📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মহিলাদের বিবিধ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় লজ্জাবনত থাকতেন

📄 মহিলাদের বিবিধ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় লজ্জাবনত থাকতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঋতুস্রাব-পরবর্তী গোসল সম্পর্কে জানতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোসলের পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে বললেন, "এক টুকরো সুগন্ধিবিশিষ্ট কাপড় ১৬৮ নেবে এবং এ দিয়ে পবিত্র হবে।"

মহিলাটি জিজ্ঞেস করল, "কীভাবে আমি পবিত্র হব?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে কাপড়ের টুকরো দিয়ে পবিত্র হবে।"

"কীভাবে?" মহিলাটি আবার জানতে চাইল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সুবহানাল্লাহ! সেই কাপড়ের টুকরো দিয়ে পবিত্র হবে।"

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এতটুকু বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে যেন গুটিয়ে নিলেন। এদিকে আমি মহিলাকে টান দিলাম আমার কাছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা তাকে বোঝাতে চাইলেন, তাকে বুঝিয়ে দিলাম। বললাম, "এভাবে তুমি রক্তের দাগ মুছে ফেলবে।"১৬৯

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজে নিষেধ, সত্যের আদেশ করা ও সত্য প্রতিষ্ঠিত করার সামনে প্রতিবন্ধক লজ্জা শরিয়ত অনুমোদিত নয়। ১৬৭
* মহিলাদের হায়িজের গোসলের সময় সুগন্ধিময় কিছু নিয়ে তা তুলা বা এ জাতীয় কিছুতে ঢেলে, এটি দিয়ে রক্তের দাগ মোছা মুসতাহাব।
* আশ্চর্যান্বিত হলে সুবহানাল্লাহ বলা। এ ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশ্চর্য হওয়ার কারণ ছিল, একটি পরিষ্কার বিষয়, যা বুঝতে এতটুকু চিন্তারও দরকার পড়ে না, সে বিষয়টা একজন মহিলার নিকট এত অবোধগম্য কী করে হতে পারে!
* সতরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ ব্যবহার করে কথা বলা মুসতাহাব।
* সতরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিনায়া শব্দ ব্যবহার করা শরিয়তের একটি নীতি। প্রয়োজন ছাড়া এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা যাবে না। এর কিছু উদাহরণ হচ্ছে-

وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا

'আর তোমাদের মধ্য হতে যে দুজন (নর-নারী) এই কাজ (ব্যভিচার) করবে, তাদেরকে তোমরা শাস্তি দেবে। '১৭০

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ

'রমাজানের রাতে তোমাদের বিবিগণের নিকট গমন করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। '১৭১

نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ

'তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যখেত। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যখেতে যে প্রকারে ইচ্ছে গমন করো। '১৭২

এভাবে অন্যান্য আয়াতে সতরসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রূপক শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

গোপনীয় বিষয়গুলোতে এ রকম সাধারণ উপস্থাপন ও ইঙ্গিতে বলা কথাই যথেষ্ট।

* মহিলাদের গোপন বিষয়াদি সম্পর্কে তারা আলিমদের নিকট প্রশ্ন করতে পারবে।
* কেউ প্রশ্নের উত্তর না বুঝলে, বারবার জিজ্ঞেস করতে পারবে।
* আলিম কোনো কথা খুলে বলতে লজ্জা পেলে, কেউ যদি সেটা বুঝে থাকে, সে প্রশ্নকারীকে আলিমের কথার ব্যাখ্যা করে দেবে।
* উচ্চমানের ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার চেয়ে নিম্নমানের ব্যক্তি থেকে জ্ঞান অর্জন করা বৈধ।
* আলিম ভিন্ন কেউ যদি দায়িত্ব নিয়ে বুঝিয়ে দেন, সে ক্ষেত্রে যিনি বোঝানোর দায়িত্ব নিলেন, তার সকল কথা শ্রোতাকে বুঝতে হবে এমনটা শর্ত নয়।
* যিনি শিখতে আগ্রহী, তার প্রতি কোমল আচরণ করে তাকে শেখাতে হবে। সে যদি না বুঝে, তবে তাকে মাজুর (অপারগ) ধরা হবে।
* নিজের গোপনীয় বিষয় লুকোনো মানুষের নিকট কাম্য-যদিও মহিলাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সৃষ্টিগত। তাই তাদেরকে সুগন্ধিযুক্ত কাপড় ব্যবহার করে উৎকট গন্ধটা দূর করতে হবে।

এ হাদিস থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান চরিত্র, তাঁর উন্নত ধৈর্য ও লজ্জার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৭৩

টিকাঃ
১৬৭. আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা: ৭/২১৩।
১৬৮. فرصة : অর্থাৎ পশমি কাপড় বা তুলা বা পশমযুক্ত পরিধেয় চামড়ার টুকরো। সুগন্ধি শব্দের ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কাপড়টি যেন সুগন্ধময় হয়। দেখুন, ফাতহুল বারি: ১/৪১৬।
১৬৯. সহিহুল বুখারি: ৩১৪, সহিহু মুসলিম: ৩৩২।
১৭০. সুরা আন-নিসা, ৪: ১৬।
১৭১. সুরা আল-বাকারা, ২: ১৮৭।
১৭২. সুরা আল-বাকারা, ২: ২২৩।
১৭৩. ফাতহুল বারি: ১/৪১৬, আইনি কৃত শারহু সুনানি আবি দাউদ: ২/১১১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ‘উনদুল হাকিম’-এর ভিত্তিতে বাস্তবতা বুঝিয়ে দিতেন

📄 ‘উনদুল হাকিম’-এর ভিত্তিতে বাস্তবতা বুঝিয়ে দিতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, (আমি ফরসা কিন্তু) আমার একটি কালো ছেলে জন্মেছে (তাই আমি সন্তানটি আমার বলে স্বীকার করতে সংশয় বোধ করছি)।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কি উট আছে?” লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার রং কী?" লোকটি উত্তর দিলেন, "লাল।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সেগুলোর মধ্যে কি ছাই বর্ণের কোনো উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো?" তিনি উত্তর দিলেন, "হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারায় এমনটি হয়েছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ছেলের কালো রংটাও হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারার কারণে হয়েছে।"১৭৪

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'লোকটি স্ত্রীর ওপর অপবাদ আরোপ করার উদ্দেশ্যে এমনটা বলেননি; বরং নিজের সংশয়ের কারণে তিনি বিষয়টি জানতে এসেছিলেন। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণ যোগ করে তাকে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি অকুণ্ঠচিত্তে তা মেনে নিলেন। '১৭৫

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* বিছানাসংশ্লিষ্ট বিষয়টি এ হাদিস থেকে মীমাংসিত হয়ে যায়। বাবা-ছেলের রং যদি ভিন্নও হয়, তবুও এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, স্ত্রী কোনো ধরনের মন্দকর্মে লিপ্ত হয়েছে। কারণ, কেউ যদি ফরসা হয়, তবে তার কালো বর্ণের ছেলে জন্ম নেওয়া সম্ভব। একইভাবে বাবা কালো বর্ণের হলে, তার ফরসা ছেলে জন্ম হওয়াও সম্ভব।
* কেবল ছেলের গায়ের রং ভিন্ন ধরনের হওয়ার কারণে কোনো বাবা নিজের ছেলেকে অস্বীকার করা জায়িজ নয়।
* বংশ সংরক্ষণের গুরুত্ব।
* নেতিবাচক ধারণা পোষণের ওপর ভর্ৎসনা।
* কিয়াসের প্রামাণ্যতা।
* উদাহরণ দিয়ে বোঝালে প্রশ্নকারী দ্রুত বুঝতে সক্ষম হয়। ১৭৬

টিকাঃ
১৭৪. সহিহুল বুখারি: ৫৩০৫, সহিহু মুসলিম: ১৫০০।
১৭৫. ফাতহুল বারি: ৯/৪৪৪।
১৭৬. ফাতহুল বারি: ৯/৪৪৪, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/১৩৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কুরআন দিয়ে দলিল দিতেন

📄 কুরআন দিয়ে দলিল দিতেন


আবু সাইদ বিন মুআল্লা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি একদিন মসজিদে নববিতে সালাতরত ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাক দিলেন। কিন্তু সালাতে থাকায় জবাব দিইনি। সালাত শেষে আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি সালাতে ছিলাম।"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ কি বলেননি-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ

"হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদের জীবন সঞ্চারক বস্তুর দিকে আহ্বান করেন?"১৭৭

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার মসজিদ থেকে বেরোনোর আগে আমি তোমাকে একটি সুরা শিখিয়ে দেবো। এ সুরাটি কুরআনের মাহাত্ম্যপূর্ণ সুরাগুলোর একটি।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন। কিন্তু তিনি যখন বের হওয়ার জন্য উদ্যত হলেন, আমি বললাম, "আপনি কি বলেননি যে, আমি তোমাকে একটি সুরা শিখিয়ে দেবো, যা কুরআনের মাহাত্ম্যপূর্ণ সুরাগুলোর একটি?” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলা শুরু করলেন, “الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) এট হলো সাবউল মাসানি১৭৮। আর এটিই সে কুরআন, যা আমার ওপর নাজিল হয়েছে।"১৭৯

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহ তাআলা যখন মাখলুক সৃষ্টি করা থেকে অবসর হলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক দাঁড়িয়ে বলল, "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা বিষয়ে আশ্রয় চাইবার জায়গা এটি।"

আল্লাহ তাআলা বললেন, “হাঁ, তবে তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমাকে যে রক্ষা করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব; আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব?"

তখন আত্মীয়তা-সম্পর্ক বলল, "অবশ্যই।"

আল্লাহ তাআলা বললেন, "তবে তোমার জন্য তা-ই হবে।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা চাইলে কুরআনের এ আয়াতসমূহ পড়তে পারো:

فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطَّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ - أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

"ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির করেন আর তাদের দৃষ্টিশক্তিকে করেন অন্ধ। তারা কি কুরআন সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তরে তালা দেওয়া আছে?”১৮০_১৮১

টিকাঃ
১৭৭. সুরা আল-আনফাল, ৮: ২৪।
১৭৮. সাবউল মাসানি অর্থ, যে সাতটি আয়াত বারবার পড়া হয় অর্থাৎ সুরা আল-ফাতিহা।
১৭৯. সহিহুল বুখারি: ৪৪৭৪।
১৮০. সুরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ২২-২৪।
১৮১. সহিহুল বুখারি: ৫৯৮৭, সহিহু মুসলিম: ২৫৫৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্পষ্ট করে বোঝানোর জন্য যুক্তিভিত্তিক দলিল দিতেন

📄 স্পষ্ট করে বোঝানোর জন্য যুক্তিভিত্তিক দলিল দিতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "হে আল্লাহর নবি, কীভাবে কাফিরকে তার চেহারার ওপর হাশর করানো হবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "যে সত্তা দুনিয়ার বুকে মানুষকে পায়ে ভর করে চালাতে পারেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ওপরে মানুষকে চলাতে সক্ষম নন?"

কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) (আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করে এর স্বীকৃতি দিয়ে) বললেন, "জি, আমাদের রবের মর্যাদার কসম, অবশ্যই তিনি এর ওপর সক্ষম। "১৮২

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাশরের ময়দানে কাফিরদেরকে মুখের ওপর অবস্থান করানোর পেছনে হেকমত হলো, তারা দুনিয়ায় কখনো আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করেনি। তার শাস্তিস্বরূপ কিয়ামতের দিন তাদের উপস্থিত করা হবে মুখের ওপর ভর করা অবস্থায়। এটি তাদের লাঞ্ছনার বহিঃপ্রকাশ হবে সেদিন। তারা হাত ও পায়ের জায়গাতে কেবল মুখ ব্যবহার করবে। এভাবে তাদের ওপর শাস্তি প্রয়োগ হবে।'১৮৩

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "আমার মা মারা গেছেন। তার এক মাসের রোজা কাজা হয়ে আছে। (আমি কি তার পক্ষ থেকে রোজাগুলো আদায় করতে পারি?)"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি মনে করো, যদি তোমার মায়ের কোনো ঋণ থাকত, তবে কি তুমি তা আদায় করতে না?"

"জি, করতাম।” বললেন সে মহিলা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে আল্লাহর ঋণ (কাজা রোজা) আদায় করে দেওয়া সবার পূর্বে উচিত। "১৮৪

আতা বিন ইয়াসার (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “মায়ের কক্ষে প্রবেশের সময় আমি কি মায়ের কাছে অনুমতি নেব?”

হাঁ।

আমি ও আমার মা বাড়িতে একত্রেই থাকি।

তবুও তুমি তার কাছে অনুমতি নেবে প্রবেশের আগে।

আমিই তার সেবা-শুশ্রূষা করি।

তুমি তার কাছে অনুমতি নেবে। তুমি কি তাকে কাপড়হীন অবস্থায় দেখতে চাও?

না।

তবে তার কাছে অনুমতি নেবে। '১৮৫

আবু ওয়ালিদ সুলাইমান আল-বাজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'একজন মুমিন মা বা মাহরাম অথবা যার সতর দেখা তার জন্য জায়িজ হবে না-এমন কারও কক্ষে যাওয়ার আগে অনুমতি নিতে হবে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন সাহাবি অনুমতির ব্যাপারে জানতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি তাকে কাপড়হীন অবস্থায় দেখতে চাও?"...এর অর্থ হচ্ছে (আল্লাহই অধিক জানেন) যদি তুমি তার কাছে অনুমতি না চাও, তবে হঠাৎ করে তার কাছে গেলে তাকে কাপড়হীন দেখার সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, তাদের সতরের দিকে তাকানো জায়িজ। তাই অনুমতি ছাড়াই তাদের কক্ষে যাওয়া যায়। '১৮৬

আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন।" যুবকের এমন কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতচকিত হয়ে তার দিকে তাকালেন। তাকে ধমকালেন। "থামো থামো" বলতে লাগলেন।

কিন্তু রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।” যুবকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "কেউ তোমার মায়ের সাথে এমনটা করুক, তুমি কি তা চাইবে?"

না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।

এভাবে অন্য মানুষেরাও তাদের মায়ের জন্য এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের মেয়ের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?

আল্লাহর কসম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।

মানুষও নিজেদের কন্যার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের বোনের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?

না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করুন।

মানুষও নিজেদের বোনের ব্যাপার এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের ফুফুর ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?

না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।

তোমার মতো অন্য মানুষও তাদের ফুফুদের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?

না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।

মানুষও তাদের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না।

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকটির গায়ে হাত রেখে দোয়া করলেন:

اللهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ, وَطَهِّرْ قَلْبَهُ, وَحَصِّنْ فَرْجَهُ

"হে আল্লাহ, আপনি তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তার অন্তর পবিত্র করে দিন। তার লজ্জাস্থানের হিফাজত করুন।"১৮৭

টিকাঃ
১৮২. সহিহুল বুখারি: ৪৭৬০, সহিহু মুসলিম: ২৮০৬।
১৮৩. ফাতহুল বারি: ১১/৩৮৩।
১৮৪. সহিহুল বুখারি: ১৯৫৩, সহিহু মুসলিম: ১১৪৮।
১৮৫. মুয়াত্তা মালিক: ১৭৯৬; আতা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মুরসাল সনদে বর্ণিত। ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদিসটি মুরসাল। তবে অর্থের দিক থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা রয়েছে। দেখুন, আত-তামহিদ: ১৬/২২৯।
১৮৬. আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা ৭/২৮৪।
১৮৭. মুসনাদু আহমাদ: ২১৭০৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00