📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 রমাজান মাসে আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুমকে দ্বিতীয় আজানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন

📄 রমাজান মাসে আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুমকে দ্বিতীয় আজানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন


আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'বিলাল (রা) রাতে আজান দেয়। তাই (সে আজান দিলেও) তোমরা খানাপিনা করতে পারবে, যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) আজান দেয়।' অতঃপর ইবনে উমর (রা) বলেন, 'তিনি (ইবনে উম্মে মাকতুম রা) ছিলেন অন্ধ। এবং তিনি তখনই আজান দিতেন, যখন তাকে বলা হতো, "ফজর হয়েছে, ফজর হয়েছে।”'¹
আয়িশা (রা) বলেন, 'ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আজান দিতেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ।'²
আরেক রিওয়ায়াতে আছে, 'ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ।'³
প্রতিবন্ধীদের শক্তি কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া দেখুন। একজন অন্ধ ব্যক্তি আজান দিয়েছেন, ইমামতি করেছেন এবং ইমারতের শাসনভার সামলেছেন।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৬১৭, সহিহু মুসলিম ১০৯২।
২. সহিহু মুসলিম: ৩৮১।
৩. সুনানু আবি দাউদ: ৫৩৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের কষ্ট দেওয়া ব্যাপারে সতর্ক করতেন

📄 তাদের কষ্ট দেওয়া ব্যাপারে সতর্ক করতেন


ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যে নিজের পিতাকে গালি দেয়, সে অভিশপ্ত; যে নিজের মাতাকে গালি দেয়, সে অভিশপ্ত; যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত; যে জমিনের চিহ্ন ও সীমা পরিবর্তন করে, সে অভিশপ্ত; যে অন্ধকে ভুল পথ দেখায়, সে অভিশপ্ত; যে জন্তুর সাথে ব্যভিচার করে, সে অভিশপ্ত এবং যে লুত (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মতো কাজ (সমকামিতা) করে, সে অভিশপ্ত।'¹

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৮৭৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 প্রতিবন্ধীর অসিলায় আল্লাহর সাহায্য আসে

📄 প্রতিবন্ধীর অসিলায় আল্লাহর সাহায্য আসে


সাদ (রা) অধীনস্থদের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
'তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক দেওয়া হয় কেবল তোমাদের দুর্বল শ্রেণির লোকদের বদৌলতে।'¹
এ হাদিস থেকে বোঝা গেল, সমাজে দুর্বল, নিঃস্ব ও অসহায় লোকদের উপস্থিতি সমাজের জন্য বিরাট রহমত ও আশীর্বাদ। তারা সমাজে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ প্রবেশ করার দরোজাস্বরূপ। তাদের সাথে সদাচরণ, তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও তাদের সহায়তা করার মাধ্যমে এ কল্যাণ অর্জিত হয়। এ ছাড়াও এই দুর্বল শ্রেণির দোয়া মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমত, সাফল্য ও মর্যাদা বয়ে আনে।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৮৯৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বোকামি ক্ষমা করতেন

📄 বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বোকামি ক্ষমা করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষমা ও সহনশীলতার অনুপম নুমনা পাওয়া যায় এই ঘটনায় :
'একদা সৈন্যবাহিনী নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো অভিযানে যাচ্ছিলেন। মারবা বিন কাইজি নামক জনৈক অন্ধ মুনাফিকের শস্যখেত হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তার দেওয়াল অতিক্রম করার সময় সে বলল, "হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তুমি যদি নবি হও (নবি হওয়ার দাবি করো), তবে তোমাকে আমার দেওয়াল অতিক্রম করার অনুমতি দেবো না।” একমুষ্টি মাটি নিয়ে সে বলল, "আল্লাহর কসম, আমি যদি জানতাম, এই মাটি শুধু তোমার ওপরই পড়বে, তখন আমি তা তোমার প্রতি ছুড়ে মারতাম।" তার এ ঔদ্ধত্য দেখে সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তাকে ছেড়ে দাও। বেচারার কলব ও চোখ দুটোই অন্ধ।'¹
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করার আদেশ দেননি। এমনকি, তাকে সামান্য কষ্টও দেননি। অথচ তখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তাদের মাঝে জিহাদি জজবা ও উত্তেজনা তখন পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। এর কারণ হলো, প্রতিবন্ধী ও দুর্বল শ্রেণির লোকদের ওপর শক্তি প্রদর্শন করা মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর শান নয়।

টিকাঃ
১. সিরাতু ইবনি হিশাম ৩/৫৭, জাদুল মাআদ: ৩/১৭২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00