📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ঈমানের ব্যাপারে দারিদ্র্যের চেয়ে ধনবত্তাকে বেশি ভয় করতেন

📄 ঈমানের ব্যাপারে দারিদ্র্যের চেয়ে ধনবত্তাকে বেশি ভয় করতেন


আমর বিন আওফ (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা)-কে জিজিয়া আনার জন্য বাহরাইন পাঠান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনবাসীদের সাথে সন্ধি করে আলা বিন হাজরামি (রা)-কে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। আবু উবাইদা (রা) বাহরাইন থেকে মাল নিয়ে এসে পৌঁছালে, আনসারগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তার আগমনের সংবাদ জানতে পেরে সকলেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলেন। নামাজের পর ফিরে বসলে তারা সকলেই তাঁর সামনে আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখে মুচকি হেসে বললেন, "আমার মনে হয়, তোমরা শুনতে পেয়েছ যে, আবু উবাইদা (রা) কিছু মাল নিয়ে এসেছে?” তারা সকলেই বললেন, "হাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ!” তিনি বললেন:
'সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের আনন্দদায়ক বিষয়ের আশায় থাকো, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যের আশঙ্কা করি না। বরং আমি আশঙ্কা করি যে, তোমাদের কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য এসে যাবে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে এসেছিল, তখন তোমরা তা লাভ করার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে-যেমনভাবে তারা করেছিল। আর এ ধনসম্পদ তাদের যেমনিভাবে ধ্বংস করেছিল, তোমাদেরকেও তেমনিভাবে ধ্বংস করে দেবে।'¹
ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, দুনিয়ার চাকচিক্য ও প্রাচুর্য যার অর্জিত হয়েছে, সে যেন তার মন্দ পরিণাম ও ভয়ংকর ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক থাকে। দুনিয়ার চাকচিক্য ও প্রাচুর্য নিয়ে নিশ্চিন্ত ও বেপরোয়া হয়ে না পড়ে এবং তা অর্জনের জন্য অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে।'²
আবু দারদা (রা) বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসেন, তখন আমরা দারিদ্র্য সম্পর্কে আলাপরত ছিলাম এবং আমরা সে বিষয়ে শঙ্কিত ছিলাম। তিনি বললেন:
'তোমরা দারিদ্র্যকে ভয় করছ? সেই সত্তার শপথ-যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই তোমাদের ওপর পৃথিবী প্রবল বেগে প্রবাহিত হবে (প্রভাব বিস্তার করবে), এমনকি পৃথিবী তোমাদের অন্তর কেবল তার দিকেই আকৃষ্ট করে ফেলবে। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছেড়ে গেলাম, যার রাত ও দিন ঔজ্জ্বল্যে পরস্পর সমান।'³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৪০১৫, সহিহুল মুসলিম: ২৯৬১।
২. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১০/১৫৫।
৩. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00