📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 রোগের সময় অস্থিরতা প্রকাশ করতে এবং গোলমন্দ করতে নিষেধ করতেন

📄 রোগের সময় অস্থিরতা প্রকাশ করতে এবং গোলমন্দ করতে নিষেধ করতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সায়িব (রা)-এর নিকট গিয়ে বললেন, "কী হলো সায়িবের মা, এত কাঁপছেন কেন?" তিনি বললেন, "ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বরকত না দিন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তুমি জ্বরকে গালি দিও না। কেননা, এটি আদম-সন্তানের পাপরাশি মোচন করে, কামারের চুল্লি যেভাবে দূর করে লোহার মরিচা।'¹
লোহাকে যখন আগুনে পোড়ানো হয়, তখন তার মরিচা দূর হয়ে স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে জ্বরের তাপ মানুষকে গুনাহের কদর্য থেকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করে তোলে।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইনকে রোগশয্যায় দেখতে গিয়ে বললেন:
'দুশ্চিন্তার কারণ নেই, এই জ্বর তোমাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করে তুলবে ইনশাআল্লাহ।'
বেদুইন লোকটি বললেন:
'আপনি জ্বরকে গুনাহ থেকে পবিত্রকারী বলছেন? তা কক্ষনো নয়; বরং এ তো এমন জ্বর, যা বয়োবৃদ্ধের ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং তাকে কবরের সাক্ষাৎ ঘটিয়ে ছাড়বে।'
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তা-ই হোক।”'²
মামার জাইদ বিন আসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, 'এর পরে লোকটি মারা গেলেন।'³
হাদিসে লক্ষণীয় বিষয়:
শাসক তার শাসিতদের মধ্যে একদম গ্রাম্য লোককেও তার রোগশয্যায় দেখতে যেতে পারেন। একইভাবে আলিম ব্যক্তি মূর্খ লোককে দেখতে যেতে পারেন, যাতে তাকে তার জন্য উপকারী বিষয় শিক্ষা দিতে পারেন এবং সবর করার প্রতি উৎসাহিত করতে পারেন। কারণ, তা না হলে আল্লাহর তাকদিরের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাঁর ক্রোধের শিকার হতে পারে সে।
অসুস্থ ব্যক্তির উচিত, কেউ উপদেশ দিলে তা উত্তমরূপে গ্রহণ করা এবং উপদেশদাতাকে উত্তম ভাষায় প্রত্যুত্তর করা।
অসুস্থ ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় অসুস্থতার কারণে গুনাহ ক্ষমা হওয়া ও যথাসময়ে তা সেরে যাওয়ার কথা বলা সুন্নাত। এবং তাকে শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়ে আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা থেকে বারণ করতে হবে। কেননা, অনেক সময় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার কারণেই আল্লাহ তাআলা শাস্তি দিয়ে থাকেন।⁴
ইবনুল জাওজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'প্রিয় মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। কেউ কাপড় ছিঁড়ে, কেউ শরীরে আঘাত করে এবং কেউ আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি অভিযোগ উত্থাপন করে এ শাস্তি পায়। আমি আশি ছুঁই ছুঁই এক বৃদ্ধকে দেখেছি। তিনি নিয়মিত জামাআত সহকারে নামাজ আদায় করতেন। একদিন তার মেয়ের ঘরের নাতি মারা গেল। তখন তিনি বললেন, "কাউকেই ডাকা উচিত নয়; কেননা, কেউই ডাকে সাড়া দেয় না।” অতঃপর বললেন, "আল্লাহ আমাদের প্রতি চরম অবিচার করেছেন। আমাদের কোনো সন্তানই তিনি বাকি রাখেননি।” তার এ কথা শুনে আমি বুঝতে পারলাম, এই ব্যক্তি নামাজ-দোয়া ও সকল ভালো কাজ আল্লাহর মারিফাত ও ইমানের তাড়নায় করে না; বরং তা নিজের অভ্যাস হিসেবে করে। এরাই সেই লোক, যারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে।'⁵

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২৫৭৫।
২. সহিহুল বুখারি: ৩৬১৬।
৩. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১৭/৪৮৩।
৪. ফাতহুল বারি: ১০/১১৯।
৫. আস-সুবাত ইনদাল মামাত: ১/৪১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিপদগ্রস্তকে মৃত্যুর কামনা করতে নিষেধ করতেন

📄 বিপদগ্রস্তকে মৃত্যুর কামনা করতে নিষেধ করতেন


আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। একান্ত তা করতে হলে সে যেন বলে, "হে আল্লাহ, আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখুন, যতক্ষণ জীবন আমার জন্য উপকারী হয়; আর তখন মৃত্যু দান করুন, যখন মৃত্যু আমার জন্য উপকারী হয়।"'¹
'কোনো ব্যক্তি বিপদে আক্রান্ত হলে'-সালাফের একদলের মতে এখানে দুনিয়াবি বিপদ উদ্দেশ্য। কারণ, তখন মৃত্যু কামনা করলে এটা আল্লাহর ফয়সালার প্রতি একপ্রকার অভিযোগের পর্যায়ে পড়ে। সুতরাং যদি আখিরাত-বিষয়ক কোনো বিপদে আক্রান্ত হয় বা দ্বীনের ওপর কোনো ফিতনার আশঙ্কা হয়, তখন মৃত্যু কামনা অবৈধ নয়।²
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসে স্পষ্টরূপে ক্ষুধা, শত্রুর যাতনা ইত্যাদি দুনিয়াবি কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করাকে মাকরুহ বলা হয়েছে। তবে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বিপদ বা ফিতনার আশঙ্কা করলে তখন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করতে কোনো সমস্যা নেই। এই হাদিসের মর্ম এটাই প্রমাণ করে।'³
এ জন্যই সালাফের মধ্য থেকে কেউ কেউ দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কায় মৃত্যু কামনা করেছেন। যেমন উমর বিন খাত্তাব (রা) তাঁর জীবনের শেষের দিকে বলেন:
'হে আল্লাহ, আমার বয়স অনেক হয়েছে, শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আমার প্রজাবৃন্দের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সুতরাং আপনি আমাকে আপনার সান্নিধ্যে ডেকে নিন, যাতে আমার দ্বারা আপনার কোনো আদেশ অমান্য না হয় এবং আপনার ইবাদতের প্রতি শৈথিল্য না আসে।'⁴
আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি আবু হুরাইরা (রা)-কে তার মৃত্যুশয্যায় দেখতে গেলাম এবং তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। অতঃপর বললাম, "হে আল্লাহ, আবু হুরাইরা (রা)-কে শিফা দান করুন।” তখন আবু হুরাইরা (রা) বললেন, "হে আল্লাহ, এই রোগ ফিরিয়ে নিয়েন না।” অতঃপর বললেন, "আবু সালামা, মৃত্যুর সুযোগ পেলে তা বরণ করে নেওয়াই শ্রেয়।” আমি বললাম, "হে আবু হুরাইরা, আমরা তো জীবনকে ভালোবাসি।” তিনি বললেন, 'সেই সত্তার শপথ-যার হাতে আবু হুরাইরা (রা)-এর প্রাণ, আলিমদের ওপর এমন একটি সময় আসবে, যখন মৃত্যু তাদের নিকট চকচকে স্বর্ণের চেয়ে প্রিয় হবে। তারা অন্য ভাইয়ের কবরের নিকট গিয়ে বলবে, "হায়, এর জায়গায় যদি আমিই হতাম এই কবরে!”'⁵
ইবনে আব্বাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত একটি মারফু হাদিসে এই মতের সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে আছে-
'আপনি যখন বান্দাদের ফিতনায় নিপতিত করতে চান, তখন আমাকে ফিতনায় নিপতিত না করে মৃত্যু দেবেন।'⁶

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৫৬৭১, সহিহু মুসলিম: ২৬৮০।
২. ফাতহুল বারি: ১০/১২৮।
৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৭/৮।
৪. মুয়াত্তা মালিক: ১৫৬০।
৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৮৫৮১।
৬. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৩৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মুসলমানকে জানিয়ে দিতেন, অসুস্থতায় কাটলেও দীর্ঘ জীবন নিয়ামত

📄 মুসলমানকে জানিয়ে দিতেন, অসুস্থতায় কাটলেও দীর্ঘ জীবন নিয়ামত


দীর্ঘ জীবন মুমিনের জন্য মঙ্গলজনক। কারণ, জীবন দীর্ঘ হলে নেক আমলের পরিমাণও বেশি হয়। এ সম্পর্কে আবু বাকরা (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানতে চাইলেন, "সর্বোত্তম ব্যক্তি কে?" তিনি উত্তরে বললেন:
'যার বয়স বেশি হয় এবং আমল উত্তম হয়।'
অতঃপর জানতে চাইলেন, "সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি কে?" তিনি বললেন:
'যার বয়স বেশি হয় এবং আমল মন্দ হয়।'¹
সুতরাং কোনো মুসলমান দুর্দশাগ্রস্ত হলে বা রোগাক্রান্ত হলে সে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না, যেন নেক আমলের ধারা বন্ধ হয়ে না যায়।
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর কামনা না করে। কেননা, হয়তো সে সৎকর্মশীল হবে; ফলে তার সৎকর্ম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশা আছে। অথবা সে মন্দ-কর্মশীল হবে, তখন সে তাওবা-ইসতিগফার করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার সম্ভাবনা আছে।'²
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে-
'তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে এবং তা আসার পূর্বেই তাকে না ডাকে। কেননা, মৃত্যুর পর আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়; আর মুমিনের বয়স তার জন্য কেবল উপকারই বৃদ্ধি করে।'³
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে সৎকর্মশীলকে তার সৎকর্মকে আরও বাড়ানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং মন্দকর্মশীলকে মন্দকর্মের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যেন বলেছেন, 'যে সৎকর্ম করে তার উচিত, মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করে আপন সৎকর্মের ওপর অটল থাকা এবং তাকে আরও সমৃদ্ধ করা। আর যে ব্যক্তি মন্দকর্ম করে তার উচিত, মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা এবং মন্দকর্ম থেকে ফিরে আসা, যেন মন্দকর্মের ওপর তার মৃত্যু না হয়।'⁴

টিকাঃ
১. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৩০।
২. সহিহুল বুখারি: ৭২৩৫।
৩. সহিহু মুসলিম: ২৬৮২।
৪. ফাতহুল বারি: ১৩/২২২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অস্থির হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে মৃত স্বজনের চেহারা না দেখতে বলেছেন

📄 অস্থির হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে মৃত স্বজনের চেহারা না দেখতে বলেছেন


সাফিয়‍্যা (রা)-কে তার ভাই হামজা (রা)-এর মৃতদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি।
উরওয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, আবু জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, 'উহুদের দিন এক মহিলা যুদ্ধে নিহতদের দেখতে দৌড়ে আসলেন। তিনি নিহতদের দেখতে পান, তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করলেন এবং বললেন, "মহিলাটিকে থামাও, মহিলাটিকে থামাও।” জুবাইর (রা) বলেন, "আমি চিনতে পারলাম, মহিলাটি আমার মাতা সাফিয়‍্যা (রা)। আমি দ্রুত তার দিকে ছুটে গেলাম এবং নিহতদের নিকট যাওয়ার পূর্বেই তাকে ধরে ফেললাম। তিনি বেশ শক্তিশালী মহিলা ছিলেন। আমার বক্ষে শক্ত একটা আঘাত করে বললেন, "সর সামনে থেকে!" আমি বললাম, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।” এ কথা শুনে তিনি থেমে গেলেন এবং দুটি কাপড় বের করে বললেন, "এ কাপড়দুটি আমার ভাই হামজা (রা)-এর জন্য এনেছি। আমি শুনেছি, সে নিহত হয়েছে। সুতরাং কাপড়দুটি দিয়ে তাকে কাফন দাও।” আমরা কাপড়দুটি দিয়ে তাকে কাফন পরানোর জন্য নিয়ে এলাম। এসে দেখতে পেলাম, তার পাশে আরেক আনসারি সাহাবির (রা) লাশ। তার সাথেও তা-ই ঘটেছে, যা হামজা (রা)-এর সাথে ঘটেছে। আমরা হামজা (রা)-কে দুই কাপড়ে কাফন দিয়ে আনসারি সাহাবিকে (রা) কাফনবিহীন রাখতে চরম লজ্জা অনুভব করলাম। কাজেই একটি হামজা (রা)-কে এবং অপরটি আনসারি সাহাবিকে (রা) পরানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। কাপড়দুটি একটি অপরটির চেয়ে বড় ছিল। সুতরাং যার জন্য যেটা মাপে খাটে, তাকে সেটাতেই কাফন দেওয়া হলো।"'¹
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উহুদের দিন (যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামজা (রা)-এর নিকট এসে দেখতে পেলেন, তাঁর লাশ বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। তখন তিনি বললেন:
'যদি সাফিয়্যার (রা) মনে কষ্টবোধ না হতো, তবে আমি তাঁর লাশ এভাবেই ছেড়ে রাখতাম। হিংস্র জন্তুরা এসে তা খেয়ে ফেলত, ফলে কিয়ামতের দিন তিনি এদের পেট থেকে উত্থিত হতেন।'
অতঃপর তিনি সাদা-কালো ডোরাকাটা একটি চাদর আনালেন এবং তাতেই হামজা (রা)-এর কাফন দিলেন। চাদরটি এত ছোট ছিল যে, মাথার দিকে টানলে তাঁর দুই পা খুলে যেত আর পায়ের দিকে টানলে মাথা খুলে যেত।'²
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামজা (রা)-এর লাশ কাফন-দাফন না করে বিকৃত অবস্থায় রেখে দেওয়ার ইচ্ছা এ জন্য পোষণ করেছিলেন যে, যেন তাঁর প্রতিদান পূর্ণাঙ্গ হয় এবং পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাঁর পুরো শরীর আল্লাহর পথে ব্যস্ত থাকে। অথবা এ বলে তিনি এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন যে, কাফিররা তাঁর শরীরকে বিকৃত করার কারণে তাঁর আজাব রহিত হয়ে গেছে। ফলে তাঁকে দাফন করা এবং না করা উভয়ই সমান।³

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৪২১।
২. সুনানুত তিরমিজি: ১০১৬।
৩. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৪/৮৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00