📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আপস করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন

📄 আপস করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন


একটি সমাজের সদস্যরা যতই ভালো মানুষ হোক, কল্যাণমূলক কাজের প্রতি যতই তাদের আগ্রহ থাকুক, তাদের পরস্পরের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সংঘটিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এই ঝগড়া-বিবাদ পার্থিব সম্পদ অর্জনের জন্য বা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য কিংবা শয়তানের প্ররোচনার শিকার হয়ে যেমন হতে পারে, তেমনই অন্য আরও অনেক কারণেও হতে পারে। যার অনেকগুলো মীমাংসা করার জন্য মামলা-মোকদ্দমা ও বিচার-ফয়সালার প্রয়োজন পড়ে। অন্যান্য সমাজের মতো মুসলিম সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানেও পরস্পরের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঝগড়াকারীর মাঝে এমনভাবে ফয়সালা করতেন, যাতে হকদার তার হক বুঝে পায়। তিনি বাদী-বিবাদীর মাঝে মীমাংসা করে দিতেন। তাদের মনে আল্লাহর স্মরণ জাগিয়ে দিতেন। অপর ভাইয়ের অধিকার লঙ্ঘন করা এবং বাতিল দাবির ওপর অটল থাকার ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের সতর্ক করতেন। এ ছাড়াও তাদের পারস্পরিক সহানুভূতি প্রদর্শনের শিক্ষা দিতেন এবং তাদের অন্তরে জাহিলি যুগের অনৈতিক দাবি-দাওয়া ও নোংরা স্বজনপ্রীতির প্রতি ঘৃণাবোধ জাগ্রত করতেন। ফলে মুসলিম সমাজ ক্রমান্বয়ে একটি কল্যাণমূলক সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাদকারী উভয়পক্ষের সাথে ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ করতেন। ইনসাফের সাথে তাদের বিরোধের মীমাংসা করতেন।
বিবাদমান একপক্ষকে তাদের দাবি ছেড়ে দিয়ে আপস করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কাব বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, 'তিনি মসজিদের ভেতর ইবনে আবি হাদরাদ (রা) থেকে তার পাওনা ঋণ দাবি করলেন। তখন তাদের উভয়ের আওয়াজ বড় হয়ে উঠলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পেলেন। তিনি তাঁর ঘরেই ছিলেন। তিনি তাদের দিকে দ্রুত ছুটে আসলেন, যার ফলে তাঁর ঘরের পর্দা উন্মুক্ত হয়ে গেল। এসেই তিনি ডাক দিলেন, "হে কাব!" তিনি বললেন, "আমি হাজির, ইয়া রাসুলাল্লাহ!" তিনি বললেন, "তোমার পাওনা ঋণ থেকে এ পরিমাণ-ইশারা করে অর্ধেক দেখালেন ক্ষমা করে দাও।" কাব (রা) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি ইতিপূর্বে তা করেছি।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে বাকিগুলো দাবি করো।"'¹
ইবনুল জাওজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাব (রা)-কে (অর্ধেক ঋণ ক্ষমা করে দেওয়ার) যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা পরামর্শ হিসেবে দিয়েছেন। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিচারকের জন্য উভয়পক্ষের মাঝে ফয়সালা করে দেওয়া যেমন কর্তব্য, তেমনই উভয়পক্ষের মাঝে আপস-মীমাংসা করে দেওয়াও তার দায়িত্ব।'²
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
ইশারায় বুঝে গেলে তার ওপরই ক্ষান্ত করা।
পাওনাদারের নিকট (ঋণ কমিয়ে দেওয়ার) সুপারিশ করা।
বিবাদকারী দুপক্ষের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত।
গুনাহের কাজ ব্যতীত অন্য কাজের জন্য সুপারিশ করা।
দরোজায় পর্দা ঝোলানো বৈধ।
মসজিদের ভেতর পাওনা ঋণ তলব করা বৈধ।³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি ৪৫৭, সহিহু মুসলিম: ১৫৫৮।
২. কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সহিহাইন: ১/৩৮৭।
৩. ফাতহুল বারি: ১/৫৫২, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/২২০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ক্ষমা ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করতেন

📄 ক্ষমা ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরোজার পাশে দুই ঝগড়াকারীর উঁচু আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাদের একজন অপরজনের কাছে ঋণ মাফ করে দেওয়ার আবেদন করছিলেন এবং তার প্রতি নম্রতা অবলম্বনের অনুরোধ করছিলেন। আর অপরজন বলছিলেন, "আল্লাহর কসম, আমি তা করব না।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট গিয়ে বললেন:
'কে সেই ব্যক্তি, যে নেক আমল করবে না বলে আল্লাহর নামে কসম খেয়েছে?'
তখন লোকটি উত্তর দিলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমিই (সেই হতভাগা)। তবে এখন তার জন্য তা-ই হবে, যা সে পছন্দ করে (অর্থাৎ তার অনুরোধ আমি মেনে নিলাম)।”'¹
হাদিস থেকে শিক্ষা:
ঋণগ্রস্তের প্রতি নম্রতা অবলম্বন এবং ঋণ কমিয়ে দিয়ে বা ক্ষমা করে দিয়ে তার প্রতি অনুগ্রহ করার প্রতি উৎসাহ।
ভালো কাজ না করার ওপর শপথ করা অনুচিত। কেউ শপথ করে ফেললে, মুসতাহাব হলো সে ওই কসম ভঙ্গ করবে এবং কাফফারা আদায় করবে।
পাওনাদারের নিকট পাওনা ক্ষমা করে দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করা যায়।
ভালো কর্মের সুপারিশ করলে তা গ্রহণ করা ভালো।²
সাহল বিন সাদ (রা) থেকে বর্ণিত যে, 'কুবাবাসী পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল, এমনকি তারা একে অপরের দিকে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে ওখানে নিয়ে চলো, যেন তাদের মাঝে মীমাংসা করে দিতে পারি।"'³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৭০৫, সহিহু মুসলিম: ১৫৫৭।
২. ফাতহুল বারি: ৫/৩০৭। ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/২২০।
৩. সহিহুল বুখারি: ২৬৯৩, সহিহু মুসলিম: ৪২১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মীমাংসা করা সম্ভব না হলে ফয়সালা করে দিতেন

📄 মীমাংসা করা সম্ভব না হলে ফয়সালা করে দিতেন


আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা) বলেন, 'জনৈক আনসারি (রা) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে জুবাইর (রা)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল, যে পানি দ্বারা তারা খেজুর বাগানে পানি সেচ দিত। অতঃপর তারা উভয়জন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইর (রা)-কে বললেন:
'হে জুবাইর, প্রথমে তোমার জমি সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও।'
এতে আনসারি ব্যক্তি (রা) অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, "সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে এমন ফয়সালা করলেন।” এতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন:
'হে জুবাইর, তুমি নিজের জমি সিঞ্চন করো। এরপর পানি আটকিয়ে রাখো, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।'
জুবাইর (রা) বলেন, "আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাজিল হয়েছে:
'তোমার প্রতিপালকের শপথ, তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদের বিচারভার আপনার ওপর অর্পণ করবে না।'¹-²
ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসের মর্ম হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে জুবাইর (রা)-কে আনসারি ব্যক্তির (রা) জন্য নিজের হক থেকে ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আনসারির (রা) পক্ষ থেকে রূঢ় আচরণ প্রকাশ পেল, তখন তিনি জুবাইর (রা)-কে তার হক পুরোপুরি গ্রহণ করার ফয়সালা করলেন।'³
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'জুবাইর (রা)-এর জমি প্রথমে ছিল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইর (রা)-কে বললেন, "প্রথমে তোমার পুরা জমিন সিঞ্চন করার অধিকার তোমার থাকলেও, তুমি তা না করে প্রয়োজন অনুপাতে সিঞ্চন করে প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও।” কারণ তিনি জানতেন যে, জুবাইর (রা) তাঁর এ ফয়সালা মেনে নেবেন এবং প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ করতে সম্মত হবেন। কিন্তু যখন প্রতিবেশীই এমন ফয়সালা মানতে অস্বীকৃতি জানালেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইর (রা)-কে নিজের হক পুরোপুরি গ্রহণ করতে নির্দেশ দিলেন।'⁴
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
বিবাদের সময় প্রথমে একপক্ষ থেকে ছাড় দিয়ে মীমাংসা করার প্রতি ইশারা।
বিবাদমান পক্ষদ্বয় পরস্পর মীমাংসায় রাজি না হলে বিচারক প্রত্যেকের হক যথাযথভাবে দান করবেন।
ইমাম ও বিচারকের রায় মেনে না নিলে ভর্ৎসনা করা ও শাস্তি দেওয়ার অধিকার আছে।⁵

টিকাঃ
১. সুরা আন-নিসা, ৪: ৬৫।
২. সহিহুল বুখারি: ২৩৬০, সহিহু মুসলিম: ২৩৫৭।
৩. আত-তামহিদ: ১৭/৪০৯।
৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১০৮।
৫. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৬/৫০১-৫০২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মিথ্যা শপথ করার ব্যাপারে ভয় প্রদর্শন করতেন

📄 মিথ্যা শপথ করার ব্যাপারে ভয় প্রদর্শন করতেন


ওয়াইল বিন হুজর (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে দুব্যক্তি তাঁর কাছে এসে একটি ভূমি সম্পর্কে বিচার প্রার্থনা করলেন। তন্মধ্যে একজন বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, জাহিলিয়্যাতের যুগে এ ব্যক্তি আমার ভূমি জবরদখল করে নিয়েছিল।" বর্ণনাকারী বলেন, 'বিচার প্রার্থনাকারী ছিল ইমরুল কাইস বিন আবিস আল-কিনদি, আর তার বিবাদী ছিল রাবিআ বিন আবদান।' 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার সাক্ষী পেশ করো।” লোকটি বললেন, "আমার কোনো সাক্ষী নেই।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে বিবাদী থেকে কসম নেওয়া হবে।” লোকটি বললেন, "তবে তো সে মিথ্যা কসম করে সম্পত্তি গ্রাস করে ফেলবে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার কাছ থেকে তোমার এতটুকুই প্রাপ্য।" বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর বাদী যখন শপথ করার জন্য প্রস্তুত হলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সম্পত্তি গ্রাস করবে, সে আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন।'¹
রজা বিন হাইওয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং উরস বিন আমিরা (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা আদি (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, 'কিন্দা এলাকার ইমরুল কাইস বিন আবিস নামক এক ব্যক্তি এবং হাজরামাওত এলাকার এক ব্যক্তি একটি জমির ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিচার প্রার্থনা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরামাওতের লোকটির কাছে সাক্ষী তলব করলেন। কিন্তু তার কাছে সাক্ষী ছিল না। তখন তিনি কিন্দার লোকটিকে কসম করতে বললেন। এতে হাজরামাওতের লোকটি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, তাকে শপথ করার সুযোগ দেওয়া হলে সে মিথ্যা শপথ করে আমার জমি নিয়ে নেবে।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য মিথ্যা শপথ করবে, সে আল্লাহ তাআলার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন।'
রজা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন:
'যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মূল্যে বিক্রয় করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর তাদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদের পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুত, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।'²
ইমরুল কাইস (রা) বললেন, "যে ব্যক্তি এই জমির দাবি ছেড়ে দেবে, সে কী পুরস্কার পাবে?" তিনি বললেন, "জান্নাত।” তখন ইমরুল কাইস (রা) বললেন, "তাহলে সাক্ষী থাকুন, আমি এই জমির পুরোটা তার জন্য ছেড়ে দিয়েছি।"'³
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
মিথ্যা শপথ করে মুসলমানের হক গ্রাস করলে কঠোর শাস্তি রয়েছে।
বিচারপ্রার্থী থেকে মিথ্যা শপথ করার আশঙ্কা থাকলে বিচারক তাকে মিথ্যা শপথ করার ভয়াবহতা জানিয়ে উপদেশ প্রদান করবেন।⁴

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ১৩৯।
২. সুরা আলি ইমরান, ৩: ৭৭।
৩. মুসনাদু আহমাদ: ১৭২৬৩।
৪. ফাতহুল বারি: ১১/৫৬৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00