📄 প্রশ্নকর্তার অবস্থা ও স্তরের প্রতি লক্ষ রেখে ফতোয়া দিতেন
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলাম, "কোন আমলটি উত্তম?” তিনি বললেন, "সময়মতো সালাত আদায় করা।” আমি বললাম, "এরপর কোনটি?” তিনি বললেন, "মাতাপিতার প্রতি সদাচরণ করা।" আমি বললাম, "এরপর কোনটি?” তিনি বললেন, "আল্লাহর পথে জিহাদ করা।"৯৫
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন, "কোন আমল সর্বোত্তম?” তিনি উত্তর দিলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ইমান আনা।” তিনি বললেন, "এরপর কোনটি?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।" বলা হলো, "এরপর কোনটি?” উত্তর দিলেন, "মাকবুল হজ।"৯৬
আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইলেন, "কোন আমলটি উত্তম?” তিনি উত্তর দিলেন, "তোমার কর্তব্য হচ্ছে সাওম আদায় করা। কেননা, এর সমতুল্য কোনো কিছু নেই।"৯৭
আবার যখন জানতে চাওয়া হলো, 'কোন আমলটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'সর্বদা করা হয় এমন আমল; যদিও তা পরিমাণে কম হয়। '৯৮
অনুরূপভাবে যখন জানতে চাওয়া হলো, 'কোন মুসলিম উত্তম?' উত্তর দিলেন, 'যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। '৯৯
জানতে চাওয়া হলো, 'কোন ইসলাম উত্তম?' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, 'খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত- সবাইকে সালাম দেওয়া। '১০০
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন জবাব দিলেন। এর কারণ কী?
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উলামায়ে কিরাম এই প্রশ্নের যে সকল উত্তর দিয়েছেন, তার সারসংক্ষেপ হলো:
* সকল প্রশ্নকারীর অবস্থা এক রকমের হয় না। তাই তাদের একই প্রশ্নের উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানতেন, কোন মানুষ কীসের মুখাপেক্ষী বা তার প্রয়োজন কী অথবা তার কোন ইবাদতে অনীহা আছে, কোন ইবাদতে আগ্রহ আছে কিংবা সে কোন ইবাদতের উপযুক্ত-এসব দিক বিবেচনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরও ভিন্ন হতো।
* অথবা একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরের কারণ হচ্ছে, সময় বিবেচনা। সময় বিবেচনায় যে আমলটি উত্তম হতো, তিনি সে আমলের নির্দেশনা দিতেন। যেমন: ইসলামের প্রথম যুগে ইসলাম অপ্রতিষ্ঠিত ছিল। মুসলিমগণ শক্তিশালী ছিল না; ছিল দুর্বল। তাই সে সময় জিহাদই ছিল সর্বোত্তম আমল। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় 'উত্তম আমল কোনটি?' প্রশ্নের জবাবে জিহাদের কথা বলতেন। এমনিভাবে অনেক নস থেকে বোঝা যায় যে, সাদাকা থেকে সালাত উত্তম। আবার বিপদাপন্নের সহযোগিতার সময় সালাতের চেয়েও সাদাকা উত্তম হয়ে যায়। '১০১
টিকাঃ
৯৫. সহিহুল বুখারি: ২৭৮৭, সহিহু মুসলিম: ৮৫।
৯৬. সহিহুল বুখারি: ২৬, সহিহু মুসলিম: ৮৩।
৯৭. সুনানুন নাসায়ি: ২২২০।
৯৮. সহিহু মুসলিম: ৭৮২।
৯৯. সহিহুল বুখারি: ১১, সহিহু মুসলিম: ৪২।
১০০. সহিহুল বুখারি ২৮, সহিহু মুসলিম ৩৯।
১০১. ফাতহুল বারি: ২/৯।
📄 ‘কোন জিহাদ উত্তম’—প্রশ্নের জবাবে বিবিধ উত্তর
* আব্দুল্লাহ বিন হাবশি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাওয়া হলো, "কোন জিহাদ উত্তম?” তিনি জবাব দিলেন, "মুশরিকদের বিরুদ্ধে মাল ও জান দিয়ে যে জিহাদ করে, তার জিহাদ উত্তম। "১০২
* আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'তিনি জানতে চাইলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা দেখছি, জিহাদই সবচেয়ে উত্তম আমল। তাহলে কি আমরা (মহিলারা) জিহাদ করব না?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "না। (তোমাদের জন্য) উত্তম জিহাদ হচ্ছে মাকবুল হজ।"১০৩
* অন্য বর্ণনায়, 'নারীদের জিহাদে হত্যার বিষয় নেই। তাই তাদের জিহাদ হচ্ছে, হজ ও উমরা। '১০৪
* তারিক বিন শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি ঘোড়ার পা-দানিতে পা দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, "কোন জিহাদ উত্তম?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "জালিম বাদশার সামনে সত্য কথা বলা।"১০৫
টিকাঃ
১০২. সুনানু আবি দাউদ ১৪৪৯, সুনanun নাসায়ি: ২৪৭৯।
১০৩. সহিহুল বুখারি: ১৫২০।
১০৪. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৯০১, মুসনাদু আহমাদ: ২৪৭৯৪।
১০৫. সুনানুন নাসায়ি: ৪২০৯।
📄 ‘কোন আমল জান্নাতে প্রবেশ করায়’—প্রশ্নের বিবিধ উত্তর
* আবু আইয়ুব আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, "আমাকে এমন একটি আমল বলুন, যে আমলটি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” উপস্থিত সাহাবিগণ বললেন, "তার কী হলো? তার কী হলো?" নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَرَبُ مَا لَهُ ، تَعْبُدُ اللهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ
"তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তাই সে জানতে চাইছে। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। সালাত কায়িম করবে। জাকাত প্রদান করবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখবে।"১০৬
* মুআজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক সফরে আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। একদিন তাঁর নিকটবর্তী হয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন আমল সম্পর্কে বলুন, যে আমল আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে নিরাপদ রাখবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرُ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، تَعْبُدُ اللهَ وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُبُّ البَيْتَ
"তুমি কঠিন একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে। তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করেন, তার জন্য বিষয়টি সহজই। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। সালাত কায়িম করবে। জাকাত আদায় করবে। রমাজানে রোজা রাখবে। বাইতুল্লাহর হজ করবে।"
এতটুকু বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الخَيْرِ: الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ، وَصَلَاةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ
"আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরোজাসমূহের সংবাদ দেবো না? (জেনে রেখো,) রোজা হলো, ঢালস্বরূপ। সাদাকা পাপ মুছে দেয়, যেভাবে পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। আর মধ্যরাতের (তাহাজ্জুদের) সালাত।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন:
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ - فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের রবকে ডাকে আশা ও ভয় নিয়ে এবং আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি, তা হতে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না, তাদের জন্য নয়নজুড়ানো কী প্রতিদান লুক্কায়িত রয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ।”১০৭
মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, "আমি কি তোমাকে এ সকল বিষয়ের প্রধান বিষয়টি ও এসবের চূড়া সম্পর্কে জানাব না?” আমি বললাম, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল।" তিনি বললেন:
رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ
"সকল কিছুর মূল হচ্ছে ইসলাম। সালাত তার খুঁটি। আর তার চূড়া হলো জিহাদ।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি তোমাকে এসবের অপরিহার্য বিষয়টি সম্পর্কে জানাব না?” আমি বললাম, "অবশ্যই, হে আল্লাহর নবি।” তিনি নিজের জিহ্বা ধরে বললেন, "তোমার জন্য এটি নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট।" আমি বললাম, “হে আল্লাহর নবি, আমরা যে সকল কথা বলি, এর কারণে কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
تَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَادُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ
"তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, হে মুআজ! মানুষকে তার জিহ্বার কারণেই অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।"১০৮
* আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জানতে চাইলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কোন আমলটি উত্তম?'১০৯ তিনি বললেন:
الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ
'আল্লাহর প্রতি ইমান আনা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।'
আমি বললাম, 'কোন দাস উত্তম?' তিনি বললেন:
أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا وَأَكْثَرُهَا ثَمَنًا
'যে তার মনিবের কাছে সবচেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট। যার দাম সবচেয়ে বেশি।'
আমি বললাম, 'যদি আমি আমল করতে না পারি, তাহলে?' তিনি বললেন:
تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ
'তাহলে তুমি আমলকারী কাউকে সাহায্য করবে অথবা অক্ষমের কাজে সাহায্য করবে।'
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমি কোনো কাজে দুর্বল প্রমাণিত হই, তাহলে?' তিনি বললেন:
تَكُفُ شَرَّكَ عَنِ النَّاسِ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ
'তোমার অনিষ্টতা থেকে অন্য মানুষদের রক্ষা করবে। কারণ, এটিও এক ধরনের সাদাকা। '১১০
* আবু শুরাইহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন কিছু জানান, যা আমার জন্য জান্নাত অবধারিত করবে।' রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
طِيبُ الْكَلَامِ وَبَذْلُ السَّلَامِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ 'উত্তম কথা, সালাম দেওয়া ও খাবার খাওয়ানো।'১১১
* আবু বারজা আসলামি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَمِطِ الْأَذَى عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ فهو لك صدقة
"মানুষ চলাচলের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেবে। এটিই তোমার জন্য সাদাকা হবে। "১১২
টিকাঃ
১০৬. সহিহুল বুখারি: ১৩৯৬, সহিহু মুসলিম: ১৩।
১০৭. সুরা আস-সাজদা, ৩২: ১৬-১৭।
১০৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৬১৬, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৯৭৩।
১০৯. সহিহু ইবনি হিব্বান (৩৭৪)-এর এক বর্ণনায় আছে, আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা করলে একজন মুমিন জান্নাতে প্রবেশ করবে।'
১১০. সহিহুল বুখারি: ২৫১৮, সহিহু মুসলিম: ৮৪।
১১১. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৫০৪।
১১২. আল-আদাবুল মুফরাদ ২২৮, মুসনাদু আহমাদ: ১৬২৯৬।
📄 ব্যক্তিভেদে একেক জনকে একেক রকম ওসিয়ত করতেন
* আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক সাহাবি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "আমাকে অসিয়ত করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রাগান্বিত হোয়ো না।” লোকটি একই অনুরোধ কয়েকবার করলে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারে বললেন, "রাগান্বিত হোয়ো না।”১১৩
* আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি সফরে যাচ্ছি। আমাকে কিছু অসিয়ত করুন।"
রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ
"তুমি তাকওয়া অবলম্বন করবে। উঁচুতে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার বলবে।"
লোকটি চলে গেলে রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
اللهمَّ اطْوِ لَهُ الْأَرْضَ، وَهَوَّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
“হে আল্লাহ, তার জন্য জমিন নমনীয় করে দিন। তার সফর সহজ করুন।"১১৪
* সুলাইম বিন জাবির হুজাইমি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি একটি ডোরাকাটা চাদর পরিহিত ছিলেন। আর চাদরের পাড় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু'পায়ের ওপর ছিল। আমি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে অসিয়ত করুন।" তিনি বললেন:
عَلَيْكَ بِاتَّقَاءِ اللهِ وَلَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ مِنْ دلوكَ فِي إِنَاءِ الْمُسْتَقِي وَتُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ إِلَيْهِ مُنْبَسِ وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ وَإِنِ امْرُؤٌ عَيَّرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ فِيكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وَأَجْرُهُ لَكَ وَلَا تَسُبَّنَّ شَيْئًا
"আল্লাহকে ভয় করো। কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না; যদিও তা তোমার পাত্র থেকে পানি-প্রত্যাশী ব্যক্তির পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়া অথবা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলার মতো ছোট কোনো আমলই হোক। আর সাবধান! (পায়ের টাখনুর নিচে) লুঙ্গি ঝুলিয়ে রেখো না। কেননা, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না। যদি কোনো ব্যক্তি তোমার সম্পর্কে জেনে তোমার কোনো দোষ বর্ণনা করে, তবুও তুমি তার সম্পর্কে জেনেও তার কোনো দোষ বর্ণনা করবে না। তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও। তার শাস্তি সে পাবে আর তোমার সাওয়াব তুমি পাবে। আর কোনো কিছুকেই গালি দেবে না।"১১৫
সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এরপর থেকে আমি না কোনো মানুষকে গালি দিয়েছি, আর না কোনো পশুকে। '১১৫
টিকাঃ
১১৩. সহিহুল বুখারি: ৬১১৬।
১১৪. সুনানুত তিরমিজি: ৩৪৪৫।
১১৫. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৫১১।