📄 তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতেন
উহুদ যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার বাইরে গিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, না মদিনার ভেতর থেকে তাদের প্রতিহত করবে-এ ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। অতঃপর এক হাজার সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিয়ে মদিনার বাইরে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন মদিনায় যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তাদের নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করলেন আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম (রা)-এর কাঁধে।¹
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম (রা)-কে মদিনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেছিলেন, যেন তিনি মদিনার লোকদের নিয়ে ইমামতি করেন।
আনাস বিন মালিক (রা) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-কে দুবার মদিনায় নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন, যেন তিনি লোকদের নিয়ে নামাজ পড়েন। অথচ তিনি ছিলেন অন্ধ।'²
টিকাঃ
১. সিরাতু ইবনি হিশাম ২/৬৩।
২. সুনানু আবি দাউদ: ২৯৩১, মুসনাদু আহমাদ: ১১৯৩৫।
📄 রমাজান মাসে আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুমকে দ্বিতীয় আজানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'বিলাল (রা) রাতে আজান দেয়। তাই (সে আজান দিলেও) তোমরা খানাপিনা করতে পারবে, যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) আজান দেয়।' অতঃপর ইবনে উমর (রা) বলেন, 'তিনি (ইবনে উম্মে মাকতুম রা) ছিলেন অন্ধ। এবং তিনি তখনই আজান দিতেন, যখন তাকে বলা হতো, "ফজর হয়েছে, ফজর হয়েছে।”'¹
আয়িশা (রা) বলেন, 'ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য আজান দিতেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ।'²
আরেক রিওয়ায়াতে আছে, 'ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। আর তিনি ছিলেন অন্ধ।'³
প্রতিবন্ধীদের শক্তি কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া দেখুন। একজন অন্ধ ব্যক্তি আজান দিয়েছেন, ইমামতি করেছেন এবং ইমারতের শাসনভার সামলেছেন।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৬১৭, সহিহু মুসলিম ১০৯২।
২. সহিহু মুসলিম: ৩৮১।
৩. সুনানু আবি দাউদ: ৫৩৫।
📄 তাদের কষ্ট দেওয়া ব্যাপারে সতর্ক করতেন
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যে নিজের পিতাকে গালি দেয়, সে অভিশপ্ত; যে নিজের মাতাকে গালি দেয়, সে অভিশপ্ত; যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত; যে জমিনের চিহ্ন ও সীমা পরিবর্তন করে, সে অভিশপ্ত; যে অন্ধকে ভুল পথ দেখায়, সে অভিশপ্ত; যে জন্তুর সাথে ব্যভিচার করে, সে অভিশপ্ত এবং যে লুত (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মতো কাজ (সমকামিতা) করে, সে অভিশপ্ত।'¹
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৮৭৫।
📄 প্রতিবন্ধীর অসিলায় আল্লাহর সাহায্য আসে
সাদ (রা) অধীনস্থদের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
'তোমাদের সাহায্য করা হয় এবং রিজিক দেওয়া হয় কেবল তোমাদের দুর্বল শ্রেণির লোকদের বদৌলতে।'¹
এ হাদিস থেকে বোঝা গেল, সমাজে দুর্বল, নিঃস্ব ও অসহায় লোকদের উপস্থিতি সমাজের জন্য বিরাট রহমত ও আশীর্বাদ। তারা সমাজে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ প্রবেশ করার দরোজাস্বরূপ। তাদের সাথে সদাচরণ, তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও তাদের সহায়তা করার মাধ্যমে এ কল্যাণ অর্জিত হয়। এ ছাড়াও এই দুর্বল শ্রেণির দোয়া মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমত, সাফল্য ও মর্যাদা বয়ে আনে।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৮৯৬।