📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জাহিলি যুগে ভালো কর্মের প্রতিদান লাভের সুসংবাদ দিতেন

📄 জাহিলি যুগে ভালো কর্মের প্রতিদান লাভের সুসংবাদ দিতেন


উরওয়া বিন জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, 'হাকিম বিন হিজাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাহিলি যুগে একশ গোলাম আজাদ করেছিলেন এবং মানুষ সওয়ার হওয়ার জন্য একশটি উট দান করেছিলেন। যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও সওয়ারির জন্য একশটি উট দান করলেন এবং একশ গোলাম আজাদ করলেন।'

তিনি (হাকিম বিন হিজাম রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কি মনে হয়, আমি জাহিলি যুগে যা ভালো কর্ম করেছি, তা নেক আমল হিসেবে গণ্য হবে?"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

أَسْلَمْتَ عَلَى مَا أَسْلَفْتَ مِنْ خَيْرٍ

"পূর্বের ভালো কর্মগুলোর ওপর তুমি মুসলমান হয়েছ (অর্থাৎ সেগুলো এখনো বহাল আছে)।"৫১

ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিস প্রমাণ করে, কাফির থাকা অবস্থায় যেসব ভালো কর্ম করা হয়, মুসলমান হলে তার সাওয়াব দান করা হয়। '৫২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ)-সহ আরও অনেক বিজ্ঞ উলামায়ে কিরামের মতে হাদিস থেকে তার বাহ্যিক অর্থই উদ্দেশ্য। তা হলো-কাফির যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলমান অবস্থায় মারা যায়, তখন কুফর অবস্থায় যেসব ভালো কর্ম করেছিল, তার ওপর সাওয়াব প্রদান করা হবে। কিন্তু ফকিহগণ যে বলেছেন, "কাফিরের ইবাদত সহিহ নয়। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন কুফর অবস্থার ইবাদতগুলো গণ্য করা হবে না"-তাদের এ কথার উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়াবি বিধান অনুসারে সেগুলো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। আখিরাতে সাওয়াব না পাওয়ার কথা তারা বলেননি। '৫৩

টিকাঃ
৫১. সহিহুল বুখারি: ১৪৪৬, সহিহু মুসলিম: ১২১।
৫২. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪/১৩।
৫৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ২/১৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাওহিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করতেন

📄 তাওহিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করতেন


সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধিদল মদিনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করল। তাদের মধ্যে তাদের সরদার কিনানা বিন আবদি ইয়ালিল ছিলেন। প্রতিনিধিদলের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজন ছিলেন উসমান বিন আবুল আস বিন বিশর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। মুসলমানদের মক্কা-বিজয় ও আরবের প্রায় সকল লোক ইসলাম গ্রহণ করে ফেলায় তারা সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।

প্রতিনিধিদল মদিনায় কিছুদিন অবস্থান করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করল। প্রতিবারেই তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। তখন ইবনে আবদি ইয়ালিল বললেন, 'আমরা আমাদের পরিবার ও কওমের নিকট ফিরে যাওয়া পর্যন্ত আপনি কি আমাদের বিচার মীমাংসাকারী হবেন?' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হাঁ, তোমরা যদি ইসলামের স্বীকারোক্তি দাও, তবে আমি তোমাদের বিচার মীমাংসা করব। অন্যথায় আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোনো বিচার মীমাংসা ও সন্ধির চুক্তি হবে না।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'ব্যভিচার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? কারণ, আমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের অধিকাংশ সময় প্রবাসে কাটাতে হয়। আর আমরা নারীসঙ্গ থেকে দূরেও থাকতে পারি না। তাই আমাদের ব্যভিচার করার প্রয়োজন পড়ে।'

তিনি বললেন, 'ব্যভিচার হারাম, মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তা হারাম করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

"আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। "৫৪

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'সুদ সম্পর্কে আপনার রায় কী?'

তিনি বললেন, 'সুদ হারাম।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'কিন্তু আমাদের সকল সম্পদ তো সুদ?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা শুধু মূলধনই গ্রহণ করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

'হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাকো।"৫৫

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'আর মদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'মদ আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। অতঃপর তিলাওয়াত করলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ-এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।”৫৬

অতঃপর প্রতিনিধিদল উঠে গেল এবং একে অপরের সাথে একাকী কথা বলল। তারপর ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'তোমাদের জন্য আফসোস! এই তিনটি বস্তু হারাম হওয়ার কারণে আমরা (ইসলাম গ্রহণ না করে) আমাদের কওমের নিকট ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহর কসম, সাকিফ গোত্রের লোকেরা মদ্যপান ও জিনা না করে কখনো থাকতে পারবে না।'

তখন সুফইয়ান বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলল, 'হে মানুষ, আল্লাহ যদি সাকিফের সাথে কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তারা অবশ্যই এগুলো থেকে বিরত থাকতে পারবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যাদের তুমি দেখতে পাচ্ছ, তারাও এসবে আসক্ত ছিলেন, কিন্তু তারা সবর করেছেন এবং উক্ত পাপকর্মগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। তা ছাড়া আমরা ভয় পাচ্ছি যে, এই ব্যক্তি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন বিজয়ী বেশে পৃথিবী চষে বেড়াবেন। আমরা তখন পৃথিবীর এক কোনায় দুর্গের অভ্যন্তরে পড়ে থাকব। আমাদের চারপাশে ইসলামের জয়জয়কার চলবে। আল্লাহর কসম, এভাবে যদি আমরা একমাসও থাকি, তাহলে ক্ষুধার কারণে অবশ্যই মরে যাব। তাই আমার মতে, ইসলাম গ্রহণ করে ফেলাই আমাদের জন্য ভালো। নতুবা আমাদের পরিণতিও মক্কার মতো হবে (অর্থাৎ মক্কার মতো আমাদের অঞ্চলও মুসলমানদের করায়ত্তে চলে আসবে)।'

(তারা যতদিন ছিল) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য খাবার পাঠাতেন। তারা সেখান থেকে কিছুই খেত না, যতক্ষণ না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করতেন। এভাবে একদিন তারা মুসলমান হয়ে গেল।

তারা বলল, 'আমাদের দেবী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?'

তিনি বললেন, 'তাকে ভেঙে ফেলতে হবে।'

তারা বলল, 'তা কী করে সম্ভব? যদি দেবী জানতে পারে যে, আমরা তাকে ভেঙে ফেলতে চাই, তখন তো সে আমাদের পরিবারের লোকদের মেরে ফেলবে।'

উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, 'আফসোস তোমার জন্য, হে ইবনে আবদি ইয়ালিল! দেবী তো নিছক একটি পাথর। সে তো জানে না, কে তার পূজা করে, আর কে করে না।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'হে উমর, আমরা তোমার কাছে আসিনি।'

অতঃপর তারা মুসলমান হয়ে গেল এবং তাদের সাথে সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত হলো। সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিন বছর পর্যন্ত দেবী না ভাঙার অনুরোধ করল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা বলল, 'তাহলে দুই বছর পর্যন্ত না ভাঙা হোক।' তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা এক বছর রাখার অনুরোধ করল। তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা বলল, 'তাহলে অন্তত একমাস।' তিনি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিলেন যে, 'এক মুহূর্তও রাখা যাবে না।'

দেবীমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার অনুরোধ তারা এ জন্য করল যে, তা ভেঙে ফেললে তাদের নারী, শিশু ও অবুঝ লোকেরা না বুঝে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলার ভয় ছিল। এ ছাড়াও মূর্তি ভেঙে তাদের কওমকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে চাইছিল না তারা। তাই তারা মূতিভাঙার দায়িত্ব থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন, 'মূর্তি ভাঙার জন্য আমি লোক পাঠাব, তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।'

এ সিদ্ধান্তের ওপর তারা স্বাক্ষর করল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধিদেরকে তাদের ওখানে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করল।

তারপর যখন তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল, তখন লোকেরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চুক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল।

তখন তারা আফসোস প্রকাশ করে জানাল যে, তারা খুব কঠোর হৃদয়ের একজন ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছে, যিনি তলোয়ারের জোরে বিজয় অর্জন করে চলেছেন এবং নিজের ইচ্ছেমতো বিচার ফয়সালা করেন। গোটা আরবকে তিনি বশীভূত করে রেখেছেন এবং তাদের জন্য সুদ, ব্যভিচার ও মদ হারাম করেছেন এবং দেবীমূর্তি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

এতে সাকিফ গোত্রের লোকজন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ল এবং বলল, 'আমরা কখনো তা মেনে নেব না।'

বর্ণনাকারী বলেন, 'তারপর তারা অস্ত্রপাতি জোগাড় করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এভাবে একদিন অথবা তিনদিন থাকার পর আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন। তখন তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বলল, "তাঁর কাছে আবার যাও এবং তাঁর প্রণীত শর্তের ওপর সন্ধি করে এসো।"

প্রতিনিধিদল বলল, "আমরা তা করে এসেছি এবং তাঁকে আমরা সর্বাধিক আল্লাহভীরু, সর্বাধিক অঙ্গীকার রক্ষাকারী, সর্বাধিক দয়ালু ও সবচেয়ে সত্যবাদী লোক পেয়েছি। আমরা যে তাঁর নিকট গমন করেছি এবং তিনি আমাদের ব্যাপারে যে ফয়সালা করেছেন, তাতে আমাদের ও তোমাদের জন্য বরকত রয়েছে।"

তারা বলল, “এ কথা আগে বলোনি কেন?"

প্রতিনিধিদল বলল, "আমরা চেয়েছিলাম, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের অন্তর থেকে শয়তানি অহমিকা সমূলে উপড়ে ফেলেন।"

তখন তারা সবাই মুসলমান হয়ে গেল। এর কিছুদিন পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত দলটি তাদের নিকট পৌঁছাল। এটার নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তাদের মধ্যে মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও ছিলেন।

সাকিফের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তাদের চারপাশে জড়ো হলো। এমনকি নববধূরাও বাসর ঘর ও কনের আসর থেকে বেরিয়ে আসলো। সাকিফের অধিকাংশ লোকের ধারণা ছিল, দেবীমূর্তি ভাঙা কস্মিনকালেও সম্ভব নয় এবং অবশ্যই সে আঘাতকারীদের প্রতিহত করবে।

মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে কুড়াল হাতে নিলেন এবং সঙ্গীদের বললেন, "আল্লাহর কসম, আজকে আমি সাকিফের কাণ্ড দেখিয়ে তোমাদের হাসাব।"

তারপর কুড়াল দিয়ে আঘাত করলেন, তারপর লাথি মেরে মূর্তি ভূপাতিত করলেন।

তা দেখে দলের লোকেরা আনন্দধ্বনি দিয়ে উঠল এবং উপহাস করে বলল, “হায় হায়! মুগিরা তো ধ্বংস হয়ে গেছে, দেবীমা তাকে হত্যা করে দিয়েছেন!”

তারপর তাদের বললেন, "মূর্তি ভাঙার কাজে শরিক হতে চাইলে কাছে আসো।"

অতঃপর মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে বললেন, "হে সাকিফ, আরবের লোকেরা বলত, আরবের সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোক হলো সাকিফের লোক। কিন্তু তোমরা তো দেখছি, আরবের সবচেয়ে নির্বোধ লোক। আফসোস তোমাদের জন্য এবং তোমাদের লাত-উজ্জা ও দেবীমার জন্য! এগুলো নিছক পাথর বৈ কিছু নয়। কে তাদের ইবাদত করে আর কে করে না-সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।"

অতঃপর তিনি দেবীঘরের দরোজায় আঘাত করে তা ভেঙে ফেললেন। তারপর তিনি দেয়ালের ওপর আরোহণ করলেন। তার পাশাপাশি অন্যরাও উঠল। সবাই মিলে মন্দিরটাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল।

মন্দিরের রক্ষী বলল, "তোমরা যদি দেবীমূর্তির ভিত্তি উপড়ে ফেলতে চাও, তবে তার অভিশাপে তোমরা বিধ্বস্ত হয়ে যাবে।"

তা শুনে মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, "আমাকে ভিত্তি উপড়ে ফেলার অনুমতি প্রদান করুন।"

অতঃপর তাঁরা তার ভিত্তি উপড়ে ফেলে নিচ থেকে মাটি বের করে আনলেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর ও পানি এক করে দিলেন। তা দেখে সাকিফের লোকজন নির্বাক হয়ে গেল।

অতঃপর তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসলেন। তিনি সেদিনই মূর্তি থেকে সংগৃহীত মালামাল তাদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন এবং দ্বীনকে সম্মানিত করা ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহায্য করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলেন। '৫৭

টিকাঃ
৫৪. সুরা আল-ইসরা, ১৭: ৩২।
৫৫. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৭৮।
৫৬. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ৯০।
৫৭. বাইহাকি কৃত দালায়িলুন নুবুওয়াহ ৫/৩৮৬, জাদুল মাআদ ৩/৫২১, ইবনে কাসির কৃত আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা: ৪/৬২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00