📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার নির্দেশ দিতেন

📄 তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার নির্দেশ দিতেন


মানুষের অপছন্দনীয় খাবার তাদের খাওয়াতে নিষেধ করতেন। এ সম্পর্কে আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি গুইসাপ হাদিয়া পাঠানো হলো। তিনি তা খাননি। তখন আয়িশা (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন:
'তোমরা যা খাও না, তা তাদের খেতে দিয়ো না।'¹
আসলে এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার এই আদেশ বাস্তবায়ন করেছেন। আল্লাহ বলেন:
'হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনো গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।'²
এই আয়াত সম্পর্কে বারা বিন আজিব (রা) বলেন, 'আয়াতটি আমাদের আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা খেজুর বাগানের মালিক ছিলাম। লোকেরা তাদের খেজুরের বাগান থেকে আপন আপন সামর্থ্য অনুসারে নিয়ে আসত। কোনো ব্যক্তি এক ছড়া বা দুই ছড়া নিয়ে আসত এবং তা মসজিদে ঝুলিয়ে রাখত। সুফফাবাসী সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাদের কারও যখন ক্ষুধা লাগত, তখন তারা খেজুর ছড়ার কাছে এসে তার লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করতেন। এতে তা থেকে কাঁচা-পাকা খেজুর ঝরে পড়ত। আর তারা তা খেয়ে নিতেন। কিন্তু যেসব লোকের ভালো কাজের প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না, তাদের কেউ এমন খেজুরের ছড়াও নিয়ে আসত, যার মধ্যে খারাপ ও পচা খেজুর থাকত এবং ভেঙে পড়া ছড়াও নিয়ে এসে তা ঝুলিয়ে দিত। তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করেন:
'হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করো না। কেননা, তা তোমরা কখনো গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।'
তিনি বলেন, 'অর্থাৎ তোমরা যা দান করো, এই জাতীয় বস্তু যদি তোমাদের কাউকে হাদিয়া দেওয়া হয়, তবে সে তা চক্ষু বন্ধ করে রেখে বা লজ্জায় পড়ে গ্রহণ করা ছাড়া হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে না।' বারা (রা) বলেন, 'এরপর আমাদের প্রত্যেকেই তার নিকট যা আছে, তার মধ্যে উত্তমটি নিয়ে আসত।'³
জনৈক সালাফের আমল: মুনজির সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, 'রাবি বিন খুসাইম (রাহিমাহুল্লাহ) এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে একপ্রকার মূল্যবান মিষ্টি খাওয়াচ্ছিলেন। তা দেখে এক ব্যক্তি তাকে বলল, "এই লোকটি কি জানে, আপনি তাকে কী মূল্যবান খাবার খাওয়াচ্ছেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহ তো জানেন।"'⁴

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ২৪২১৫।
২. সুরা আল-বাকারা: ২৬৭।
৩. সুনানুত তিরমিজি: ২৯৭৮।
৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/২৯০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিয়ে-শাদির দাওয়াতে তাদের উপেক্ষা করতে নিষেধ করতেন

📄 বিয়ে-শাদির দাওয়াতে তাদের উপেক্ষা করতে নিষেধ করতেন


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'সর্বনিকৃষ্ট খানা হলো সেই অলিমার খানা, যেখানে ধনবানদের দাওয়াত করা হবে এবং গরিবরা উপেক্ষিত থাকবে। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্যতা করে।'¹
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরের যুগের একটি অবস্থা সম্পর্কে খবর দেওয়া হয়েছে। তা হচ্ছে, বিয়ে-শাদির দাওয়াতে ধনীদের প্রাধান্য দেওয়া এবং উন্নত ও রুচিসম্মত খাবারে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। যা আজ অধিকাংশ দাওয়াতে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন।'²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৫১৭৭, সহিহু মুসলিম: ১৪৩২।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/২৩৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের ভিক্ষা না করতে উদ্বুদ্ধ করতেন

📄 তাদের ভিক্ষা না করতে উদ্বুদ্ধ করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কেউ কোনো কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই দান করতেন। যতবার চাইতেন ততবার দিতেন। তবে অনেক সময় তিনি তাদের বুঝিয়ে দিতেন যে, এভাবে কারও নিকট কোনো কিছু চেয়ে বেড়ানো ভালো কাজ নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে মুমিনের সে সকল গুণের প্রশংসা করেছেন, তন্মধ্যে মানুষের সামনে হাত না পাতা অন্যতম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
'খয়রাত ওই সকল গরিব লোকের জন্য, যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে-জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা হাত না পাতার কারণে তাদের অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতিমিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।'¹
'তারা মানুষের কাছে কাকুতিমিনতি করে ভিক্ষা চায় না'- এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, তাহলে কি তারা কাকুতিমিনতি না করে ভিক্ষা চায়? এর উত্তরে বলা হয়, তারা একদমই ভিক্ষা করে না। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা তাদের ভিক্ষাবৃত্তি-না-করা লোক বলে অভিহিত করেছেন এবং লক্ষণ দ্বারা তাদের পরিচয় পাওয়ার কথা বলেছেন। যদি তারা কোনোভাবেই ভিক্ষা করত, তবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এমন কথা বলতেন না। আর কাকুতিমিনতি না করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভিক্ষুকদের এই বদঅভ্যাসটি ওইসব লোকের মধ্যে না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।²
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলতেন, তারা যেন যথাসম্ভব ভিক্ষা পরিত্যাগ করে।
হাকিম বিন হিজাম (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:
'হে হাকিম, এই মাল-সম্পদ তরতাজা মিষ্টি ফলের মতো। সুতরাং কেউ মনের মাঝে উদারতা রেখে তা গ্রহণ করলে (অর্থাৎ কারও কাছে হাত না পেতে মেহনত করে অর্জন করলে) তাতে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি কেউ মনের মধ্যে লোভ রেখে তা গ্রহণ করে, তাতে বরকত দেওয়া হয় না। সে ওই ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হতে পারে না। আর ওপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাতের চেয়ে উত্তম।'
হাকিম (রা) বলেন, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, কসম সেই সত্তার-যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কারও সম্পদ কম করব না (অর্থাৎ কারও কাছে হাতপেতে তার সম্পদ কমিয়ে দেবো না)।" এর পর আবু বকর (রা) তাকে দান করার জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতেন। অতঃপর উমর (রা) তাকে দান করার জন্য ডাকলে তিনি গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তখন উমর (রা) বললেন, 'হে মুসলিম সম্প্রদায়, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে হাকিমের (রা) হক তাকে দিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু সে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে।'
এভাবে হাকিম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি।³
হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাকিম (রা) সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, অথচ তা তার অধিকার ছিল। এর কারণ হলো, তিনি আশঙ্কা করতেন যে, এভাবে অনুদান গ্রহণ করলেও নেওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হবে। তখন তিনি না চাইলেও প্রবৃত্তি তাকে হাতপাতার দিকে নিয়ে যাবে। তাই তিনি যেকোনো অনুদান গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থেকেছেন এবং সংশয়যুক্ত সকল কিছু পরিত্যাগ করেছেন। উমর (রা) লোকদের সাক্ষী বানানোর কারণ হলো, কেউ যেন মনে মনে এই ধারণা করতে না পারে যে, উমর (রা) হাকিমের (রা) অধিকার হরণ করেছেন।'⁴
দান করার সামর্থ্য না থাকলে সুন্দর ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করতেন।

টিকাঃ
১. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৭৩।
২. তাফসিরুত তাবারি ৫/৫৯৩-৬০০। (কিছুটা পরিবর্তিত ও সংক্ষিপ্ত করে উপস্থাপিত)
৩. সহিহুল বুখারি: ১৪৭২, সহিহু মুসলিম: ১০৩৫।
৪. ফাতহুল বারি: ৩/৩৩৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দান করার সামর্থ্য না থাকলে সুন্দর ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করতেন

📄 দান করার সামর্থ্য না থাকলে সুন্দর ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করতেন


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
'নম্র কথা বলা এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ওই দানখয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা সম্পদশালী, সহিষ্ণু।'¹
আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, 'কতিপয় আনসারি লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চাইলে তিনি তাদের দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। অতঃপর আবার চাইলে তিনি আবার দান করলেন। এভাবে তাঁর কাছে যা ছিল, সব শেষ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন:
'আমার নিকট যে মাল থাকে, তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখি না। তবে যে হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চাইতে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।'²
'তবে যে ব্যক্তি হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন'-অর্থাৎ যে মানুষের কাছে হাতপাতা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাআলা এর বদৌলতে তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন এবং অভাব দূর করে দেন।
'আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়'- অর্থাৎ যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়, তখন আল্লাহ তাআলা এ পরিমাণ সম্পদ দান করেন যে, তার আর কারও কাছে কিছু চাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।³
ওই লোকদের ঘটনাও এ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যারা গাজওয়ায়ে তাবুকে যাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চেয়েছিল, যেন তার ওপর সাওয়ার হয়ে জিহাদ করতে পারে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি অপারগতা জ্ঞাপন করলেন যে, তাঁর কাছে তাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহন নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
'জিহাদে অংশগ্রহণ না করায় দুর্বলদের বিরুদ্ধে কিংবা পীড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আন্তরিক থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু। তাদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ নেই, যারা তোমাদের কাছে বাহনের জন্য এলে তুমি বলেছিলে, "আমার কাছে তো তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহন নেই।” তখন তারা ব্যয় করার মতো কিছু না পাওয়ার কষ্টে অশ্রুপূর্ণ নয়নে ফিরে গিয়েছিল।'⁴
আবু মুসা আশআরি (রা) বলেন, 'আমি আশআরিদের একটি দল নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাহনের জন্য আসলাম। তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের বাহন দিতে পারব না। আর তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহনও নেই আমার কাছে।"'
তিনি বলেন, 'তখন আমরা যতক্ষণ আল্লাহ চেয়েছেন, ততক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর তাঁর কাছে কিছু উট আনা হলো। সেখান থেকে সাদা কুঁজওয়ালা তিনটি উট আমাদের দিলেন। তা নিয়ে আমরা যখন ফিরছিলাম, তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, "আল্লাহ তাআলা আমাদের বরকত দান করবেন না। কেননা, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বাহনের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের বাহন দেবেন না বলে শপথ করেছিলেন। অথচ তিনি আমাদের বাহন দান করেছেন।” তখন তারা এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যাপারে অবহিত করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'আমি তোমাদের বাহন দিইনি; আল্লাহই তোমাদের দান করেছেন। আর আল্লাহর কসম, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি কোনো বিষয়ের শপথ করার পর যদি (তা ভঙ্গ করার মধ্যে) কোনো কল্যাণ দেখতে পাই, তখন কসমের কাফফারা দিয়ে তা ভঙ্গ করে ফেলি এবং কল্যাণকর বিষয়টি গ্রহণ করি।'⁵

টিকাঃ
১. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৬৩।
২. সহিহুল বুখারি: ১৪৬৯, সহিহু মুসলিম: ১০৫৩।
৩. ফাতহুল বারি: ১১/৩০৪।
৪. সুরা আত-তাওবা, ৯: ৯১-৯২।
৫. সহিহুল বুখারি: ৩১৩৩, সহিহু মুসলিম: ১৬৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00