📄 তাদের সম্মান করতেন এবং সম্মান করার নির্দেশ দিতেন
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, 'জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রা) (তিনি তার কওমের নেতা ছিলেন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে তাঁর সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বসা ছিলেন। তিনি প্রবেশ করার পর উপস্থিত সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিজ নিজ আসনে বসে থাকলেন, কেউই তার জন্য বসার জায়গা করে দেননি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের চাদর খুলে তার দিকে ছুড়ে মারলেন এবং বললেন, "এর ওপর বসো।" জারির (রা) চাদরটিকে নিজের গলা ও মুখের ওপর বোলালেন, চুম্বন করলেন এবং চোখের ওপর রাখলেন। তারপর বললেন, "আপনি যেভাবে আমাকে সম্মানিত করেছেন, সেভাবে আল্লাহ তাআলা আপনাকে সম্মানিত করুন।” অতঃপর সেটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠের ওপর রাখলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের (কিয়ামতের) ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার নিকট কোনো কওমের সম্মানিতজন আসলে তার প্রতি সম্মান দেখায়।'¹
ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যখন তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আগমন করবে, তখন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।'²
টিকাঃ
১. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৭৭৯১।
২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৭১২।
📄 তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতেন
তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য এবং তাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার আগ্রহে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করতেন। এমনকি তারা বন্দী হয়ে তাঁর কাছে আসলেও।
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজদ অভিমুখে একটি অশ্বারোহী বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারা সেখান থেকে বনু হানিফার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আনলেন। তারা তার পরিচয় জানতে পারেননি, যতক্ষণ না তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। তাকে দেখেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা কি জানো, কাকে ধরে এনেছ তোমরা? এ হচ্ছে সুমামা বিন উসাল আল-হানাফি (রা)। এ ইয়ামামাবাসীদের সর্দার। তার প্রতি ভালো আচরণ করো।” অতঃপর তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হলো। তারপর তিনি নিজ পরিবারবর্গের কাছে চলে গেলেন। তাদের বললেন, "তোমাদের কাছে যা খানাদানা আছে, তা একত্র করো এবং সুমামার (রা) কাছে পাঠিয়ে দাও।” সেই সাথে নির্দেশ দিলেন দুধের উটনি যেন সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুধ দোহনের পর যেন তাকে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সব সময় তার খোঁজখবর নিতেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট এসে বললেন, "ওহে সুমামা, তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?” তিনি উত্তর দিলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার কাছে তো ভালোই মনে হচ্ছে। (কারণ, আপনি মানুষের ওপর কখনো জুলুম করেন না; বরং অনুগ্রহই করে থাকেন)। যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে আপনি একজন খুনিকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ দান করেন, তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুগ্রহ দান করবেন। আর যদি আপনি মুক্তিপণ চান, তাহলে যে পরিমাণ ইচ্ছা দাবি করুন।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেই অবস্থার ওপর রেখে দিলেন। পরের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাকে বললেন, "ওহে সুমামা, তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?" তখন তিনি পূর্বের দিনের কথা পুনরাবৃত্তি করলেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাকে বিগত দিনের মতো রেখে চলে আসলেন। পরের দিন এসে তিনি একই কথা জানতে চাইলেন এবং সুমামাও অভিন্ন উত্তর দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা সুমামার (রা) বন্ধন খুলে দাও।" এবার (মুক্তি পেয়ে) সুমামা (রা) মসজিদে নববির নিকটস্থ একটি খেজুরের বাগানে গেলেন এবং গোসল করলেন। এরপর ফিরে এসে মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (তিনি আরও বললেন) ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কসম, ইতিপূর্বে আমার কাছে জমিনের বুকে আপনার চেহারার চাইতে অধিক অপছন্দনীয় আর কোনো চেহারা ছিল না। কিন্তু এখন আপনার চেহারাই আমার কাছে সকল চেহারা অপেক্ষা অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম, আমার কাছে আপনার দ্বীন অপেক্ষা অধিক ঘৃণ্য অপর কোনো দ্বীন ছিল না। কিন্তু এখন আপনার দ্বীনই আমার কাছে অধিক সমাদৃত। আল্লাহর কসম, আমার মনে আপনার শহরের চেয়ে বেশি খারাপ শহর অন্য কোনোটি ছিল না। কিন্তু এখন আপনার শহরটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। আর আপনার অশ্বারোহী সৈন্যরা যখন আমাকে ধরে এনেছে, তখন আমি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। এখন আমার (উমরা করা না-করা) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বড় কল্যাণ অর্জন করার এবং সকল গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাওয়ার) সুসংবাদ দিলেন এবং উমরা করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি মক্কায় গেলে এক ব্যক্তি তাকে বলল, "তুমি কি ধর্মত্যাগী হয়ে গেছ?" তিনি বললেন, "না, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মুসলমান হয়ে গেছি। আর আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে ইয়ামামা থেকে গমের একটি দানাও আসবে না।"'¹
হাদিসের ফায়দাসমূহ:
ইসলাম গ্রহণ করার আগে গোসল করা।
উত্তম আচরণ ঘৃণা ও শত্রুতা বিতাড়িত করে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা প্রতিষ্ঠা করে।
কোনো কাফির যদি কাফির থাকা অবস্থায় কোনো ভালো কর্মের ইচ্ছা করে থাকে, ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলামি শরিয়ত তাকে তা পালন করার নির্দেশ প্রদান করে।
কাফির বন্দীর সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, যদি তাতে ইসলামের কল্যাণ থাকে। বিশেষ করে এমন ব্যক্তির সাথে খুব ভালো আচরণ করতে হবে, যে ইসলাম গ্রহণ করলে তার দেখাদেখি অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে।²
ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি একজন উত্তম মুসলমান হয়ে উঠলেন। আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে ইসলামের অনেক উপকার করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামাবাসী মুসাইলামার হাত ধরে মুরতাদ হতে শুরু করলে তিনি এর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিলেন:
'হে বনি হানিফা, তোমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেল?' মুসাইলামার অসারতা তুলে ধরে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য দিলেন। এভাবে তার বক্তব্য শুনে তিন হাজার মানুষ তার আনুগত্য করে পুনরায় মুসলমান হয়ে যায়। এর মাধ্যমে মুসাইলামার শক্তি অনেকাংশে কমে আসে।³
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি ৪৩৭২, সহিহু মুসলিম: ১৭৬৪, সিরাতু ইবনি হিশাম: ২/৬৩৮।
২. ফাতহুল বারি: ৮/৮৯।
৩. আর-রাওজুল আনফ ৪/৪১৮।
📄 তাদের দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ দিতেন
জারির (রা) বলেন, 'আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি, তখন থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন, তিনি মুচকি হাসতেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার অসুবিধার কথা জানালাম যে, আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং এ দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানান।'¹
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
কওমের যিনি সর্দার, তার জন্য আলাদা সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। যেমন : জারির (রা) তার কওমের সর্দার ছিলেন বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিশেষ সম্মান দান করতেন।
হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা নববি চরিত্র। তা ছাড়া এর মাধ্যমে অহমিকার অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয় এবং পারস্পরিক হৃদ্যতা সৃষ্টি হয়।
ঘোড়সওয়ারি শেখার ফজিলত এবং এটা প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় লোকের জানা আবশ্যক।
আলিম বা ইমাম কোনো মানুষের সাথে কথা বলার সময় বা অন্য যেকোনো সময় তার শরীরে হাত রাখতে পারবে এবং হালকা আঘাত করতে পারবে। এটা নম্রতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং অন্তরকে আকর্ষিত করে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকত। কারণ, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তার পর থেকে তিনি কখনো ঘোড়ার পিঠ থেকে পতিত হননি।²
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩০৩৬, সহিহু মুসলিম: ২৪৭৫।
২. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৫/১৯৪।
📄 তাদের উত্তম গুণাবলির প্রশংসা করতেন
জারির (রা) বলেন, 'যখন আমি মদিনার কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন বাহনটি বসালাম। অতঃপর সিন্দুক খুলে সেখান থেকে আমার পোশাকের সেটটি পরে নিলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ওয়াজ করছিলেন। আর লোকজন আমার প্রতি তীক্ষ্ণ নজরে দেখলে লাগল। আমি আমার পাশে বসা লোককে বললাম, "হে আল্লাহর বান্দা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আমাকে স্মরণ করেছেন?" তিনি বললেন, "হাঁ, এই তো কিছুক্ষণ পূর্বেই তিনি খুব উত্তম ভাষায় আপনাকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই দরোজা দিয়ে অথবা এই দিক দিয়ে তোমাদের নিকট একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি প্রবেশ করবে। তার চেহারায় ফেরেশতাদের সৌন্দর্যের ঝিলিক থাকবে।" জারির (রা) বলেন, 'তখন আমি আমাকে পরীক্ষায় পতিত করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলাম।'¹
ইবনে ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাই গোত্রের একটি প্রতিনিধিদল আগমন করল। তাদের সাথে তাদের সর্দার জাইদ আল-খাইলও ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছানোর পর তাদের সাথে তিনি কথা বললেন এবং তাদের সামনে ইসলাম পেশ করলেন। ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করল এবং খুব ভালো মুসলমান হয়ে গেল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমার কাছে আরবের যত মানুষের প্রশংসা করা হয়েছে, অতঃপর তারা আমার কাছে আগমন করেছে-তাদের প্রত্যেককে আমি তাদের প্রশংসার তুলনায় নিম্নমানের পেয়েছি। একমাত্র জাইদ আল-খাইলই তার ব্যতিক্রম। তার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, তা মোটেই বাড়িয়ে বলা হয়নি।'
অতঃপর তিনি তার নাম পরিবর্তন করে "জাইদ আল-খাইর" রাখলেন এবং "ফারদা"² ও তার পশ্চাদবর্তী জমিগুলো তাকে জায়গির প্রদান করলেন এবং এ সম্পর্কে তাকে একটি দলিল লিখে দিলেন। তারপর তিনি নিজ সম্প্রদায়ের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে বের হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জাইদ যদি মদিনার জ্বর থেকে রেহাই পেত!" তারপর যখন তিনি "ফারদা" নামক নজদের একটি জলাশয়ের নিকট পৌঁছালেন, তখন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। মৃত্যু ঘনিয়ে আসার উপলব্ধি হলে জাইদ (রা) বললেন:
'সকালবেলা কি আমার সঙ্গীরা পূর্বদিকে যাত্রা করবে, আর আমি পরিত্যক্ত থাকব নজদের এই ফারদায় একটি ঘরে? কত দিনই তো আমি অসুস্থ হয়েছি, আর আমাকে দেখতে এসেছে এমন সব নারী, দূর-দূরান্তের সফর যাদের ক্লান্ত-শ্রান্ত করতে পারত না।'³
আব্দুল কাইস গোত্রের নেতা আসাজ আব্দুল কাইসকে (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
'তোমার মাঝে আল্লাহর প্রিয় দুটি গুণ আছে: বুদ্ধিমত্তা ও স্থিরতা।'⁴
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অর্থ বুদ্ধিমত্তা এবং অর্থ স্থিরতা ও তাড়াহুড়া পরিহার করা। তার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কথা বলার কারণ হলো, তাদের কাফেলা যখন মদিনায় এসে পৌঁছল, তখন তারা দ্রুত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যেতে চাইল। কিন্তু আসাজ (রা) তাদের বাহনগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে তাদের গতিরোধ করলেন এবং তার উষ্ট্রীকে বেঁধে রাখলেন। অতঃপর সুন্দর জামা-কাপড় পরিধান করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে গেলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাছে ডেকে নিলেন এবং নিজের পাশে বসালেন। আর বললেন:
'তোমার মাঝে আল্লাহর প্রিয় দুটি গুণ আছে: বুদ্ধিমত্তা ও স্থিরতা।'⁵
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৮৬৯৮।
২. জায়গার নাম।
৩. সিরাতু ইবনি হিশাম: ২/৫৭২।
৪. সহিহু মুসলিম: ১৭। আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত।
৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১/১৮৯।