📄 বলতেন, ধনঢ্যতার সাথে অবশ্যই তাগওয়া থাকতে হবে
আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব (রা) তার চাচার বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, 'আমরা একটি মজলিসে ছিলাম, এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আগমন করলেন। তাঁর মাথায় পানির চিহ্ন ছিল। আমরা বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আজ আপনাকে প্রফুল্ল দেখাচ্ছে।” তিনি বললেন, "হাঁ, আলহামদুলিল্লাহ।” অতঃপর মজলিসের লোকেরা ধনাঢ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আল্লাহভীরু লোকের ধনাঢ্যতায় কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহভীরু লোকের জন্য ধনাঢ্যতার চেয়ে সুস্থতা উত্তম। আর মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর নিয়ামতরাজির অন্তর্ভুক্ত।'¹
হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো, তাকওয়া ব্যতীত ধনাঢ্যতা ধ্বংস বয়ে আনে। কেননা, তখন বৈধ ও অবৈধ উভয় উপায়ে সম্পদ কামাই করা হয় এবং অনেক অবৈধ খাতে সম্পদ ব্যয়িত হয়। আর যদি ধনবান ব্যক্তির মাঝে আল্লাহভীতি থাকে, তখন এর সম্ভাবনা থাকে না বিধায় ধনাঢ্যতা কেবল কল্যাণই বয়ে আনে।²
'আল্লাহভীরু লোকের জন্য ধনাঢ্যতার চেয়ে সুস্থতা উত্তম'-কারণ শরীরের সুস্থতা ইবাদত করতে সহায়তা করে আর অসুস্থতা ইবাদতে অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধকতা আনে। তাই জীবনে সুস্থতা সেই ধনাঢ্যতার চেয়ে উত্তম, যার সাথে অক্ষমতা আছে।
'আর মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর নিয়ামতরাজির অন্তর্ভুক্ত'- কারণ, অন্তর তখন শোকর ও সবর করার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং তার কাছে ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্যকে সমান মনে হয়। আর এ সবই নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত।³
টিকাঃ
১. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২১৪১।
২. হাশিয়াতুস সিনদি: ৪/৩৭০।
৩. মিরকাতুল মাফাতিহ: ১৫/২০১।