📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নওমুসলিমদের বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যেতেন

📄 নওমুসলিমদের বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যেতেন


সদ্য ইসলাম গ্রহণ করা লোকদের ইসলামের ওপর অটল রাখতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অপছন্দনীয় ও সংশয় সৃষ্টিকারী বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যেতেন।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, "হাতিমের দেয়াল কি বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত?” তিনি বললেন, "হাঁ।”

আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, “তবে তারা কেন এটাকে বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করেনি?” তিনি বললেন, "তোমার সম্প্রদায়ের নিকট পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "এর দরোজা উঁচুতে স্থাপিত হওয়ার কারণ কী?" তিনি বললেন:

فَعَلَ ذَاكِ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مَنْ شَاءُوا ، وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا، وَلَوْلَا أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُ عَهْدُهُمْ بِالْجَاهِلِيَّةِ فَأَخَافُ أَنْ تُنْكِرَ قُلُوبُهُمْ، أَنْ أُدْخِلَ الجَدْرَ فِي البَيْتِ، وَأَنْ أَلْصِقُ بَابَهُ فِي الْأَرْضِ

"তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড; যাতে তারা যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং যাকে ইচ্ছা প্রবেশ করতে না দেয়। তোমার কওমের জাহিলিয়াত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এই আশঙ্কা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে, তা হলে আমি অবশ্যই (হাতিমের) দেয়াল বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করা এবং কাবার দরোজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম। "৩১

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্দেহ অমূলক ছিল না। কাবা ভেঙে ফেললে বাস্তবেই অনেক মানুষ তাঁকে খারাপ ভাবত। আর এ সুযোগে শয়তান তাদের অন্তরে প্রবিষ্ট ইসলাম বের করে ফেলার জন্য কুমন্ত্রণা দিত।

আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের অন্তরসমূহকে ইসলামের ওপর অটল রাখতে চাইতেন এবং ইসলামের প্রতি তাদের চিত্ত আকর্ষিত রাখার চেষ্টা করতেন। এ জন্য তিনি কাবাঘর ভেঙে তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি বিরূপ মনোভাব আসার সুযোগ দেননি।

তাই তিনি কাবাঘর পূর্ণরূপে নির্মাণ না করে লোকদেরকে হাতিমসহ পুরো কাবা তাওয়াফ করতে নির্দেশ দেন। এতে মানুষের মনও ঠিক থাকল আর দ্বীনের বিধান পালনেও কোনো অসুবিধা হয়নি। কেননা, কাবাঘরকে পূর্ণরূপে নির্মাণ করা ফরজ নয় এবং শরিয়তের কোনো রোকনও তার ওপর নির্ভরশীল নয়। ওয়াজিব হলো পুরো কাবাঘর তাওয়াফ করা, যা কাবাঘরকে বর্তমান অবস্থায় বাকি রাখলেও সম্ভব। ৩২

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

লোকজন বুঝতে না পারার আশঙ্কা থাকলে অনেক ঐচ্ছিক বিষয় বাদ দেওয়ার অবকাশ আছে।
শাসক বা দায়িত্বশীল এমন বিষয় থেকে বিরত থাকবে, যে বিষয় মানুষকে বিদ্রোহের পথে নিয়ে যাবে অথবা তাদের দ্বীনি বা দুনিয়াবি কোনো ক্ষতি সাধন করবে।
কোনো ওয়াজিব লঙ্ঘিত হয় না, এমন বিষয়ের মাধ্যমে মানুষের অন্তরসমূহ আকর্ষিত রাখা ভালো।
অকল্যাণ বিতাড়ন ও কল্যাণ আনয়ন-এ দুই বিষয়ের মধ্যে যেটি গুরুত্বপূর্ণ তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উভয় বিষয় একসাথে সামনে আসলে অকল্যাণের বিতাড়ন আগে করতে হবে। তবে অকল্যাণ তেমন গুরুতর না হলে প্রথমে কল্যাণ আনয়ন করা মুসতাহাব।
বিভিন্ন সাধারণ বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে কথা বলা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশাবলি পালনের প্রতি সাহাবায়ে কিরামের প্রবল আগ্রহ।
ফায়দা: ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) খালা উম্মুল মুমিনিন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, সে ভিত্তির ওপর কাবা নির্মাণ করেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

অতঃপর ৭৩ হিজরিতে যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে পরাজিত করেন, তখন তিনি উত্তর পার্শ্বের দেয়াল ভেঙে দেন এবং পাথরকে বাইরে নিয়ে আসেন; যেমনটি প্রথমে ছিল। আর ভগ্ন কঙ্করগুলো কাবার অভ্যন্তরে সাজিয়ে রেখে দরোজাকে উঁচু করে দেন এবং পশ্চিমের দরোজা বন্ধ করে দেন।

এখনো তার আলামত বিদ্যমান আছে। তিনি এমনটি করেছিলেন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের নির্দেশে। তখন তার নিকট এ সম্পর্কিত হাদিস পৌঁছায়নি। যখন তার নিকট হাদিস পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন এটাকে এভাবে রেখে দেওয়াই ভালো মনে করছি।

এরপরে ইবনে মানসুর আল-মাহদি (রাহিমাহুল্লাহ) আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভিত্তি অনুযায়ী কাবাঘর নির্মাণ করতে চাইলে ইমাম মালিক বিন আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) তা না করার পরামর্শ দিলেন। তিনি বললেন, "আমার ভালো মনে হচ্ছে না যে, রাজা-বাদশারা এটাকে একটা খেলা বানিয়ে নেবে। তারা নিজ নিজ মতানুসারে কাবা নির্মাণ করতে থাকবে। কেউ আব্দুল্লাহ বিন জুবাইরের মত গ্রহণ করবে, কেউ আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের মত গ্রহণ করবে, আরেকজন এসে অন্য মত গ্রহণ করবে। এভাবে বিষয়টি একটি খেলায় পরিণত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। "৩৩

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'আব্দুল্লাহ বিন উবাই বলল, “আল্লাহর কসম, আমরা মদিনায় ফিরে গেলে সেখান থেকে সবল লোকেরা অবশ্যই দুর্বল লোকদের বের করে দেবে!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে এ কথা পৌঁছালে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে বললেন, "আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেবো।”

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

دَعْهُ ، لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ

"বাদ দাও, মানুষ যেন বলার সুযোগ না পায় যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাথিদের হত্যা করে।"৩৪

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'হুনাইন থেকে ফেরার পথে "জিইরানা” নামক স্থানে এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তখন বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাপড়ে রুপা ছিল, সেখান থেকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দান করছিলেন। লোকটি বলল, "হে মুহাম্মাদ, ইনসাফ করুন।" তখন তিনি বললেন:

وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ؟ لَقَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ

"তোমার অমঙ্গল হোক! আমি ইনসাফ না করলে আর কে করবে? আমি যদি ইনসাফ না করতাম, তবে তুমি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে!"

উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, এই মুনাফিককে হত্যা করার অনুমতি দিন আমাকে।"

রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

مَعَاذَ اللَّهِ، أَنْ يَتَحَدَّثَ النَّاسُ أَنِّي أَقْتُلُ أَصْحَابِي

"আল্লাহর পানাহ! তখন মানুষ বলতে শুরু করবে যে, আমি নিজ সাথিদের হত্যা করি।"৩৫

এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও এ হাদিস প্রমাণ করে, বড় ক্ষতি ও ফিতনার আশঙ্কা থাকলে ছোট ছোট সমস্যায় ছাড় যাওয়াই শ্রেয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মন তাঁর প্রতি আকৃষ্ট রাখতে চেষ্টা করতেন এবং বেদুইন ও মুনাফিকদের অশুভ ও অসংলগ্ন আচরণের ওপর ধৈর্যধারণ করতেন। যাতে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইসলামের দাওয়াত পূর্ণতা লাভ করে। নওমুসলিমদের অন্তরে ইমান পোক্ত হয় এবং অন্যরা ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর জন্য তিনি অনেক মাল-সম্পদও দান করতেন।

এই কারণে তিনি মুনাফিকদের মারতেন না। এটি ছাড়াও মুনাফিকদের না মারার আরেকটি কারণ হলো, তারা মুখে মুসলমান হওয়ার দাবি করত। তাই প্রকাশ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হতো এবং তাদের গোপন অবস্থার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা হতো। এ ছাড়াও তাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের মধ্যে গণ্য করা হতো এবং তারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে বা জাতীয়তার চেতনায় তাড়িত হয়ে, অথবা দম্ভও অহমিকা প্রকাশ করার জন্য তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত।

কাজি ইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উলামায়ে কিরামের মাঝে এ বিষয়ে মতানৈক্য আছে যে, মুনাফিকদের ক্ষমা করে দেওয়া ও তাদের সাথে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার বিধানটি এখনো বহাল আছে, নাকি ইসলাম বিজয়ী হওয়ার পর এবং আয়াত : جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ )"কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন।"৩৬) নাজিল হওয়ার পর রহিত হয়ে গিয়েছে?'

কেউ কেউ বলেন, "তাদের তখন ক্ষমা করে দেওয়া হতো, যখন তাদের মুনাফিকি প্রকাশ না পেত। যখন তা প্রকাশ পেত, তখন তাদের হত্যা করা হতো। "৩৭

মুনাফিক বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যার কুফর ও নিফাক গোপন থাকে। তাই দুনিয়াবি বিষয়ে তার সাথে কাফিরদের মতো ব্যবহার করা হয় না; বরং মুসলমানদের মতো ব্যবহার করা হয়। কারণ, ইসলামের ঘোষণা দিয়ে সে নিজের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করে নিয়েছে। এটাই সেই ঢাল, যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে আলোচনা করেছেন:

اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

'তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ। '৩৮

ইমাম শাফিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অর্থাৎ তারা মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচার ইমানকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। তাই তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না এবং তাদের প্রকাশ্য ইসলামের কারণে তাদের ওপর মুমিনদের বিধিবিধান প্রয়োগ করা হতো।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের গোপন অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত আছেন বিধায় তিনি তাদের জন্য জাহান্নামের সর্বনিকৃষ্ট স্তরকে আবশ্যক করে রেখেছেন। '৩৯

ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ জন্যই জাহহাক বিন মুজাহিম (রাহিমাহুল্লাহ) এ আয়াতকে اتَّخَذُوا إِيْمَانَهُمْ جُنَّةٌ )তারা তাদের ইমানকে ঢালরূপে ব্যবহার করে) এভাবে পড়তেন। অর্থাৎ তারা নিজেদের বাহ্যিক ইমানকে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচার উপায় ' হিসেবে অবলম্বন করে। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম এখানে إِيمَانِ -এর স্থলে أَيْمَانِ-এর يَمِينِ) বহুবচন, অর্থ: শপথ) পড়েন। '৪০'

এ জন্যই মুনাফিকদের ওপর তাদের কঠিন কুফরি সত্ত্বেও মুরতাদদের বিধান প্রয়োগ করা হয় না। বরং দুনিয়াতে তাদের ওপর মুসলমানদের বিধান প্রয়োগ করা হয়।

আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি কিছু একটা বণ্টন করছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে জুল খুয়াইসিরা নামক বনু তামিমের এক লোক এসে বলল, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, ইনসাফ করুন।" তিনি বললেন:

وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ؟ لَقَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ

"তোমার অমঙ্গল হোক! আমি ইনসাফ না করলে আর কে করবে? আমি যদি ইনসাফ না করতাম, তবে তুমি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে!"

তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দিন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

دَعْهُ، فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلَاتَهُ مَعَ صَلَاتِهِمْ، وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِمْ، يَقْرَءُونَ القُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ

"বাদ দাও, তার এমন কিছু সঙ্গী আছে, যাদের সালাতের সামনে তোমাদের যে কেউ নিজের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে এবং তাদের রোজার সামনে নিজের রোজাকে নিম্নমানের মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে (দ্রুত) বেরিয়ে যাবে, যেভাবে ধনুক থেকে তির বের হয়ে যায়।"৪১

সহিহাইনের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

إِنِّي لَمْ أُومَرْ أَنْ أَنْقُبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ وَلَا أَشُقَّ بُطُونَهُمْ

'আমাকে মানুষের হৃদয় ছিদ্র করে এবং পেট বিদীর্ণ করে (ইমানের উপস্থিতি) দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়নি। '৪২

আরেক বর্ণনায় এসেছে:

مَعَاذَ اللَّهِ، أَنْ يَتَحَدَّثَ النَّاسُ أَنِّي أَقْتُلُ أَصْحَابِي

'আল্লাহর পানাহ! তখন মানুষ বলতে শুরু করবে যে, আমি নিজ সাথিদের হত্যা করি। '৪৩

হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন, 'হাদিস থেকে বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় যে, তাকে হত্যা না করার কারণ হলো, তার উল্লেখিত গুণাবলির সঙ্গী-সাথি রয়েছে। কিন্তু সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যে ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তার ফলে তাকে হত্যা করতে কোনো বাধা ছিল না। তবুও তাকে হত্যা না করার কারণ হলো, তিনি তাদের চিত্ত আকর্ষণ করতে চেয়েছেন; যেমনটি ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বুঝেছেন। অর্থাৎ যেহেতু তারা ইসলাম প্রকাশ করার পাশাপাশি অধিকহারে ইবাদতও করে, তাই তাদের হত্যার অনুমতি দেওয়া হলে অন্যান্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে। '৪৪

টিকাঃ
৩১. সহিহুল বুখারি: ৭২৪৩।
৩২. আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা: ২/২৮২।
৩৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/২৭৫।
৩৪. সহিহুল বুখারি: ৪৯০৫, সহিহু মুসলিম: ২৫৮৪।
৩৫. সহিহুল বুখারি: ৩১৩৮, সহিহু মুসলিম: ১০৬৩।
৩৬. সুরা আত-তাওবা, ৯: ৭৩
৩৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১৩৯।
৩৮. সুরা আল-মুনাফিকুন, ৬৩: ২।
৩৯. আহকামুল কুরআন: ১/২৯৯-৩০০।
৪০. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৮/১৫০।
৪১. সহিহুল বুখারি: ৩৬১০, সহিহু মুসলিম ১০৬৪।
৪২. সহিহুল বুখারি: ৪৩৫১, সহিহু মুসলিম: ১০৬৪।
৪৩. সহিহু মুসলিম: ১০৬৩।
৪৪. ফাতহুল বারি: ১২/২৯৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নওমুসলিমদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করতেন

📄 নওমুসলিমদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'কেউ ইসলাম কবুল করার কথা বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই দান করতেন। তো এক ব্যক্তি তাঁর কাছে (ইসলাম গ্রহণ করার কথা বলে কিছু চাইতে) আসলে তিনি তাকে এত অধিক ছাগল দিলেন যে, সেগুলো দ্বারা দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান ভরে যাবে। সে তার কওমের নিকট ফিরে গিয়ে বলল, “হে আমার গোত্র, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি দান করেন যে, তাঁর অভাবের কোনো ভয় নেই।" আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'কোনো মানুষ প্রথম প্রথম টাকা-পয়সা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলাম কবুল করলেও কিছুদিন পর ইসলামই তার কাছে দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল বস্তু থেকে প্রিয় হয়ে উঠত। '৪৫

অর্থাৎ প্রথম প্রথম পার্থিব স্বার্থ অর্জনের জন্য ইসলাম প্রকাশ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকত ও ইসলামের নুর তার অন্তরে ইমানের মূলতত্ত্ব ফুটিয়ে তুলত। তার অন্তরে ইমান দৃঢ়ভাবে বসে যেত। ফলে ইসলাম তার কাছে দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল বস্তু থেকে প্রিয় হয়ে উঠত।৪৬

অনুরূপভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা ও দুর্বল ইমানের মুসলমানদের অর্থ-সম্পদ দান করতেন। যেমন তিনি ইরশাদ করেন :

إِنِّي أُعْطِي قُرَيْشًا أَتَأَلَّفَهُمْ، لِأَنَّهُمْ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ

'আমি কুরাইশদেরকে তাদের মন জয় করার জন্য দান করে থাকি। কারণ, তারা সদ্য জাহিলিয়াত পরিত্যাগ করেছে। '৪৭

টিকাঃ
৪৫. সহিহু মুসলিম: ২৩১২।
৪৬. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৮/২১।
৪৭. সহিহুল বুখারি: ৩১৪৬, সহিহু মুসলিম: ১০৫৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কায় ইসলাম গোপন রাখার পরামর্শ দিতেন

📄 নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কায় ইসলাম গোপন রাখার পরামর্শ দিতেন


আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম, মক্কায় এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নবি বলে দাবি করছেন। আমি আমার ভাইকে বললাম, "তুমি মক্কায় গিয়ে ওই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে এসো।" সে রওনা হয়ে গেল এবং মক্কার ওই লোকটির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কী খবর নিয়ে এলে?" সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি একজন মহান ব্যক্তিকে দেখেছি, যিনি সৎ কাজের আদেশ করেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন।" আমি বললাম, "তোমার খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না।"

'অতঃপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কার দিকে রওনা হলাম। মক্কায় পৌঁছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এমন যে, তিনি আমার পরিচিত নন, কারও নিকট জিজ্ঞেস করাও আমি সমীচীন মনে করছিলাম না। তাই আমি জমজমের পানি পান করে মসজিদে থাকতে লাগলাম। একদিন সন্ধ্যাবেলা আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে আমার প্রতি ইশারা করে বললেন, "মনে হয় লোকটি বিদেশি।" আমি বললাম, "হাঁ।” তিনি বললেন, "আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চলো।” পথে তিনি আমাকে কোনোকিছু জিজ্ঞেস করেননি। আর আমিও ইচ্ছা করে কোনোকিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রিযাপন করে ভোরবেলায় আবার মসজিদে গেলাম, যাতে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারি। কিন্তু ওখানে এমন কোনো লোক ছিল না, যে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ওই দিনও আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট দিয়ে চলার সময় বললেন, “এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি?" আমি বললাম, "না।” তিনি বললেন, "আমার সঙ্গে চলো।" পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বলো, তোমার ব্যাপার কী? কেন এ শহরে এসেছ?" আমি বললাম, “যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখার আশ্বাস দেন, তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি গোপন করব।" আমি বললাম, "আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যিনি নিজেকে নবি বলে দাবি করেন। আমি তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোনোকিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি।" আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওনা হয়েছি। তুমি আমাকে অনুসরণ করো এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করব, তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার জন্য বিপদজনক কোনো লোক দেখতে পাই, তবে আমি জুতো ঠিক করার অজুহাতে দেয়ালের পার্শ্বে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতো ঠিক করছি। কিন্তু তুমি চলতেই থাকবে।"

আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করে চলতে লাগলাম। তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলে আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, "আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন।" তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলিম হয়ে গেলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

يَا أَبَا ذَرٍّ، اكْتُمْ هَذَا الأَمْرَ، وَارْجِعْ إِلَى بَلَدِكَ، فَإِذَا بَلَغَكَ ظُهُورُنَا فَأَقْبِلْ

“হে আবু জার, এখনকার মতো তোমার ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয়ের খবর জানতে পাবে, তখন এসো।"

আমি বললাম, “যে আল্লাহ, আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ, আমি কাফির-মুশরিকদের সামনে উচ্চকণ্ঠে তাওহিদের বাণী ঘোষণা করব।"

বর্ণনাকারী বলেন, 'এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন। সেখানে কুরাইশের লোকজন উপস্থিত ছিল। তিনি বললেন, "হে কুরাইশগণ, আমি নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।” এতদশ্রবণে কুরাইশ লোকেরা বলে উঠল, “ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে।”

তারা আমার দিকে এগিয়ে আসলো এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল। তখন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট পৌঁছে আমাকে ঘিরে রাখলেন। অতঃপর তিনি কুরাইশদের উদ্দেশ্য করে বললেন, "তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ; অথচ তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।"

এ কথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গতদিনের মতোই আমি আমার ইসলাম গ্রহণের পূর্ণ ঘোষণা দিলাম। কুরাইশগণ বলে উঠল, “ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে!” এ বলে গতদিনের মতো আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করতে লাগল। সেদিনও আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদের উদ্দেশ্য করে প্রথম দিনের মতো বক্তব্য রাখলেন। '৪৮

টিকাঃ
৪৮. সহিহুল বুখারি: ৩৫২২, সহিহু মুসলিম: ২৪৭৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আমর বিন আব্বাসাকে গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন

📄 আমর বিন আব্বাসাকে গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন


আমর বিন আবাসা সুলামি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি প্রাক-ইসলাম যুগে সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট বলে ধারণা করতাম। তারা কোনো ধর্মের ওপর ছিল না। তারা সবাই মূর্তিপূজা করত। তখন আমি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির কথা শুনলাম, যিনি বিভিন্ন সংবাদ বর্ণনা করেন। আমি বাহনের ওপর আরোহণ করে তাঁর নিকট এলাম এবং জানতে পারলাম যে, তিনি জনসমাবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। তাঁর কওম তাঁর ওপর নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তাঁর নিকট পৌঁছালাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার পরিচয় কী?"

তিনি বললেন, "আমি নবি।" আমি বললাম, "নবি কী?” তিনি বললেন, "আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আল্লাহ আপনাকে কী দিয়ে প্রেরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে, দেব-দেবী ও মূর্তি ভেঙে ফেলতে, আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে এবং শিরক বিলুপ্ত করতে প্রেরণ করেছেন।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কারা আছে?” তিনি বললেন, “স্বাধীন ও কৃতদাস উভয় শ্রেণির লোক। তখন মুমিনদের মধ্যে তাঁর কাছে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন।” আমি বললাম, "আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই।" তিনি বললেন:

إِنَّكَ لَا تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا، أَلَا تَرَى حَالِي وَحَالَ النَّاسِ، وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِي قَدْ ظَهَرْتُ فَأْتِنِي

"বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তা পারবে না। তুমি তো আমার ও লোকজনের অবস্থা দেখতেই পাচ্ছ। তুমি বরং পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও। যখন আমি বিজয় লাভ করেছি বলে শুনতে পাবে, তখন আমার কাছে এসো।"

আমি পরিবারের কাছে চলে গেলাম। ইতিমধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় গমন করলেন। তখন আমি পরিবারের সাথে অবস্থান করছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় গমন করার পর থেকে আমি সর্বদা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে লাগলাম এবং মানুষজনের কাছে খবর নিতে লাগলাম। সে সময় একদল মদিনাবাসী আমার কাছে আসলো।

তাদের জিজ্ঞেস করলাম, "যে ব্যক্তি মদিনায় আগমন করেছেন, তিনি কী করছেন, তাঁর অবস্থা কী?” তারা জানাল যে, “লোকজন অতি দ্রুত তাঁর অনুসারী হচ্ছে; অথচ তাঁর কওম তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি।"

এ কথা শোনার পর আমি মদিনায় গেলাম এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তাঁকে বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে চিনতে পেরেছেন?" তিনি বললেন, “হাঁ, তুমি সেই ব্যক্তি, যে আমার সাথে মক্কায় সাক্ষাৎ করেছিলে।"

আমি বললাম, "জি, আমি সেই ব্যক্তি।" আমি আবার বললাম, “হে আল্লাহর নবি, আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন আর যা কিছু আমি জানি না, তা আমাকে শিক্ষা দিন। আর আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন!"

তিনি বললেন, "তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে। এরপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে ওপরে না ওঠা পর্যন্ত তুমি সালাত থেকে বিরত থাকবে। কেননা, সূর্য যখন উদিত হয়, তখন সেটা উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে। সে সময়ে কাফিররা তাকে সিজদা করে। এরপর সালাত আদায় করতে পারবে তিরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত। কারণ, সে সময় সালাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকেন। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে। কেননা, এ সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়ায় পরিবর্তন শুরু হয়, তখন আসর পর্যন্ত সালাত পড়তে পারবে। কারণ, ফেরেশতাগণ তখন সালাতে উপস্থিত থাকেন। তারপর সালাত হতে বিরত থাকবে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। কেননা, সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে অস্ত যায়। সে সময় কাফিররা তাকে সিজদা করে।"

তিনি বলেন, আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, অজু সম্পর্কে বলুন।” তিনি বললেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির কাছে যখন অজুর পানি পেশ করা হয়, এরপর সে কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং তা পরিষ্কার করে, তখন তার মুখমণ্ডলের মুখ-গহ্বর ও নাকের সকল গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুসারে মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন মুখমণ্ডলের চারিদিক থেকে সকল গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূহ আঙুল বেয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর উভয় পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করলে উভয় পায়ের গুনাহগুলো পায়ের আঙুল বেয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে এবং আল্লাহর জন্য মন খুলে যথাযথভাবে সালাত আদায় করে, তাহলে সে ওই দিনের মতো সম্পূর্ণ গুনাহমুক্ত হয়ে যাবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। "৪৯

টিকাঃ
৪৯. সহিহু মুসলিম: ৮৩২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00