📄 আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ -এর প্রতিভার মূল্যায়ন করতেন
জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) প্রাথমিক সময়ে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্তর্ভুক্ত এবং উচ্চস্তরের জ্ঞানী ছিলেন।'¹
আরেক জায়গায় বলেন, 'তিনি অল্পসংখ্যক তুখোড় মেধাবী আলিমদের মধ্য থেকে একজন ছিলেন।'²
শাকিক বিন সালামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) আমাদের ওয়াজ করার সময় বললেন:
'আল্লাহর কসম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে সত্তরটিরও অধিক সুরা মুখস্ত করেছি। আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জানেন যে, আমি তাঁদের চাইতে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত, অথচ আমি তাঁদের চাইতে উত্তম নই।'
শাকিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর কথা শুনে কী বলেন, তা শোনার জন্য আমি মজলিসে বসে রইলাম। কিন্তু কাউকে তাঁর কথার প্রতিবাদ করতে শুনিনি।'³
একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে কুরআন শুনতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি 'সুরা আন-নিসা'র শুরু থেকে তিলাওয়াত করেছিলেন। এ সম্পর্কে তার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, 'আমাকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও।” আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব, অথচ কুরআন আপনার ওপরই নাজিল হয়েছে!?" তিনি বললেন, "হাঁ।” তখন আমি "সুরা আন-নিসা” পাঠ করা শুরু করলাম। পড়তে পড়তে যখন "(فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ، وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا) কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের ওপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে?"-এ আয়াত পর্যন্ত আসলাম, তখন তিনি বললেন, "এবার থামো।” তখন আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখতে পেলাম, তাঁর দুচোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।'⁴
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে কুরআন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ করেছেন:
'চার ব্যক্তি থেকে কুরআন গ্রহণ করো-উম্মে আবদের ছেলে (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা) থেকে (ইবনে মাসউদের নাম সর্বপ্রথম উল্লেখ করেছেন), মুআজ বিন জাবাল (রা) থেকে, উবাই বিন কাব (রা) থেকে এবং আবু হুজাইফার (রা) আজাদকৃত গোলাম সালিম (রা) থেকে।'⁵
অর্থাৎ তাঁদের থেকে কুরআন শিক্ষা করো। উল্লেখিত চারজনের মধ্যে প্রথমোক্ত দুজন মুহাজির এবং শেষোক্ত দুজন আনসার। আর সালিম (রা) হচ্ছেন আবু হুজাইফার (রা) আজাদকৃত গোলাম মাকিলের ছেলে। উলামায়ে কিরাম বলেন, 'বিশেষভাবে এই চারজন থেকে কুরআন শিক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার কারণ হলো:
১. কুরআনের শব্দ এদের খুব ভালোভাবে মুখস্থ ছিল এবং খুব সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করতে পারতেন। যদিও এ চারজনের বাইরের অনেকে কুরআনের অর্থ ও মর্ম বোঝার ক্ষেত্রে এদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
২. অথবা এই চারজন সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি কুরআন হাসিল করার জন্য নিজেদের সকল কাজকর্ম ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রেখেছিলেন। যেখানে অন্যরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ থেকে সরাসরি না শুনে একে অপরের মুখ থেকে শোনাকে যথেষ্ট মনে করেছেন।
৩. অথবা এই চারজন লোক কুরআন শেখানোর জন্য অন্য সকল ব্যস্ততা থেকে মুক্ত ছিলেন।
৪. অথবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিতে চেয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর কুরআন বিষয়ে এই চারজনই সবার চেয়ে পারদর্শী হবেন এবং কুরআন প্রচারের ক্ষেত্রে এরাই সর্বাধিক ভূমিকা রাখবেন। তাই তাঁদের থেকে কুরআন শিক্ষা করা উচিত।'⁶
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) সুসংবাদ দেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, 'আবু বকর (রা) ও উমর (রা) তাকে বলেছেন:
'যে ব্যক্তি কুরআন মাজিদ উত্তমরূপে তিলাওয়াত করতে চায়, যেভাবে তা নাজিল হয়েছে, সে যেন ইবনে উম্মে আবদ (আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা)-এর পাঠ মোতাবেক তিলাওয়াত করে।'⁷
টিকাঃ
১. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/৪৬১।
২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/৪৬২।
৩. সহিহুল বুখারি: ৫০০০, সহিহু মুসলিম: ২৪৬২।
৪. সহিহুল বুখারি: ৫০৫০, সহিহু মুসলিম: ৮০০।
৫. সহিহুল বুখারি: ৩৮০৬, সহিহু মুসলিম: ২৪৬৪।
৬. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১৮।
৭. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৩৮।
📄 অলৌকিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী আবু হুরাইরা
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'তোমরা বলে থাকো, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু হুরাইরা (রা) বেশি বেশি হাদিস বর্ণনা করে থাকে এবং আরও বলে থাকো, মুহাজির ও আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কী হলো যে, তাঁরা আবু হুরাইরার (রা) মতো হাদিস বর্ণনা করে না? এর কারণ হলো, আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকতেন আর আমি কোনো প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন অনুপস্থিত থাকতেন, আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের খেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম একজন সুফফাবাসী মিসকিন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা মুখস্থ রাখতাম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কথা বলার সময় বললেন:
'আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দেবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তা জড়িয়ে নেবে, তাহলে আমি যা বলছি, সে তা স্মরণ রাখতে পারবে।'
আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই কথার কিছুই ভুলে যাইনি।'¹
জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবু হুরাইরা (রা)-এর স্মরণশক্তি অলৌকিক ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম মুজিজা ছিল।'²
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার নিকট থেকে শোনা অনেক হাদিস আমি ভুলে যাই।” তখন তিনি বললেন, "তোমার চাদর মেলে ধরো।” আমি মেলে ধরলাম। তারপর তিনি তা থেকে অঞ্জলি ভরে কিছু নিলেন। অতঃপর বললেন, "জড়িয়ে নাও।” আমি জড়িয়ে নিলাম। এর পর থেকে কোনো কিছুই আমি ভুলে যাইনি।'³
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অঞ্জলি ভরে কী নিয়েছেন, সেটা হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি। সম্ভবত, তিনি কেবল অঞ্জলি ভরে নেওয়ার মতো ইশারা করেছিলেন।'⁴
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ দুই হাদিসে আবু হুরাইরা (রা)-এর ফজিলত এবং নবুওয়াতের একটি মুজিজা বর্ণিত হয়েছে। মুজিজা হওয়ার কারণ হলো, ভুলে যাওয়া মানুষের সহজাত একটি অভ্যাস। আবু হুরাইরা (রা)-ও স্বীকার করেছেন যে, যথারীতি তিনিও অনেক বিষয় ভুলে যেতেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে তিনি ভুলে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তিলাভ করেন।'⁵
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ইলম অর্জনের আগ্রহকে আরও উৎসাহিত করতেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে কারা ধন্য হবে?" তিনি বললেন:
'আমি জানতাম, হে আবু হুরাইরা, তুমি ছাড়া এ প্রশ্ন আর কেউ করবে না। কেননা, হাদিস অর্জনের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহের ব্যাপারে আমি জানি। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে ওই ব্যক্তি ধন্য হবে, যে অন্তর থেকে একনিষ্ঠতার সাথে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই)" বলে।'⁶
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২০৪৭, সহিহু মুসলিম: ২৪৯২।
২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২৯৪।
৩. সহিহুল বুখারি: ১১৯।
৪. ফাতহুল বারি: ১/২১৫।
৫. ফাতহুল বারি: ১/২১৫।
৬. সহিহুল বুখারি: ৯৯।
📄 আরেক প্রতিভাবান সাহাবি উবাই বিন কাব
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে চারজন থেকে কুরআনের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁদের একজন হলেন উবাই বিন কাব (রা)। উমর (রা) তাঁর ব্যাপারে বলেন, 'আলি (রা) হচ্ছেন আমাদের মধ্যে সর্বাধিক বিচক্ষণ বিচারক; আর উবাই (রা) হচ্ছেন আমাদের শ্রেষ্ঠ কারি।'¹
নামাজের কিরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো ভুল হলে তাকে লুকমা দেওয়ার জন্য বলতেন। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, 'একদা নামাজে কিরাত পড়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতে আটকে গেলেন। যখন নামাজ শেষ হলো, তখন উবাই বিন কাব (রা)-কে বললেন, "তুমি কি আমাদের সাথে নামাজ পড়েছ?" তিনি বললেন, "জি, হাঁ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তাহলে লুকমা দাওনি কেন?'²
এই হাদিসে ইমামকে লুকমা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। সুতরাং জাহরি নামাজে ইমাম সাহেব কোনো আয়াত ভুলে গেলে মুক্তাদি ওই আয়াত পড়ে তা স্মরণ করিয়ে দেবে। আর যদি নামাজের কোনো রোকন আদায় করতে ভুলে যায়, তখন পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলে এবং মেয়েরা হাতের শব্দ করে ইমামকে স্মরণ করিয়ে দেবে।³
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ২০৫৮১।
২. সুনানু আবি দাউদ: ৯০৭।
৩. নাইলুল আওতার: ২/৩৮০।
📄 উমর উবাই বিন কাবকে তারাবির ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন
আব্দুর রহমান বিন আব্দ আল-কারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রমাজান মাসে এক রাতে উমর (রা)-এর সাথে আমি মসজিদে গেলাম। গিয়ে দেখতে পেলাম, মানুষ বিক্ষিপ্ত জামাআতে বিভক্ত। কেউ একাকী নামাজ পড়ছে; আবার কারও পেছনে কতিপয় লোক ইকতিদা করছে। তখন উমর (রা) বললেন:
'আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন কারির পেছনে একত্র করে দিই, তবে তা উত্তম হবে।'
অতঃপর তিনি এর ওপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেন এবং লোকদের উবাই বিন কাব (রা)-এর পেছনে একত্র করে দিলেন। অতঃপর আরেক রাতে আমি তাঁর সাথে মসজিদে গেলাম। তখন লোকজন তাদের কারির পেছনে নামাজ পড়ছিল। তা দেখে উমর (রা) বললেন:
'কতই না সুন্দর এই বিদআত তথা নতুন ব্যবস্থা! কিন্তু তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো, তা রাতের ওই অংশ অপেক্ষা উত্তম, যাতে তোমরা নামাজ পড়ো।'
এর দ্বারা তিনি রাতের শেষ ভাগ বুঝিয়েছেন। কারণ, মানুষ রাতের প্রথমভাগে নামাজ পড়ত।'¹
সতর্কতা: কিছু মানুষ বিদআতকে দুই ভাগে বিভক্ত করে-উত্তম বিদআত ও খারাপ বিদআত। তারা দলিল হিসেবে উমর (রা)-এর 'কতই না সুন্দর এই বিদআত' কথাটি উপস্থাপন করে। তাদের কথার জবাব হলো, এখানে উমর (রা) বিদআত বলে বিদআতের শাব্দিক অর্থ 'নতুন ব্যবস্থা' বুঝিয়েছেন। বিদআত ফিদ-দ্বীন বা বিদআতের পারিভাষিক অর্থ তিনি বোঝাননি। কেননা, বিদআত ফিদ-দ্বীনের সবটুকুই গোমরাহি। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'প্রত্যেক বিদআত গোমরাহি, আর প্রত্যেক গোমরাহি জাহান্নামে।'²
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২০১০।
২. সহিহু মুসলিম: ৮৬৭, সুনানুন নাসায়ি: ১৫৭৮।