📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 ব্যক্তিভেদে একেক জনকে একেক রকম ওসিয়ত করতেন

📄 ব্যক্তিভেদে একেক জনকে একেক রকম ওসিয়ত করতেন


* আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক সাহাবি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "আমাকে অসিয়ত করুন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রাগান্বিত হোয়ো না।” লোকটি একই অনুরোধ কয়েকবার করলে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারে বললেন, "রাগান্বিত হোয়ো না।”১১৩

* আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি সফরে যাচ্ছি। আমাকে কিছু অসিয়ত করুন।"

রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ

"তুমি তাকওয়া অবলম্বন করবে। উঁচুতে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার বলবে।"

লোকটি চলে গেলে রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:

اللهمَّ اطْوِ لَهُ الْأَرْضَ، وَهَوَّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ

“হে আল্লাহ, তার জন্য জমিন নমনীয় করে দিন। তার সফর সহজ করুন।"১১৪

* সুলাইম বিন জাবির হুজাইমি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি একটি ডোরাকাটা চাদর পরিহিত ছিলেন। আর চাদরের পাড় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু'পায়ের ওপর ছিল। আমি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে অসিয়ত করুন।" তিনি বললেন:

عَلَيْكَ بِاتَّقَاءِ اللهِ وَلَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ مِنْ دلوكَ فِي إِنَاءِ الْمُسْتَقِي وَتُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ إِلَيْهِ مُنْبَسِ وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ وَإِنِ امْرُؤٌ عَيَّرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ فِيكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وَأَجْرُهُ لَكَ وَلَا تَسُبَّنَّ شَيْئًا

"আল্লাহকে ভয় করো। কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না; যদিও তা তোমার পাত্র থেকে পানি-প্রত্যাশী ব্যক্তির পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়া অথবা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলার মতো ছোট কোনো আমলই হোক। আর সাবধান! (পায়ের টাখনুর নিচে) লুঙ্গি ঝুলিয়ে রেখো না। কেননা, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না। যদি কোনো ব্যক্তি তোমার সম্পর্কে জেনে তোমার কোনো দোষ বর্ণনা করে, তবুও তুমি তার সম্পর্কে জেনেও তার কোনো দোষ বর্ণনা করবে না। তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও। তার শাস্তি সে পাবে আর তোমার সাওয়াব তুমি পাবে। আর কোনো কিছুকেই গালি দেবে না।"১১৫

সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এরপর থেকে আমি না কোনো মানুষকে গালি দিয়েছি, আর না কোনো পশুকে। '১১৫

টিকাঃ
১১৩. সহিহুল বুখারি: ৬১১৬।
১১৪. সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৪৫।
১১৫. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৫১১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 প্রশ্নকারীর জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা বাছাই করতেন

📄 প্রশ্নকারীর জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা বাছাই করতেন


* আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবি একটি উপত্যকা ধরে কোথাও যাচ্ছিলেন। উপত্যকাটিতে মিষ্টি পানির একটি ছোট ঝরনা ছিল। সাহাবির এ স্থানটি খুবই পছন্দ হলো। তিনি মনে মনে বললেন, মানুষজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এ উপত্যকায় আবাস গড়তে পারলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি ব্যতীত এমনটি করব না।'

সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তাঁকে ব্যাপারটি খুলে বললেন।

উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

لا تَفْعَلْ، فَإِنَّ مُقَامَ أَحَدِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَامًا، أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَيُدْخِلَكُمُ الجَنَّةَ، اغْزُو في سَبِيلِ اللهِ ، مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

"এমন কোরো না। তোমাদের কারও আল্লাহর পথে জিহাদে থাকা বাড়িতে থেকে সত্তর বছর ইবাদত করার সমান। তোমরা কি চাও না, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান? তাহলে তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করো। যে ব্যক্তি দুবার উট দোহনের মধ্যবর্তী পরিমাণ সময় আল্লাহর রাস্তায় কিতালে কাটাবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।"১১৬

* ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি বসে সালাত পড়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন:

مَنْ صَلَّى قَائِمًا فَهُوَ أَفْضَلُ، وَمَنْ صَلَّى قَاعِدًا فَلَهُ نِصْفُ أَجْرِ القَائِمِ، وَمَنْ صَلَّى نَائِمًا فَلَهُ نِصْفُ أَجْرِ القَاعِدِ

"দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম। বসে পড়লে অর্ধেক সাওয়াব। আর শুয়ে পড়লে বসে পড়া ব্যক্তির অর্ধেক সাওয়াব।"১১৭

'দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম': বেশিরভাগ আলিম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদিসকে নফল সালাতের ক্ষেত্রে ধর্তব্য বলেছেন। কারণ, নফল সালাত দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম। তবে বসে পড়াও জায়িজ। কিন্তু কারও ফরজ সালাত দাঁড়িয়ে পড়ার সামর্থ্য থাকলে তার জন্য ফরজ সালাত বসে পড়া জায়িজ নেই। ১১৮

* ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খাইবারে একটি জমিনের মালিক হন। এ ব্যাপারে নির্দেশনা চাইতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি খাইবারে একটি জমিন পেয়েছি। এর চেয়ে দামি কোনো সম্পদ আমি আর কখনো পাইনি। এ ব্যাপারে আপনার আদেশ কী?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا، وَتَصَدَّقْتَ بِهَا

"যদি তুমি চাও, তবে জমিনটার মালিকানা রেখে দাও, আর তার ফল-ফসল সাদাকা করে দাও।"

এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জমিনটি এই শর্তের ওপর সাদাকা করে দিলেন যে, তা বিক্রয় করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং তাতে কোনো উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এটা দরিদ্র, আত্মীয়-স্বজন, দাস-দাসী, মুজাহিদ, মুসাফির ও মেহমানদের জন্য সাদাকা হিসেবে থাকবে। কেউ যদি সঠিক নিয়মে এখান থেকে খায় এবং কারও থেকে অর্থ গ্রহণ না করে কাউকে খাওয়ায়, তবে এতে কোনো অপরাধ হবে না।'১১৯

টিকাঃ
১১৬. সুনানুত তিরমিজি: ১৬৫০।
১১৭. সহিহুল বুখারি: ১১১৫।
১১৮. হাশিয়াতুস সিনদি আলা সুনani ইবনি মাজাহ: ১/৩৭০।
১১৯. সহিহুল বুখারি: ২৭৩৭, সহিহু মুসলিম: ১৬৩৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 প্রশ্নকারীকে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদান করতেন

📄 প্রশ্নকারীকে উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদান করতেন


আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ধ্বংস হোক! হিজরত বড়ই কঠিন! তোমার কি কোনো উট আছে?"

জি, আছে।

তুমি কি তার সাদাকা দাও?

জি।

তা থেকে কিছু দান করো?

জি।

তুমি কি ওলান পূর্ণ হওয়ার দিন দুধ দোহন করো?

জি।
তবে তুমি তোমার গ্রামে অবস্থান করে আল্লাহ নির্ধারিত ফরজগুলো আদায় করতে থাকো। আল্লাহ তোমার আমলের সাওয়াব নষ্ট করবেন না।"১২০

হাদিসের ব্যাখ্যা

এ হাদিসে বেদুইন সাহাবির কথায় হিজরত শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনায় থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন এ সাহাবি। তিনি চেয়েছিলেন, পরিবার ও দেশ ছেড়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকতে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, হিজরত তার জন্য কষ্টকর হবে। তিনি আশঙ্কা করলেন, এ বেদুইন সাহাবির মাঝে হিজরত করে টিকে থাকার শক্তি নেই। হিজরতের হকও সে আদায় করতে পারবে না। একসময় সে আবার পেছনে হটে যাবে। যেহেতু হিজরত করা তার জন্য উপযুক্ত নয়, তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'যে হিজরত সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞেস করলে, তা বড় কঠিন! তুমি বরং তোমার দেশে থেকেই উত্তম আমল করো। তুমি যেখানেই থাকো। এ আমল তোমার কাজে আসবে। আল্লাহ তোমার সাওয়াব বিনষ্ট করবেন না। '১২১

টিকাঃ
১২০. সহিহুল বুখারি: ১৪৫২, সহিহু মুসলিম: ১৮৬৫।
১২১. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 উম্মতের জন্য অনুপকারী প্রশ্নের উত্তর দিতেন না

📄 উম্মতের জন্য অনুপকারী প্রশ্নের উত্তর দিতেন না


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। বললেন, "হে মানুষসকল, তোমাদের ওপর আল্লাহ হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ করো।" এক ব্যক্তি বললেন, "প্রতি বছর হজ করতে হবে, হে আল্লাহর রাসুল?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে রইলেন। কিছু বললেন না। সে সাহাবি প্রশ্নটি তিনবার করলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে থাকলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

لَوْ قُلْتُ: نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ، ثُمَّ قَالَ: ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوهُ

"যদি আমি হাঁ বলি, তবে প্রতি বছরই হজ করা ফরজ হয়ে যাবে; অথচ তোমাদের সে সক্ষমতা নেই। আমি তোমাদের জন্য যে বিষয়ে ছাড় দিই, তোমরা সে বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়ে গেছে অধিক প্রশ্নের কারণে এবং নবিদের সাথে তাদের বিরোধের কারণে। তাই যদি আমি তোমাদের কোনো কিছুর আদেশ দিই, তবে সাধ্যমতো তা পালন করো। আর যখন কোনো কিছু থেকে তোমাদের নিষেধ করি, তবে তা থেকে বিরত থাকো।"১২২

টিকাঃ
১২২. সহিহু মুসলিম: ১৩৩৭, সহিহুল বুখারি: ৭২৮৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية