📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের পুরস্কারের সুসংবাদ শোনাতেন

📄 তাদের পুরস্কারের সুসংবাদ শোনাতেন


আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'মুসলমানের ওপর যে সকল যাতনা, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।'¹
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর শরীরে হাত বুলালাম এবং বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার তো খুব জ্বর!" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ, আমি এমন কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হই, যা তোমাদের দুজনের হয়ে থাকে।” আমি বললাম, "এটা কি এ জন্য যে, আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'হাঁ, ব্যাপারটি এমনই। কেননা, মুসলমান যখন বিপদে আক্রান্ত হয়, চাই একটি কাঁটা বিদ্ধ হওয়া কিংবা আরও ক্ষুদ্র কোনো বিপদই হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়।'²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৫৬৪২, সহিহু মুসলিম: ২৫৭৩।
২. সহিহুল বুখারি ৫৬৪৮, সহিহু মুসলিম: ২৫৭১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিপদে সবরের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিতেন

📄 বিপদে সবরের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, আম্মার (রা) ও তার পরিবারের লোকদের ওপর যখন অত্যাচার চালানো হচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন:
'আম্মার ও ইয়াসিরের পরিবার, সুসংবাদ গ্রহণ করো (অন্য বর্ণনায় : ইয়াসিরের পরিবার, সবর করো), কেননা এর বিনিময়ে তোমাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আছে।'¹
আতা বিন রাবাহ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমাকে ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, "আমি কি তোমাকে এক জান্নাতি মহিলা দেখাব না?" আমি বলি, "অবশ্যই দেখাবেন।” তিনি বলেন, "এই কৃষ্ণ বর্ণের মহিলাটি, যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলেছিল, "আমি অতর্কিত মৃগীরোগে আক্রান্ত হই এবং আমার লজ্জাস্থান অনাবৃত হয়ে পড়ে। আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।" তিনি বললেন:
'তুমি যদি চাও, সবর করে জান্নাত লাভ করতে পারো। আর যদি চাও আরোগ্য লাভ করতে, আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি।'
সে বলল, "আমি সবর করব। তবে, আপনি দোয়া করুন, যেন লজ্জাস্থান না খোলে।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দোয়া করলেন।'²
এ ছাড়াও অন্য এক হাদিসে আছে, 'দুনিয়ার বিপদাপদের ওপর ধৈর্য ধরলে জান্নাত অর্জিত হয়।'³
কবি বলেন:
'বিপদ যত বড়ই হোক এর মাধ্যমে কখনো আল্লাহ অনুগ্রহ করে থাকেন। আবার কখনো নিয়ামতের মাধ্যমেও আল্লাহ কাউকে পরীক্ষা করেন।'

টিকাঃ
১. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৫৬৬৬।
২. সহিহুল বুখারি: ৫৬৫২. সহিহু মুসলিম: ২৫৭৬।
৩. ফাতহুল বারি: ১০/১১৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পুরস্কারের সুসংবাদ শুনিয়ে সান্ত্বনা দান করতেন

📄 পুরস্কারের সুসংবাদ শুনিয়ে সান্ত্বনা দান করতেন


আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন, 'এক মহিলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার হাদিস তো কেবলমাত্র পুরুষরা শুনতে পায়। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিন, যেদিন আমরা আপনার নিকট আসব, আল্লাহ আপনাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে আপনি আমাদের শিক্ষা দেবেন।” তিনি বললেন, "তোমরা অমুক অমুক দিন অমুক অমুক স্থানে (নির্দিষ্ট দিনে) সমবেত হবে।” তারপর তাদের কাছে এলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাঁকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তাদের শিক্ষা দিলেন এবং বললেন:
'তোমাদের কেউ যদি তার সন্তানদের মধ্য থেকে তিন সন্তান আগে পাঠিয়ে দেয় (মৃত্যুবরণ করে), তাহলে এ সন্তানরা তার জাহান্নামে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।'
তাদের মধ্য থেকে একজন মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, যদি দুজন হয়?" বর্ণনাকারী বলেন, "মহিলা কথাটি পরপর দুবার জিজ্ঞেস করলেন।” তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "দুজন হলেও, দুজন হলেও, দুজন হলেও।"'¹
আবু হাসসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি আবু হুরাইরা (রা)-কে বললাম, "আমার দুটি পুত্র সন্তান মারা গেছে। আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরফ থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করবেন, যাতে আমরা মৃতদের ব্যাপারে অন্তরে সান্ত্বনা পেতে পারি?" তিনি বললেন:
'হাঁ, তাদের জন্য তাদের ছোট সন্তানরা জান্নাতের প্রজাপতি তুল্য। তাদের কেউ তার পিতার সঙ্গে মিলিত হবে, অথবা (তিনি বলেছেন,) পিতামাতা উভয়ের সাথে মিলিত হবে। এরপর তার পরিধানের বস্ত্র কিংবা হাত ধরবে, যেভাবে এখন আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরছি। এরপর আর বিরত হবে না, অথবা (তিনি বলেছেন,) এরপর আর ছাড়বে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।'²
আবু মুসা আশআরি (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
'যখন কোনো বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন, "তোমরা আমার বান্দার সন্তানের জান কবজ করে নিয়ে এসেছ?” তারা বলেন, "হাঁ।” আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা তার হৃদয়ের ফসল কেড়ে নিয়ে এসেছ?” তারা বলেন, "হাঁ।” আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দা কী বলেছে?” তারা বলেন, "সে আপনার প্রশংসা করেছে এবং "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়েছে।" আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করো এবং তার নামকরণ করো বাইতুল হামদ বা প্রশংসালয়।"'³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১০২, সহিহু মুসলিম: ২৬৩৪।
২. সহিহু মুসলিম: ২৬৩৫।
৩. সুনানুত তিরমিজি: ১০২১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিপদগ্রস্তকে অপেক্ষাকৃত কঠিন বিপদের কথা বলে সান্ত্বনা দিতেন

📄 বিপদগ্রস্তকে অপেক্ষাকৃত কঠিন বিপদের কথা বলে সান্ত্বনা দিতেন


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও লোকদের মাঝখানের দরোজা খুলে অথবা পর্দা তুলে দেখলেন যে, লোকজন আবু বকর (রা)-এর পেছনে নামাজ পড়ছে। তিনি তাদের উক্ত অবস্থায় দেখে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং আশা করলেন যে, আল্লাহ যেন আবু বকর (রা)-কে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেন, যেভাবে তিনি তাদের দেখতে পেয়েছেন। এরপর তিনি বললেন:
'হে লোকসকল, কোনো লোকের ওপর অথবা কোনো মুমিনের ওপর বিপদ আসলে সে যেন অপরের ওপর আপতিত বিপদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে; বরং আমার ওপর আপতিত বিপদের কোনো কথা স্মরণ করে সান্ত্বনা লাভ করে। কেননা, আমার পরে আমার কোনো উম্মতের ওপর আমার বিপদের তুলনায় কঠিন বিপদ আপতিত হবে না।'¹
কবি বলেন:
'প্রতিটি বিপদে ধৈর্য ধরো এবং মনোবল অটুট রাখো। মনে রাখো, কোনো মানুষই এখানে চিরস্থায়ী থাকার জন্য আসেনি। বিপদের স্মরণ বিপদের সময় সান্ত্বনা দেয়। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আপতিত বিপদের কথা স্মরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর।'

টিকাঃ
১. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৫৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00