📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে মুশরিকের সাথে ঘনিষ্ঠতা করতেন

📄 ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে মুশরিকের সাথে ঘনিষ্ঠতা করতেন


হুয়াইতিব বিন আব্দুল উজ্জা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'মক্কা-বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নগরীতে প্রবেশ করলেন, তখন আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম। তাই আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম এবং পরিবারের সদস্যদের আলাদা আলাদা করে বিভিন্ন নিরাপদ জায়গায় রেখে আসলাম। তারপর আমি আওফের বাড়িতে গেলাম। সেখানে আবু জার গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে পড়লাম। তাঁর সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল ঠিকই, কিন্তু এখন আর তা নেই। তাঁকে দেখতেই আমি পালাতে উদ্যত হলাম। তিনি বললেন, "হে আবু মুহাম্মাদ।” আমি বললাম, "জি, বলুন।” তিনি বললেন, "কী হলো তোমার?" আমি বললাম, "ভয় পাচ্ছি।” তিনি বললেন, "তোমার ভয় পেতে হবে না, তুমি আল্লাহর নিরাপত্তায় নিরাপদ।" তখন আমি তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, "বাড়িতে ফিরে যাও।” আমি বললাম, "বাড়িতে যাওয়ার তো উপায় নেই। আল্লাহর কসম, আমার তো মনে হচ্ছে, বাড়িতে যাওয়ার পথেই আমি (মুসলমান সৈন্যদের হাতে) মারা পড়ব অথবা তারা আমার বাড়িতে ঢুকে আমাকে মেরে ফেলবে। তা ছাড়া আমার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে আছে।" তিনি বললেন, "তাদের এক জায়গায় একত্র করো; আমি গিয়ে তোমাকে তোমার বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়ে আসব।"

তিনি আমার সাথে চললেন আর ঘোষণা করতে লাগলেন, হুয়াইতিব আমার নিরাপত্তায় আছে, তার ওপর যেন আক্রমণ করা না হয়। তিনি বলেন, "এরপর আমার শঙ্কা কেটে গেল এবং আমি আমার পরিবারের সদস্যদের তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসলাম।"

অতঃপর আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার কাছে এসে বললেন, "হে আবু মুহাম্মাদ, আর কতদিন এভাবে থাকবে? পুরো দেশ তো চষে বেড়ালে এবং অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলে! এখানো অনেক কল্যাণ বাকি আছে, তাই বলছিলাম কি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে ইসলাম কবুল করে নাও। এতে তুমি সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যাবে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বাধিক সদাচারী, সর্বাধিক সম্পর্ক রক্ষাকারী ও সর্বাধিক সহনশীল ব্যক্তি। তাঁর ভদ্রতা ও সম্মানবোধের কারণে তুমি তাঁর নিকট ভদ্রজনোচিত আচরণ ও সম্মান পাবে।” আমি বললাম, "ঠিক আছে, আমাকে নিয়ে চলুন। আমি আপনার সাথে যাব।"

তখন আমি তার সাথে বের হয়ে বাতহা নামক জায়গায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম। তাঁর নিকট আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি সালামের উত্তর দিলেন। তারপর আমি বললাম, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।” তখন রাসولুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তোমাকে হিদায়াত দান করেছেন।"

তিনি বলেন, 'আমি ইসলাম গ্রহণ করায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দিত হলেন। অতঃপর আমি তাঁর সাথে হুনাইন ও তায়িফের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি হুনাইন যুদ্ধের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে আমাকে একশটি উট দান করেছেন।'২০

টিকাঃ
২০. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৬১৩০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করার আদেশ দিতেন

📄 ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করার আদেশ দিতেন


কাইস বিন আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, 'তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করতে বললেন।'২১

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'সুমামা বিন উসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

اذْهَبُوا بِهِ إِلَى حَائِطِ بَنِي فُلَانٍ، فَمُرُوهُ أَنْ يَغْتَسِلَ

"তোমরা একে অমুক গোত্রের বাগানে নিয়ে যাও, তারপর তাকে গোসল করতে বলো।"২২

উপরিউক্ত হাদিসসমূহ থেকে ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করা প্রমাণিত হয়। কতিপয় উলামায়ে কিরাম তা ওয়াজিব বলেছেন, কিন্তু অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম মুসতাহাব হওয়ার মত ব্যক্ত করেছেন।

টিকাঃ
২১. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৫, সুনানুত তিরমিজি: ৫৫০।
২২. মুসনাদু আহমাদ: ৭৯৭৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জাহিলিয়াতের নোংরামি পরিত্যাগের নির্দেশ দিতেন

📄 জাহিলিয়াতের নোংরামি পরিত্যাগের নির্দেশ দিতেন


আবু মালিক আশজায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে তাকে সালাত শেখাতেন। অতঃপর এই কালিমাসমূহের মাধ্যমে দোয়া করার নির্দেশ দিতেন:

اللهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

“হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত দান করুন, আমাকে নিরাপদ রাখুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।"২৪

উসাইম বিন কুলাইব (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, "আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ

"তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও এবং খতনা করো।”২৫

টিকাঃ
২৩. সুনানুত তিরমিজি: ২/৫০২, তুহফাতুল আহওয়াজি: ২/১৪০।
২৪. সহিহু মুসলিম: ২৬৯৭।
২৫. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ইসলাম গ্রহণে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিতেন

📄 ইসলাম গ্রহণে সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দিতেন


বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত এক ব্যক্তি এসে বলল, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যুদ্ধ করব, না ইসলাম গ্রহণ করব?" তিনি বললেন, "প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর যুদ্ধ করো।” অতঃপর লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে জিহাদে শরিক হলো এবং নিহত হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার সম্পর্কে) বললেন, "আমল কম করেছে, কিন্তু প্রতিদান বেশি পেয়েছে।”২৬

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অনেক সময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণার কারণে অল্প আমলেও অনেক বড় প্রতিদান পাওয়া যায়। ২৭

বর্ণিত আছে যে, লোকটি ছিলেন আমর বিন সাবিত বিন ওয়াকশ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি বললেন, "আমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলো, যিনি কখনো সালাত না পড়া সত্ত্বেও জান্নাতবাসী হয়েছেন।" লোকজন চিনতে না পেরে তাঁর কাছে জানতে চাইল, "কে তিনি?” তিনি বললেন, "উসাইরিম বিন আব্দুল আশহাল আমর বিন সাবিত বিন ওয়াকশ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।"

হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি মাহমুদ বিন লাবিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রশ্ন করলাম, "উসাইরিমের ব্যাপারটি আসলে কী ছিল?" বললেন, "তিনি প্রথমে ইসলামকে অস্বীকার করতেন, কিন্তু উহুদের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লে তার কাছে ইসলাম স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর তরবারি নিয়ে রওনা হয়ে লোকজনের সাথে মিলিত হলেন। অতঃপর মানুষের ভিড়ে ঢুকে পড়ে যুদ্ধ করতে লাগলেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হলেন।

তারপর বনি আব্দুল আশহালের লোকেরা যখন তাদের গোত্রের নিহত লোকদের খুঁজছিল, তখন তাকে দেখতে পেয়ে বলল, "হায় আল্লাহ, এ তো দেখি উসাইরিম! সে তো আমাদের সাথে আসেনি। আমরা তাকে (কাফির অবস্থায়) ছেড়ে এসেছিলাম। কারণ, সে ইসলাম অস্বীকার করত।"

তারা তার আসার কারণ জানতে চেয়ে বলল, "হে আমর, তোমাকে এখানে কীসে নিয়ে এসেছে? জাতীয়তাবোধ না ইসলামের প্রতি আগ্রহ?” তিনি জানালেন, "বরং ইসলামের প্রতি আগ্রহবোধই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ইমান এনেছি। মুসলমান হওয়ার পর আমি তরবারি নিয়ে সকালেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওনা হয়েছি। তারপর যুদ্ধ করেছি এবং আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি।"

এর কিছুক্ষণ পর তাদের হাতেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ব্যাপারে জানানো হলে তিনি বললেন, "সে জান্নাতি।”২৮

টিকাঃ
২৬. সহিহুল বুখারি: ২৮০৮।
২৭. ফাতহুল বারি: ৬/২৫।
২৮. মুসনাদু আহমাদ: ২৩১২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00