📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রশ্নকারীকে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদান করতেন

📄 প্রশ্নকারীকে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদান করতেন


আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ধ্বংস হোক! হিজরত বড়ই কঠিন! তোমার কি কোনো উট আছে?"

জি, আছে।

তুমি কি তার সাদাকা দাও?

জি।

তা থেকে কিছু দান করো?

জি।

তুমি কি ওলান পূর্ণ হওয়ার দিন দুধ দোহন করো?

জি।
তবে তুমি তোমার গ্রামে অবস্থান করে আল্লাহ নির্ধারিত ফরজগুলো আদায় করতে থাকো। আল্লাহ তোমার আমলের সাওয়াব নষ্ট করবেন না।"১২০

হাদিসের ব্যাখ্যা

এ হাদিসে বেদুইন সাহাবির কথায় হিজরত শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনায় থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন এ সাহাবি। তিনি চেয়েছিলেন, পরিবার ও দেশ ছেড়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকতে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, হিজরত তার জন্য কষ্টকর হবে। তিনি আশঙ্কা করলেন, এ বেদুইন সাহাবির মাঝে হিজরত করে টিকে থাকার শক্তি নেই। হিজরতের হকও সে আদায় করতে পারবে না। একসময় সে আবার পেছনে হটে যাবে। যেহেতু হিজরত করা তার জন্য উপযুক্ত নয়, তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যে হিজরত সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞেস করলে, তা বড় কঠিন! তুমি বরং তোমার দেশে থেকেই উত্তম আমল করো। তুমি যেখানেই থাকো। এ আমল তোমার কাজে আসবে। আল্লাহ তোমার সাওয়াব বিনষ্ট করবেন না। '১২১

টিকাঃ
১২০. সহিহুল বুখারি: ১৪৫২, সহিহু মুসলিম: ১৮৬৫।
১২১. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উম্মতের জন্য অনুপকারী প্রশ্নের উত্তর দিতেন না

📄 উম্মতের জন্য অনুপকারী প্রশ্নের উত্তর দিতেন না


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। বললেন, "হে মানুষসকল, তোমাদের ওপর আল্লাহ হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ করো।" এক ব্যক্তি বললেন, "প্রতি বছর হজ করতে হবে, হে আল্লাহর রাসুল?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে রইলেন। কিছু বললেন না। সে সাহাবি প্রশ্নটি তিনবার করলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে থাকলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

لَوْ قُلْتُ: نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ، ثُمَّ قَالَ: ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوهُ

"যদি আমি হাঁ বলি, তবে প্রতি বছরই হজ করা ফরজ হয়ে যাবে; অথচ তোমাদের সে সক্ষমতা নেই। আমি তোমাদের জন্য যে বিষয়ে ছাড় দিই, তোমরা সে বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়ে গেছে অধিক প্রশ্নের কারণে এবং নবিদের সাথে তাদের বিরোধের কারণে। তাই যদি আমি তোমাদের কোনো কিছুর আদেশ দিই, তবে সাধ্যমতো তা পালন করো। আর যখন কোনো কিছু থেকে তোমাদের নিষেধ করি, তবে তা থেকে বিরত থাকো।"১২২

টিকাঃ
১২২. সহিহু মুসলিম: ১৩৩৭, সহিহুল বুখারি: ৭২৮৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অনর্থক প্রশ্নের প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর দিতেন

📄 অনর্থক প্রশ্নের প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর দিতেন


'উসলুবুল হাকিম' বা 'প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতিতে উত্তর' বলা হয়, প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের জবাবের স্থলে অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে প্রশ্নকর্তাকে সতর্ক করে দেওয়া যে, এ বিষয়টি অধিক গুরুত্ববহ এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করা অগ্রগণ্য। ১২৩

মানুষ অনেক সময় সঠিক প্রশ্নটি সঠিক সময়ে করতে জানে না। অনেকে আবার অধিক প্রয়োজনীয় বিষয়টি ছেড়ে প্রয়োজনহীন বিষয় জিজ্ঞেস করে বসে। দুটোই অনুচিত। এ ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাময় উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সংশোধন করে দিতেন। দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য অধিক উপকারী বিষয়ের অভিমুখী করতেন প্রশ্নকারীকে। সবচেয়ে গুরুত্ববহ বিষয়ের নির্দেশনা দিতেন তিনি।

এ ধরনেরই একটি প্রশ্ন সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ

'লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। '১২৪

সাহাবিগণ চাঁদের পূর্ণিমা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মাসের শুরু ও শেষের নতুন চাঁদ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু এ প্রশ্নের মাঝে যেহেতু তেমন কোনো উপকার ছিল না, তাই আল্লাহ তাআলা উসলুবুল হাকিমের হিকমাহ অনুযায়ী তাদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন:

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ

'লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বলুন, "তা মানুষের ও হজের জন্য সময় নির্ধারক। "১২৫

এ আয়াতের ধারাবাহিকতা লক্ষ করলে আমরা একটি ব্যাপার বুঝতে পারি অনায়াসে। সেটি হচ্ছে, যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে প্রশ্নটির উত্তর না দিয়ে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে আয়াতে। কারণ, এ উত্তরটিই মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য বেশি উপকারী। আর সেটি হচ্ছে, চাঁদ সময়ভিত্তিক বিবিধ ইবাদত ও আমলের সময় নির্দেশ করে। যেমন : হজ, সাওম, তালাকের পর মহিলাদের ইদ্দত। যেহেতু এ ইলমটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই কৃত প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এটিই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১২৬

সাহাবিগণ যখন একটি কম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন, জবাবে তার চেয়ে অধিক উপকারী বিষয়টি বলে তাদের উপকারহীন প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ

'তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, "তারা কী দান করবে?” আপনি বলুন, "তোমরা ধনসম্পত্তি হতে যা ব্যয় করবে, তা পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করবে। আর তোমরা যেসব সৎ কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত। "১২৭

'কোন বস্তুটি ব্যয় করবে' সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে, তা বলে দেওয়া হলো। কারণ, ব্যয়ের খাতই অধিক গুরুত্ববহ এখানে। ১২৮

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম। তখন মসজিদের দরোজার ছাদের নিচে জনৈক বেদুইন এসে আমাদের সাথে মিলিত হলো। সে বলল, "হে আল্লাহ রাসুল, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ধ্বংস হোক! কিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি নিয়েছ?"

তখন লোকটি যেন নম্র হয়ে গেল। বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামতের জন্য অনেক বেশি সালাত আদায় বা অনেক রোজা রাখা কিংবা অনেক বেশি পরিমাণে সাদাকা করা-এমন কোনো আমল আমি করিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তুমি যাকে ভালোবাসো, তার সাথেই তোমার কিয়ামত হবে।"

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'তখন আমরা বললাম, "এই কথা কি আমাদের জন্যও?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথায় সেদিন আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হই।'

এরপর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসি। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও ভালোবাসি। আমি আশা করি, আমার ভালোবাসার ফলে আমার হাশর তাঁদের সাথেই হবে; যদিও আমি তাঁদের মতো আমল করতে পারিনি। ১২৯

আল্লামা তিবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সাহাবির প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রজ্ঞাময় উত্তর দিয়েছেন। উসলুবুল হাকিমের অনুসরণ করেছেন। সাহাবি জিজ্ঞেস করেছেন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় জানতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্টো প্রশ্ন করলেন, "কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিলে তুমি?” অর্থাৎ তোমার কর্তব্য হচ্ছে, কিয়ামতের আগমনের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া এবং কিয়ামতের দিন তোমার উপকারে আসে-এমন নেক আমলগুলো করে যাওয়া। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিলে তুমি?”"১৩০

বারিদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তাকে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতে কী ঘোড়া থাকবে?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন:

إِنِ اللَّهُ أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ، فَلَا تَشَاءُ أَنْ تُحْمَلَ فِيهَا عَلَى فَرَسٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ يَطِيرُ بِكَ فِي الجَنَّةِ حَيْثُ شِئْتَ إِلَّا فَعَلَتْ

"যদি আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তখন যদি তুমি ইয়াকুত পাথরের তৈরি লাল ঘোড়ার পিঠে চড়ে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে যেতে চাও, তবে তা-ই পারবে।"

আরেকবার অন্য একজন লোক জানতে চাইলেন, "হে আল্লাহ রাসুল, জান্নাতে কী উট থাকবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বের প্রশ্নকারীকে যেভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, শেষের এ প্রশ্নের জবাবে তেমন উত্তর দেননি। বরং তিনি বললেন:

إِنْ يُدْخِلْكَ اللهُ الجَنَّةَ يَكُنْ لَكَ فِيهَا مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَذَتْ عَيْنُكَ

"যদি আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে তোমার জন্য সেখানে তোমার মন ও চোখজুড়ানো সকল কিছুই থাকবে।"১৩১

কাজি ইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসের প্রথম অংশে লোকটি ঘোড়ার কথা জানতে চেয়েছেন। তার উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথাটা বলেছেন, তার মাঝে এ কথাটাও উহ্য আছে যে, যদি তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো, তবে দুনিয়ার ঘোড়ার মতো কোনো ঘোড়াতে চড়ার আশা করো না। তাহলে তুমি কমই পাবে।

এ হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, তোমার মন যা চাইবে, তা-ই পাবে তুমি জান্নাতে। এমনকি যদি এমন এমন গুণের ঘোড়া চাও, তবে তা-ই পাবে। তাহলে সে ঘোড়া তোমার জন্য ভালো হবে এবং দুনিয়ার ঘোড়ার প্রতি মুখাপেক্ষী থাকবে না।'

আল্লামা তিবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ উত্তরটা উসলুবুল হাকিমের নিকটবর্তী। কারণ, লোকটি দুনিয়ার পরিচিত ঘোড়ার কথা উল্লেখ করেছে প্রশ্নে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের উত্তম ঘোড়ার বর্ণনা দিলেন। যেন বলতে চাইলেন, তুমি যে ঘোড়ার কথা বলছ, তা বাদ দাও। কারণ, দুনিয়ার এ ঘোড়ার মুখাপেক্ষী নও তুমি। তোমার জন্য এর চেয়ে বহুগুণে উত্তম এই এই বৈশিষ্ট্যের ঘোড়া রয়েছে জান্নাতে। '১৩২

টিকাঃ
১২৩. আল-ইদাহ ফি উলুমিল বালাগাহ: ২/১১০।
১২৪. সুরা আল-বাকারা, ২: ১৮৯।
১২৫. সুরা আল-বাকারা, ২: ১৮৯।
১২৬. আত-তাহরির ওয়াত তানবির ১/৫৩৫।
১২৭. সুরা আল-বাকারা, ২: ২১৫।
১২৮. ফাতহুল বারি: ৫/১৮৬।
১২৯. সহিহুল বুখারি: ৭১৫৩, সহিহু মুসলিম: ২৬৩৯।
১৩০. উমদাতুল কারি: ২২/১৯৬।
১৩১. সুনানুত তিরমিজি: ২৫৪৩।
১৩২. তুহফাতুল আহওয়াজি ৭/২১৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উত্তরের অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ও জানিয়ে দিতেন

📄 উত্তরের অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ও জানিয়ে দিতেন


কখনো দেখা গেছে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন করার দরকার ছিল, সেটি করা হয়নি। এমন অবস্থা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই সে বিষয়টি সাহাবিদের বলে দিতেন। যাতে সে বিষয়টিতে উপকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পাওয়া যায়। অথবা কখনো দেখা গেছে প্রশ্নকারীর জন্য প্রশ্নকৃত বিষয়টি জানা যেমন প্রয়োজন, সাথে অন্য বিষয়টিও জানা প্রয়োজন, তখন তিনি সে বিষয়টিও জানিয়ে দিতেন।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একবার এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি। নিজেদের সাথে সামান্য কিছু পানি নিয়ে যেতে পারি। এখন সমস্যা হচ্ছে, যদি সে পানি দিয়ে অজু করে ফেলি, তবে পান করার মতো পানি থাকে না। আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করতে পারব?" রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

هُوَ الطَهُورُ مَاؤُه وَالحِلُّ مَيْتَتُهُ

"সমুদ্রের পানি পবিত্র। আর সমুদ্রের মৃত (মাছ) হালাল।"১৩৩

রাফিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, যে ব্যক্তি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করার ব্যাপারে সন্দিহান, সে ব্যক্তি সমুদ্রের মাছ খাওয়ার ব্যাপারেও সন্দিহান হবে। অজু নিয়ে সে যেমন সমস্যায় পড়েছে, খাওয়া নিয়েও হয়তো সে সমস্যায় পড়বে। তাই অজুর মাসআলা বলার সাথে সাথে সমুদ্রের মাছ খাওয়ার বিষয়টিও তিনি জানিয়ে দিলেন। '১৩৪

ইবনে আরাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ফতোয়া দেওয়ার এটি অতিসুন্দর একটি পদ্ধতি। জিজ্ঞাসাকারী যেন পূর্ণ উপকৃত হতে পারে, সে জন্য প্রশ্নের আসল জবাবের সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়টিও উল্লেখ করে দেওয়া উচিত। যাতে যে বিষয়ে এখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি, সেটার ইলমও জিজ্ঞাসাকারী শিখে নিতে পারে। অনেক সময় এমন পদ্ধতিতে জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, যেমনটা এ ঘটনাটিতে ছিল। কারণ, যে ব্যক্তি সমুদ্রের পানির পবিত্রতার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকে, সে ব্যক্তি সমুদ্রের মাছ হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান থাকার সম্ভাবনা তো বলাই বাহুল্য। '১৩৫

টিকাঃ
১৩৩. সুনানু আবি দাউদ: ৮৩, সুনানুত তিরমিজি: ৬৯, সুনানুন নাসায়ি: ৩৩২।
১৩৪. তুহফাতুল আহওয়াজি: ১/১৮৮।
১৩৫. ফাইজুল কাদির: ৩/২১৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00