📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উম্মাহর জন্য ক্রন্দন করতেন

📄 উম্মাহর জন্য ক্রন্দন করতেন


আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন:

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

“হে আমার পালনকর্তা, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব, যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার দলভুক্ত; আর কেউ আমার অবাধ্যতা করলে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"৮

إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

"যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তো তারা আপনার বান্দা; আর আপনি তাদের ক্ষমা করলে আপনি হলেন পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞ।"৯

অতঃপর দুই হাত উত্তোলন করে কেঁদে কেঁদে বললেন, "ইয়া আল্লাহ, আমার উম্মত, আমার উম্মত!" তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-কে বললেন, "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তোমার রব সবকিছু জানেন, তবুও তাঁকে জিজ্ঞেস করো, তাঁর কান্নার কারণ কী?" অতঃপর জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) এসে তাঁর কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কারণ জানালেন। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, “হে জিবরাইল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বলো, আমি (আল্লাহ) অচিরেই তোমার উম্মতের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাব এবং তোমাকে কষ্ট দেবো না।"১০

টিকাঃ
৮. সুরা ইবরাহিম, ১৪: ৩৬।
৯. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ১১৮।
১০. সহিহু মুসলিম: ২০২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কারও ইসলাম গ্রহণের সংবাদে আনন্দিত হতেন

📄 কারও ইসলাম গ্রহণের সংবাদে আনন্দিত হতেন


আদি বিন হাতিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে, 'যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন, তখন আদুল গায়ে তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বাইআত করালেন। '১১

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ সিরাত ও হাদিস নিয়ে কেউ গবেষণা করলে সে জানতে পারবে, নওমুসলিমদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকনির্দেশনা কত পূর্ণাঙ্গ ছিল!

এখানে আমরা নওমুসলিমদের সাথে তাঁর উন্নত আচরণের কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরব, যেন আমরা وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ )'আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। '১২) আয়াতটির কিছু বাস্তব প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতে পারি।

টিকাঃ
১১. মুয়াত্তা মালিক: ১১৫৬, মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক ১২৬৪৬।
১২. সুরা আল-আম্বিয়া, ২১: ১০৭

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ভালো ও যোগ্য মানুষদের হিদায়াতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতেন

📄 ভালো ও যোগ্য মানুষদের হিদায়াতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতেন


আবুল হাসান বিন বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাইতেন, মানুষ ইসলাম গ্রহণ করুক। আর যাদের ইসলাম গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা করতেন, তাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতেন। ফলে তিনি যাদের জন্য দোয়া করেছেন, তাদের অনেকেরই ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন হয়েছে।'

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:

اللهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلَامَ بِأَحَبِّ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ بِأَبِي جَهْلٍ أَوْ بِعُمَرَ بن الخطاب

'হে আল্লাহ, আবু জাহেল ও উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এ দুজনের মধ্যে যে আপনার অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।'

বর্ণনাকারী বলেন, 'তাদের দুজনের মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।'১৩

প্রথম প্রথম তিনি এভাবে দোয়া করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে শুধু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য দোয়া করেছেন, যেমনটি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:

اللهُمَّ أَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ خَاصَّةً

'হে আল্লাহ, বিশেষভাবে উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন। '১৪

অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করেন। অথচ অধিকাংশ মানুষ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ ছিলেন। এমনকি একজন তো বলেই দিয়েছিলেন, 'খাত্তাবের গাধা ইসলাম গ্রহণ করলেও করতে পারে, কিন্তু উমরের ইসলাম গ্রহণের কোনোই সম্ভাবনা নেই।'১৫
তাই বলা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়াই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

টিকাঃ
১৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩৬৮১।
১৪. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৬৮৮২।
১৫. সিরাতু ইবনি হিশাম: ১/২৯৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আবু হুরাইরা -এর মায়ের জন্য দোয়া করলেন

📄 আবু হুরাইরা -এর মায়ের জন্য দোয়া করলেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমার মা মুশরিক ছিলেন। আমি তাকে প্রতিনিয়ত ইসলামের দাওয়াত দিতাম। একদিন তাকে দাওয়াত দিতে গেলে তিনি আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে অপছন্দনীয় কিছু কথা বলে ফেললেন। তখন আমি কেঁদে কেঁদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি প্রতিদিন আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিই, কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। আজও যথারীতি তাকে দাওয়াত দিতে গেলে তিনি আপনার ব্যাপারে অসংলগ্ন কথা বলেছেন। তাই আপনি দোয়া করুন, যেন আল্লাহ তাআলা আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাকে হিদায়াত দান করেন।"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:

اللهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ

“হে আল্লাহ, আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাকে হিদায়াত দান করুন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করায় আমি আনন্দচিত্তে বাড়ির উদ্দেশে বের হলাম। বাড়ির দরোজার নিকট পৌঁছে দেখি, তা বন্ধ। আমার মা আমার পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, "আবু হুরাইরা, তুমি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকো।” আমি পানির শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি গোসল করে দ্রুত কাপড়-চোপড় ও ওড়না পরিধান করে দরোজা খুলে দিলেন। তারপর বললেন, "হে আবু হুরাইরা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।"

তখন আমি খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এলাম। বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করে নিয়েছেন এবং আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাকে হিদায়াত দান করেছেন।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন ও তাঁর গুণকীর্তন করে বললেন, "ভালো হয়েছে।"

আমি বললাম, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যেন আমি ও আমার মা মুমিনদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠি এবং আমাদের কাছে তারাও প্রিয় হয়ে ওঠে।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:

اللهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا - يَعْنِي أَبَا هُرَيْرَةَ - وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ، وَحَبِّبْ إِلَيْهِمِ الْمُؤْمِنِينَ

“হে আল্লাহ, আপনার এই ছোট বান্দা আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তার মাকে আপনার মুমিন বান্দাদের নিকট প্রিয় করে তুলুন এবং তাদের নিকট মুমিনদের প্রিয় করে তুলুন।"

এরপর থেকে এমন কোনো মুমিন সৃষ্টি হয়নি, যে আমার ব্যাপারে শোনার পর কিংবা আমাকে দেখার পর আমাকে ভালোবাসেনি। '১৬

টিকাঃ
১৬. সহিহু মুসলিম: ২৪৯১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00