📄 ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করার আদেশ দিতেন
কাইস বিন আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, 'তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করতে বললেন।'২১
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'সুমামা বিন উসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
اذْهَبُوا بِهِ إِلَى حَائِطِ بَنِي فُلَانٍ، فَمُرُوهُ أَنْ يَغْتَسِلَ
"তোমরা একে অমুক গোত্রের বাগানে নিয়ে যাও, তারপর তাকে গোসল করতে বলো।"২২
উপরিউক্ত হাদিসসমূহ থেকে ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করা প্রমাণিত হয়। কতিপয় উলামায়ে কিরাম তা ওয়াজিব বলেছেন, কিন্তু অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম মুসতাহাব হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন।
টিকাঃ
২১. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৫, সুনানুত তিরমিজি: ৫৫০।
২২. মুসনাদু আহমাদ: ৭৯৭৭।
📄 জাহিলিয়াতের নোংরামি পরিত্যাগের নির্দেশ দিতেন
আবু মালিক আশজায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে তাকে সালাত শেখাতেন। অতঃপর এই কালিমাসমূহের মাধ্যমে দোয়া করার নির্দেশ দিতেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي
“হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত দান করুন, আমাকে নিরাপদ রাখুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।"২৪
উসাইম বিন কুলাইব (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, "আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ
"তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও এবং খতনা করো।”২৫
টিকাঃ
২৩. সুনানুত তিরমিজি: ২/৫০২, তুহফাতুল আহওয়াজি: ২/১৪০।
২৪. সহিহু মুসলিম: ২৬৯৭।
২৫. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৬।
📄 ইসলাম গ্রহণে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিতেন
বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত এক ব্যক্তি এসে বলল, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যুদ্ধ করব, না ইসলাম গ্রহণ করব?" তিনি বললেন, "প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর যুদ্ধ করো।” অতঃপর লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে জিহাদে শরিক হলো এবং নিহত হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার সম্পর্কে) বললেন, "আমল কম করেছে, কিন্তু প্রতিদান বেশি পেয়েছে।”২৬
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অনেক সময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণার কারণে অল্প আমলেও অনেক বড় প্রতিদান পাওয়া যায়। ২৭
বর্ণিত আছে যে, লোকটি ছিলেন আমর বিন সাবিত বিন ওয়াকশ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি বললেন, "আমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলো, যিনি কখনো সালাত না পড়া সত্ত্বেও জান্নাতবাসী হয়েছেন।" লোকজন চিনতে না পেরে তাঁর কাছে জানতে চাইল, "কে তিনি?” তিনি বললেন, "উসাইরিম বিন আব্দুল আশহাল আমর বিন সাবিত বিন ওয়াকশ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।"
হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি মাহমুদ বিন লাবিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রশ্ন করলাম, "উসাইরিমের ব্যাপারটি আসলে কী ছিল?" বললেন, "তিনি প্রথমে ইসলামকে অস্বীকার করতেন, কিন্তু উহুদের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লে তার কাছে ইসলাম স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি নিয়ে রওনা হয়ে লোকজনের সাথে মিলিত হলেন। অতঃপর মানুষের ভিড়ে ঢুকে পড়ে যুদ্ধ করতে লাগলেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হলেন।
তারপর বনি আব্দুল আশহালের লোকেরা যখন তাদের গোত্রের নিহত লোকদের খুঁজছিল, তখন তাকে দেখতে পেয়ে বলল, "হায় আল্লাহ, এ তো দেখি উসাইরিম! সে তো আমাদের সাথে আসেনি। আমরা তাকে (কাফির অবস্থায়) ছেড়ে এসেছিলাম। কারণ, সে ইসলাম অস্বীকার করত।"
তারা তার আসার কারণ জানতে চেয়ে বলল, "হে আমর, তোমাকে এখানে কীসে নিয়ে এসেছে? জাতীয়তাবোধ না ইসলামের প্রতি আগ্রহ?” তিনি জানালেন, "বরং ইসলামের প্রতি আগ্রহবোধই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ইমান এনেছি। মুসলমান হওয়ার পর আমি তরবারি নিয়ে সকালেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওনা হয়েছি। তারপর যুদ্ধ করেছি এবং আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি।"
এর কিছুক্ষণ পর তাদের হাতেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ব্যাপারে জানানো হলে তিনি বললেন, "সে জান্নাতি।”২৮
টিকাঃ
২৬. সহিহুল বুখারি: ২৮০৮।
২৭. ফাতহুল বারি: ৬/২৫।
২৮. মুসনাদু আহমাদ: ২৩১২৩।
📄 নওমুসলিমদের সঙ্গে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য লোক প্রেরণ করতেন
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রাল, জাকওয়ান, উসাইয়া ও বনু লিহইয়ান গোত্রের লোকজন আগমন করল। তারা ধারণা দিল যে, তারা মুসলমান হয়ে গিয়েছে এবং তাদের গোত্রের লোকদের (শিক্ষা-দীক্ষার) জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাহায্য চাইল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্তরজন আনসারি সাহাবি পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করলেন।'
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা তাদের "কারি" নামে চিনতাম। তারা দিনের বেলায় কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা উপার্জন করতেন এবং রাতে সালাত পড়তেন।'২৯
মুহাল্লাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ ঘটনা থেকেই একটি কর্মপদ্ধতি জারি হয়ে গেল যে, সীমান্ত অঞ্চলের লোকদের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা তাঁর (কেন্দ্রের) পক্ষ থেকে যাবে। পরবর্তী সময়ের খলিফাদের মাঝেও এই কর্মপদ্ধতি বিস্তার লাভ করে। '৩০
টিকাঃ
২৯. সহিহুল বুখারি: ৩০৬৪, সহিহু মুসলিম: ৬৭৭।
৩০. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৯/২৯০।