময়দানে কাফিরদেরকে মুখের ওপর অবস্থান করানোর পেছনে হেকমত হলো, তারা দুনিয়ায় কখনো আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করেনি। তার শাস্তিস্বরূপ কিয়ামতের দিন তাদের উপস্থিত করা হবে মুখের ওপর ভর করা অবস্থায়। এটি তাদের লাঞ্ছনার বহিঃপ্রকাশ হবে সেদিন। তারা হাত ও পায়ের জায়গাতে কেবল মুখ ব্যবহার করবে। এভাবে তাদের ওপর শাস্তি প্রয়োগ হবে।'১৮৩
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "আমার মা মারা গেছেন। তার এক মাসের রোজা কাজা হয়ে আছে। (আমি কি তার পক্ষ থেকে রোজাগুলো আদায় করতে পারি?)"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি মনে করো, যদি তোমার মায়ের কোনো ঋণ থাকত, তবে কি তুমি তা আদায় করতে না?"
"জি, করতাম।” বললেন সে মহিলা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে আল্লাহর ঋণ (কাজা রোজা) আদায় করে দেওয়া সবার পূর্বে উচিত। "১৮৪
আতা বিন ইয়াসার (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “মায়ের কক্ষে প্রবেশের সময় আমি কি মায়ের কাছে অনুমতি নেব?”
হাঁ।
আমি ও আমার মা বাড়িতে একত্রেই থাকি।
তবুও তুমি তার কাছে অনুমতি নেবে প্রবেশের আগে।
আমিই তার সেবা-শুশ্রূষা করি।
তুমি তার কাছে অনুমতি নেবে। তুমি কি তাকে কাপড়হীন অবস্থায় দেখতে চাও?
না।
তবে তার কাছে অনুমতি নেবে। '১৮৫
আবু ওয়ালিদ সুলাইমান আল-বাজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'একজন মুমিন মা বা মাহরাম অথবা যার সতর দেখা তার জন্য জায়িজ হবে না-এমন কারও কক্ষে যাওয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন সাহাবি অনুমতির ব্যাপারে জানতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি তাকে কাপড়হীন অবস্থায় দেখতে চাও?"...এর অর্থ হচ্ছে (আল্লাহই অধিক জানেন) যদি তুমি তার কাছে অনুমতি না চাও, তবে হঠাৎ করে তার কাছে গেলে তাকে কাপড়হীন দেখার সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, তাদের সতরের দিকে তাকানো জায়িজ। তাই অনুমতি ছাড়াই তাদের কক্ষে যাওয়া যায়। '১৮৬
আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন।" যুবকের এমন কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতচকিত হয়ে তার দিকে তাকালেন। তাকে ধমকালেন। "থামো থামো" বলতে লাগলেন।
কিন্তু রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।” যুবকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসল।
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "কেউ তোমার মায়ের সাথে এমনটা করুক, তুমি কি তা চাইবে?"
না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।
এভাবে অন্য মানুষেরাও তাদের মায়ের জন্য এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের মেয়ের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
আল্লাহর কসম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।
মানুষও নিজেদের কন্যার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের বোনের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করুন।
মানুষও নিজেদের বোনের ব্যাপার এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের ফুফুর ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।
তোমার মতো অন্য মানুষও তাদের ফুফুদের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।
মানুষও তাদের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকটির গায়ে হাত রেখে দোয়া করলেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ, وَطَهِّرْ قَلْبَهُ, وَحَصِّنْ فَرْجَهُ
"হে আল্লাহ, আপনি তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তার অন্তর পবিত্র করে দিন। তার লজ্জাস্থানের হিফাজত করুন।"১৮৭
টিকাঃ
১৮২. সহিহুল বুখারি: ৪৭৬০, সহিহু মুসলিম: ২৮০৬।
১৮৩. ফাতহুল বারি: ১১/৩৮৩।
১৮৪. সহিহুল বুখারি: ১৯৫৩, সহিহু মুসলিম: ১১৪৮।
১৮৫. মুয়াত্তা মালিক: ১৭৯৬; আতা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মুরসাল সনদে বর্ণিত। ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদিসটি মুরসাল। তবে অর্থের দিক থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা রয়েছে। দেখুন, আত-তামহিদ: ১৬/২২৯।
১৮৬. আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা ৭/২৮৪।
১৮৭. মুসনাদু আহমাদ: ২১৭০৮।
📄 অনর্থক প্রশ্ন ও বাড়াবাড়ি অপছন্দ করতেন
আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো, যেগুলো তিনি অপছন্দ করতেন। যখন এগুলো সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি রাগান্বিত হয়ে গেলেন। এরপর মানুষদের বললেন, "তোমরা যা ইচ্ছে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো। যা-ই আমার কাছে জানতে চাইবে, আমি তার উত্তর দেবো।"
এরপর এক লোক উঠে বলল, "আমার বাবা কে?"১৮৮
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার বাবা হুজাইফা।"
আরেকজন উঠে বলল, "আমার বাবা কে, হে আল্লাহর রাসুল?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "তোমার বাবা শাইবার গোলাম সালিম।"
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "আমি তখন ডানে-বামে তাকাতে লাগলাম। প্রত্যেককে দেখলাম, কাঁদতে কাঁদতে নিজেদের মাথা তাদের কাপড়ের তলে লুকাচ্ছে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন তাঁর চেহারায় বিরক্তির ভাব দেখতে পেলেন তখন বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করছি।"১৮৯
সহিহ বুখারির অন্য রিওয়ায়াতে আছে, 'তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং বললেন, "আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।" এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। '১৯০
কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) একটি আয়াতের সাথে এ হাদিসটি বর্ণনা করতেন। আয়াতটি হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কোরো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের জন্য তা কষ্টদায়ক হবে। '১৯১
মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ তিনটি কর্ম ঘৃণা করেন। এক. তর্ক-বিতর্ক। দুই. সম্পদ অপচয়। তিন. অধিক প্রশ্ন করা।"১৯২
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে অনর্থক বিষয়াদি পরিত্যাগ করা। '১৯৩
ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অধিকাংশ আলিমের মতে হাদিসে অধিক প্রশ্ন দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আকস্মিক সংঘটিত ঘটনা, কুটিল প্রশ্ন, জন্মদান ইত্যাদি বিষয়ক প্রশ্ন। '১৯৪
টিকাঃ
১৮৮. এ লোকটি যখন কারও সাথে বিবাদে লিপ্ত হতো, তখন লোকেরা তাকে মায়ের প্রতি সম্বন্ধ করে ডাকত।
১৮৯. সহিহুল বুখারি: ৯২, সহিহু মুসলিম ২৩৬০।
১৯০. সহিহুল বুখারি: ৯৩।
১৯১. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ১০১।
১৯২. সহিহুল বুখারি: ১৪৭৭, সহিহু মুসলিম ৫৯৩।
১৯৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৩১৭, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৯৭৬।
১৯৪. ফাতহুল বারি: ১৩/২৭০। -ঈষৎ পরিমার্জিত।
📄 প্রশ্নকারীর সুবিধার্থে কখনো উচ্চকণ্ঠে উত্তর দিতেন
সফওয়ান বিন আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক সফরে আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন হঠাৎ করে এক বেদুইন বেশ জোর গলায় ডাক দিল, "হে মুহাম্মাদ!" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও একই রকম উচ্চস্বরে জবাব দিলেন, "আসো।"
এদিকে আমরা বেদুইন লোকটিকে বললাম, "তোমার ধ্বংস হোক! কণ্ঠস্বর নিচু করো। কারণ, তুমি এখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অবস্থান করছ। আর এ বিষয়ে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পর্কে) ইতিপূর্বে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।"
কিন্তু সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি স্বর নিচু করতে অসমর্থ।"
এরপর সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইল, "এক ব্যক্তি একটি সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, কিন্তু কখনো তাদের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিয়ামতের দিন মানুষ তার সাথেই থাকবে, যাকে সে ভালোবাসে। "১৯৫
টিকাঃ
১৯৫. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৩৫।
📄 ফতোয়া দেওয়ার সময় প্রতারণা থেকে সতর্ক করতেন
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি মক্কা-বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ, মৃত, শুকর ও মূর্তিপূজা হারাম করেছেন।"
জানতে চাওয়া হলো, "হে আল্লাহর রাসুল, মৃত জন্তুর চর্বির কী হুকুম? এ চর্বি দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেওয়া হয়। চামড়া পালিশ করা হয়। মানুষ প্রদীপ জ্বালায়।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না; এটি হারাম।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন। কারণ, আল্লাহ তাআলা যখন তাদের জন্য চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা (শরিয়তের ওপর প্রতারণার প্রলেপ দিয়ে) চর্বি গলিয়ে বিক্রি করতে শুরু করল আর তার দাম উপভোগ করতে লাগল। "১৯৬
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ইহুদিরা যে কাণ্ড করেছে, তোমরা সে রকম কিছু কোরো না। তারা আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল করত ছলচাতুরী করে। ১৯৭
শরিয়তের ওপর ছলচাতুরী করার মতো জঘন্য কাজ থেকে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেছেন আমাদের। বনি ইসরাইলের ঔদ্ধত্যের ঘটনা শুনিয়ে আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে-
وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ لَا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ - وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ - فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ - فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
'আর তাদেরকে সমুদ্রের তীরে অবস্থিত সে জনপদ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করো-যখন তারা শনিবারের আদেশ লঙ্ঘন করেছিল। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসত, কিন্তু অন্যদিন মাছ তাদের কাছে আসত না। তাদের নাফরমানির কারণে এভাবে আমি তাদের পরীক্ষা করেছিলাম। যখন তাদের একদল লোক অপর দলের নিকট বলেছিল, "ওই জাতিকে তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দেবেন?" তারা উত্তরে বলল, "তোমাদের রবের নিকট দোষমুক্তির জন্য এবং এই আশা করছি যে, হয়তো তারা তাঁকে ভয় করবে।" অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদের বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম, যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর গুনাহগারদের পাকড়াও করলাম নিকৃষ্ট আজাবের মাধ্যমে তাদের নাফরমানির দরুন। অতঃপর যখন তারা বেপরোয়াভাবে নিষিদ্ধ কাজগুলো করতে থাকল, তখন আমি বললাম, “তোমরা ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।"১৯৮
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তারা সেই সম্প্রদায়, যারা হারামের প্রতি আসক্তির কারণে হারামকে হালাল করার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেছিল। '১৯৯
সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তারা মাছ শিকারের জন্য ফন্দি আঁটল। গর্ত খুঁড়ল। জাল পেতে দিল। শনিবার দিন আসলে মাছ ধরা পড়ত সে গর্তের জালে। কিন্তু সেদিন তারা মাছ ছুঁয়েও দেখত না। রবিবার গিয়ে মাছগুলো নিয়ে আসত।'২০০
টিকাঃ
১৯৬. সহিহুল বুখারি: ২২৩৬, সহিহু মুসলিম: ১৫৮১।
১৯৭. ইবনে বাত্তাহ ইবতালিল হিয়াল গ্রন্থে (১/৪৭) বর্ণনা করেন। মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৯/২৯-এ দেখুন, ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। একইভাবে সুনানু আবি দাউদের শরাহ ৯/২৪৪-এ ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় তাফসির গ্রন্থে (১/২৯৩) বলেছেন, ভালো সনদ। তবে আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ভিন্নমত পোষণ করেছেন এ ক্ষেত্রে। তিনি আজ-জইফা গ্রন্থে (১/৬০৮) বলেছেন, হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসিরে তিনি বলেছেন, এর সনদ ভালো এবং অন্যরাও (এরূপ) বলেছেন। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) গায়াতুল মারাম গ্রন্থে (১১ পৃ.) হাদিসটিকে জইফ বলেছেন।
১৯৮. সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৬৩-১৬৬।
১৯৯. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৩/৪৯৩।
২০০. তাফসিরুস সাদি: ১/৩০৬।