📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অলৌকিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী আবু হুরাইরা

📄 অলৌকিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী আবু হুরাইরা


আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'তোমরা বলে থাকো, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু হুরাইরা (রা) বেশি বেশি হাদিস বর্ণনা করে থাকে এবং আরও বলে থাকো, মুহাজির ও আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কী হলো যে, তাঁরা আবু হুরাইরার (রা) মতো হাদিস বর্ণনা করে না? এর কারণ হলো, আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর আমি কোনো প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন অনুপস্থিত থাকতেন, আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের খেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম একজন সুফফাবাসী মিসকিন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা মুখস্থ রাখতাম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কথা বলার সময় বললেন:
'আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দেবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তা জড়িয়ে নেবে, তাহলে আমি যা বলছি, সে তা স্মরণ রাখতে পারবে।'
আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই কথার কিছুই ভুলে যাইনি।'¹
জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবু হুরাইরা (রা)-এর স্মরণশক্তি অলৌকিক ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম মুজিজা ছিল।'²
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার নিকট থেকে শোনা অনেক হাদিস আমি ভুলে যাই।” তখন তিনি বললেন, "তোমার চাদর মেলে ধরো।” আমি মেলে ধরলাম। তারপর তিনি তা থেকে অঞ্জলি ভরে কিছু নিলেন। অতঃপর বললেন, "জড়িয়ে নাও।” আমি জড়িয়ে নিলাম। এর পর থেকে কোনো কিছুই আমি ভুলে যাইনি।'³
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অঞ্জলি ভরে কী নিয়েছেন, সেটা হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি। সম্ভবত, তিনি কেবল অঞ্জলি ভরে নেওয়ার মতো ইশারা করেছিলেন।'⁴
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ দুই হাদিসে আবু হুরাইরা (রা)-এর ফজিলত এবং নবুওয়াতের একটি মুজিজা বর্ণিত হয়েছে। মুজিজা হওয়ার কারণ হলো, ভুলে যাওয়া মানুষের সহজাত একটি অভ্যাস। আবু হুরাইরা (রা)-ও স্বীকার করেছেন যে, যথারীতি তিনিও অনেক বিষয় ভুলে যেতেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে তিনি ভুলে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তিলাভ করেন।'⁵
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইলম অর্জনের আগ্রহকে আরও উৎসাহিত করতেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে কারা ধন্য হবে?" তিনি বললেন:
'আমি জানতাম, হে আবু হুরাইরা, তুমি ছাড়া এ প্রশ্ন আর কেউ করবে না। কেননা, হাদিস অর্জনের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহের ব্যাপারে আমি জানি। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে ওই ব্যক্তি ধন্য হবে, যে অন্তর থেকে একনিষ্ঠতার সাথে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই)" বলে।'⁶

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২০৪৭, সহিহু মুসলিম: ২৪৯২।
২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২৯৪।
৩. সহিহুল বুখারি: ১১৯।
৪. ফাতহুল বারি: ১/২১৫।
৫. ফাতহুল বারি: ১/২১৫।
৬. সহিহুল বুখারি: ৯৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আরেক প্রতিভাবান সাহাবি উবাই বিন কাব

📄 আরেক প্রতিভাবান সাহাবি উবাই বিন কাব


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে চারজন থেকে কুরআনের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁদের একজন হলেন উবাই বিন কাব (রা)। উমর (রা) তাঁর ব্যাপারে বলেন, 'আলি (রা) হচ্ছেন আমাদের মধ্যে সর্বাধিক বিচক্ষণ বিচারক; আর উবাই (রা) হচ্ছেন আমাদের শ্রেষ্ঠ কারি।'¹
নামাজের কিরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো ভুল হলে তাকে লুকমা দেওয়ার জন্য বলতেন। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, 'একদা নামাজে কিরাত পড়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতে আটকে গেলেন। যখন নামাজ শেষ হলো, তখন উবাই বিন কাব (রা)-কে বললেন, "তুমি কি আমাদের সাথে নামাজ পড়েছ?" তিনি বললেন, "জি, হাঁ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তাহলে লুকমা দাওনি কেন?'²
এই হাদিসে ইমামকে লুকমা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। সুতরাং জাহরি নামাজে ইমাম সাহেব কোনো আয়াত ভুলে গেলে মুক্তাদি ওই আয়াত পড়ে তা স্মরণ করিয়ে দেবে। আর যদি নামাজের কোনো রোকন আদায় করতে ভুলে যায়, তখন পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলে এবং মেয়েরা হাতের শব্দ করে ইমামকে স্মরণ করিয়ে দেবে।³

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ২০৫৮১।
২. সুনানু আবি দাউদ: ৯০৭।
৩. নাইলুল আওতার: ২/৩৮০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উমর  উবাই বিন কাবকে তারাবির ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন

📄 উমর  উবাই বিন কাবকে তারাবির ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন


আব্দুর রহমান বিন আব্দ আল-কারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রমাজান মাসে এক রাতে উমর (রা)-এর সাথে আমি মসজিদে গেলাম। গিয়ে দেখতে পেলাম, মানুষ বিক্ষিপ্ত জামাআতে বিভক্ত। কেউ একাকী নামাজ পড়ছে; আবার কারও পেছনে কতিপয় লোক ইকতিদা করছে। তখন উমর (রা) বললেন:
'আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন কারির পেছনে একত্র করে দিই, তবে তা উত্তম হবে।'
অতঃপর তিনি এর ওপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেন এবং লোকদের উবাই বিন কাব (রা)-এর পেছনে একত্র করে দিলেন। অতঃপর আরেক রাতে আমি তাঁর সাথে মসজিদে গেলাম। তখন লোকজন তাদের কারির পেছনে নামাজ পড়ছিল। তা দেখে উমর (রা) বললেন:
'কতই না সুন্দর এই বিদআত তথা নতুন ব্যবস্থা! কিন্তু তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো, তা রাতের ওই অংশ অপেক্ষা উত্তম, যাতে তোমরা নামাজ পড়ো।'
এর দ্বারা তিনি রাতের শেষ ভাগ বুঝিয়েছেন। কারণ, মানুষ রাতের প্রথমভাগে নামাজ পড়ত।'¹
সতর্কতা: কিছু মানুষ বিদআতকে দুই ভাগে বিভক্ত করে-উত্তম বিদআত ও খারাপ বিদআত। তারা দলিল হিসেবে উমর (রা)-এর 'কতই না সুন্দর এই বিদআত' কথাটি উপস্থাপন করে। তাদের কথার জবাব হলো, এখানে উমর (রা) বিদআত বলে বিদআতের শাব্দিক অর্থ 'নতুন ব্যবস্থা' বুঝিয়েছেন। বিদআত ফিদ-দ্বীন বা বিদআতের পারিভাষিক অর্থ তিনি বোঝাননি। কেননা, বিদআত ফিদ-দ্বীনের সবটুকুই গোমরাহি। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'প্রত্যেক বিদআত গোমরাহি, আর প্রত্যেক গোমরাহি জাহান্নামে।'²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২০১০।
২. সহিহু মুসলিম: ৮৬৭, সুনানুন নাসায়ি: ১৫৭৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সমরবিশেষজ্ঞ খালিদ বিন ওয়ালিদ 

📄 সমরবিশেষজ্ঞ খালিদ বিন ওয়ালিদ 


জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তিনি হলেন, আল্লাহর তরবারি, ইসলামের ঘোড়সওয়ার, ময়দানের সিংহ, সর্দার, নেতা, মহান সেনাপতি, মুজাহিদদের কমান্ডার... তাকে "সাইফুল্লাহ” তথা আল্লাহর তরবারি খেতাব স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:
'খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) হলো আল্লাহর তরবারিসমূহের মধ্য থেকে একটি তরবারি, যা তিনি মুশরিকদের জন্য কোষমুক্ত করেছেন।'¹
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় মক্কা-বিজয় ও হুনাইনের যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডর-ভয় উপেক্ষা করে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। মুরতাদদের বিরুদ্ধে এবং মুসাইলামা কাজ্জাবের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ইরাকের জিহাদে শরিক হয়েছেন এবং শামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর শরীরের প্রতিটি অংশে শহিদানের রক্ত-স্বাক্ষর ছিল। তাঁর ফজিলত অনেক বিস্তৃত। আবু বকর (রা) তাঁকে ইসলামি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। অতঃপর তাঁর ও আবু উবাইদা (রা)-এর নেতৃত্বে দামেস্ক অবরোধ করে তা বিজয় করা হয়। ষাট বছর বয়স পেয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হত্যা করেছেন অনেক অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ বীর-বাহাদুরকে। কিন্তু তাঁর মৃত্যু হয়েছে ঘরের বিছানায়। এই আক্ষেপে তিনি অঝোর ধারায় ক্রন্দন করেছেন। হিমস শহরে ২১ হিজরি সনে তিনি ইনতিকাল করেন।²
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশিষ্ট অশ্বারোহী আবু কাতাদা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক আমিরসম্বলিত একটি সৈন্যদল প্রেরণ করলেন। আর বললেন:
"জাইদ বিন হারিসা (রা) তোমাদের নেতৃত্ব দেবে। যদি জাইদ (রা) নিহত হয়, তখন জাফর (রা) তোমাদের নেতা হবে। যদি জাফরের (রা) কিছু হয়ে যায়, তখন আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) তোমাদের নেতৃত্ব দেবে।"
তখন জাফর (রা) আপত্তি তুলে বললেন, "হে আল্লাহর নবি, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান! আমি আশা করিনি যে, জাইদকে (রা) আমার ওপর নেতৃত্ব দান করবেন।” তিনি বললেন, "যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার ওপরই বহাল থাকো। কারণ, তোমরা জানো না, কোথায় কল্যাণ নিহিত রয়েছে?" অতঃপর সৈন্যদল রওনা হলো। কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং সবাইকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
"উত্তম সংবাদ এসেছে। আমি কি সদ্য প্রেরিত সৈন্যদলের ব্যাপারে তোমাদের সংবাদ দেবো না? তারা রওনা হয়ে শত্রুদলের মুখোমুখি হয়েছে। অতঃপর জাইদ (রা) শাহাদাত বরণ করেছে। তাই তোমরা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করো।" তখন লোকেরা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করল। অতঃপর তিনি বললেন, "এরপর জাফর বিন আবু তালিব (রা) পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে। তারপর শত্রুদের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই করে একসময় শহিদ হয়ে গেছে। আমি তার শাহাদাতের সাক্ষ্য দিচ্ছি। সুতরাং তোমরা তার জন্য ইসতিগফার করো। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা) পতাকা হাতে নিয়েছে। তারপর দৃঢ় পদক্ষেপে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছে। একপর্যায়ে সেও শহিদ হয়েছে। সুতরাং তোমরা তার মাগফিরাত কামনা করো। অতঃপর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) পতাকা তুলে নিয়েছে। (তিনজন সেনাপতির মৃত্যুর পর) লশকরের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আর কেউ ছিল না, তখন খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) নিজেই নেতৃত্ব হাতে নিয়ে নিয়েছে।" তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙুল উঁচিয়ে বললেন:
'হে আল্লাহ, সে (খালিদ রা) আপনার তরবারিসমূহ থেকে একটি তরবারি। তাকে সাহায্য করুন।'
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তোমাদের ভাইদের সাহায্য করার জন্য বেরিয়ে পড়ো। কেউ যেন পেছনে থেকে না যায়।'
তখন প্রখর রোদ উপেক্ষা করে লোকজন কেউ সওয়ার হয়ে এবং কেউ পদব্রজে বেরিয়ে পড়ল।'³

টিকাঃ
১. ইবনু আসাকির: ১৬/২৪১।
২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/৩৬৭।
৩. মুসনাদু আহমাদ: ২২০৪৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00