📄 বিপদগ্রস্তের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতেন
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মহিলার কাছে সরাসরি যেতেন না। প্রয়োজন হলে তাদের স্বামীদের মাধ্যমে যেতেন। তবে উম্মে সুলাইম (রা)-এর ব্যতিক্রম-তিনি সরাসরি তার কাছে যেতেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
'আমি তার প্রতি করুণা করি, কারণ তার ভাই আমার সাথে (যুদ্ধ করতে গিয়ে) নিহত হয়েছে।'¹
উম্মে সুলাইম (রা)-এর নাম সাহলা বা রামিলা বা মুলাইকা বিনতে মিলহান আনসারি (রা)। তিনি আনাস বিন মালিক (রা)-এর মাতা। উপনামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে তার মূল নাম নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তার ভাই হারাম বিন মিলহান (রা) বিরে মাউনার যুদ্ধে নিহত হন। সে যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন না। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশক্রমে যেহেতু তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, এ জন্য তিনি 'আমার সাথে' বলেছেন। অর্থাৎ 'আমার প্রেরিত লশকরের সাথে বা আমার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বা আমার আনুগত্য করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন।'
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ভাই-বন্ধুদের মৃত্যুর পর তাদের ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা এবং তাদের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম (রা)-কে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে তার মনের ব্যথা উপশম করতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, উম্মে সুলাইমের (রা) ভাই তাঁর নির্দেশক্রমে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের দেখাশোনা করতেন। আর এটি ছিল ভ্রাতৃত্বের দাবি আদায়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।²
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ইতিপূর্বে কিতাবুল জিহাদে উম্মে সুলাইম (রা)-এর বোন উম্মে হারাম (রা)-এর আলোচনায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, তারা দুজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধ-সম্পর্কিত অথবা নসব-সম্পর্কিত খালা ছিলেন। সুতরাং তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাহরাম ছিলেন বিধায় তাদের সাথে একাকী মিলিত হওয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ছিল। এ জন্য তিনি এ দুজন মহিলার সাথে সরাসরি দেখা করতেন, যেখানে তিনি অন্য মহিলাদের নিকট সরাসরি না গিয়ে তাদের স্বামীদের নিকট যেতেন। উলামায়ে কিরাম বলেন, এ হাদিস মাহরাম মহিলার নিকট মাহরাম পুরুষের যাওয়ার বৈধতা প্রমাণ করে। সাথে সাথে গাইরে মাহরাম মহিলার নিকট যাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। সাক্ষাৎকারী পুরুষ নেককার হলেও। এ ছাড়াও ইতিপূর্বে গাইরে মাহরাম মহিলার সাথে একাকী মিলিত হওয়ার অবৈধতা সম্পর্কে একাধিক সহিহ ও প্রসিদ্ধ হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে।'³
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৮৪৪, সহিহু মুসলিম: ২৪৫৫।
২. ফাতহুল বারি: ৬/৫১।
৩. ইমাম মুসলিম কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১০।
📄 বিপদে পরস্পরকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়েছেন
আমর বিন হাজম (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যেকোনো মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিপদে তাকে সান্ত্বনা দান করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন।'¹
টিকাঃ
১. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৬০১।
📄 সান্ত্বনা দেওয়ার সময় কী বলবে, তা শিখিয়ে দিয়েছেন
উসামা বিন জাইদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে আমাকে এই সংবাদ নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠালেন যে, তার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, সুতরাং তিনি যেন তার নিকট যান। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম জানিয়ে বলে পাঠালেন:
'যা নিয়ে নিয়েছেন তা একান্ত আল্লাহর, আর যা দান করেছেন তাও তাঁর। তাঁর কাছে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট একটা সময়সীমা আছে। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা রাখে।'¹
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১২৮৪, সহিহু মুসলিম: ৯২৩।
📄 সাহাবিগণের কেউ রোগাক্রান্ত হলে বা ব্যথা পেলে তাকে ঝাড়ফুঁক করতেন
ইয়াজিদ বিন আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি সালামা (রা)-এর পায়ের জঙ্ঘায় একটি ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেলাম। তাই তাকে বললাম, "হে আবু মুসলিম, এটি কীসের আঘাত?" তিনি বললেন:
'এটি খাইবারের যুদ্ধে প্রাপ্ত আঘাতের চিহ্ন। (যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর) লোকজন বলাবলি শুরু করে দিল যে, সালামা (রা) আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তিনি আঘাতের ওপর তিনবার ফুঁ দিয়ে দিলেন। ফলে আজ পর্যন্ত এতে আমি কোনো ব্যথা অনুভব করিনি।'¹
আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় স্ত্রীকে সুরা নাস ও সুরা ফালাক পড়ে ডান হাত দ্বারা বুলিয়ে দিতেন এবং বলতেন:
'হে আল্লাহ, হে মানুষের রব, তার কষ্ট দূর করে দিন, আপনিই শিফা দানকারী। আপনি ব্যতীত কেউই শিফা দান করতে পারে না। আপনি তাকে এমন শিফা দান করুন, যেন কোনো রোগ বাকি না থাকে।'²
মুহাম্মাদ বিন হাতিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার হাতের ওপর গরম ঝোল পড়ে তা পুড়ে গেল। তখন আমার মা আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন। আমরা যখন তাঁর কাছে পৌঁছাই, তখন তিনি একটি খোলা মাঠে ছিলেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে যে, তিনি বললেন:
'কষ্ট দূর করুন, হে মানুষের প্রতিপালক!'
আর আমার প্রবল ধারণা যে, তিনি এও বলেছেন: 'আপনিই শিফাদাতা, আপনি ছাড়া আর কোনো শিফাদাতা নেই।'³
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৪২০৬।
২. সহিহুল বুখারি ৫৭৪৩, সহিহু মুসলিম: ২১৯১।
৩. সহিহু ইবনি হিব্বান: ২৯৭৬।