📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আমর বিন আব্বাসাকে গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন

📄 আমর বিন আব্বাসাকে গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন


আমর বিন আবাসা সুলামি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি প্রাক-ইসলাম যুগে সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট বলে ধারণা করতাম। তারা কোনো ধর্মের ওপর ছিল না। তারা সবাই মূর্তিপূজা করত। তখন আমি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির কথা শুনলাম, যিনি বিভিন্ন সংবাদ বর্ণনা করেন। আমি বাহনের ওপর আরোহণ করে তাঁর নিকট এলাম এবং জানতে পারলাম যে, তিনি জনসমাবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। তাঁর কওম তাঁর ওপর নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তাঁর নিকট পৌঁছালাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার পরিচয় কী?"

তিনি বললেন, "আমি নবি।" আমি বললাম, "নবি কী?” তিনি বললেন, "আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আল্লাহ আপনাকে কী দিয়ে প্রেরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে, দেব-দেবী ও মূর্তি ভেঙে ফেলতে, আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে এবং শিরক বিলুপ্ত করতে প্রেরণ করেছেন।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কারা আছে?” তিনি বললেন, “স্বাধীন ও কৃতদাস উভয় শ্রেণির লোক। তখন মুমিনদের মধ্যে তাঁর কাছে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন।” আমি বললাম, "আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই।" তিনি বললেন:

إِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا، أَلَا تَرَى حَالِي وَحَالَ النَّاسِ، وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِي قَدْ ظَهَرْتُ فَأْتِنِي

"বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তা পারবে না। তুমি তো আমার ও লোকজনের অবস্থা দেখতেই পাচ্ছ। তুমি বরং পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও। যখন আমি বিজয় লাভ করেছি বলে শুনতে পাবে, তখন আমার কাছে এসো।"

আমি পরিবারের কাছে চলে গেলাম। ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় গমন করলেন। তখন আমি পরিবারের সাথে অবস্থান করছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় গমন করার পর থেকে আমি সর্বদা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে লাগলাম এবং মানুষজনের কাছে খবর নিতে লাগলাম। সে সময় একদল মদিনাবাসী আমার কাছে আসলো।

তাদের জিজ্ঞেস করলাম, "যে ব্যক্তি মদিনায় আগমন করেছেন, তিনি কী করছেন, তাঁর অবস্থা কী?” তারা জানাল যে, “লোকজন অতি দ্রুত তাঁর অনুসারী হচ্ছে; অথচ তাঁর কওম তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি।"

এ কথা শোনার পর আমি মদিনায় গেলাম এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তাঁকে বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে চিনতে পেরেছেন?" তিনি বললেন, “হাঁ, তুমি সেই ব্যক্তি, যে আমার সাথে মক্কায় সাক্ষাৎ করেছিলে।"

আমি বললাম, "জি, আমি সেই ব্যক্তি।" আমি আবার বললাম, “হে আল্লাহর নবি, আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন আর যা কিছু আমি জানি না, তা আমাকে শিক্ষা দিন। আর আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন!"

তিনি বললেন, "তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে। এরপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে ওপরে না ওঠা পর্যন্ত তুমি সালাত থেকে বিরত থাকবে। কেননা, সূর্য যখন উদিত হয়, তখন সেটা উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে। সে সময়ে কাফিররা তাকে সিজদা করে। এরপর সালাত আদায় করতে পারবে তিরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত। কারণ, সে সময় সালাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকেন। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে। কেননা, এ সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়ায় পরিবর্তন শুরু হয়, তখন আসর পর্যন্ত সালাত পড়তে পারবে। কারণ, ফেরেশতাগণ তখন সালাতে উপস্থিত থাকেন। তারপর সালাত হতে বিরত থাকবে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। কেননা, সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে অস্ত যায়। সে সময় কাফিররা তাকে সিজদা করে।"

তিনি বলেন, আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, অজু সম্পর্কে বলুন।” তিনি বললেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির কাছে যখন অজুর পানি পেশ করা হয়, এরপর সে কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং তা পরিষ্কার করে, তখন তার মুখমণ্ডলের মুখ-গহ্বর ও নাকের সকল গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুসারে মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন মুখমণ্ডলের চারিদিক থেকে সকল গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূহ আঙুল বেয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর উভয় পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করলে উভয় পায়ের গুনাহগুলো পায়ের আঙুল বেয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে এবং আল্লাহর জন্য মন খুলে যথাযথভাবে সালাত আদায় করে, তাহলে সে ওই দিনের মতো সম্পূর্ণ গুনাহমুক্ত হয়ে যাবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। "৪৯

টিকাঃ
৪৯. সহিহু মুসলিম: ৮৩২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পূর্বের সকল অপরাধ মাফ হওয়ার সুসংবাদ দিতেন

📄 পূর্বের সকল অপরাধ মাফ হওয়ার সুসংবাদ দিতেন


হাবিব বিন আবু আওস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমর বিন আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে নিজ মুখে বলেছেন যে, আমরা আহজাবের যুদ্ধে পরিখার নিকট থেকে যখন ফিরে আসছিলাম, তখন আমার মান-সম্মান বোঝে এবং আমার কথা শোনে-এমন কতিপয় কুরাইশ লোককে এক জায়গায় একত্র করলাম। তাদের বললাম, "তোমরা অবশ্যই জানো যে, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উত্তরোত্তর উন্নতি করতে দেখতে পাচ্ছি, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাই এই মুহূর্তে আমি একটা বিষয় ভাবছি, সে সম্পর্কে তোমাদের অভিমত জানতে চাই।"

তারা বলল, "আপনি কী ভাবছেন?"

বললাম, "আমি নাজ্জাশির সাথে মিলিত হয়ে তার পাশে থাকার কথা ভাবছি। কারণ, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাদের কওমের ওপর বিজয়ী হয়, তখন আমরা নাজ্জাশির কাছে থাকব। তখন নাজ্জাশির অধীনে থাকায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধীনস্থ হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারব। আর যদি আমাদের কওম বিজয়ী হয়, তখন যেহেতু আমরা তাদের পরিচিত মানুষ, তাই তারা আমাদের সাথে ভালো আচরণই করবে।”

তারা বলল, "এ তো খুব সুন্দর অভিমত!"

তখন তাদের বললাম, "তাহলে তোমরা নাজ্জাশিকে দেওয়ার জন্য হাদিয়া সংগ্রহ করো। আমাদের ভূমি থেকে তার জন্য সবচেয়ে প্রিয় হাদিয়া হবে প্রক্রিয়াজাত চামড়া।” অতঃপর আমরা তার জন্য অনেক প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংগ্রহ করলাম। তারপর বের হয়ে একসময় তার কাছে চলে গেলাম। আমরা রাজকক্ষে প্রবেশ করব- এমন সময় আমর বিন উমাইয়া দামরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তার সাথিদের বিষয়ে কথা বলতে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি নাজ্জাশির দরবারে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসলেন।

তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, "এ হচ্ছে আমর বিন উমাইয়া দামরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আমি যখন নাজ্জাশির দরবারে প্রবেশ করব, তখন একে আমার কাছে সোপর্দ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। তিনি তাকে আমার হাতে তুলে দিলে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেবো। যদি আমি তা করতে পারি, তখন কুরাইশরা দেখতে পাবে যে, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দূতকে হত্যা করে তাদের দায়িত্ব আদায় করে দিয়েছি।"

অতঃপর আমি তার দরবারে প্রবেশ করলাম এবং তাকে সিজদা করলাম, যা আমি আগে থেকে করতাম। তিনি বললেন, "স্বাগতম হে বন্ধু, তোমার দেশ থেকে আমার জন্য কোনো হাদিয়া এনেছ?"

আমি বললাম, "জি, জাহাঁপনা। আপনার জন্য অনেক চামড়া এনেছি।”

অতঃপর সেগুলো তার সামনে পেশ করা হলে তিনি খুব পছন্দ করলেন।

অতঃপর আমি বললাম, “জাহাপনা, আমি দেখলাম যে, আপনার এখান থেকে এক ব্যক্তি বের হয়েছে। সে আমাদের শত্রুর দূত। সুতরাং তাকে আমার হাতে তুলে দিন, যেন আমি তাকে হত্যা করতে পারি। কারণ, সে আমাদের অনেক মর্যাদাবান ও ভালো মানুষদের ওপর আঘাত করেছে।"

আমার কথা শুনে তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে গেলেন। তারপর তার হাত লম্বা করে নাকের ওপর সজোরে একটা আঘাত করলেন। আমার মনে হলো, তিনি বুঝি নাকটি ভেঙেই ফেলেছেন। ওই সময় আমার জন্য যদি জমিন বিদীর্ণ হয়ে যেত, তখন আমি লজ্জায় মাটির ভেতর ঢুকে যেতাম।

আমি বললাম, “জাহাঁপনা, আপনার কাছে ওই লোককে আমার হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করাটা বোধহয় আপনার অপছন্দ হয়েছে?"

তিনি বললেন, "তুমি কি এমন ব্যক্তির দূতকে হত্যা করতে চাচ্ছ, যার কাছে সেই মহান ফেরেশতা আগমন করেন, যিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আগমন করতেন?"

আমি বললাম, “জাহাপনা, তিনি কি এমনই?”

তিনি বললেন, "আফসোস তোমার জন্য, হে আমর! আমার কথা মেনে নাও এবং তাঁর অনুসারী হয়ে যাও। আল্লাহর কসম, তিনি সত্যের ওপর আছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিরোধীদের ওপর এমনভাবে বিজয়ী করবেন, যেভাবে মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে ফিরআওন ও তার সৈন্যদলের ওপর বিজয়ী করেছিলেন।"

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে ইসলামের ওপর বাইআত করান।"

তিনি সম্মত হলেন এবং তার হাত প্রসারিত করে আমাকে ইসলামের ওপর বাইআত করিয়ে নিলেন। অতঃপর আমি পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার সঙ্গীদের কাছে গেলাম, কিন্তু ইসলামের কথা তাদের থেকে গোপন রাখলাম।

অতঃপর মুসলমান হওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। পথে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে দেখা হলো। সময়টি ছিল মক্কা-বিজয়ের পূর্বে। তিনি মক্কা থেকে কোথাও যাচ্ছিলেন। আমি বললাম, “কোথায় যাচ্ছেন, হে আবু সুলাইমান?” তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমার কাছে সত্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই লোকটি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবি। তাই আমি ইসলাম গ্রহণ করতে যাচ্ছি। তো আপনি কোথায় যাচ্ছেন?"

আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমিও ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এসেছি।"

অতঃপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। প্রথমে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং বাইআত হলেন। অতঃপর আমি কাছে গেলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে হাত প্রসারিত করলেন।

তখন আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি এই শর্তে আপনার হাতে বাইআত হব যে, আপনি আমার পূর্বের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

يَا عَمْرُو بَايِعْ، فَإِنَّ الْإِسْلَامَ يَجُبُّ مَا كَانَ قَبْلَهُ، وَإِنَّ الْهِجْرَةَ تَجُبُّ مَا كَانَ قَبْلَهَا

"আমর, বাইআত হয়ে যাও। কারণ, ইসলাম তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং হিজরত তার পূর্বের সকল গুনাহ মুছে দেয়।"

তারপর বাইআত হয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম।'

আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সবচেয়ে বেশি লজ্জা পেতাম। লজ্জার কারণে তাঁর দিকে কখনো পূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে তাকাইনি এবং তাঁর কাছে কখনো নিজের মনের ইচ্ছা নিয়ে গমন করিনি।' এমন অবস্থাতেই তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছেন। ৫০

টিকাঃ
৫০. মুসনাদু আহমাদ: ১৭৩২৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জাহিলি যুগে ভালো কর্মের প্রতিদান লাভের সুসংবাদ দিতেন

📄 জাহিলি যুগে ভালো কর্মের প্রতিদান লাভের সুসংবাদ দিতেন


উরওয়া বিন জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, 'হাকিম বিন হিজাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাহিলি যুগে একশ গোলাম আজাদ করেছিলেন এবং মানুষ সওয়ার হওয়ার জন্য একশটি উট দান করেছিলেন। যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও সওয়ারির জন্য একশটি উট দান করলেন এবং একশ গোলাম আজাদ করলেন।'

তিনি (হাকিম বিন হিজাম রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কি মনে হয়, আমি জাহিলি যুগে যা ভালো কর্ম করেছি, তা নেক আমল হিসেবে গণ্য হবে?"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

أَسْلَمْتَ عَلَى مَا أَسْلَفْتَ مِنْ خَيْرٍ

"পূর্বের ভালো কর্মগুলোর ওপর তুমি মুসলমান হয়েছ (অর্থাৎ সেগুলো এখনো বহাল আছে)।"৫১

ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিস প্রমাণ করে, কাফির থাকা অবস্থায় যেসব ভালো কর্ম করা হয়, মুসলমান হলে তার সাওয়াব দান করা হয়। '৫২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ)-সহ আরও অনেক বিজ্ঞ উলামায়ে কিরামের মতে হাদিস থেকে তার বাহ্যিক অর্থই উদ্দেশ্য। তা হলো-কাফির যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং মুসলমান অবস্থায় মারা যায়, তখন কুফর অবস্থায় যেসব ভালো কর্ম করেছিল, তার ওপর সাওয়াব প্রদান করা হবে। কিন্তু ফকিহগণ যে বলেছেন, "কাফিরের ইবাদত সহিহ নয়। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন কুফর অবস্থার ইবাদতগুলো গণ্য করা হবে না"-তাদের এ কথার উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়াবি বিধান অনুসারে সেগুলো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। আখিরাতে সাওয়াব না পাওয়ার কথা তারা বলেননি। '৫৩

টিকাঃ
৫১. সহিহুল বুখারি: ১৪৪৬, সহিহু মুসলিম: ১২১।
৫২. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪/১৩।
৫৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ২/১৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাওহিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করতেন

📄 তাওহিদ-সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করতেন


সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধিদল মদিনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করল। তাদের মধ্যে তাদের সরদার কিনানা বিন আবদি ইয়ালিল ছিলেন। প্রতিনিধিদলের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজন ছিলেন উসমান বিন আবুল আস বিন বিশর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। মুসলমানদের মক্কা-বিজয় ও আরবের প্রায় সকল লোক ইসলাম গ্রহণ করে ফেলায় তারা সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।

প্রতিনিধিদল মদিনায় কিছুদিন অবস্থান করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দফায় দফায় সাক্ষাৎ করল। প্রতিবারেই তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। তখন ইবনে আবদি ইয়ালিল বললেন, 'আমরা আমাদের পরিবার ও কওমের নিকট ফিরে যাওয়া পর্যন্ত আপনি কি আমাদের বিচার মীমাংসাকারী হবেন?' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হাঁ, তোমরা যদি ইসলামের স্বীকারোক্তি দাও, তবে আমি তোমাদের বিচার মীমাংসা করব। অন্যথায় আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোনো বিচার মীমাংসা ও সন্ধির চুক্তি হবে না।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'ব্যভিচার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? কারণ, আমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের অধিকাংশ সময় প্রবাসে কাটাতে হয়। আর আমরা নারীসঙ্গ থেকে দূরেও থাকতে পারি না। তাই আমাদের ব্যভিচার করার প্রয়োজন পড়ে।'

তিনি বললেন, 'ব্যভিচার হারাম, মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তা হারাম করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

"আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। "৫৪

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'সুদ সম্পর্কে আপনার রায় কী?'

তিনি বললেন, 'সুদ হারাম।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'কিন্তু আমাদের সকল সম্পদ তো সুদ?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা শুধু মূলধনই গ্রহণ করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

'হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাকো।"৫৫

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'আর মদ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'মদ আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। অতঃপর তিলাওয়াত করলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ-এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।”৫৬

অতঃপর প্রতিনিধিদল উঠে গেল এবং একে অপরের সাথে একাকী কথা বলল। তারপর ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'তোমাদের জন্য আফসোস! এই তিনটি বস্তু হারাম হওয়ার কারণে আমরা (ইসলাম গ্রহণ না করে) আমাদের কওমের নিকট ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহর কসম, সাকিফ গোত্রের লোকেরা মদ্যপান ও জিনা না করে কখনো থাকতে পারবে না।'

তখন সুফইয়ান বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলল, 'হে মানুষ, আল্লাহ যদি সাকিফের সাথে কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তারা অবশ্যই এগুলো থেকে বিরত থাকতে পারবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যাদের তুমি দেখতে পাচ্ছ, তারাও এসবে আসক্ত ছিলেন, কিন্তু তারা সবর করেছেন এবং উক্ত পাপকর্মগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। তা ছাড়া আমরা ভয় পাচ্ছি যে, এই ব্যক্তি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন বিজয়ী বেশে পৃথিবী চষে বেড়াবেন। আমরা তখন পৃথিবীর এক কোনায় দুর্গের অভ্যন্তরে পড়ে থাকব। আমাদের চারপাশে ইসলামের জয়জয়কার চলবে। আল্লাহর কসম, এভাবে যদি আমরা একমাসও থাকি, তাহলে ক্ষুধার কারণে অবশ্যই মরে যাব। তাই আমার মতে, ইসলাম গ্রহণ করে ফেলাই আমাদের জন্য ভালো। নতুবা আমাদের পরিণতিও মক্কার মতো হবে (অর্থাৎ মক্কার মতো আমাদের অঞ্চলও মুসলমানদের করায়ত্তে চলে আসবে)।'

(তারা যতদিন ছিল) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য খাবার পাঠাতেন। তারা সেখান থেকে কিছুই খেত না, যতক্ষণ না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করতেন। এভাবে একদিন তারা মুসলমান হয়ে গেল।

তারা বলল, 'আমাদের দেবী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?'

তিনি বললেন, 'তাকে ভেঙে ফেলতে হবে।'

তারা বলল, 'তা কী করে সম্ভব? যদি দেবী জানতে পারে যে, আমরা তাকে ভেঙে ফেলতে চাই, তখন তো সে আমাদের পরিবারের লোকদের মেরে ফেলবে।'

উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, 'আফসোস তোমার জন্য, হে ইবনে আবদি ইয়ালিল! দেবী তো নিছক একটি পাথর। সে তো জানে না, কে তার পূজা করে, আর কে করে না।'

ইবনে আবদি ইয়ালিল বলল, 'হে উমর, আমরা তোমার কাছে আসিনি।'

অতঃপর তারা মুসলমান হয়ে গেল এবং তাদের সাথে সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত হলো। সন্ধিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিন বছর পর্যন্ত দেবী না ভাঙার অনুরোধ করল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা বলল, 'তাহলে দুই বছর পর্যন্ত না ভাঙা হোক।' তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা এক বছর রাখার অনুরোধ করল। তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তারা বলল, 'তাহলে অন্তত একমাস।' তিনি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিলেন যে, 'এক মুহূর্তও রাখা যাবে না।'

দেবীমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার অনুরোধ তারা এ জন্য করল যে, তা ভেঙে ফেললে তাদের নারী, শিশু ও অবুঝ লোকেরা না বুঝে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলার ভয় ছিল। এ ছাড়াও মূর্তি ভেঙে তাদের কওমকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে চাইছিল না তারা। তাই তারা মূতিভাঙার দায়িত্ব থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করল।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালেন, 'মূর্তি ভাঙার জন্য আমি লোক পাঠাব, তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।'

এ সিদ্ধান্তের ওপর তারা স্বাক্ষর করল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধিদেরকে তাদের ওখানে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করল।

তারপর যখন তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল, তখন লোকেরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে চুক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল।

তখন তারা আফসোস প্রকাশ করে জানাল যে, তারা খুব কঠোর হৃদয়ের একজন ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছে, যিনি তলোয়ারের জোরে বিজয় অর্জন করে চলেছেন এবং নিজের ইচ্ছেমতো বিচার ফয়সালা করেন। গোটা আরবকে তিনি বশীভূত করে রেখেছেন এবং তাদের জন্য সুদ, ব্যভিচার ও মদ হারাম করেছেন এবং দেবীমূর্তি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

এতে সাকিফ গোত্রের লোকজন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ল এবং বলল, 'আমরা কখনো তা মেনে নেব না।'

বর্ণনাকারী বলেন, 'তারপর তারা অস্ত্রপাতি জোগাড় করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এভাবে একদিন অথবা তিনদিন থাকার পর আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন। তখন তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বলল, "তাঁর কাছে আবার যাও এবং তাঁর প্রণীত শর্তের ওপর সন্ধি করে এসো।"

প্রতিনিধিদল বলল, "আমরা তা করে এসেছি এবং তাঁকে আমরা সর্বাধিক আল্লাহভীরু, সর্বাধিক অঙ্গীকার রক্ষাকারী, সর্বাধিক দয়ালু ও সবচেয়ে সত্যবাদী লোক পেয়েছি। আমরা যে তাঁর নিকট গমন করেছি এবং তিনি আমাদের ব্যাপারে যে ফয়সালা করেছেন, তাতে আমাদের ও তোমাদের জন্য বরকত রয়েছে।"

তারা বলল, “এ কথা আগে বলোনি কেন?"

প্রতিনিধিদল বলল, "আমরা চেয়েছিলাম, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের অন্তর থেকে শয়তানি অহমিকা সমূলে উপড়ে ফেলেন।"

তখন তারা সবাই মুসলমান হয়ে গেল। এর কিছুদিন পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত দলটি তাদের নিকট পৌঁছাল। এটার নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তাদের মধ্যে মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও ছিলেন।

সাকিফের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তাদের চারপাশে জড়ো হলো। এমনকি নববধূরাও বাসর ঘর ও কনের আসর থেকে বেরিয়ে আসলো। সাকিফের অধিকাংশ লোকের ধারণা ছিল, দেবীমূর্তি ভাঙা কস্মিনকালেও সম্ভব নয় এবং অবশ্যই সে আঘাতকারীদের প্রতিহত করবে।

মুগিরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে কুড়াল হাতে নিলেন এবং সঙ্গীদের বললেন, "আল্লাহর কসম, আজকে আমি সাকিফের কাণ্ড দেখিয়ে তোমাদের হাসাব।"

তারপর কুড়াল দিয়ে আঘাত করলেন, তারপর লাথি মেরে মূর্তি ভূপাতিত করলেন।

তা দেখে দলের লোকেরা আনন্দধ্বনি দিয়ে উঠল এবং উপহাস করে বলল, “হায় হায়! মুগিরা তো ধ্বংস হয়ে গেছে, দেবীমা তাকে হত্যা করে দিয়েছেন!”

তারপর তাদের বললেন, "মূর্তি ভাঙার কাজে শরিক হতে চাইলে কাছে আসো।"

অতঃপর মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে বললেন, "হে সাকিফ, আরবের লোকেরা বলত, আরবের সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোক হলো সাকিফের লোক। কিন্তু তোমরা তো দেখছি, আরবের সবচেয়ে নির্বোধ লোক। আফসোস তোমাদের জন্য এবং তোমাদের লাত-উজ্জা ও দেবীমার জন্য! এগুলো নিছক পাথর বৈ কিছু নয়। কে তাদের ইবাদত করে আর কে করে না-সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।"

অতঃপর তিনি দেবীঘরের দরোজায় আঘাত করে তা ভেঙে ফেললেন। তারপর তিনি দেয়ালের ওপর আরোহণ করলেন। তার পাশাপাশি অন্যরাও উঠল। সবাই মিলে মন্দিরটাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল।

মন্দিরের রক্ষী বলল, "তোমরা যদি দেবীমূর্তির ভিত্তি উপড়ে ফেলতে চাও, তবে তার অভিশাপে তোমরা বিধ্বস্ত হয়ে যাবে।"

তা শুনে মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, "আমাকে ভিত্তি উপড়ে ফেলার অনুমতি প্রদান করুন।"

অতঃপর তাঁরা তার ভিত্তি উপড়ে ফেলে নিচ থেকে মাটি বের করে আনলেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর ও পানি এক করে দিলেন। তা দেখে সাকিফের লোকজন নির্বাক হয়ে গেল।

অতঃপর তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসলেন। তিনি সেদিনই মূর্তি থেকে সংগৃহীত মালামাল তাদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন এবং দ্বীনকে সম্মানিত করা ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহায্য করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলেন। '৫৭

টিকাঃ
৫৪. সুরা আল-ইসরা, ১৭: ৩২।
৫৫. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৭৮।
৫৬. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ৯০।
৫৭. বাইহাকি কৃত দালায়িলুন নুবুওয়াহ ৫/৩৮৬, জাদুল মাআদ ৩/৫২১, ইবনে কাসির কৃত আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা: ৪/৬২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00