📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মিথ্যা মামলা দায়ের করার ব্যাপারে সতর্ক করতেন

📄 মিথ্যা মামলা দায়ের করার ব্যাপারে সতর্ক করতেন


আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে সুপারিশ করে, সে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। যে ব্যক্তি জেনেশুনে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে, সে মামলা প্রত্যাহার করা পর্যন্ত আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে থাকে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ওপর এমন অপবাদ আরোপ করে, যা থেকে সে পবিত্র, যতক্ষণ না সে তা থেকে তাওবা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে দোজখের কাদার মধ্যে আবদ্ধ রাখবেন।'¹
ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'কোনো ব্যক্তি যদি মামলা-মোকদ্দমা সম্পর্কে পারদর্শী হয়-চাই দ্বীনি বিষয়ে হোক, বা দুনিয়াবি বিষয়ে-সে যদি যেকোনো উপায়ে বাতিল পক্ষকে বিজয়ী করে নেয় অর্থাৎ দলিল-প্রমাণ সুন্দর ও গোছালোভাবে উপস্থাপন করে বিচারককে বিভ্রান্ত করে বাতিলের পক্ষে ফয়সালা আদায় করে নেয়, তার এই কাজ চরম পর্যায়ের হারাম এবং তা মুনাফিকদের অন্যতম খারাপ চরিত্র।'²

টিকাঃ
১. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৯৭।
২. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম ২/৪৮৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিবাদ নিরসনে নিজের পক্ষ থেকে অর্থ ব্যয় করতেন

📄 বিবাদ নিরসনে নিজের পক্ষ থেকে অর্থ ব্যয় করতেন


সাহল বিন আবু হাসমা (রা) থেকে বর্ণিত, 'মুহাইয়িসা বিন মাসউদ (রা) ও আব্দুল্লাহ বিন সাহল (রা) অনটনগ্রস্ত হয়ে খাইবারের দিকে গমন করলেন। অতঃপর খাইবারের খেজুর বাগানের নিকট এসে তারা পরস্পর পৃথক হয়ে গেলেন। সে সুযোগে আব্দুল্লাহ বিন সাহলের (রা) ওপর দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করে বসল। তখন তার ঘাড় মটকে গিয়ে তিনি মারা গেলেন। অতঃপর তাকে একটি কূপে ফেলে দেওয়া হয়। এদিকে তার সঙ্গীরা তাকে খুঁজে না পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হলেন। তখন তারা তাকে একটি কূপের মধ্যে খুঁজে পেলেন এবং সেখান থেকে বের করে এনে তাকে দাফন করলেন। অতঃপর তার ভাই আব্দুর রহমান (রা) এবং দুই চাচাতো ভাই হুয়াইয়িসা (রা) ও মুহাইয়িসা (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান (রা) বয়সে সবার ছোট ছিলেন এবং তিনিই রক্তপণের হকদার ছিলেন। তাই তিনি ভাইয়ের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বয়সে যে বড়, সেই প্রথমে কথা বলো।" তখন আব্দুর রহমান (রা) পেছনে চলে আসলেন এবং হুয়াইয়িসা (রা) কথা বললেন। তার কথা শেষ হলে মুহাইয়িসা (রা) কথা বললেন। অতঃপর তাদের সঙ্গীর ব্যাপারে আব্দুর রহমান (রা) কথা বললেন। তারা সবাই বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, খাইবারের একটি কূপে আমরা আব্দুল্লাহ বিন সাহলকে (রা) নিহত অবস্থায় পেয়েছি। আর খাইবারের ইহুদিরা ছাড়া আমাদের আর কোনো শত্রু নেই।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কাকে সন্দেহ করছ?” তারা জানালেন, "আমাদের সন্দেহ, ইহুদিরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে পত্র মারফত ইহুদিদের নিকট জানতে চাইলে তারা প্রত্যুত্তর দিল, "আমরা তাকে হত্যা করিনি।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে তোমরা পঞ্চাশবার শপথ করে বলো যে, তাকে ইহুদিরাই হত্যা করেছে।" মুসলিমের (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনায় এসেছে, 'তাদের কোনো একজনকে অভিযুক্ত করে তোমাদের পঞ্চাশজন লোক কসম করো, তাহলে তার দিয়াত দেওয়া হবে।' মুসনাদে আহমাদের (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনায় (হাদিস: ১৫৬৬৪) এসেছে, 'তোমরা হত্যাকারীর নাম বলো, অতঃপর তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশবার শপথ করো, তখন আমি ওই ব্যক্তিকে তোমাদের সোপর্দ করে দেবো।' বাইহাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনায় (হাদিস: ১৬৮৬৮) এসেছে, 'তোমরা কি পঞ্চাশবার শপথ করে হত্যাকারীকে কিসাসের যোগ্য করতে পারবে?' 'তারা বললেন, "আমরা যা দেখিনি, তার ওপর কী করে শপথ করব? যা সম্পর্কে আমরা দৃঢ়ভাবে জানি না, সে সম্পর্কে শপথ করতে পারব না। কেননা, আমরা জানি না, তাকে কে হত্যা করেছে? তবে ইহুদিরা যেহেতু আমাদের শত্রু আর হত্যা তাদের এলাকাতেই হয়েছে (তাই তাদেরকেই আমরা সন্দেহ করি)।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে ইহুদিরা এ কথার ওপর পঞ্চাশবার শপথ করুক যে, তাকে তারা হত্যা করেনি। ফলে তারা তোমাদের সঙ্গীর রক্তপণ থেকে মুক্তি পাবে।” তারা বললেন, "আমরা ইহুদিদের শপথ বিশ্বাস করব না। কেননা, যেখানে তারা কুফরের মতো সবচেয়ে মারাত্মক পাপে লিপ্ত, সেখানে অপরাধ না করার ওপর তারা মিথ্যা শপথ করবে না, এর নিশ্চয়তা কী?" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্ত বৃথা যাওয়াকে অপছন্দ করলেন। ফলে নিজের পক্ষ থেকে একশটি উট দিয়াত হিসেবে তাদের দান করলেন। সাহল (রা) বলেন, "আল্লাহর কসম, সেগুলোর মধ্য থেকে একটি লাল উষ্ট্রীর কথা আমি এখনো ভুলতে পারিনি, যে আমাকে উটগুলো একত্র করার সময় লাথি মেরেছিল।"'¹
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদ নিরসন করার জন্য এবং দুপক্ষের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্যই নিজের পক্ষ থেকে দিয়াত আদায় করলেন। কারণ, নিহতের স্বজনরা কিসাস বা দিয়াতের অধিকার তখনই লাভ করে, যখন তারা শপথ করে অথবা বিবাদীদের শপথ করতে বলে (আর তারা শপথ করতে অস্বীকার করে)। কিন্তু এখানে কোনোটাই সম্ভব হয়নি। এতে সঙ্গীর দিয়াত না পেয়ে তাদের মন ভেঙে গেল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়াত প্রদান করে তাদের ক্ষতে প্রলেপ দিলেন এবং নিজের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষের মাঝে মীমাংসা করে বিবাদ মিটিয়ে ফেলার ইচ্ছা করলেন। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রনায়কের জন্য সর্বস্তরের লোকদের উপকারিতার দিকে লক্ষ রাখা এবং তাদের পারস্পরিক বিবাধ মিটিয়ে দেওয়া জরুরি।'²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৭০২, সহিহ মুসলিম: ১৬৬৯।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৪৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ফয়সালা হকের পক্ষে দিলেও পাশাপাশি অন্য সবার মনও রক্ষা করতেন

📄 ফয়সালা হকের পক্ষে দিলেও পাশাপাশি অন্য সবার মনও রক্ষা করতেন


হুদাইবিয়া সন্ধির শর্তের মধ্যে ছিল, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তী বছর তিন দিনের জন্য মক্কায় প্রবেশ করবেন। সে হিসেবে পরের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা গমন করলেন। তিন দিনের মেয়াদ শেষ হলে মক্কাবাসীরা আলি (রা)-এর নিকট এসে বলল, "মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এখন তোমার সঙ্গীকে বের হয়ে যেতে বলো।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন হামজা (রা)-এর মেয়ে "চাচাজান, চাচাজান!" বলে ডাকতে ডাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছু নিল।¹ তখন আলি (রা) তার হাত ধরে ফেললেন এবং ফাতিমা (রা)-কে বললেন, "তোমার চাচাতো বোনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব তোমার।” আলি (রা) বলেন, "যখন আমরা মদিনায় পৌঁছালাম, তখন মেয়েটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি, জাফর (রা) ও জাইদ বিন হারিসা (রা) বিবাদে জড়িয়ে পড়লাম। জাফর (রা) বললেন, "সে আমার চাচার মেয়ে, আর আমার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস (রা) হলো তার খালা।” জাইদ (রা) বললেন, "সে আমার ভাইয়ের মেয়ে।” আমি বললাম, "আমিই তাকে নিয়ে এসেছি। তার ওপর সে আমার চাচাতো বোন। আর আমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে থাকে। এই মেয়ের দেখাশোনা করার ব্যাপারে সে-ই অধিক হকদার।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে ফয়সালা করলেন, তার দেখাশোনার দায়িত্ব তার খালার। আর বললেন, "খালা হচ্ছে মায়ের মতো।" তিনি আরও বললেন:
'আর হে জাফর, তুমি আচার-আচরণ ও আকার-আকৃতিতে আমার সাথে সাদৃশ্য রাখো। আর হে আলি, তুমি আমার এবং আমি তোমার। আর হে জাইদ, তুমি আমার ভাই ও বন্ধু।'²
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
আত্মীয়তা ও সম্পর্কের মাহাত্ম্য। কারণ, তা রক্ষা করার জন্য বড় বড় সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পরস্পর বিবাদে জড়িয়েছেন।
বিচারক তার ফয়সালার হেতু ও দলিল বিচারপ্রার্থীদের সামনে স্পষ্ট করে দেবেন। অনুরূপভাবে প্রত্যেক দাবিদার নিজ নিজ দাবির সমর্থনে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করবে।
কোনো মেয়ের লালনপালনের অধিকারপ্রাপ্ত নারী যদি ওই মেয়ের কোনো আত্মীয়কে বিয়ে করে, তাহলে তার লালনপালনের অধিকার বাতিল হবে না। এটাই ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত।
নেক আমলের ওপর সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতিযোগিতা। কারণ, তাদের প্রত্যেকে একটি এতিম বাচ্চার লালনপালন করে সাওয়াব অর্জন করতে পরস্পর বিবাদে জড়িয়েছেন।
এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর (রা)-এর পক্ষে ফয়সালা করলেও অন্যদের একদম নিরাশ করেননি; বরং তাদের উত্তম কথা বলে খুশি করেছেন।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর (রা)-এর পক্ষে ফয়সালা দিলেও সুন্দর ভাষার মাধ্যমে অন্য সবার হৃদয়গুলোও জয় করে নিয়েছেন। এর কারণ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।'³
ইবনে দাকিকুল ইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই তিনজনকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ বহন করে। এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, আলি (রা) ও জাইদ (রা)-এর চাহিদা যেহেতু পূরণ হয়নি, তাই তাদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্ত্বনাবাণী বলা যুক্তিপূর্ণ, কিন্তু জাফর (রা)-এর চাওয়া তো পূরণ হয়েছে, তবুও তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার যৌক্তিকতা কী? এর উত্তর হলো, এখানে মেয়েটিকে আসলে দেওয়া হয়েছে তার খালাকে। জাফর (রা) যে তাকে পেয়েছেন, তা মেয়েটির খালার বদৌলতেই পেয়েছেন, নিজের কারণে তাকে পাননি। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে মেয়েটির ফয়সালা তার পক্ষেও দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাকে সান্ত্বনা দেওয়াও যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়।'⁴

টিকাঃ
১. হামজা (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হলেও দুধসম্পর্কে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাই ছিলেন। সে হিসেবে তাঁর মেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চাচাজান বলে ডাকলেন। (ফাতহুল বারি: ৭/৫০৫)
২. সহিহুল বুখারি: ২৬৯৯।
৩. ফাতহুল বারি: ৭/৫০৭।
৪. ইহকামুল আহকাম: ১/২১৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিচারপ্রার্থী থেকে অদ্ভুত কিছু শুনলে মুচকি হাসতেন

📄 বিচারপ্রার্থী থেকে অদ্ভুত কিছু শুনলে মুচকি হাসতেন


ইকরামা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, 'রিফাআ (রা) তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন। অতঃপর আব্দুর রহমান বিন জুবাইর আল-কুরাজি (রা) তাকে বিয়ে করলেন।' আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন, 'তখন তিনি (রিফাআর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী) সবুজ রঙের একটি ওড়না পরে তাঁর (আয়িশা রা) নিকট আসলেন। অতঃপর তাঁর কাছে স্বামীর অত্যাচারের অভিযোগ করলেন এবং তাঁকে নিজের গায়ের চামড়ার ওপর (প্রহারের) সবুজ দাগ দেখালেন। মহিলারা সাধারণত একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আসলেন, তখন আয়িশা (রা) বললেন, "কোনো মুমিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহার করতে আমি দেখিনি। প্রহারের চোটে তার শরীর তার কাপড়ের চেয়ে সবুজ হয়ে গেছে!"'
আয়িশা (রা) বলেন, 'অতঃপর রিফাআর (রা) স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। আমি ও আবু বকর (রা) তখন তাঁর পাশে বসা ছিলাম। মহিলাটি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি রিফাআর (রা) স্ত্রী ছিলাম। তারপর সে আমাকে তালাক দিয়েছে। তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমি আব্দুর রহমান বিন জুবাইরকে (রা) বিয়ে করেছি। কিন্তু ইয়া রাসুলাল্লাহ, তার সাথে যা আছে, (তার পুরুষাঙ্গ) সেটা ঠিক কাপড়ের এই অংশের মতো (অর্থাৎ তার পুরুষাঙ্গ এই কাপড়ের মতো নির্জীব)।” এই বলে তিনি তার জিলবাবের একটি অংশ ধরে দেখালেন। সে সময় খালিদ বিন সাইদ বিন আস (রা) দরোজার পাশে অনুমতির অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বললেন, "হে আবু বকর, এই মেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে বড় গলায় কী সব বাজে কথা বলছে, তা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন না?" কিন্তু আল্লাহর কসম, তার কথায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু মুচকি মুচকি হাসছিলেন (রাগ করছিলেন না)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সম্ভবত, তুমি রিফাআর (রা) কাছে ফিরে যেতে চাও? কিন্তু তা তো ততক্ষণ সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না সে (আব্দুর রহমান রা) তোমার সুধা পান করবে এবং তুমি তার সুধা পান করবে (অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা সহবাস করবে না, ততক্ষণ তুমি প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারবে না)।" বর্ণনাকারী বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে স্ত্রীর আগমনের খবর পেয়ে তার স্বামী অন্য স্ত্রী থেকে তার দুই সন্তানকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, সে মিথ্যা বলেছে। আমার নিকট পরিপূর্ণ যৌনশক্তি রয়েছে। কিন্তু দুশ্চরিত্রা নারী, সে এখনও রিফাআকে (রা) চায়।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এরা কি তোমারই সন্তান?" তিনি বললেন, "হাঁ।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে এ-ই ব্যাপার, যার কারণে মেয়েটি এরূপ করছে! আর আল্লাহর কসম, কাকের সাথে কাকের সন্তানের যেমন সাদৃশ্য থাকে, ওর (আব্দুর রহমানের রা) সাথে এদের তার চেয়ে বেশি সাদৃশ্য রয়েছে।"'¹

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি ৫৮২৫, সহিহু মুসলিম: ১৪৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00