📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন

📄 তাদের সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন


বদর যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেতৃস্থানীয় আনসারি সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন।
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন আবু সুফইয়ান (রা)-এর প্রত্যাবর্তনের খবর আসলো, তখন তিনি পরামর্শ তলব করলেন। প্রথমে আবু বকর (রা) কথা বললেন, কিন্তু তিনি তার কথার কোনো উত্তর দেননি। অতঃপর উমর (রা) কথা বললেন, তার কথারও কোনো উত্তর দেননি। পরিশেষে সাদ বিন উবাদা (রা) দাঁড়ালেন এবং বললেন:
'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি সম্ভবত আমাদের (আনসারদের) মন্তব্য জানতে চাইছেন? সেই সত্তার শপথ-যার হাতে আমার জীবন, আপনি যদি আমাদের ঘোড়া হাঁকিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, আমরা তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ব; আর যদি আমাদের সওয়ারি হাঁকিয়ে "বারকুল গিমাদ"¹ পর্যন্ত পৌঁছার নির্দেশ দেন, আমরা অবশ্যই তা-ই করব।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সবাই রওনা হলেন এবং বদর প্রান্তরে গিয়ে উপনীত হলেন।'²
সাদ (রা)-এর কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারপরনাই খুশি হয়েছিলেন এবং তাঁর মাঝে চাঙা ভাব সৃষ্টি হয়েছিল। উলামায়ে কিরাম বলেন, 'এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কারণ, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন যে, তারা তাঁর সাথে কিতালের উদ্দেশ্যে বের হবেন এবং তাঁকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করবেন। তাই আবু সুফইয়ানের (রা) কাফেলা যখন ফিরতি যাত্রা শুরু করল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলেন, আনসাররা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাদের কৃত অঙ্গীকারের ওপর অটল আছে কি না। অতঃপর তারা খুব সুন্দর ও দৃঢ় ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, তারা এখনও তাদের দেওয়া অঙ্গীকারের ওপর অটল আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এই হাদিস থেকে বন্ধুবান্ধব ও বিজ্ঞজনদের থেকে পরামর্শ চাওয়ার গুরুত্ব বুঝে আসে।'³
অনুরূপভাবে খন্দক যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ বিন মুআজ (রা) ও সাদ বিন উবাদা (রা)-এর নিকট পরামর্শ চেয়েছিলেন। যখন কুরাইশরা দশ হাজার বাহিনী নিয়ে মদিনা আক্রমণ করতে আসলো, তখন গাতফান গোত্রের উয়াইনা বিন হিসন ও তার গোত্রের লোকজনও তাদের সাথে মিলিত হলো। এদিকে হুয়াই বিন আহতাব বনু কুরাইজার লোকদের কাছে গিয়ে তাদের বোঝালে তারা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বসল। এসব কারণে মুসলমানদের বিপদ খুব বড় আকার ধারণ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইনা বিন হিসনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করতে চাইলেন যে, তাকে ও তার গোত্রের লোকদের মদিনার এক-তৃতীয়াংশ ফল দিয়ে দেওয়া হবে, বিনিময়ে সে তার গাতফান গোত্রের লোকদের নিয়ে যৌথবাহিনীর সঙ্গ ত্যাগ করে ফিরে যাবে। এ ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়ার জন্য সাদ বিন মুআজ (রা) ও সাদ বিন উবাদা (রা)-এর নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠালেন। আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্য নেতাদের বাদ দিয়ে শুধু তাঁদের দুজনের নিকট পরামর্শ চাওয়ার কারণ হলো, তাঁরা উভয়ে নিজ নিজ গোত্রের অধিপতি ছিলেন। সাদ বিন মুআজ (রা) আওস গোত্রের অধিপতি ছিলেন এবং সাদ বিন উবাদা (রা) খাজরাজ গোত্রের নেতা ছিলেন। তাই বিশেষভাবে তাঁদের দুজনের কাছেই পরামর্শ চাইলেন। ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'খন্দক যুদ্ধের সময় মুসলমানরা যখন দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাতফানের দুই নেতা উয়াইনা বিন হিসন ও হারিস বিন আওফের সাথে এই মর্মে চুক্তি করার ইচ্ছা করলেন যে, মদিনার এক-তৃতীয়াংশ ফল তাদের দেওয়া হবে, বিনিময়ে তারা তাদের কওমের লোকজন নিয়ে চলে যাবে। এ চুক্তির ওপর উভয়পক্ষ থেকে একপ্রকার সম্মতি হয়ে গিয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সাদের (রা) নিকট পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, এটা যদি আপনার নির্দেশ হয়, তাহলে আমরা বিনাবাক্যব্যয়ে তা মেনে নেব। আর যদি আপনি আমাদের করুণ অবস্থার দিকে চেয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রয়োজন আমাদের নেই। আমরা ও তারা উভয় সম্প্রদায় একসময় শিরক ও মূর্তিপূজায় জড়িত ছিলাম। তখনও তারা আমাদের কাছ থেকে মেহমানদারি ও বেচাকেনা ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে আমাদের ফল খাওয়ার লোভ করত না। এখন তো আল্লাহ তাআলা আমাদের হিদায়াত দান করেছেন এবং ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাই আমাদের সম্পদ তাদের দেওয়ার প্রশ্নই আসতে পারে না। আল্লাহর কসম, তাদের আমরা তলোয়ারের আঘাত ছাড়া আর কিছুই দেবো না।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের পরামর্শকে যথার্থ মনে করলেন এবং বললেন, "সত্যই, আমি উক্ত সিদ্ধান্ত তোমাদের করুণ অবস্থার প্রতি লক্ষ করেই নিয়েছিলাম-যখন আমি দেখতে পেলাম যে, গোটা আরব এক ধনুক থেকে তোমাদের প্রতি তির বর্ষণ করতে শুরু করেছে।"⁴
আমিরুল মুমিনিন উমর (রা)-ও এভাবে পরামর্শ করেছিলেন। ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, 'একদা উমর বিন খাত্তাব (রা) সিরিয়ার দিকে যাত্রা করলেন। অতঃপর যখন তিনি "সার্গ” (সউদিয়া ও সিরিয়ার সীমান্ত) এলাকায় গেলেন, তখন তাঁর সাথে সৈন্যবাহিনীর প্রধানগণ-আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা) ও তাঁর সাথিগণ-সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁকে জানান যে, "সিরিয়া এলাকায় (প্লেগ) মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।"' ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, 'তখন উমর (রা) আমাকে বললেন, "আমার কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে যাঁরা হিজরত করেছিলেন, সেই মুহাজিরদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ডেকে আনো।” আমি তাঁদের ডেকে আনলাম। উমর (রা) তাঁদের শাম দেশের মহামারির কথা জানিয়ে তাঁদের কাছে সুপরামর্শ চাইলেন। তখন তাঁদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো। কেউ বললেন, "আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন। তাই তা থেকে ফিরে যাওয়াকে আমরা পছন্দ করি না।” আবার কেউ কেউ বললেন, "আপনার সাথে রয়েছেন অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। কাজেই আমাদের কাছে ভালো মনে হয় না যে, আপনি তাঁদের এই মহামারির মধ্যে ঠেলে দেবেন।” উমর (রা) বললেন, "আপনারা উঠুন।” তারপর তিনি বললেন, "আমার নিকট আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ডেকে আনো।” সুতরাং আমি তাঁদের ডেকে আনলাম এবং তিনি তাঁদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। কিন্তু তাঁরাও মুহাজিরদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথ অবলম্বন করলেন এবং তাঁদের মতো তাঁরাও পরস্পর মতানৈক্য করলেন। উমর (রা) বললেন, "আপনারা উঠুন।” তারপর আমাকে বললেন, "এখানে যে সকল বয়োজ্যৈষ্ঠ কুরাইশি আছেন-যাঁরা মক্কা-বিজয়ের বছর হিজরত করেছিলেন-তাঁদের ডেকে আনো।” আমি তাঁদের ডেকে আনলাম। তখন তাঁরা পরস্পর কোনো মতবিরোধ করলেন না। তাঁরা একযোগে বললেন, "আমাদের রায় হলো, আপনি লোকজন নিয়ে ফিরে যান এবং তাদের এই মহামারির কবলে ঠেলে দেবেন না।” তখন উমর (রা) লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, "আমি ভোরে বাহনের পিঠে (ফিরে যাওয়ার জন্য) আরোহণ করব। অতএব তোমরাও তা-ই কোরো।” আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা) বললেন, "আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির থেকে পলায়ন করার জন্য ফিরে যাচ্ছেন?" উমর (রা) বললেন, "হে আবু উবাইদা, যদি তুমি ছাড়া অন্য কেউ কথাটি বলত!" আসলে উমর (রা) তাঁর বিরোধিতা করাকে অপছন্দ করতেন। উমর (রা) বললেন, "হাঁ, আমরা আল্লাহর তাকদির থেকে আল্লাহর তাকদিরের দিকেই ফিরে যাচ্ছি। তুমি বলো তো, তুমি কিছু উটকে যদি এমন কোনো উপত্যকায় দিয়ে আসো, যেখানে আছে দুটি প্রান্ত। তন্মধ্যে একটি হলো সবুজ-শ্যামল, আর অন্যটি হলো বৃক্ষহীন। এবার ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি তুমি সবুজ প্রান্তে চরাও, তাহলে তা আল্লাহর তাকদির অনুযায়ীই চরাবে। আর যদি তুমি বৃক্ষহীন প্রান্তে চরাও, তাহলেও তা আল্লাহর তাকদির অনুযায়ীই চরাবে?"' বর্ণনাকারী (ইবনে আব্বাস রা) বলেন, 'এমন সময় আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) এলেন। তিনি এতক্ষণ যাবৎ তাঁর কোনো প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, "এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে। আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে-
'তোমরা যখন কোনো এলাকায় (প্লেগের) প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেয়ো না। আর যদি এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে পলায়ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।"'
(এ হাদিস শুনে) উমর (রা) আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং ফিরে গেলেন।⁵
ফায়দা: সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নববি পদ্ধতি হলো, আক্রান্ত এলাকার কাউকে বাইরে আসতে দেওয়া হবে না এবং বাইরের কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই পদ্ধতি কোয়ার‍্যান্টিন (Quarantine) নামে পরিচিত-যা আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক পূর্বে ইসলাম চালু করেছে। আধুনিক চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বুঝতে পেরেছেন যে, মহামারি-আক্রান্ত অঞ্চল থেকে কাউকে বের হতে না দিলে তা ওই এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে না। তাই তারা মহামারি-আক্রান্ত লোকদের ওই এলাকা থেকে বের হতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটাকেই কোয়ার‍্যান্টিন (Quarantine) বলা হয়। কিন্তু ইসলাম চোদ্দো-শ বছর পূর্বেই এই পদ্ধতি চালু করে যায়।⁶

টিকাঃ
১. ইয়ামানের একটি অঞ্চলের নাম। অথবা মক্কার পেছনে পাঁচ রাতের দূরত্বে অবস্থিত একটি জায়গা। (আন-নিহায়া: ১/১২১।)
২. সহিহু মুসলিম: ১৭৭৯।
৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১২৪।
৪. জাদুল মাআদ ৩/৩৪০, সিরাতু ইবনি হিশাম: ২/২২৩।
৫. সহিহুল বুখারি: ৫৭২৯, সহিহু মুসলিম: ২২১৯।
৬. আল-বুহুসুল ইসলামিয়্যাহ-য় (৭১/৩৭১-৩৭২) প্রকাশিত ড. আলি বিন জাবিরের গবেষণা থেকে।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের উপকারের কথা স্মরণ রাখতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন

📄 তাদের উপকারের কথা স্মরণ রাখতেন এবং তার প্রতিদান দিতেন


জুবাইর বিন মুতইম (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের বন্দীদের প্রসঙ্গে বলেছিলেন:
'আজ যদি মুতইম বিন আদি (রা) জীবিত থাকতেন এবং এই ঘৃণ্য লোকদের (মুক্তির) ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলতেন, তাহলে তার সম্মানার্থে আমি এদের মুক্ত করে দিতাম।'¹
এই কথা বলে তিনি মুতইম বিন আদির (রা) সেই উপকারের কথা স্মরণ করেছেন, যা তায়িফ থেকে ফিরে আসার পর মক্কায় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে করেছিলেন। ইতিপূর্বে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অনুরূপভাবে সাফওয়ান বিন উমাইয়া (রা)-কে তিনি উপকারের প্রতিদান দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি কয়েকটি লৌহবর্ম ধার দিয়েছিলেন। হুনাইন যুদ্ধের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সেই উপকারের প্রতিদান দিলেন এবং তার মন জয় করে নিলেন।
সাফওয়ান বিন উমাইয়া (রা) বর্ণনা করেন, 'খাইবার যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে কয়েকটি লৌহবর্ম ধার চাইলেন। তিনি বলেন, "হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এগুলো কি কেড়ে নিতে চাইছ?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "না, বরং এগুলো ধার হিসেবে নিচ্ছি। নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকব।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সেখান থেকে কয়েকটি নষ্ট হয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলে তিনি (সাফওয়ান বিন উমাইয়া রা) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আজ আমি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি।"'²
অতঃপর হুনাইন যুদ্ধের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপকারের বদলা দান করেছিলেন। এ সম্পর্কে ইবনে শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, 'মক্কা জয় করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে মুসলমানদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। তারপর হুনাইনে গিয়ে তাঁরা যুদ্ধ করলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীন ও মুসলমানদের বিজয় দান করলেন। সেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফওয়ান বিন উমাইয়া (রা)-কে একশ গবাদি পশু দান করলেন। অতঃপর একশ একশ করে আরও দুইশ পশু দান করলেন।' ইবনে শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমাকে সাইদ বিন মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান (রা) বললেন, "আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনেক বেশি দান করলেন। তিনি আমার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তিনি আমাকে এত অধিক হারে দান করতে লাগলেন যে, একসময় তিনিই আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি হয়ে উঠলেন।"'³
আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুলকেও তার উপকারের বদলা দিয়েছিলেন। জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, 'আব্দুল্লাহ বিন উবাইকে কবরে রাখার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলেন। এসেই তাকে কবর থেকে বের করতে বললেন। তারপর তাকে নিজের হাঁটুর ওপর রেখে তার শরীরে পবিত্র লালা ফেললেন এবং নিজের জামাটি তাকে পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি নিজের জামা তাকে দিয়ে দেওয়ার কারণ হলো, সে আব্বাস (রা)-কে একটি জামা দিয়েছিল।' সুফইয়ান বিন উয়াইনা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আবু হারুন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীরে দুটি জামা ছিল। আব্দুল্লাহর ছেলে তাঁকে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার পিতাকে আপনার শরীরের চামড়ার সাথে লাগানো জামাটি পরিয়ে দিন।" সুফইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অতঃপর উপস্থিত লোকজন দেখতে পেল যে, তিনি তাঁর পূর্বের উপকারের বিনিময়স্বরূপ আব্দুল্লাহকে তাঁর জামাটি পরিয়ে দিলেন।'⁴

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩১৩৯।
২. সুনানু আবি দাউদ: ৩৫৬২, মুসনাদু আহমাদ: ১৪৮৭৮।
৩. সহিহু মুসলিম: ২৩১৩।
৪. সহিহুল বুখারি: ১৩৫০, সহিহু মুসলিম: ২৭৭৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অন্যায়র বিরুদ্ধে তাদের সহযোগিতা করতেন

📄 অন্যায়র বিরুদ্ধে তাদের সহযোগিতা করতেন


জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "তুমি কি আমাকে জুল খালাসার ব্যাপারে স্বস্তি দেবে না?" জুল খালাসা ছিল খাসআম গোত্রের একটি তীর্থ ঘর, যাকে বলা হতো ইয়ামানি কাবা। এ কথা শুনে আমি আহমাস গোত্র থেকে একশ পঞ্চাশজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে রওনা হলাম। তাঁদের সকলেই অশ্ব পরিচালনায় পারদর্শী ছিল। আর আমি তখন ঘোড়ার পিঠে শক্তভাবে বসতে পারছিলাম না। কাজেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকের ওপর হাত দিয়ে এত শক্তভাবে আঘাত করলেন যে, আমার বুকের ওপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র আঙুলের ছাপ দেখতে পেলাম। তারপর দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানান।'
তারপর জারির (রা) সেখানে গেলেন এবং ঘরটি ভেঙে দিয়ে তা জ্বালিয়ে ফেললেন। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দূত পাঠালেন। জারির (রা)-এর দূত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "সেই মহান সত্তার শপথ-যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি ঘরটিকে খুজলি-পাঁচড়া আক্রান্ত কালো উটের মতো রেখে আপনার কাছে এসেছি।" বর্ণনাকারী বলেন, 'তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈনিকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করলেন।'¹
এই কাজের জন্য জারির (রা)-কে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, ঘরটি তার গোত্রের দেশে অবস্থিত ছিল এবং তিনি তার কওমের নেতৃস্থানীয় লোক ছিলেন।²
অনুরূপভাবে মুগিরা বিন শুবা (রা) ও আবু সুফইয়ান (রা)-কে দেবীমূর্তি ভাঙার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মূর্তিটি তায়িফের একটি তীর্থঘরে লুক্কায়িত ছিল। বাইতুল্লাহর সামনে যেভাবে পশু বলি দেওয়া হতো, সেভাবে তার সামনেও দেওয়া হতো।³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩০২০, সহিহু মুসলিম: ২৪৭৬।
২. ফাতহুল বারি: ৮/৭২।
৩. জাদুল মাআদ: ৩/৫২৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করতেন

📄 তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করতেন


অনুদান বেশি দিয়ে কিংবা সবার আগে অনুদান দিয়ে তিনি তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করতেন। এ জন্য হুনাইন যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত গনিমত থেকে সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী কুরাইশ নেতাদের অধিক পরিমাণে দান করেছিলেন।
রাফি বিন খাদিজ (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফইয়ান বিন হারব (রা), সাফওয়ান বিন উমাইয়া (রা), উয়াইনা বিন হিসন (রা), আকরা বিন হাবিস (রা)-এদের প্রত্যেককে একশটি করে উট দিলেন। আর আব্বাস বিন মিরদাস (রা)-কে তাদের চেয়ে কয়েকটি কম দিলেন। তখন আব্বাস বিন মিরদাস (রা) বললেন:
'আপনি আমার ও আমার ঘোড়ার অংশকে বণ্টন করেছেন, উয়াইনা ও আকরার মাঝে। অথচ উয়াইনা ও আকরা কোনো সমাবেশে মিরদাস হতে অগ্রগামী হতে পারেনি। আমি তাদের চেয়ে কম বাহাদুর নই। আজকে যাকে নিচে রাখা হবে, তাকে ওপরে ওঠানো হবে না।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেও একশ উট পূর্ণ করে দিলেন।'¹
নেতৃস্থানীয় লোকদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক আচরণ তাদের মনে প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। ফলে তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। আর যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারা অন্তত মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া থেকে নিবৃত্ত হয়ে যায়।
আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন, 'আলি (রা) ইয়ামানে অবস্থানকালে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু মাটিমিশ্রিত সোনা পাঠিয়েছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু মুজাশি গোত্রের আকরা বিন হাবিস হানজালি (রা), উয়াইনা বিন হিসন বিন বদর ফাজারি (রা), আলকামা বিন উলাসা আমিরি (রা), বনু কিলাবের জনৈক ব্যক্তি এবং বনু নাবহান গোত্রের জাইদ আল-খাইল তাই (রা)-এই লোকদের মধ্যে তা বণ্টন করে দেন। এই কারণে কুরাইশ ও আনসারগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, "নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদবাসী সরদারদের দিচ্ছেন, আর আমাদের বিমুখ করছেন।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি তাদের হৃদয় আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি।" সেই মুহূর্তে কোঠরাসু চোখ, উঁচু কপাল, অধিক দাড়ি, উচ্চ চোয়াল ও মুণ্ডানো মাথাবিশিষ্ট এক ব্যক্তি সামনে এসে বলল, "হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহকে ভয় করুন।" নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমিই যদি আল্লাহর নাফরমানি করি, তবে তাঁর অনুগত আর কে হবে? আর এ জন্যই তিনি আমাকে লোকদের ওপর আমানতদার নির্ধারণ করেছেন। অথচ তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না।'
এমন সময় দলের মধ্য থেকে এক লোক-সম্ভবত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) সেই ব্যক্তিটিকে হত্যা করার জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর লোকটি চলে গেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'এই ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে, যারা কুরআন পড়বে, তবে কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেভাবে শিকারের দেহ ভেদ করে তির বের হয়ে যায়। মূর্তিপূজারিদের তারা ছেড়ে দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করবে। যদি আমি তাদের পাই, তাহলে আদ জাতিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেভাবে পাইকারি হারে তাদের হত্যা করব।'²
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'যখন আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাওয়াজিন গোত্রের মাল থেকে যা দেওয়ার তা দান করলেন, আর তিনি কুরাইশ গোত্রের লোকদের একশ করে উট দিতে লাগলেন, তখন আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক বলতে লাগলেন, "আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন! তিনি শুধু কুরাইশদের দিচ্ছেন, আমাদের দিচ্ছেন না। অথচ আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত এখনও ঝরছে।" আনাস (রা) বলেন, 'তাদের সেই কথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে পৌঁছাল। তখন তিনি আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ডেকে পাঠালেন এবং চামড়া দ্বারা নির্মিত একটি তাঁবুতে তাদের একত্র করলেন। সেখানে তাদের ব্যতীত আর কাউকে ডাকলেন না। যখন তারা সকলে একত্রিত হলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট এলেন এবং আল্লাহর যথাযথ হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন, 'আমার নিকট তোমাদের সম্পর্কে যে কথা পৌঁছেছে, তা কী?' তাদের মধ্যে সমঝদার লোকেরা তাঁকে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাদের মধ্য থেকে মুরব্বিরা কিছুই বলেননি; তবে আমাদের কতিপয় তরুণ বলেছে, "আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন! তিনি শুধু কুরাইশদের দিচ্ছেন, আমাদের দিচ্ছেন না। অথচ আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত এখনও ঝরছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমি এমন লোকদের দিচ্ছি, যাদের কুফরির যুগ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব সম্পদ নিয়ে (তাদের গন্তব্যে) ফিরে যাবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে তোমাদের গন্তব্যে ফিরবে? আল্লাহর কসম, তোমরা যা নিয়ে গন্তব্যে ফিরবে, তা তারা যা নিয়ে ফিরবে, তার চাইতে উত্তম।'
তখন আনসারগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বললেন, "হাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা এতে সন্তুষ্ট।” তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমার পরে তোমরা তোমাদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করে থাকবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাওজে (কাওসারে) মিলিত হবে।'
আনাস (রা) বলেন, 'কিন্তু আমরা (আনসারগণ) ধৈর্যধারণ করতে পারিনি।'³
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
ইমাম গনিমত থেকে তার প্রাপ্ত এক-পঞ্চমাংশ থেকে অনুদান দিতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে লোকদের মাঝে তার ইচ্ছামতো তারতম্য করে বণ্টন করতে পারবেন। অনুরূপভাবে তা মুসলমানদের জন্য মঙ্গলজনক বিভিন্ন খাতে ব্যয় করতে পারবেন। কোনো কল্যাণের আশা থাকলে তা থেকে ধনীদেরও দেওয়া যাবে।
সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী লোকদের ইসলামের ওপর অবিচল রাখার জন্য দান করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিনয় ও কোমলতা।
প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলিল উপস্থাপন করে তাকে লা-জওয়াব করে দেওয়া।
আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শিষ্টাচার। কারণ, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিতর্ক করেননি এবং গভীর লজ্জাবোধের কারণে জানালেন যে, এমন কথা তাদের প্রবীণরা বলেননি; বরং কিছু অতি উৎসাহী তরুণ এমন মন্তব্য করেছে।
আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ফজিলত। কারণ, এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বড়রা ছোটদের তাদের গাফিলতি থেকে সতর্ক করবে এবং ছোটদের মনে কোনো সন্দেহ-সংশয়ের উদ্রেক হলে বড়রা তা খোলাসা করে দেবে।
তিরস্কার করার পদ্ধতি। অর্থাৎ তিরস্কৃত ব্যক্তির কাছ থেকে অপরাধের স্বীকৃতি নিয়ে তার অজুহাত গ্রহণ করে নেওয়া এবং কোমল ও যুক্তিপূর্ণ ভাষায় তিরস্কার করা।
নবুওয়াতের একটি আলামত। তিনি বলেছেন, 'আমার পরে তোমরা তোমাদের ওপর অন্যদের প্র গন্য দেখতে পাবে।' পরবর্তী সময়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হ। ছে।
কেউ নিজের দুনিয়াবি হক দ। করলে, তার জন্য তাকে তিরস্কার করা যাবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে শেষ লোক বা সর্বসাধারণের উদ্দেশে রাষ্ট্রনায়কের ভাষণ প্রদান।
ভাষণ প্রদানের সময় কিছু শ্রোতাকে বিশেষভাবে সম্বোধন করা বৈধ।
কেউ দুনিয়াবি কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত হলে আখিরাতের সাওয়াব অর্জনের কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া।
হিদায়াত, ভালোবাসা ও অমুখাপেক্ষিতা অন্বেষণের প্রতি উৎসাহ।
আখিরাতের স্বার্থকে দুনিয়াবি স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং পার্থিব কোনো কিছু হারিয়ে গেলে তার ওপর সবর করা। কারণ, এর বিনিময়ে আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে। আর আখিরাত উত্তম ও চিরস্থায়ী জগৎ।⁴

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ১৭৫৭।
২. সহিহুল বুখারি: ৭৪৩২, সহিহু মুসলিম: ১০৬৪।
৩. সহিহুল বুখারি: ৩১৪৭, সহিহু মুসলিম: ১০৫৯।
৪. ফাতহুল বারি: ৮/৫১। ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00