📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উমর  ও আবু জাহেলের হিদায়াতের প্রতি আগ্রহ

📄 উমর  ও আবু জাহেলের হিদায়াতের প্রতি আগ্রহ


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, আবু জাহেল ও উমর বিন খাত্তাব (রা)-এ দুজনের মধ্যে যে আপনার প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'তাদের দুজনের মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয় ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা)।'¹
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, বিশেষভাবে উমর বিন খাত্তাব (রা)-এর মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।'²
উভয় হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'দুই হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কেননা, এমন হওয়া সম্ভব যে, প্রথমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়জনের জন্য দোয়া করেছিলেন। পরে যখন আবু জাহেলের ধৃষ্টতা ও নাফরমানি সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন শুধু উমর (রা)-এর জন্য দোয়া করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই দোয়া আল্লাহ কবুল করলেন এবং উমর (রা)-এর মাধ্যমে দ্বীনকে শক্তিশালী করলেন- যার প্রমাণ তাঁর জীবনবৃত্তান্ত থেকে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) ইসলামের প্রতি উমর (রা)-এর অবদানের সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, 'উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠি।'³

টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ৩৬৮১।
২. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৬৮৮২।
৩. সহিহুল বুখারি: ৩৮৬৩, সহিহাহ: ১৩/২৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তায়িফের সম্ভ্রান্ত লোকদের উদ্দেশে দাওয়াত

📄 তায়িফের সম্ভ্রান্ত লোকদের উদ্দেশে দাওয়াত


চাচার মৃত্যুর পর কুরাইশের নিপীড়ন বেড়ে চললে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়িফ চলে গেলেন। তাঁর আশা ছিল, সম্ভবত তায়িফবাসী তাঁকে আশ্রয় দেবেন, তাঁর কওমের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করবেন এবং সর্বোপরি তাঁকে স্বগোত্রের নির্যাতন থেকে রক্ষা করবেন-ফলে তিনি নির্বিঘ্নে রিসালাতের দাওয়াত দিতে পারবেন। সেখানে যাওয়ার পর তাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ও সাহায্য করা তো দূরের কথা, উল্টো তাঁকে কঠিন রকমের কষ্ট দিল। তাদের থেকে তিনি এত কঠিন কষ্ট পেলেন, যা নিজ কওম থেকে কখনো পাননি। তবুও তিনি সেখানে দশ দিন অবস্থান করলেন এবং তাদের প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাথে কথা বললেন।¹
এত কষ্ট সহ্য করেও সম্ভ্রান্ত লোকদের সাথে কথা বলার কারণ হলো, যদি তারা তাঁর দাওয়াতে সাড়া প্রদান করত, তাহলে তাদের অধীনস্থ ও অনুসারীরাও তাঁর দাওয়াত কবুল করার সমূহ সম্ভাবনা ছিল।

টিকাঃ
১. জাদুল মাআদ: ৩/২৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দাওস গোত্রের নেতা তুফাইল বিন আমরকে দাওয়াত

📄 দাওস গোত্রের নেতা তুফাইল বিন আমরকে দাওয়াত


মুহাম্মাদ বিন ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তুফাইল বিন আমর আদ-দাওসি (রা) মক্কায় থাকাকালে তিনি মক্কায় আসলেন। তখন কুরাইশের কতিপয় লোক তার কাছে আসলো এবং বলল, "হে তুফাইল, আপনি আমাদের দেশে এমন সময়ে এসেছেন, যখন আমাদের বংশেরই এক লোক আমাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে আমাদের একতাকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। তার কথায় রয়েছে জাদুর প্রভাব-যার ফলে পিতা সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ভাই বিচ্ছিন্ন হয় ভাই থেকে এবং স্বামী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার স্ত্রী থেকে। এমন মুহূর্তে আমরা আপনার এবং আপনার সম্প্রদায়ের ব্যাপারে তার কবলে পতিত হওয়ার আশঙ্কা করছি। সুতরাং তার সাথে কথা বলবেন না এবং তার কোনো কথায় কান দেবেন না।"'
তুফাইল (রা) বলেন, 'আল্লাহর কসম, তারা আমাকে এত বোঝাল যে, একপর্যায়ে আমি দৃঢ় সংকল্প করে ফেললাম, আমি তাঁর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কোনো কথা শুনব না এবং তাঁর সাথে কখনো কথা বলব না। এমনকি আমি মসজিদে যাওয়ার সময় কানে তুলা দিয়ে যেতাম, যেন তাঁর এমন কোনো কথা আমার কানে ঢুকে না যায়, যা আমি শুনতে চাই না।' তিনি বলেন, 'একদিন আমি সকালে মসজিদে গেলাম। দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার পাশে নামাজ পড়ছেন। আমি তাঁর পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর কিছু কথা শুনতে বাধ্য করলেন। আমি তাঁর থেকে একটি অতি সুন্দর কথা শুনতে পেলাম এবং মনে মনে বললাম, "আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! আল্লাহর কসম, আমি একজন ধীমান সাহিত্যিক ও কবি। খারাপ ও ভালো কথার পার্থক্য আমি ভালোই জানতে পারি। তাই আজ এই লোকের কথা অবশ্যই শুনে দেখব। সে যদি ভালো কথা বলে, তবে আমি তা কবুল করব; আর যদি খারাপ কথা বলে, তবে তা পরিত্যাগ করব।" আমি আরও কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ির প্রতি রওনা হলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। যখন তিনি বাড়িতে প্রবেশ করলেন, তখন আমিও তাঁর সাথে প্রবেশ করলাম। তারপর বললাম, "হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার কওম আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। তাই এতদিন পর্যন্ত আপনার কথা না শোনার জন্য কানে তুলা দিয়ে থাকতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আজ আমাকে আপনার কথা শুনতে বাধ্য করলেন। এতে আপনার মুখ থেকে একটি অতিশয় সুন্দর কথা শুনতে পেলাম। সুতরাং আপনি আমার সামনে আপনার ধর্মের স্বরূপ উপস্থাপন করুন।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সামনে ইসলাম তুলে ধরলেন এবং আমাকে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করে শোনালেন। আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, এর চেয়ে সুন্দর কথা আমি জীবনেও শুনিনি এবং এমন ইনসাফপূর্ণ জীবনব্যবস্থা জীবনেও দেখিনি। কাজেই আমি সত্যের সাক্ষ্য দিয়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। অতঃপর বললাম, "হে আল্লাহর নবি, আমার কওমের লোকজন আমার কথা মান্য করে, তাই আমি তাদের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে চাই। আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যেন তিনি আমাকে একটি আলামত (কারামাত) দান করেন, যা দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমার সহায়তা করবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, একে একটি আলামত দান করুন।'
তারপর আমি আমার কওমের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। যেতে যেতে যখন আমি একটি গিরিপথের নিকট পৌঁছালাম, যা আমাকে পানি নিতে আসা লোকদের কাছে নিয়ে যাবে, তখন আমার দুই চোখের মাঝখানে বাতির মতো একটি নুর উদয় হলো। তখন আমি দোয়া করলাম, "ইয়া আল্লাহ, আমার চেহারা ব্যতীত অন্য জায়গায় (আলামত) দান করুন। কারণ, আমি ভয় পাচ্ছি যে, তারা এটাকে তাদের দ্বীন ছেড়ে দেওয়ার শাস্তিস্বরূপ আমার চেহারায় বিকৃতি এসেছে মনে করবে।" তখন নুরটি স্থানান্তরিত হয়ে আমার লাঠির মাথায় উদিত হলো। আমি যখন গিরিপথ থেকে নিচে নামছিলাম, তখন পানি নিতে আসা লোকেরা আমার লাঠির মাথায় ঝুলন্ত বাতির মতো নুরটি দেখতে পাচ্ছিল। তারপর আমি তাদের কাছে পৌঁছে গেলাম এবং তাদের মাঝে মিশে গেলাম। আমি নামার পর আমার পিতা আমার নিকট আসলেন। তিনি বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। আমি বললাম, "বাবা, আমার থেকে দূরে সরে যান। আমি আপনার নই, আপনিও আমার নন।" তিনি বললেন, "বেটা, এমন কথা কেন বলছ তুমি?" আমি বললাম, "আমি মুসলমান হয়ে গেছি এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের অনুসারী হয়ে গিয়েছি।” তিনি বললেন, "বেটা আমার, তোমার দ্বীনই তো আমার দ্বীন।” আমি বললাম, "তাহলে আপনি গোসল করে পবিত্র কাপড় পরিধান করে আসুন। অতঃপর যা আমি শিখে এসেছি, তা আপনাকে শেখাব।” তারপর তিনি ফিরে গেলেন, গোসল করলেন এবং পবিত্র কাপড় পরিধান করলেন। অতঃপর আমার কাছে আসলেন। তখন আমি তার সামনে ইসলাম পেশ করলাম আর তিনি তা কবুল করে নিলেন। অতঃপর আমার স্ত্রী আমার নিকট আসলে আমি তাকে বললাম, "আমার থেকে দূরে থাকো! আমি তোমার নই, তুমিও আমার নও।" সে বলল, "আমার পিতামাতা আপনার ওপর কুরবান হোক! আপনি এমন কথা কেন বলছেন?" আমি বললাম, "ইসলাম তোমার ও আমার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছে। কারণ, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছি।” সে বলল, "আপনার ধর্মই আমার ধর্ম।” আমি বললাম, "তাহলে পবিত্র হয়ে আসো।” অতঃপর সে গোসল করে আমার নিকট আসলে আমি তার সামনে ইসলাম পেশ করলাম আর সে মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর পুরো দাওস গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা মানতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর আমি মক্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললাম, "হে আল্লাহর নবি, দাওসের কাছে আমার ওপর তাদের ব্যভিচার জয়ী হয়েছে। তাই আপনি তাদের জন্য বদদোয়া করুন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, দাওসকে হিদায়াত দান করুন।'
অতঃপর তিনি বললেন:
'তোমার কওমের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের নম্রতার সহিত আল্লাহর পথে দাওয়াত দাও।'
তিনি বলেন, "তারপর থেকে আমি দাওস গোত্রের লোকদের অনবরত ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধ পর্যন্ত আমি নিজ কওমকে দ্বীনের দাওয়াত দানে ব্যস্ত থাকলাম। অতঃপর আমি আমার সাথে যারা মুসলমান হয়েছে, তাদের সাথে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে রওনা হলাম। তিনি তখন খাইবারে ছিলেন। মদিনায় আমরা সত্তর-আশিটি দাউসের ঘর নির্মাণ করলাম। তারপর খাইবারে গিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলাম। তিনি মুসলমানদের পাশাপাশি আমাদেরকেও (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে) অংশ দান করলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মক্কাকে মুসলমানদের করায়ত্তে নিয়ে আসলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুরোধ করলাম, "আমাকে আমর বিন হিমার দুই হাতবিশিষ্ট মূর্তি পোড়ানোর জন্য প্রেরণ করুন।"'
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর তিনি (অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে) মূর্তির কাছে গেলেন এবং তার ওপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে বললেন:
'হে দুই হাতওয়ালা মূর্তি, আমি তোর পূজারি নই। আমাদের জন্ম তোর জন্মের চেয়েও আগে। আমি তোর অন্তরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়েছি।'
অতঃপর তিনি মদিনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।'¹

টিকাঃ
১. দালায়িলুন নুবুওয়াহ লিল বাইহাকি ৫/৪৬০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিভিন্ন দেশের সম্রাটদের দাওয়াত

📄 বিভিন্ন দেশের সম্রাটদের দাওয়াত


তাদের দাওয়াত দানের উদ্দেশ্য ছিল, যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়, তবে তাদের প্রজা ও অনুসারীরা তাদের অনুগামী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে নেবে। ষষ্ঠ হিজরির শেষের দিকে হুদাইবিয়া সন্ধির পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দেশের রাজাদের উদ্দেশে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণ করা শুরু করেন। ইবনে হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন রাজা-বাদশাদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের নিকট দূত প্রেরণ করলেন। দিহইয়াহ কালবি (রা)-কে 'কাইসার' (রোমান বাদশা)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা (রা)-কে 'কিসরা' (পারস্যের রাজা)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। আমর বিন উমাইয়া দামরি (রা)-কে 'নাজ্জাশি' (হাবশার বাদশা)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। হাতিব বিন আবু বালতাআ (রা)-কে আলেকজান্দ্রিয়ার বাদশা মুকাওকিসের নিকট প্রেরণ করলেন।'¹
রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সাথে আবু সুফইয়ান (রা)-এর সাক্ষাতের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, হিরাক্লিয়াস আবু সুফইয়ানকে (রা) বললেন, 'তাঁর সম্পর্কে তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে তিনি ঠিকই নবি। তিনি আবির্ভূত হবেন তা আমি জানতাম বটে, তবে তোমাদের মধ্যে আবির্ভূত হবেন, তা মনে করিনি। যদি আমি তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছাবার সুযোগ পেতাম, তাহলে আমি তাঁর সাক্ষাৎকে অগ্রাধিকার দিতাম। যদি আমি তাঁর নিকট অবস্থান করতাম, তাহলে আমি তাঁর পদযুগল ধুইয়ে দিতাম। আমার নিচের জমিন পর্যন্ত তাঁর রাজত্ব বিস্তৃতি লাভ করবে।' আবু সুফইয়ান (রা) বলেন, 'তারপর হিরাক্লিয়াস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্রখানি আনতে বললেন। এরপর পাঠ করতে বললেন। চিঠির বক্তব্য নিম্নরূপ-
'পরম করুণাময় আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে রোমের অধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। পরসমাচার এই-আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, মুক্তি পাবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে সকল প্রজার পাপরাশিও আপনার ওপর নিপতিত হবে।'²

টিকাঃ
১. সিরাতু ইবনি হিশাম: ২/৬০৭।
২. সহিহুল বুখারি ৭, সহিহু মুসলিম: ১৭৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00