📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 রাসূল ﷺ ধনচাচার ফিতনা থেকে পানাহ চাইতেন

📄 রাসূল ﷺ ধনচাচার ফিতনা থেকে পানাহ চাইতেন


আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেন:
'হে আল্লাহ, আমি অলসতা, বার্ধক্য, পাপাচার, ঋণ, কবরের ফিতনা, কবরের আজাব ও ধনাঢ্যতার খারাপ ফিতনা থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি। আশ্রয় কামনা করছি দারিদ্র্যের ফিতনা ও মাসিহে দাজ্জালের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহকে বরফ ও শিলার পানি দ্বারা ধৌত করুন এবং আমার অন্তরকে পাপ থেকে এমন স্বচ্ছ করে তুলুন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে স্বচ্ছ করে তোলেন। আর পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে যেভাবে দূরত্ব স্থাপন করেছেন, সেভাবে আমার ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে দূরত্ব স্থাপন করে দিন।'¹
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতার ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার কারণ হলো, দারিদ্র্যের সময় অধৈর্য ও আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশের আশঙ্কা রয়েছে এবং অভাবের কারণে হারামে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ধনাঢ্যতার সময় দম্ভ, ঔদ্ধত্য, কৃপণতা, অপচয়, অপব্যয় ও নিষিদ্ধ বিষয়ে পয়সা খরচ করার আশঙ্কা রয়েছে। খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "তিনি যে দারিদ্র্য থেকে পানাহ চেয়েছেন তা মনের দারিদ্র্য; সম্পদের দারিদ্র্য নয়।” আর কাজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "অনেক সময় তিনি সম্পদের দারিদ্র্য থেকেও আশ্রয় চেয়েছেন। অর্থাৎ দারিদ্র্যের ওপর সবর করতে না পারা ও আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি আসার ফিতনা থেকে পানাহ চেয়েছেন।” ঋণ থেকে পানাহ চাওয়ার কারণ হলো, মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সাধারণত মিথ্যা কথা বলে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। এ ছাড়াও অনেক সময় ঋণ আদায়ে গড়িমসি করে। এভাবে অনেক সময় ঋণ আদায় করার পূর্বেই মৃত্যু এসে যায়, ফলে তা তার জিম্মায় থেকে যায়।'²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৬৩৬৮, সহিহু মুসলিম: ৫৮৯।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৪০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 তিনি বলতেন, প্রকৃত ধনঢ্যতা হলো অন্তরের ধনঢ্যতা

📄 তিনি বলতেন, প্রকৃত ধনঢ্যতা হলো অন্তরের ধনঢ্যতা


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'অধিক সম্পদশালী হওয়া ধনাঢ্যতা নয়; প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা।'¹
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসের অর্থ হলো, প্রশংসনীয় ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা, অল্পতুষ্টি ও নির্লোভ মানসিকতা। অধিক সম্পদশালী হওয়া-যার সাথে সম্পদ আরও বৃদ্ধি করার লোভ থাকে-আসল ধনাঢ্যতা নয়। কেননা, যে ব্যক্তি সম্পদ বাড়ানোর ধান্দায় থাকে, সে নিজের সম্পদ নিয়ে কখনো তুষ্ট হতে পারে না। তাই এটাকে ধনাঢ্যতা বলার কোনোই যৌক্তিকতা নেই।'²
ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসের অর্থ হলো, অধিক সম্পদশালী হওয়া প্রকৃত ধনাঢ্যতা নয়। কেননা, অধিকাংশ সম্পদশালী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে তৃপ্ত হতে পারে না। সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। বৈধ-অবৈধ যেকোনো উপায়ে সম্পদ বৃদ্ধি করার বুনো চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। অধিক লোভের কারণে তাকে গরিব মানুষ মনে হয়। প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি প্রকৃত ধনী, যে নিজের কাছে যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট ও পরিতুষ্ট থাকে। সম্পদ বৃদ্ধি করার লোভ করে না এবং কারও কাছে কাকুতিমিনতি করে টাকা-পয়সা চেয়ে বেড়ায় না। ফলে কাজেকর্মে তাকে ধনবান ব্যক্তি মনে হয়।'³
আবু জার (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আবু জার, তুমি কি মনে করো যে, ধনসম্পদের আধিক্যই ধনাঢ্যতা?" আমি বললাম, "হাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ!" তিনি বললেন, "তুমি কি মনে করো, ধনসম্পদ কম হওয়াই দারিদ্র্য?" আমি বললাম, "হাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ!" তিনি বললেন, "ধনাঢ্যতা হলো হৃদয়ের ধনাঢ্যতা; আর দারিদ্র্য হলো হৃদয়ের দারিদ্র্য।"'⁴

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৬৪৪৬, সহিহু মুসলিম: ১০৫১।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৪০।
৩. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১০/১৫৬।
৪. সহিহু ইবনি হিব্বান: ৬৮৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 বলতেন, ধনঢ্যতার সাথে অবশ্যই তাগওয়া থাকতে হবে

📄 বলতেন, ধনঢ্যতার সাথে অবশ্যই তাগওয়া থাকতে হবে


আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব (রা) তার চাচার বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, 'আমরা একটি মজলিসে ছিলাম, এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আগমন করলেন। তাঁর মাথায় পানির চিহ্ন ছিল। আমরা বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আজ আপনাকে প্রফুল্ল দেখাচ্ছে।” তিনি বললেন, "হাঁ, আলহামদুলিল্লাহ।” অতঃপর মজলিসের লোকেরা ধনাঢ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আল্লাহভীরু লোকের ধনাঢ্যতায় কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহভীরু লোকের জন্য ধনাঢ্যতার চেয়ে সুস্থতা উত্তম। আর মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর নিয়ামতরাজির অন্তর্ভুক্ত।'¹
হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো, তাকওয়া ব্যতীত ধনাঢ্যতা ধ্বংস বয়ে আনে। কেননা, তখন বৈধ ও অবৈধ উভয় উপায়ে সম্পদ কামাই করা হয় এবং অনেক অবৈধ খাতে সম্পদ ব্যয়িত হয়। আর যদি ধনবান ব্যক্তির মাঝে আল্লাহভীতি থাকে, তখন এর সম্ভাবনা থাকে না বিধায় ধনাঢ্যতা কেবল কল্যাণই বয়ে আনে।²
'আল্লাহভীরু লোকের জন্য ধনাঢ্যতার চেয়ে সুস্থতা উত্তম'-কারণ শরীরের সুস্থতা ইবাদত করতে সহায়তা করে আর অসুস্থতা ইবাদতে অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধকতা আনে। তাই জীবনে সুস্থতা সেই ধনাঢ্যতার চেয়ে উত্তম, যার সাথে অক্ষমতা আছে।
'আর মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর নিয়ামতরাজির অন্তর্ভুক্ত'- কারণ, অন্তর তখন শোকর ও সবর করার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং তার কাছে ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্যকে সমান মনে হয়। আর এ সবই নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত।³

টিকাঃ
১. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২১৪১।
২. হাশিয়াতুস সিনদি: ৪/৩৭০।
৩. মিরকাতুল মাফাতিহ: ১৫/২০১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px