📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অনেকের কাছ থেকে সমুদয় সম্পত্তি গ্রহণ করতেন

📄 অনেকের কাছ থেকে সমুদয় সম্পত্তি গ্রহণ করতেন


অনেক সময় কারও নিকট থেকে তার তাওয়াক্কুল, দারিদ্র্যের ওপর সবর ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকার গুণের কারণে সমুদয় সম্পত্তি গ্রহণ করতেন।
জাইদ বিন আসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, 'আমি উমর বিন খাত্তাব (রা)-কে বলতে শুনেছি, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাদাকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ ছিল। তাই আমি বললাম, "কোনো দিন যদি (কল্যাণের কাজে) আবু বকর (রা)-এর চেয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আজই সেই দিন।” এরপর আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ?" আমি বললাম, "এগুলোর সমপরিমাণ রেখে এসেছি।"
তারপর আবু বকর (রা) তাঁর সমুদয় সম্পত্তি নিয়ে হাজির হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আবু বকর, পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে এসেছ?” তিনি বললেন, "তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রেখে এসেছি।” তখন আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আবু বকরের (রা) চেয়ে এগিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে আর কোনো দিন সম্ভব হবে না।"'¹
আবু বকর (রা) তাঁর সমুদয় সম্পত্তি দান করে দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেননি। কেননা, তিনি আবু বকর (রা)-এর নিয়তের যথার্থতা ও মানসিক শক্তির ব্যাপারে অবগত ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে অন্যদের মতো কোনো ধরনের ফিতনা ও ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল না।²
তাবারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'কেউ যদি এমন অবস্থায় তার সমুদয় সম্পত্তি সাদাকা করে যে, সে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ সুস্থ, তার ওপর কোনো কর্জ নেই, তার দারিদ্র্যের কষ্টের ওপর সবর করার শক্তি আছে এবং তার কোনো পরিবার-পরিজন নেই অথবা থাকলেও তারাও তার মতো সবর করার শক্তি রাখে, তখন অধিকাংশ আলিমের মতে তা বৈধ হবে। তবে উল্লিখিত শর্তসমূহ থেকে কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে তা মাকরুহ হবে।'³

টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ৩৬৭৫, সুনানু আবি দাউদ: ১৬৭৮।
২. শারহু আবি দাউদ লিল আইনি: ৬/৪৩২।
৩. ফাতহুল বারি: ৩/২৫৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদেরকে আল্লাহর নেয়ামত প্রকাশ করার নির্দেশ দিতেন

📄 তাদেরকে আল্লাহর নেয়ামত প্রকাশ করার নির্দেশ দিতেন


নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের একটি পদ্ধতি হলো, তা প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
'এবং আপনার পালনকর্তার নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।'¹
এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনী সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন।
মালিক বিন নাদলা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জীর্ণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, "তোমার কাছে কি মাল-সম্পদ আছে?" আমি বললাম, "জি, আছে।” তিনি বললেন, "কী ধরনের সম্পদ?” আমি বললাম, "আল্লাহ তাআলা আমাকে উট, দাস-দাসী, ঘোড়া, ছাগল... সব ধরনের সম্পদ দান করেছেন।” তিনি বললেন, "আল্লাহ যখন তোমাকে সম্পদ দান করেছেন, তখন তোমার মাঝে উক্ত সম্পদের ছাপ থাকা চাই।"'²
অপর এক বর্ণনায় এসেছে, 'তোমার মাঝে আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের ছাপ ফুটিয়ে তোলা উচিত।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার অর্থ হলো, তুমি নতুন কাপড় পরিধান করো, যেন মানুষ বুঝতে পারে যে, তুমি একজন ধনবান ব্যক্তি এবং আল্লাহ তাআলা তোমাকে নানা রকম নিয়ামত দান করেছেন।³
আমর বিন শুআইব (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বান্দার মাঝে তাঁর নিয়ামতের ছাপ দেখতে পছন্দ করেন।'⁴
তাই উত্তম বেশভূষায় থাকা নিয়ামতের শুকরিয়ার বহিঃপ্রকাশ। এটি অপচয় ও মানুষের সামনে অহংকার প্রদর্শনের পর্যায়ভুক্ত নয়।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।'
এক ব্যক্তি বললেন, 'মানুষ তো চায় কাপড়-চোপড় ও জুতা-সেন্ডেল সুন্দর হোক (এটাও কি অহংকারের পর্যায়ে পড়বে?)' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে ঢেকে রাখা এবং মানুষকে তাচ্ছিল্য করা।'⁵

টিকাঃ
১. সুরা আদ-দুহা, ৯৩: ১১।
২. সুনানু আবি দাউদ: ৪০৬৩, সুনানুত তিরমিজি: ২০০৬, মুসনাদু আহমাদ: ১৫৪৫৭।
৩. মিরকাতুল মাফাতিহ: ১৩/৯৯।
৪. সুনানুত তিরমিজি: ২৮১৯।
৫. সহিহু মুসলিম: ৯১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কল্যাণকর কাজে তাদের উৎসাহ দিতেন

📄 কল্যাণকর কাজে তাদের উৎসাহ দিতেন


তাদের কল্যাণমূলক কাজের প্রশংসা করে তাদের সাহস বৃদ্ধি করতেন এবং আরও কল্যাণমূলক কাজ করার উৎসাহ প্রদান করতেন।
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
'যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরোজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, "হে আল্লাহর বান্দা, এটাই উত্তম।” অতএব যে নামাজ আদায়কারী, তাকে নামাজের দরোজা থেকে ডাকা হবে; যে মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরোজা থেকে ডাকা হবে; যে রোজা পালনকারী, তাকে রাইয়ান দরোজা থেকে ডাকা হবে; যে সাদাকা দানকারী, তাকে সাদাকার দরোজা থেকে ডাকা হবে।'
এরপর আবু বকর (রা) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার জন্য আমার পিতামাতা কুরবান হোক! সকল দরোজা থেকে কাউকে ডাকার কোনো প্রয়োজন তো নেই, তবুও এমন কেউ কি আছে, যাকে সব দরোজা থেকে ডাকা হবে?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'হাঁ, আছে। আর আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।'¹
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আজ তোমাদের মধ্যে কে রোজা রেখেছ?” আবু বকর (রা) বললেন, "আমি রেখেছি।” তিনি বললেন, "আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাজার সাথে চলেছ?" আবু বকর (রা) বললেন, "আমি।” তিনি বললেন, "আজ তোমাদের কেউ কি রোগী দেখতে গিয়েছ?" আবু বকর (রা) বললেন, "আমি গিয়েছি।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যার মধ্যে এই কাজসমূহের সমাবেশ ঘটবে, সে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।'²
আব্দুর রহমান বিন সামুরা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গাজওয়ায়ে উসরার জন্য রসদ সংগ্রহ করছিলেন, তখন উসমান বিন আফফান (রা) তাঁর কাপড়ে ভরে এক হাজার দিনার এনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে রাখলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো হাত দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলেন এবং বললেন:
'আজকের পর থেকে আফফানের বেটা যে কাজই করুক, সেটা তার জন্য ক্ষতিকর হবে না।' কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন।³
আহনাফ বিন কাইস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমরা হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মদিনায় উপনীত হলাম। হজে গমনের জন্য আমরা আমাদের মনজিলে পৌঁছে আমাদের হাওদা নামাচ্ছিলাম, এমন সময় আমাদের নিকট এক আগন্তুকের আবির্ভাব হলো। সে বলল, "লোকজন মসজিদে একত্রিত হয়েছে। তারা ভীত হয়ে পড়েছে।" আমরা সেখানে গিয়ে দেখলাম, মসজিদের মধ্যখানে একদল লোকের চতুর্দিকে কিছু লোক জড়ো হয়ে আছে। তাদের মধ্যে আলি (রা), জুবাইর (রা), তালহা (রা) ও সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা) রয়েছেন। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় উসমান (রা) আগমন করলেন। তাঁর পরনে রয়েছে হলুদ বর্ণের একখানা কাপড়, তা দ্বারা তিনি তাঁর মাথা ঢেকে রেখেছেন। তিনি বললেন, "এখানে কি তালহা (রা) আছেন? এখানে কি জুবাইর (রা) আছেন? এখানে কি সাদ (রা) আছেন?" সকলে বললেন, "হাঁ, তাঁরা আছেন।” তিনি বললেন, "আমি সেই আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি-যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "অমুক গোত্রের উট বাঁধার বা খেজুর শুকাবার স্থানটি যে খরিদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন।" এরপর আমি তা বিশ হাজার অথবা পঁচিশ হাজার টাকায় খরিদ করেছি। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে তাঁকে তার সংবাদ দিলে তিনি বললেন, "তা আমাদের মসজিদের জন্য দান করো, আর এর সাওয়াব তোমারই থাকবে?” তাঁরা বললেন, "হাঁ।” তিনি আবার বললেন, "যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই-সেই আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি রুমা নামক কূপটি খরিদ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন।" অতঃপর আমি তা এত এত মূল্যে খরিদ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে সংবাদ দিলে তিনি বললেন, "তুমি তা মুসলমানদের পানি পানের স্থান করে দাও, তার সাওয়াব তুমি পাবে?" তাঁরা বললেন, "হাঁ, আমাদের তা জানা আছে।" তিনি আবার বললেন, "তোমাদের সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি অবগত আছ যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকদের লক্ষ করে বললেন, "এ জাইশুল উসরাহ-কে (তাবুকের সেনাবাহিনীকে) যে ব্যক্তি যুদ্ধের সামান দিয়ে সজ্জিত করবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।" তখন আমি তাদের এমনভাবে সজ্জিত করলাম যে, কেউ উটের একটি রশিও কম পায়নি?" তাঁরা বললেন, "আল্লাহর কসম, আমাদের তা জানা আছে।” তখন তিনি বললেন, "হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো; হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো; হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো।"⁴

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১৮৯৭, সহিহু মুসলিম: ১০২৭।
২. সহিহু মুসলিম: ১০২৮।
৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩৭০১, মুসনাদু আহমাদ: ২০১০৭।
৪. সুনানুন নাসায়ি: ৩১৮২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আল্লাহর সাথে সওদা করতে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেন

📄 আল্লাহর সাথে সওদা করতে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেন


আল্লাহর সাথে সওদা করা সবচেয়ে লাভজনক সওদা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
'যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়িম করে এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে-তারা এমন ব্যবসা আশা করে, যাতে কখনো লোকসান হবে না। পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সাওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।'¹
সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "তারা এমন ব্যবসা আশা করে, যাতে কখনো লোকসান হবে না”-এই কথাটির মর্ম হলো, যে ব্যবসা কখনো অলাভজনক ও নষ্ট হওয়ার নয়। বরং এই ব্যবসা সর্বাধিক উত্তম ও উন্নত ব্যবসা। এই ব্যবসা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, বিশাল সাওয়াব অর্জন এবং তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া।²
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "অমুক ব্যক্তির কাছে একটি খেজুর গাছ আছে। আমি সেটা দিয়ে একটি দেয়াল (ঘর) বানাতে চাইছি। তাই আপনি তাকে খেজুর গাছটি আমাকে দিয়ে দিতে বলুন, যাতে আমি তা দিয়ে দেয়ালটি বানাতে পারি।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বললেন, "জান্নাতে একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে তাকে তোমার খেজুর গাছটি দিয়ে দাও।” লোকটি অস্বীকৃতি জানালেন। অতঃপর আবু দাহদাহ (রা) লোকটির নিকট এসে বললেন, "তোমার খেজুর গাছটি আমাকে আমার বাগানের বিনিময়ে বিক্রি করো।” লোকটি বিক্রি করে দিলেন। তারপর আবু দাহদাহ (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার বাগানের বিনিময়ে ওই লোকের খেজুর গাছটি কিনে নিয়েছি। এবার আপনি এই লোকটিকে তা দিয়ে দিতে পারেন। আমি তাকে এটি দান করলাম।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জান্নাতে আবু দাহদাহের (রা) জন্য অনেক শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট একটি খেজুর গাছ ফুটেছে!" কথাটি কয়েকবার বললেন তিনি।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর আবু দাহদাহ (রা) তার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, "ওহে দাহদাহের মা, বাগানটি থেকে বের হয়ে যাও। এটাকে আমি জান্নাতের একটি খেজুর গাছের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছি।” তা শুনে স্ত্রী বললেন, "এটি খুবই লাভজনক সওদা হয়েছে।"'³

টিকাঃ
১. সুরা ফাতির, ৩৫: ২৯-৩০।
২. তাফসিরুস সাদি: ১/৬৮৯।
৩. মুসনাদু আহমাদ: ১২০৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00