📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 চরম বাহাদুর ও অকুতোভয় বীর মুআজ বিন আমর বিন জামুহ ও মুআজ বিন আফরা

📄 চরম বাহাদুর ও অকুতোভয় বীর মুআজ বিন আমর বিন জামুহ ও মুআজ বিন আফরা


আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) (মুজাহিদদের) সারিতে দাঁড়িয়ে বর্ণনা করেন, 'বদর যুদ্ধের দিন আমি আছি। ডানে ও বামে তাকিয়ে দেখি, আমার দুপাশে সদ্য যৌবনে পা রাখা দুজন আনসারি কিশোর। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি এদের চেয়ে শক্তিশালীদের মাঝে অবস্থান করি। তাদের একজন আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে বলে:
"চাচা, আপনি আবু জাহেলকে চেনেন?"
"হাঁ, চিনি! কিন্তু ভাতিজা তুমি আবু জাহেলকে খুঁজছ কেন?"
"শুনেছি, সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেয়। ওই সত্তার শপথ-যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাকে যদি আমি দেখি, তবে অতক্ষণ পর্যন্ত তাকে ছাড়ব না, যতক্ষণ আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে নির্ধারিত, তার মৃত্যু না হয়ে যায়।"
তার এমন সংকল্প দেখে আমি বিস্মিত হই। তারপর অপর কিশোর আমাকে ইশারা করে ঠিক একই কথা বলে। আমি আবু জাহেলকে খুঁজতে থাকি। পরক্ষণেই দেখতে পাই, সে সৈন্যদলের মাঝে চক্কর দিচ্ছে। আমি তাদের বলি, "ওই দেখো সেই ব্যক্তি, যার কথা তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছ।” মুহূর্তেই তারা আবু জাহেলের দিকে ছুটে যায় এবং তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করে। তারপর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে আবু জাহেলের নিহত হওয়ার সংবাদ দেয়। তিনি জানতে চান, "তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে?" উভয়েই বলে, "আমি হত্যা করেছি।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, (هَلْ مَسَحْتُمَا سَيْفَيْكُمَا) "তোমরা কি তরবারি মুছে ফেলেছ?"
তারা বলে, "নাহ, মুছিনি।” তিনি উভয়ের তরবারি দেখে বলেন, (كِلَا كُمَا قَتَلَهُ سَلَبُهُ لِمُعَاذِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْجُمُوحِ) "তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অবশ্য তার কাছ থেকে প্রাপ্ত মালামাল মুআজ বিন আমর বিন জামুহই (রা) পাবে।” তাঁরা দুজন হলেন মুআজ বিন আফরা (রা) ও মুআজ বিন আমর বিন জামুহ (রা)।'¹
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবু জাহেলের ওপর দুজন একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়লেও সর্বপ্রথম তার ওপর মরণঘাতী আক্রমণটি করেছেন আমর বিন জামুহ (রা)। তাই সালাব (নিহত কাফিরের শরীর থেকে পাওয়া গনিমত) তাকেই দেওয়া হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন, "তোমরা উভয়ই তাকে হত্যা করেছ”-এটা দ্বিতীয় জনের (মুআজ বিন আফরা রা) মন রক্ষা করার জন্য বলেছেন, যেহেতু দুজনই হত্যাকর্মে জড়িত ছিলেন। নাহলে মূল আক্রমণ যার পরে শত্রু আত্মরক্ষা করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তা মুআজ বিন আমর বিন জামুহ (রা)-ই করেছেন। এ জন্য "সালব" তাকেই দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজনের তরবারি কোষমুক্ত করে পরখ করে দেখেছেন, যেন তরাবারিদ্বয়ে লেগে থাকা রক্ত দেখে অনুমান করা যায়, কার তরবারি কতটুকু শত্রুর দেহে বিদ্ধ হয়েছে এবং যার তরবারি অধিক বিদ্ধ হয়েছে, তাকে "সালাব" দান করা যায়। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম জিজ্ঞেস করেছেন, "তোমরা তোমাদের তলোয়ার মুছে ফেলেছ নাকি?" যদি তারা তলোয়ার মুছে ফেলতেন, তখন এ বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যেত। তবে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ হাদিসে এ কথাও বর্ণিত হয়েছে যে, "আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তার ওপর চূড়ান্ত আঘাত করে তাকে শেষ করেছেন এবং তার মস্তক কেটেছেন।”'²
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এটা সম্ভব যে, আবু জাহেলের হত্যায় তিনজনই শরিক ছিলেন। তার ওপর মরণঘাতী আক্রমণ মুআজ বিন আমর বিন জামুহ (রা) করেছেন। তারপর আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) আসলেন। তখন তার শরীরে প্রাণের স্পন্দন কিছুটা বাকি ছিল। তিনি গর্দান কেটে দিয়ে তা চিরতরে বন্ধ করে দিলেন। এই হাদিসে লক্ষণীয় অনেক বিষয় রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো, কোনো কাজে কাউকে তুচ্ছ জ্ঞান করা যাবে না। কারণ, অনেক সময় ছোটরা এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আনজাম দিতে পারে, যা বড়রা পারে না। যেমনটি উল্লেখিত দুই বালক সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) করেছেন।'³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩১৪১, সহিহু মুসলিম: ১৭৫২।
২. ফাতহুল বারি: ৬/২৪৮।
৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/৬৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00