📄 তাদের ভিক্ষা না করতে উদ্বুদ্ধ করতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কেউ কোনো কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই দান করতেন। যতবার চাইতেন ততবার দিতেন। তবে অনেক সময় তিনি তাদের বুঝিয়ে দিতেন যে, এভাবে কারও নিকট কোনো কিছু চেয়ে বেড়ানো ভালো কাজ নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে মুমিনের সে সকল গুণের প্রশংসা করেছেন, তন্মধ্যে মানুষের সামনে হাত না পাতা অন্যতম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
'খয়রাত ওই সকল গরিব লোকের জন্য, যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে-জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা হাত না পাতার কারণে তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতিমিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।'¹
'তারা মানুষের কাছে কাকুতিমিনতি করে ভিক্ষা চায় না'- এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, তাহলে কি তারা কাকুতিমিনতি না করে ভিক্ষা চায়? এর উত্তরে বলা হয়, তারা একদমই ভিক্ষা করে না। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা তাদের ভিক্ষাবৃত্তি-না-করা লোক বলে অভিহিত করেছেন এবং লক্ষণ দ্বারা তাদের পরিচয় পাওয়ার কথা বলেছেন। যদি তারা কোনোভাবেই ভিক্ষা করত, তবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এমন কথা বলতেন না। আর কাকুতিমিনতি না করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভিক্ষুকদের এই বদঅভ্যাসটি ওইসব লোকের মধ্যে না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।²
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলতেন, তারা যেন যথাসম্ভব ভিক্ষা পরিত্যাগ করে।
হাকিম বিন হিজাম (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:
'হে হাকিম, এই মাল-সম্পদ তরতাজা মিষ্টি ফলের মতো। সুতরাং কেউ মনের মাঝে উদারতা রেখে তা গ্রহণ করলে (অর্থাৎ কারও কাছে হাত না পেতে মেহনত করে অর্জন করলে) তাতে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি কেউ মনের মধ্যে লোভ রেখে তা গ্রহণ করে, তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে ওই ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হতে পারে না। আর ওপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাতের চেয়ে উত্তম।'
হাকিম (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, কসম সেই সত্তার-যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কারও সম্পদ কম করব না (অর্থাৎ কারও কাছে হাতপেতে তার সম্পদ কমিয়ে দেবো না)।" এর পর আবু বকর (রা) তাকে দান করার জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতেন। অতঃপর উমর (রা) তাকে দান করার জন্য ডাকলে তিনি গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তখন উমর (রা) বললেন, 'হে মুসলিম সম্প্রদায়, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে হাকিমের (রা) হক তাকে দিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে।'
এভাবে হাকিম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি।³
হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাকিম (রা) সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, অথচ তা তার অধিকার ছিল। এর কারণ হলো, তিনি আশঙ্কা করতেন যে, এভাবে অনুদান গ্রহণ করলেও নেওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হবে। তখন তিনি না চাইলেও প্রবৃত্তি তাকে হাতপাতার দিকে নিয়ে যাবে। তাই তিনি যেকোনো অনুদান গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থেকেছেন এবং সংশয়যুক্ত সকল কিছু পরিত্যাগ করেছেন। উমর (রা) লোকদের সাক্ষী বানানোর কারণ হলো, কেউ যেন মনে মনে এই ধারণা করতে না পারে যে, উমর (রা) হাকিমের (রা) অধিকার হরণ করেছেন।'⁴
দান করার সামর্থ্য না থাকলে সুন্দর ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করতেন।
টিকাঃ
১. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৭৩।
২. তাফসিরুত তাবারি ৫/৫৯৩-৬০০। (কিছুটা পরিবর্তিত ও সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপিত)
৩. সহিহুল বুখারি: ১৪৭২, সহিহু মুসলিম: ১০৩৫।
৪. ফাতহুল বারি: ৩/৩৩৬।
📄 দান করার সামর্থ্য না থাকলে সুন্দর ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করতেন
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
'নম্র কথা বলা এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ওই দানখয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা সম্পদশালী, সহিষ্ণু।'¹
আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, 'কতিপয় আনসারি লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইলে তিনি তাদের দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। এভাবে তাঁর কাছে যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন:
'আমার নিকট যে মাল থাকে, তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখি না। তবে যে হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চাইতে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।'²
'তবে যে ব্যক্তি হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন'-অর্থাৎ যে মানুষের কাছে হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাআলা এর বদৌলতে তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন এবং অভাব দূর করে দেন।
'আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়'- অর্থাৎ যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়, তখন আল্লাহ তাআলা এ পরিমাণ সম্পদ দান করেন যে, তার আর কারও কাছে কিছু চাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।³
ওই লোকদের ঘটনাও এ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যারা গাজওয়ায়ে তাবুকে যাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চেয়েছিল, যেন তার ওপর সাওয়ার হয়ে জিহাদ করতে পারে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি অপারগতা জ্ঞাপন করলেন যে, তাঁর কাছে তাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহন নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
'জিহাদে অংশগ্রহণ না করায় দুর্বলদের বিরুদ্ধে কিংবা পীড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আন্তরিক থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু। তাদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ নেই, যারা তোমাদের কাছে বাহনের জন্য এলে তুমি বলেছিলে, "আমার কাছে তো তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহন নেই।” তখন তারা ব্যয় করার মতো কিছু না পাওয়ার কষ্টে অশ্রুপূর্ণ নয়নে ফিরে গিয়েছিল।'⁴
আবু মুসা আশআরি (রা) বলেন, 'আমি আশআরিদের একটি দল নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাহনের জন্য আসলাম। তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের বাহন দিতে পারব না। আর তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহনও নেই আমার কাছে।"'
তিনি বলেন, 'তখন আমরা যতক্ষণ আল্লাহ চেয়েছেন, ততক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু উট আনা হলো। সেখান থেকে সাদা কুঁজওয়ালা তিনটি উট আমাদের দিলেন। তা নিয়ে আমরা যখন ফিরছিলাম, তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, "আল্লাহ তাআলা আমাদের বরকত দান করবেন না। কেননা, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাহনের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের বাহন দেবেন না বলে শপথ করেছিলেন। অথচ তিনি আমাদের বাহন দান করেছেন।” তখন তারা এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যাপারে অবহিত করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমি তোমাদের বাহন দিইনি; আল্লাহই তোমাদের দান করেছেন। আর আল্লাহর কসম, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি কোনো বিষয়ের শপথ করার পর যদি (তা ভঙ্গ করার মধ্যে) কোনো কল্যাণ দেখতে পাই, তখন কসমের কাফফারা দিয়ে তা ভঙ্গ করে ফেলি এবং কল্যাণকর বিষয়টি গ্রহণ করি।'⁵
টিকাঃ
১. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৬৩।
২. সহিহুল বুখারি: ১৪৬৯, সহিহু মুসলিম: ১০৫৩।
৩. ফাতহুল বারি: ১১/৩০৪।
৪. সুরা আত-তাওবা, ৯: ৯১-৯২।
৫. সহিহুল বুখারি: ৩১৩৩, সহিহু মুসলিম: ১৬৪৯।
📄 নিজের পরিবারের চাহিদার ওপর গরিবদের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিতেন
আলি বিন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, 'জাঁতাকলে আটা পিষতে পিষতে ফাতিমা (রা)-এর হাতে ফোসকা পড়ে গেল। তখন একজন খাদিম চাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। কিন্তু এসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি পেলেন না। তাই আয়িশা (রা)-কে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলে আয়িশা (রা) তাঁকে ফাতিমা (রা)-এর আগমনের ব্যাপারে জানালেন।'
আলি (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা আমাদের বিছানা থেকে উঠতে চাচ্ছিলাম, তখনই তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের জায়গায় থাকো।” এরপর তিনি আমাদের সামনে বসলেন। তখন আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেন:
'আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেবো না, যা তোমরা যা চেয়েছিলে তার চাইতে উত্তম? (তা হলো) যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটি তোমাদের জন্য খাদিমের চেয়েও উত্তম।'¹
অপর বর্ণনায় আলি (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমি আহলে সুফফাকে বাদ দিয়ে তোমাদের দিতে পারব না। ক্ষুধায় তাদের পেট পেঁচিয়ে আছে।' আরেকবার বললেন, 'আমি ক্ষুধার জ্বালায় পেট পেঁচিয়ে থাকা আহলে সুফফাকে বাদ দিয়ে তোমাদের খিদমত করতে পারব না।'²
মুহাল্লাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মেয়েকে জিকির শিক্ষা দিয়েছেন, যা আখিরাতে তার কাজে আসবে। আর আহলে সুফফাকে তার ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, তারা তৃপ্তিভরে খানা পাওয়ার শর্তের ওপর নিজেদের ইলম অর্জন ও সুন্নাহ আয়ত্তে আনার কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। সম্পদ কামাই করা ও পরিবার-পরিজনের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তবে তারা খাদ্যের বিনিময়ে নিজেদের আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।'³
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩১১৩, সহিহু মুসলিম: ২৭২৭।
২. মুসনাদু আহমাদ: ৫৯৭।
৩. ফাতহুল বারি: ১১/১২৪।
📄 ভিক্ষা করতে নিষেধ করতেন
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যে ব্যক্তি (অভাবের তাড়না ছাড়া) নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে বেড়ায়, বস্তুত সে আগুনের অঙ্গার ভিক্ষা করে। কাজেই এখন তার ভেবে দেখা উচিত সে বেশি নেবে, না কম নেবে।'¹
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'সেই সত্তার কসম-যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্যে কারও রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনা, কোনো লোকের কাছে গিয়ে হাতপাতার চাইতে অনেক ভালো, চাই সে দিক বা না দিক।'²
টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ১০৪১।
২. সহিহুল বুখারি: ১৪৭০, সহিহু মুসলিম: ১০৪২।