📄 আল্লাহর কাছে গরিব ও নিঃস্বদের ভালোবাসা কামনা করতেন
নামাজের মধ্যে তিনি দোয়া করতেন:
'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সৎকর্ম করা ও মন্দকর্ম পরিত্যাগ করার তাওফিক কামনা করছি। আপনার কাছে নিঃস্বদের ভালোবাসা কামনা করছি। আর আপনি যখন আপনার বান্দাদের সাথে ফিতনার ইচ্ছা করবেন, তখন আমাকে আপনার কাছে তুলে নিয়েন, যেন ফিতনায় জড়িয়ে না পড়ি।'¹
টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৩৩।
📄 নিঃস্বদের ভালোবাসতে ও তাদের পাশে রাখতে নির্দেশ দিতেন
আবু জার গিফারি (রা) বলেন:
'আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন: ১. গরিবদের ভালোবাসতে ও তাদের পাশে থাকতে। ২. আমার চেয়ে নিম্ন স্তরের লোকদের দিকে দৃষ্টিপাত করতে এবং উচ্চ স্তরের লোকদের প্রতি দৃষ্টিপাত না করতে। ৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে-যদিও অন্যরা তা ভঙ্গ করে। ৪. কারও কাছে হাত না পাততে। ৫. সত্য বলতে-তা যতই তিক্ত হোক। ৬. আল্লাহর বিধান মানতে গিয়ে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারের পরোয়া না করতে। ৭. অধিক হারে "লা হাওয়া ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পড়তে-কেননা, এটি আরশের নিচে অবস্থিত গুপ্তধনের অংশ।'¹
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ২১৪১৫।
📄 গরিবদের স্মরণ করত এবং খোঁজখবর নিতেন
আবু উমামা সাহল বিন হানিফ (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'এক অসহায় মহিলা অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার অসুস্থতা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসহায় ও নিঃস্বদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি সে (অসহায় মহিলা) মারা যায়, তবে আমাকে সংবাদ দিয়ো।” (অতঃপর সে মারা গেলে) রাতেই তার জানাজা পড়া হলো। সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জাগানো সমীচীন মনে করলেন না। সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘটনা জানানো হলে তিনি বললেন, "আমি কি তোমাদের আমাকে সংবাদ দিতে বলিনি?" তাঁরা বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা আপনাকে রাতে জাগানো সমীচীন মনে করিনি।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের পাশে গিয়ে লোকজন নিয়ে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালেন এবং চারটি তাকবির বললেন (জানাজার নামাজ পড়লেন)।'¹
টিকাঃ
১. মুয়াত্তা মালিক: ৫৩১, সুনানুন নাসায়ি ১৯০৭। এমন ঘটনা সহিহ বুখারিতে (৪৮৫) ও সহিহ মুসলিমে (৯৫৬) আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে।
📄 একেবারে রিক্তহস্ত গরিব যারা, তাদের গুরুত্ব দিতেন
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবুক অভিযানের সময় একদিন মধ্যরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। সেনাছাউনির একপার্শ্বে আগুন জ্বলতে দেখে আমি সেদিকে গেলাম। সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর (রা) ও উমর (রা)-কে দেখতে পেলাম। আরও দেখতে পেলাম যে, আব্দুল্লাহ জুল বিজাদাইন আল-মুজানি (রা) ইনতিকাল করেছেন এবং তাঁরা তার জন্য কবর খনন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে অবতরণ করলেন আর আবু বকর (রা) ও উমর (রা) তাকে তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাদের ভাইকে আমার হাতে দাও।” তাঁরা তাঁর হাতে তুলে দিলেন। অতঃপর তাকে একপার্শ্বের ওপর কবরে রাখার পর বললেন, "হে আল্লাহ, আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে রাখলাম; আপনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।"'
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বললেন, 'ইশ্, যদি আমিই ওই কবরের ব্যক্তিটি হতাম!'¹
ইবনে হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তাকে "জুল বিজাদাইন" নামকরণ করার কারণ হলো, যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করার প্রতি আগ্রহী হলেন, তখন তার সম্প্রদায়ের লোকেরা তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল এবং তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতে তার শরীরের একটিমাত্র "বিজাদ” (একপ্রকার মোটা ও খসখসে চাদর) ছাড়া তার সবকিছু কেড়ে নিল। সেটি নিয়েই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে রওনা দিলেন। যখন কাছাকাছি আসলেন, তখন চাদরটিকে দুই টুকরা করে একটি নিম্নবস্ত্র হিসেবে পরলেন এবং অপরটি ওপরের অংশে পরিধান করলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। এই কারণেই তাকে "জুল বিজাদাইন" বলা হয়।'²
টিকাঃ
১. সিরাতু ইবনি হিশাম: ২/৫২৭।
২. সিরাতু ইবni হিশাম: ২/৫২৭।