📄 তাদের মর্যাদা ও সম্মান বহাল রাখতেন
ইতিপূর্বে আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি যথা: মুসলমান-কাফির, ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা ইত্যাদির সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উন্নত আচরণের স্বরূপ দেখে এসেছি। অনুরূপভাবে সমাজের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাবান শ্রেণির লোকদের সাথে আচরণ এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলাদা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। আসলে তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ অধিকার ও প্রাপ্য যথাযথভাবে দান করতেন। সে হিসেবে তিনি মর্যাদাবান ব্যক্তিদের তাদের মর্যাদার আসন থেকে নামাতেন না। বরং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট তাদের যে মর্যাদা ও মান রয়েছে, তা বহাল রাখতেন এবং সাহাবিগণকেও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তার নির্দেশ দিতেন। ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিস বর্ণনাকারীদের স্তর সম্পর্কে আলোচনার ফাঁকে বলেন, 'কোনো উচ্চস্তরের লোককে তার আপন মর্যাদার স্থান থেকে নামানো হয়নি এবং নিম্নস্তরের কোনো লোককে তার স্তর থেকে ওপরে তোলা হয়নি। বরং প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রাপ্য দেওয়া হয়েছে এবং স্ব স্ব আসনে আসীন রাখা হয়েছে। কারণ, আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, "আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ স্তরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।"'¹
আবু সুফইয়ান (রা) কুরাইশের অন্যতম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। কুরাইশের সর্দাররা একে একে চলে যাওয়ার পর তার কাঁধেই কুরাইশের নেতৃত্বভার অর্পিত হয়। উহুদ যুদ্ধে তিনিই কুরাইশের নেতা ছিলেন। মক্কা-বিজয়ের সময় যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাদাভাবে তার নাম উল্লেখ করে তাকে আলাদা মর্যাদায় ভূষিত করলেন।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে, 'মক্কা-বিজয়ের দিন আবু সুফইয়ান বিন হারব (রা)-কে আব্বাস (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এলেন এবং তিনি (আবু সুফইয়ান রা) ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর আব্বাস (রা) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আবু সুফইয়ান (রা) মর্যাদাপ্রিয় মানুষ-তাই তাকে আলাদা মর্যাদা দিলে ভালো হয়।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তা তো অবশ্যই, যে আবু সুফইয়ানের (রা) বাড়িতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ। আর যে নিজের ঘরের দরোজা বন্ধ রাখবে, সে নিরাপদ।'²
আবু হুরাইরা (রা) কর্তৃক বর্ণিত মক্কা-বিজয়ের ঘটনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং আনসাররা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সাফার চারিদিকে ঘিরে দাঁড়াল। তখন আবু সুফইয়ান (রা) এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, কুরাইশের সজীবতা ধ্বংস হয়ে গেছে। আজকের পর থেকে কুরাইশের মর্যাদা আর থাকবে না।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যে আবু সুফইয়ানের (রা) বাড়িতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ; যে অস্ত্র সমর্পণ করবে, সে নিরাপদ; আর যে ঘরের দরোজা বন্ধ করে রাখবে, সে নিরাপদ।'³
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ কথা বলে তিনি আবু সুফইয়ানের (রা) প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করেছেন এবং তার মর্যাদা প্রকাশ করেছেন।'⁴
আয়িজ বিন আমর (রা) বর্ণনা করেন, 'আবু সুফইয়ান (রা) একদল লোকের সাথে সালমান (রা), সুহাইব (রা) ও বিলাল (রা)-এর নিকট এলেন। [তার এই আসাটা ছিল হুদাইবিয়ার সন্ধির পর। তখন তিনি কাফির ছিলেন।)। তখন তাঁরা বললেন, "আল্লাহর তরবারিসমূহ তাঁর দুশমনের গর্দানে ঠিক সময়ে লক্ষ্যস্থলে আঘাত করতে পারেনি।" তখন আবু বকর (রা) বললেন, "তোমরা কি কুরাইশের প্রবীণ নেতা ও সর্দারকে এমন কথা বলছ?" এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "হে আবু বকর, তুমি বোধ হয় তাঁদের রাগিয়েছ। যদি তুমি তাঁদের রাগিয়ে থাকো, তাহলে তুমি তাঁদের রবকেই রাগিয়েছ।" অতঃপর আবু বকর (রা) তাদের নিকট এসে বললেন, "ভাইয়েরা, আমি কি তোমাদের রাগিয়েছি?" তাঁরা বললেন, "না, হে আমাদের ভাই, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।"'⁵
এখানে লক্ষ করুন, আবু বকর (রা) যে কুরাইশ নেতার মর্যাদা রক্ষা করেছেন, এর ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ধরনের আপত্তি তোলেননি। তাঁর আপত্তি শুধু এই ছিল যে, এভাবে কথা বলার কারণে হয়তো তাঁর সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কষ্ট পেয়েছেন।
খাজরাজ গোত্রের নেতা সাদ বিন মুআজ (রা) যখন বনি কুরাইজার ব্যাপারে ফয়সালা করার জন্য তাদের নিকট গেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্মানার্থে তাদের দাঁড়িয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। এ সম্পর্কে আবু সাইদ খুদরি (রা) বর্ণনা করেন, 'বনু কুরাইজা সাদ বিন মুআজ (রা)-এর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানালে তিনি একটি গাধার ওপর সাওয়াব হয়ে তাদের নিকট আসলেন। মসজিদের কাছাকাছি আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উদ্দেশে বললেন:
'তোমাদের নেতার অথবা (বলেছেন,) তোমাদের উত্তম লোকটির সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যাও এবং তাকে তার মর্যাদার আসনে সমাসীন করো।'
অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে গিয়ে বসলেন।'⁶
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে সম্মানিত লোকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বিবৃত হয়েছে।'⁷
এই ঘটনায় সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কিয়াম বা দাঁড়ানো নিষিদ্ধ কিয়ামের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা, কিয়াম তিন প্রকার:
১. কোনো ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে কিয়াম বা দাঁড়ানো। এটা সুন্নাত-যদি আপনি যাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, সে তার যোগ্য হয়। যেমন: কোনো বড় আলিম বা বুজুর্গ অথবা ধনবান ব্যক্তি আপনার কাছে আসলে সুন্নাত হলো, আপনি দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এভাবে দাঁড়ানো উন্নত চরিত্র ও ভদ্রতার পরিচয়ও বটে। এই হাদিসে যে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে, তা এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
২. কোনো ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর জন্য তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। এটা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকা অবস্থায় সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে দরুদ পড়তে চাইলে তিনি নিষেধ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা তো দেখছি, পারসিক ও রোমানদের কাণ্ড শুরু করে দিয়েছ। তাদের বাদশারা যখন বসে থাকত, তখন তারা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। তোমরা এমন করো না।'⁸
৩. কোনো ব্যক্তির জন্য দাঁড়ানো। এর স্বরূপ হলো, আমাদের নিকট কোনো মানুষ আসলো আর আমরা তার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে পড়লাম। এই প্রকারের কিয়াম বা দাঁড়ানোয় কোনো সমস্যা নেই, তবে পরিত্যাগ করা ভালো। কারণ, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দাঁড়িয়ে যাওয়াকে অপছন্দ করতেন। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট আসলে তাঁরা দাঁড়াতেন না, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। আর তিনি মজলিসের যেখানে জায়গা পেতেন, সেখানেই বসে যেতেন (লোকদের মাড়িয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করতেন না)।⁹
টিকাঃ
১. মুকাদ্দামাতু সহিহ মুসলিম: ১/২।
২. সুনানু আবি দাউদ: ৩০২১।
৩. সহিহু মুসলিম: ১৭৮০।
৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১২৭।
৫. সহিহু মুসলিম: ২৫০৪।
৬. সহিহুল বুখারি: ৩০৪৩, সহিহু মুসলিম: ১৭৬৮।
৭. ফাতহুল বারি: ১১/৪৯।
৮. সহিহুল মুসলিম: ৪১৩। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত।
৯. লিকাউল বাবিল মাফতুহ লি-ইবনি উসাইমিন (৫৯/২৫) থেকে কিছুটা পরিবর্তিত ও সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপিত।
📄 সম্ভ্রান্ত লোকদের দ্বীনের পথে আনার খুব চেষ্টা করতেন
সম্ভ্রান্ত লোকদের ইসলাম গ্রহণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতেন। কারণ, তারা ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের অধীনস্থদের ইসলাম কবুল করার সম্ভাবনা প্রবল ছিল। ওয়ালিদ বিন মুগিরা কুরাইশের অন্যতম বড় নেতা ছিলেন। তাকে ইসলামে দীক্ষিত করার বাসনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পেছনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দাওয়াত দেওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন, এমন সময় ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) তাঁর নিকট আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-কে এড়িয়ে ওয়ালিদের প্রতি মনোযোগী হলেন। এ সম্পর্কিত ঘটনাটি আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: (عَبَسَ وَتَوَلَّى) “তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।”-এই সুরা অন্ধ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলতে শুরু করলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে সঠিক পথ দেখান।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কুরাইশের নেতাগোছের একজন লোক ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ইবনে উম্মে মাকতুম রা) এড়িয়ে ওই লোকটির প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং তাকে বললেন, "আমি যা বলছি, আপনি তাতে খারাপ কিছু দেখছেন কি?" লোকটি বললেন, "না।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুরাটি অবতীর্ণ হয়।'¹
সাধারণভাবে সকল মানুষ এবং বিশেষভাবে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হিদায়াতের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রবল আগ্রহ ছিল। একাধিক ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।
টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৩১।
📄 উমর ও আবু জাহেলের হিদায়াতের প্রতি আগ্রহ
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, আবু জাহেল ও উমর বিন খাত্তাব (রা)-এ দুজনের মধ্যে যে আপনার প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'তাদের দুজনের মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয় ছিলেন উমর বিন খাত্তাব (রা)।'¹
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন:
'হে আল্লাহ, বিশেষভাবে উমর বিন খাত্তাব (রা)-এর মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।'²
উভয় হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'দুই হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কেননা, এমন হওয়া সম্ভব যে, প্রথমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়জনের জন্য দোয়া করেছিলেন। পরে যখন আবু জাহেলের ধৃষ্টতা ও নাফরমানি সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন শুধু উমর (রা)-এর জন্য দোয়া করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই দোয়া আল্লাহ কবুল করলেন এবং উমর (রা)-এর মাধ্যমে দ্বীনকে শক্তিশালী করলেন- যার প্রমাণ তাঁর জীবনবৃত্তান্ত থেকে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) ইসলামের প্রতি উমর (রা)-এর অবদানের সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, 'উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা শক্তিশালী হয়ে উঠি।'³
টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ৩৬৮১।
২. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৬৮৮২।
৩. সহিহুল বুখারি: ৩৮৬৩, সহিহাহ: ১৩/২৮।
📄 তায়িফের সম্ভ্রান্ত লোকদের উদ্দেশে দাওয়াত
চাচার মৃত্যুর পর কুরাইশের নিপীড়ন বেড়ে চললে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়িফ চলে গেলেন। তাঁর আশা ছিল, সম্ভবত তায়িফবাসী তাঁকে আশ্রয় দেবেন, তাঁর কওমের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করবেন এবং সর্বোপরি তাঁকে স্বগোত্রের নির্যাতন থেকে রক্ষা করবেন-ফলে তিনি নির্বিঘ্নে রিসালাতের দাওয়াত দিতে পারবেন। সেখানে যাওয়ার পর তাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে আশ্রয় দেওয়া ও সাহায্য করা তো দূরের কথা, উল্টো তাঁকে কঠিন রকমের কষ্ট দিল। তাদের থেকে তিনি এত কঠিন কষ্ট পেলেন, যা নিজ কওম থেকে কখনো পাননি। তবুও তিনি সেখানে দশ দিন অবস্থান করলেন এবং তাদের প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাথে কথা বললেন।¹
এত কষ্ট সহ্য করেও সম্ভ্রান্ত লোকদের সাথে কথা বলার কারণ হলো, যদি তারা তাঁর দাওয়াতে সাড়া প্রদান করত, তাহলে তাদের অধীনস্থ ও অনুসারীরাও তাঁর দাওয়াত কবুল করার সমূহ সম্ভাবনা ছিল।
টিকাঃ
১. জাদুল মাআদ: ৩/২৮।