📄 ভিক্ষুকের অস্ত্রশস্ত্র হলেও দান করার নির্দেশ দিতেন
ভিক্ষাবৃত্তি অপছন্দ করলেও ভিক্ষুকদের সামান্য হলেও দান করতে বলতেন। কারণ, মানুষের সম্পদে ভিক্ষুকদের হক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
'এবং তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী (ভিক্ষুক) ও বঞ্চিতের হক।'¹
অন্যত্র বলেন:
'এবং যাদের ধনসম্পদে নির্ধারিত হক আছে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতের।'²
সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এবং তাদের ধনসম্পদে হক রয়েছে'- অর্থাৎ মুসতাহাব ও ওয়াজিব হক রয়েছে ওই সব অভাবীর জন্য, যারা মানুষের কাছে ভিক্ষা করে এবং তাদের হকও রয়েছে, যারা মানুষের কাছে ভিক্ষা করে না।³
এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। যদিও তা সামান্য পরিমাণ হোক।
আব্দুর রহমান বিন বুজাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) তার দাদি উম্মে বুজাইদ (রা) (তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাইআত গ্রহণকারী সৌভাগ্যবতী মহিলাদের অন্যতম) থেকে বর্ণনা করেন যে, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার দরোজায় মিসকিন আসে, কিন্তু তাকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছু থাকে না।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যদি তাকে দেওয়ার জন্য (পশুর) একটি পোড়া খুরও তোমার কাছে থাকে, তাহলে সেটাই তার হাতে তুলে দিয়ো।'⁴
পোড়া খুরের কথা উল্লেখ করে সামান্য পরিমাণ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ভিক্ষুককে খালি হাতে ফিরিয়ে না দিয়ে সামান্য পরিমাণ যা আছে, তা-ই দিয়ে বিদায় করা উচিত। তা পোড়া খুরের মতো নিম্নমানের বস্তুই হোক না কেন?⁵
অপর রিওয়ায়াতে আমর বিন মুআজ আনসারি (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'তাদের দরোজায় একজন ভিক্ষুক আসলেন। তখন তার দাদি বললেন, "ওকে খেজুর খাওয়াও।” বাড়ির লোকেরা বলল, "আমাদের কাছে খেজুর নেই।” তিনি বললেন, "তাহলে ছাতু পান করাও।” তারা বললেন, "আশ্চর্য, আমাদের কাছে যা নেই, তা তাকে কী করে খাওয়াব!" দাদি বললেন, "(আমি কিছু না কিছু এ জন্য দিতে বলছি যে,) আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি-
'ভিক্ষুককে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়ো না; অন্তত পোড়া খুর হলেও তাকে দিয়ো।'⁶
টিকাঃ
১. সুরা আজ-জারিয়াত, ৫১: ১৯।
২. সুরা আল-মাআরিজ, ৭০: ২৪-২৫।
৩. তাফসিরুস সাদি: ১/৮০৮।
৪. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৬৭, সুনানুত তিরমিজি: ৬৬৫।
৫. তুফফাতুল আহওয়াজি: ৩/২৬৮।
৬. মুসনাদু আহমাদ: ২৬৬০৭।
📄 গরিবদের শান্তি করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন
আবু বারজা আসলামি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আনসারদের কাছে কোনো বিবাহযোগ্য কন্যা থাকলে তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিয়ে দিতেন না, যতক্ষণ না তারা জেনে নিতেন যে, তার প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রয়োজন আছে কি না। তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারি লোককে বললেন, "তোমার মেয়েকে আমার কাছে বিয়ে দাও।” তিনি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা তো আমার জন্য খুবই সৌভাগ্য ও সম্মানের বিষয় হবে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি নিজের জন্য তাকে চাইছি না।” তিনি বললেন, "তো কার জন্য, ইয়া রাসুলাল্লাহ?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমার দুধ-সন্তানের জন্য।” তিনি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে একটু মেয়ের মায়ের সাথে পরামর্শ করতে হবে।” তখন লোকটি মেয়ের মায়ের কাছে গিয়ে বললেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।” মা বললেন, "তা তো খুবই সৌভাগ্যের বিষয়!" তিনি বললেন, "তিনি নিজের জন্য প্রস্তাব দেননি; বরং তাঁর দুধ-সন্তানের জন্য দিয়েছেন।” মা বললেন, "তাঁর দুধ-সন্তান তো তাঁর নিজের সন্তান নয়। আল্লাহর কসম, আমি তাকে বিয়ে দেবো না।” যখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মেয়ের মায়ের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য যেতে উদ্যত হলেন, তখন মেয়ে বললেন, "তোমাদের নিকট কে প্রস্তাব পাঠিয়েছে?" মা তাকে বিস্তারিত ঘটনা শোনালেন। তখন মেয়েটি বললেন, "তোমরা কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে চাও? আমাকে তাঁর কাছে সোপর্দ করে নাও। তিনি আমার ক্ষতি করবেন না।” এরপর মেয়ের বাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। এভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-সন্তানের সাথে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেল।'
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক যুদ্ধাভিযানে বের হলেন। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা (বিজয় দান করলেন এবং) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দান করলেন, তখন তিনি বললেন, "তোমরা কি কাউকে হারিয়ে ফেলেছ?" তারা বললেন, "আমরা অমুক অমুককে হারিয়ে ফেলেছি।” তিনি বললেন, "ভালো করে দেখো, আরও কাউকে হারিয়ে ফেলেছ কি না।” তারা বললেন, "না, আর কেউ নেই।” তিনি বললেন, "কিন্তু আমি তো আমার দুধ-সন্তানকে দেখতে পাচ্ছি না। নিহতদের মধ্যে তাকে খুঁজে দেখো।” তখন সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাকে খুঁজতে লাগলেন। একপর্যায়ে তাকে সাতজন নিহত শত্রুসেনার পাশে পাওয়া গেল। তিনি ওই সাতজনকে হত্যা করার পর নিহত হয়েছেন। সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, সাতজনকে মেরে তিনি নিহত হয়ে এখানে পড়ে আছেন।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, "সাতজনকে হত্যা করে সে নিহত হয়েছে। সে আমার থেকে আর আমি তার থেকে।” কথাটি দুবার বা তিনবার বললেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজ বাহুর ওপর নিলেন এবং তার জন্য কবর খনন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহুদ্বয় ছাড়া তাকে কোনো খাটিয়ায় তোলা হয়নি। অতঃপর তাকে কবরে রাখলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোসল দিয়েছেন কি না, তা বর্ণনাকারী উল্লেখ করেননি। ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু তালহা (রাহিমাহুল্লাহ) সাবিত (রা)-কে বললেন, "আপনার কি জানা আছে, ওই মেয়ের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী দোয়া করেছিলেন?" তিনি বললেন, (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছিলেন :)
'হে আল্লাহ, এই মেয়ের ওপর কল্যাণ ঢেলে দিন এবং তার জীবনকে কষ্টমুক্ত রাখুন।'
সাবিত (রা) বলেন, 'এর পর থেকে আনসারিদের মধ্যে তার মতো প্রশস্ত হাতে ব্যয়কারী কোনো মানুষ ছিল না।'¹
আব্দুল মুত্তালিব বিন রাবিআ বিন হারিস (রা) বলেন, 'রাবিআ বিন হারিস (রা) (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই) ও আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা) পরস্পর বলছিলেন, "আল্লাহর শপথ, যদি আমরা এ দুজনকে (আব্দুল মুত্তালিব বিন রাবিআ রা ও ফজল বিন আব্বাস রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠাই। তারা দুজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বলবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনকে সাদাকা আদায়ের কাজে লাগিয়ে দেবেন। তারা অন্যদের মতো সাদাকা উত্তোলন করে দেবে। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরও তা-ই দেবেন, যা অন্য সাদাকা উত্তোলনকারীদের দিয়ে থাকেন।"
তাদের কথা বলার সময় আলি (রা) এসে উপস্থিত হলেন। তারা দুজন আলিকে (রা) বললেন ব্যাপারটা। আলি (রা) বললেন, "এমনটা করবে না। আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এমনটা করবেন না। (তথা সাদাকা উত্তোলনের পারিশ্রমিক দেবেন না।)" আলির (রা) কথায় রাবিআ বিন হারিস (রা) রাগান্বিত হয়ে বললেন, "আল্লাহর শপথ, তুমি আমাদের প্রতি হিংসাবশতই এমন বলছ। আল্লাহর কসম, তুমি তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাই হয়েছ-আমরা তো তোমার প্রতি হিংসা পোষণ করি না।"
এরপর আলি (রা) "ঠিক আছে। তাদের পাঠিয়ে দাও।" বলে নিজের গায়ের চাদর বিছিয়ে সেখানে শুয়ে পড়লেন। বললেন, "আমি সাইয়িদ হাসানের (রা) পিতা। আল্লাহর কসম, তোমরা যে উদ্দেশ্যে তোমাদের ছেলেদের পাঠালে তার (বিফলতার) জবাব না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ছি না।"
আব্দুল মুত্তালিব (রা) বলেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহর পড়ে আসার আগেই আমরা তাঁর ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তিনি এসে আমাদের দুজনের কান ধরে স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন, "কী উদ্দেশ্যে এসেছ, না লুকিয়ে বলে ফেলো।" এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন। আমরাও তাঁর সাথে এলাম ঘরের ভেতর। সেদিন তিনি জাইনাব বিনতে জাহাশ (রা)-এর ঘরে ছিলেন। কথা বলার জন্য আমরা একে অন্যকে বলছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমাদের একজন কথাটা তুলল। বলল, "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ অনুগ্রহকারী। সর্বোত্তম আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী। আমরা বিয়ের উপযুক্ত হয়েছি। তাই আপনার কাছে এসেছি, যদি আপনি আমাদের সাদাকা উত্তোলনের কাজ দেন, তবে আমরা অন্যদের মতো সাদাকা তুলে দেবো, আপনি অন্যদের যে রকম পারিশ্রমিক দেন, আমাদেরও তেমন দেবেন।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকক্ষণ ধরে চুপ করে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত আমরাই কথা বলার জন্য উদ্যত হচ্ছিলাম এমন সময় জাইনাব (রা) পর্দার আড়াল থেকে ইশারা করে আমাদের চুপ থাকতে বললেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার-পরিজনের জন্য সাদাকা ভক্ষণ করা সমীচীন নয়। সাদাকা মানুষের (সম্পদের) ময়লা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারের জন্য এটা হালাল নয়। তোমরা মাহমিয়া বিন জাজ' (রা) ও নাওফাল বিন হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা)-কে ডেকে আনো।” বনু আসাদের এক লোকের নাম ছিল মাহমিয়া (রা)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খুমুসের² কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেছিলেন। তারা দুজন এলে মাহমিয়াকে (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এ ছেলের কাছে তোমার মেয়েকে বিয়ে দাও'-এই বলে তিনি ফজল বিন আব্বাস (রা)-এর দিকে ইশারা করলেন। মাহমিয়া (রা) তাকে তার মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিল। তারপর আমার (আব্দুল মুত্তালিব রা) দিকে ইশারা করে নাওফাল বিন হারিস (রা)-কে বললেন, "এ ছেলের সাথে তোমার মেয়ের বিয়ে দাও।” নাওফাল (রা) তার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিলেন। এরপর তিনি মাহমিয়াকে (রা) বললেন, "খুমুসের সম্পদ থেকে এত এত পরিমাণ এদের দুজনকে দাও।"³
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"খুমসের ভান্ডার থেকে এদের দাও"-হতে পারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে খুমুস থেকে তারা দুজন একটা অংশ পেয়েছিলেন। কারণ, তারা দুজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন। আবার এও হতে পারে যে, খুমুসের যে অংশ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেতেন, সেখান থেকেই তাদের দুজনকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।'⁴
এক মহিলা নিজেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে সোপর্দ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন এক দরিদ্র লোকের কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন, যার কাছে মোহরানা দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। ঘটনাটি সাহল বিন সাদ (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, 'একজন মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করতে এসেছি।' এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দেখলেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি দিলেন। আপাদমস্তক দেখা শেষ করে তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলা দেখতে পেলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোনো ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন তিনি বসে পড়লেন। তারপর একজন সাহাবি (রা) দাঁড়িয়ে অনুরোধ করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যদি আপনার এ মহিলার কোনো প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দিন।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কাছে কোনো সম্পদ আছে কি?" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার কাছে কোনো সম্পদ নেই।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তোমার পরিবারের লোকদের কাছে গিয়ে দেখো, কোনো কিছু পাও কি না?" অতঃপর তিনি চলে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, "না, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি কিছুই পেলাম না।” তখন তিনি বললেন, "অন্তত একটি লোহার আংটি হলেও পাও কি না দেখো!" তিনি চলে গেলেন। ফিরে এসে বললেন, "না, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহর কসম, একটি লোহার আংটিও পেলাম না; কিন্তু এই আমার তহবন্দ আছে। [বর্ণনাকারী সাহল (রা) বলেন, তার কোনো চাদর ছিল না] এর অর্ধেক তাকে দিয়ে দেবো।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমার এ তহবন্দ দ্বারা কী হবে? যদি তুমি পরো, তবে তার জন্য কিছুই থাকবে না; আর যদি সে পরে, তাহলে তোমার জন্য কিছুই থাকবে না।” এরপর লোকটি বসে পড়লেন। দীর্ঘক্ষণ পরে তিনি চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন এবং ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কুরআন কতটুকু জানা আছে?" তিনি বললেন, "হাঁ, আমার অমুক, অমুক, অমুক সুরা জানা আছে।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি এগুলো মুখস্থ পড়তে পারো?" তিনি বললেন, "হাঁ।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ জানো, এর বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলাম।"⁵
হাদিসের ফায়দাসমূহ:
কোনো মেয়ে নিজেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে সঁপে দেওয়া বৈধ (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিনা মোহরানায় বিয়ে করতে পারবেন)। তবে এই বৈধতা শুধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য। অন্য কারও জন্য এটা বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
'কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবির কাছে সমর্পণ করে, নবি তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য; অন্য মুমিনদের জন্য নয়।'⁶
কোনো মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করলে তাকে দেখা ও তাকে নিয়ে চিন্তা করা বৈধ।
কোনো মেয়ে নিজেকে কোনো ভালো মানুষের কাছে বিয়ে করার জন্য পেশ করতে পারবে।
কারও কাছে কোনো প্রয়োজন চাওয়া হলো, কিন্তু তার কাছে তা পূরণ করে দেওয়ার সামার্থ্য নেই। তখন চুপ থাকা মুসতাহাব যেন আবেদনকারী বুঝতে পারে। সরাসরি না করে দিয়ে তাকে লজ্জা দেওয়া উচিত নয়। অবশ্য আবেদনকারী যদি চুপ থাকা থেকে বুঝতে না পারে, তখন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যায়।
মোহরানাসহ নিকাহ করা মুসতাহাব। কারণ, এতে ঝগড়া-ফাসাদের রাস্তা বন্ধ হয় এবং মেয়ের উপকার হয়। বিশেষ করে তখন উপকার হয়, যখন মিলনের পূর্বে তালাক দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক তাকে দিয়ে দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। মোহর নির্ধারণ করা না হলে ওই অবস্থায় সে অর্ধেক মোহর পায় না; বরং মুতআ পায়। অবশ্য মোহর ব্যতীত কেউ বিয়ে করলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।⁷ আল্লাহ তাআলা বলেন:
'স্ত্রীদের স্পর্শ করার আগে এবং কোনো মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোনো পাপ নেই।'⁸
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতে মোহর কম-বেশি হওয়া বৈধ।
লোহার আংটি পরিধান করা বৈধ।
কেউ শপথের দাবি না করলেও এবং প্রয়োজন না থাকলেও শপথ করা বৈধ।
অভাবগ্রস্ত লোকের বিয়ে করা ও তাকে বিয়ে দেওয়া জায়িজ।
এই হাদিসে কওমের লোকদের প্রতি নেতার চিন্তা-ফিকির ও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে কাজের উপায় বলে দেওয়ার স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
অনুরূপভাবে এই হাদিস থেকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৯২৮৫।
২. জিহাদে মুজাহিদরা যে গনিমত লাভ করে, তার এক-পঞ্চমাংশকে খুমুস বলা হচ্ছে। (অনুবাদক)
৩. সহিহু মুসলিম: ১০৭২।
৪. সহিহু মুসলিম: ১০৭২।
৫. সহিহুল বুখারি: ৫০৩০, সহিহু মুসলিম: ১৪২৫।
৬. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ৫০।
৭. হানাফি মাজহাব অনুসারে, মোহর নির্ধারণ না করলেও মোহরে মিছিল ওয়াজিব হয়ে যায়। (অনুবাদক)
৮. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৩৬।
📄 পরস্পরের আর্থিক বিষয়টি দেখাশোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন
আবু মুসা আশআরি (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন জিহাদে গিয়ে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা মদিনাতেই তাদের পরিবার-পরিজনদের খাবার কম হয়ে যায়, তখন তারা তাদের যা কিছু সম্বল থাকে, তা একটা কাপড়ে জমা করে। তারপর একটা পাত্র দিয়ে মেপে তা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। কাজেই তারা আমার এবং আমি তাদের।'¹
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
আশআরি গোত্রের ফজিলত।
পরস্পর সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ফজিলত। সফরের সময় সবার আসবাব-পাথেয় একত্রে রাখার ফজিলত। শহরের মধ্যে টাকা-পয়সা কমে গেলে যার যা আছে, সবগুলো এক জায়গায় জমা করে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়ার ফজিলত।²
বর্তমান সময়ে 'সাহায্য তহবিল' নামে বিভিন্ন গোত্র ও পরিবারের লোকেরা এক ধরনের ফান্ড গঠন করে। সেখানে প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা জমা করে। অতঃপর সব টাকা অভাবগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হয়। এ ধরনের 'সাহায্য তহবিল' আশআরিদের কর্মের সাথে পুরোপুরি বা আংশিক মিলে যায়।
একটি সতর্কতা: অধিকাংশ মুসলিম দেশে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের অধীনে 'সাহায্য তহবিল' পরিচালিত হয়। এসব তহবিলের টাকা সুদভিত্তিক ব্যাংকে জমা রাখা হয় এবং ব্যাংক থেকে যে সুদ পাওয়া যায়, তা গরিবদের জন্য ব্যয় করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এতে আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী তাদের ব্যাপারে প্রমাণিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
'বলুন, আমি কি তোমাদের সেসব লোকের সংবাদ দেবো, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সেসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।'³
কবির ভাষায়:
'হারাম সম্পদ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহর প্রশংসা পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তার তুলনা ওই বেশ্যার সাথে হবে, যে ব্যভিচার করে বিনিময় নেয় এবং তা দিয়ে এতিমদের খাওয়ায়। তোমার জন্য ধ্বংস! তোমার ব্যভিচার করারও দরকার নেই, সাদাকা করারও দরকার নেই।'
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৪৮৬, সহিহু মুসলিম ২৫০০।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৬২।
৩. সুরা আল-কাহফ, ১৮: ১০৩-১০৪।
📄 দারিদ্র্যের মাঝেও সুন্দরভাবে বাঁচার শিক্ষা দিতেন
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি-
'যে ব্যক্তি রিজিকের প্রশস্ততা ও আয়ু বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করে, সে যেন আত্মীয়তা-সম্পর্ক রক্ষা করে।'¹
ফায়দা: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-কে প্রশ্ন করা হলো, 'রিজিক হ্রাস-বৃদ্ধি হয় কি না? আর রিজিক কি শুধু খাদ্যকে বোঝায়, না বান্দার মালিকানাধীন সবকিছুকে বোঝায়?' তিনি উত্তর দিলেন, 'রিজিক দুই প্রকার: ১. যা শুধু আল্লাহর ইলমে আছে যে, তিনি বান্দাকে দান করবেন। এ রিজিক পরিবর্তিত হয় না। ২. যা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ফেরেশতাগণকে তা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এই রিজিক উপার্জনের মাধ্যমভেদে কমে কিংবা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যে রিজিক ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার জন্য লিপিবদ্ধ করেন, আত্মীয়তা-সম্পর্ক রক্ষা করার কারণে সে রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যেসব মাধ্যম দ্বারা রিজিক অর্জিত হয়, তাও আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে দেন এবং লিপিবদ্ধ করে রাখেন। যার জন্য তিনি নির্ধারিত করেন যে, সে চেষ্টা ও কামাইয়ের মাধ্যমে রিজিক অর্জন করবে, তার মাঝে চেষ্টা ও কামাই করার বোধ সৃষ্টি করে দেন। যে পরিমাণ রিজিক কামাই করার শর্তে নির্ধারণ করে রাখেন, তা কামাই করা ব্যতীত অর্জিত হবে না। আর যে পরিমাণ রিজিক কামাইবিহীন নির্ধারণ করেছেন, যেমন: উত্তরাধিকার, তা কামাই করা ব্যতীত অর্জিত হয়। রিজিক অর্জনের চেষ্টা দুই প্রকার: ১. রিজিক উপার্জনের জন্য নির্ধারিত বিষয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করা। যেমন: কারিগরি, কৃষি ও ব্যবসার মাধ্যমে চেষ্টা করা। ২. দোয়া, তাওয়াক্কুল, মাখলুকের প্রতি অনুগ্রহ ইত্যাদির মাধ্যমে চেষ্টা করা। কারণ, যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতা করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার সাহায্য-সহযোগিতা করেন।'²
গুনাহ পরিত্যাগ করা:
সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'গুনাহের কারণে মানুষ রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।'³
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন এবং বললেন, "হে মুহাজিরগণ, তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোনো জাতি ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে, তখন তাদের ওপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসিবত। আর যখন জাকাত আদায় করে না, তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভূপৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকত, তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোনো জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন।'⁴
ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
'যে ব্যক্তি সুদের মাধ্যমে সম্পদ বাড়িয়েছে, পরিণামে তার সম্পদ অবশ্যই কমে যাবে।'⁵
একসাথে হজ ও উমরা করা:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'একসাথে হজ ও উমরা আদায় করো। কারণ, হজ ও উমরা দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।'⁶
ভিক্ষা পরিত্যাগ করা:
আবু কাবশা আনমারি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন:
'আমি তিনটি জিনিসের ব্যাপারে শপথ করছি:
১. কোনো বান্দার মাল সাদাকা করলে কমে যায় না।
২. কোনো বান্দার ওপর কোনো প্রকার অত্যাচার করা হলে এবং সে তার ওপর ধৈর্যধারণ করলে আল্লাহ নিশ্চয় তার সম্মান বাড়িয়ে দেন।
৩. কোনো বান্দা যাচনার দুয়ার খুললে আল্লাহ তার জন্য দারিদ্র্যের দরোজা খুলে দেন।'⁷
রিজিক অন্বেষণে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা:
উমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরকেও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যাবেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।'⁸
'তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে'-অর্থাৎ যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে যে, আল্লাহই একমাত্র রিজিকদাতা এবং তিনি ব্যতীত দান করার ও বাধা দেওয়ার শক্তি কারও নেই। অতঃপর এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে উত্তম উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করতে, তখন...⁹
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২০৬৭, ৫৯৮৫; সহিহু মুসলিম: ২৫৫৭।
২. মাজমুউল ফাতাওয়া: ৮/৫৪০-৫৪১।
৩. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪০২২।
৪. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪০১৯।
৫. সুনানু ইবni মাজাহ: ২২৭৯।
৬. সুনানুন নাসায়ি: ২৬৩০।
৭. সুনানুত তিরমিজি: ২৩২৫।
৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৪৪, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪১৬৪।
৯. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/৭।