📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের কল্যাণ ও মঙ্গলের দিক দেখিয়ে দিতেন

📄 তাদের কল্যাণ ও মঙ্গলের দিক দেখিয়ে দিতেন


আবু হুরাইরা (রা) বলেন:
'এক অন্ধ ব্যক্তি (আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো লোক নেই।” তারপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিজ ঘরে নামাজ পড়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। লোকটি চলে যেতে উদ্যত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডেকে বললেন, "তুমি কি নামাজের আজান শুনতে পাও?" তিনি বললেন, "হাঁ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে তুমি আজানে সাড়া দেবে (জামাআতে হাজির হবে)।"'¹
এই হাদিস প্রমাণ করে, জামাআতে হাজির হওয়া ওয়াজিব। যদি ওয়াজিব না হতো, তবে ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর মতো অন্ধ লোকদের জামাআতে না আসার অবকাশ দেওয়া হতো।²
ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর হাদিস ও ইতবান বিন মালিক (রা)-এর হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। কারণ, ইতবান বিন মালিক (রা)-কে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-কে দেওয়া হয়নি। এর সমাধানকরণে কেউ কেউ বলেছেন, ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর বাড়ি মসজিদের নিকটবর্তী ছিল আর ইতবান বিন মালিক (রা)-এর বাড়ি অনেক দূরে ছিল। এ জন্যই ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর ব্যাপারে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি ইকামত শুনতে পেতেন। আবার এটাও হতে পারে যে, ইতবান (রা)-এর বাড়ির যে স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন, ওই স্থানকে তিনি গতানুগতিক মসজিদে রূপান্তর করেছিলেন, তাতে যথারীতি আজান ও ইকামতের মাধ্যমে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের লোকদের নিয়ে নামাজের জামাআত অনুষ্ঠিত হতো। সুতরাং বাড়ির মসজিদ হলেও সেটি নিয়মিত একটি জামাআতের মসজিদের রূপ পরিগ্রহ করেছিল। পক্ষান্তরে, ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) নিজ বাড়িতে একাকী নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। ফলে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। হাদিসদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় সাধনে এই মতটিই অধিক যথার্থ মনে হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।'³
অনুরূপভাবে বলা যায়, ইতবান (রা) একে তো দুর্বল দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন, তদুপরি তাকে পানি জমে যাওয়া একটি নিম্নভূমি অতিক্রম করে মসজিদে গমন করতে হতো। ফলে তাতে শুধু ক্ষতির আশঙ্কা ছিল তা নয়; বরং নিম্নভূমিটি অতিক্রম করা অসম্ভব ছিল। কিন্তু ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়া সে তুলনায় অনেক সহজ ছিল।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ৬৫৩।
২. আওনুল মাবুদ: ২/২৫৭।
৩. ইবনুল আনবারি কৃত ফাতহুল বারি: ২/৩৯২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন

📄 তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন


আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত-
'এক মহিলার বুদ্ধিতে কিছুটা ত্রুটি ছিল। তিনি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার সাথে আমার প্রয়োজন আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে অমুকের মা, তুমি যেকোনো গলি দেখে নাও, (তুমি ডাক দিলে সেখানে) আমি তোমার কাজ করে দেবো।” তারপর তিনি কোনো পথে মহিলাটির সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করে তাকে প্রয়োজনমুক্ত করে দিলেন।'¹
(তিনি কোনো পথে মহিলাটির সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করলেন) হাদিসের এই অংশের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তিনি চলার পথে মহিলাটির জন্য দাঁড়ালেন, যেন তার প্রয়োজন পূরণ করে দিতে পারেন এবং গোপনে তাকে সমাধান শুনিয়ে দিতে পারেন। এটা গাইরে মাহরাম মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বনের পর্যায়ে পড়ে না। কেননা, এই সাক্ষাৎ সংঘটিত হয়েছে মানুষের চলার পথে। মানুষজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মহিলাটিকে দেখতে পাচ্ছিল। শুধু তাদের কথা শোনা যাচ্ছিল না এই যা! কারণ, মহিলার উক্ত ব্যাপারটি প্রকাশ করার মতো ছিল না। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।'²
এই ঘটনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহনশীলতা ও বিনয়ের প্রমাণ বহন করে এবং প্রয়োজনগ্রস্তদের প্রয়োজন পূরণে তাঁর অতুলনীয় ধৈর্যের সাক্ষ্য দেয়।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২৩২৬।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহিল মুসলিম: ১৫/৮৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অন্ধ ব্যক্তির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সতর্ক করেন

📄 অন্ধ ব্যক্তির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সতর্ক করেন


একাধিক মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কুরাইশের এক শীর্ষস্থানীয় লোকের সাথে কথা বলছিলেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের আশা করছিলেন। তখনই সেখানে ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) আগমন করলেন। তিনি ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এসেই তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলেন এবং উত্তর জানতে খুব পীড়াপীড়ি করলেন। এদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ লোকটার হিদায়াতের আশা করছিলেন বিধায় তিনি চাইছিলেন ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুক, যাতে তিনি লোকটার সাথে স্থিরমনে কথা বলতে পারেন। ফলে ইবনে উম্মে মাকতুম (রা)-এর আচরণে তাঁর ভ্রূকুঞ্চিত হলো এবং তিনি মুখ ফিরিয়ে লোকটার প্রতি মনোনিবেশ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করলেন:
'তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো (তার আত্মিক পরিশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জিত হতো), অথবা উপদেশ গ্রহণ করত এবং উপদেশ তার উপকার হতো (এই উপকার তাকে হারাম কর্ম থেকে বিরত রাখত)। পরম্ভ যে বেপরোয়া, আপনি তার চিন্তায় মশগুল (যেন সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়)। সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোনো দোষ নেই (তার পরিশুদ্ধি না হলে আপনি জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন না)। যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে (অর্থাৎ আপনার কথার দ্বারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে আসলো), আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন।'¹
সেদিন থেকে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নির্দেশ দিলেন, কাউকে যেন বিশেষভাবে ভীতিপ্রদর্শন না করেন। বরং উপদেশদান ও ভীতিপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে অভিজাত বংশ ও নিম্ন বংশ, ধনী ও গরিব, মনিব ও গোলাম, পুরুষ ও মহিলা, ছোট ও বড়-সবার মাঝে যেন সমতা বিধান করেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সিরাতে মুসতাকিমের ওপর পরিচালিত করবেন। তাঁর কাছেই আছে চূড়ান্ত প্রজ্ঞা ও অকাট্য দলিল।²
এর পর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সম্মান করতেন।
আয়িশা (রা) বলেন:
"'আবাসা' সুরাটি ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছিল। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে সঠিক পথ-নির্দেশ দান করুন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মুশরিকদের শীর্ষস্থানীয় এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। তাই তিনি তাকে উপেক্ষা করে অন্য একজনের দিকে মনোযোগী হয়ে লোকটিকে বলেছিলেন, "আপনি আমার বক্তব্যে দোষের কিছু দেখেছেন কি?" লোকটি বলেছিল, "না।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুরাটি নাজিল হয়।"³

টিকাঃ
১. সুরা আবাসা, ৮০: ১-১০।
২. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৪/৫৬৮।
৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩৩৩১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের জন্য সব বিষয় সহজ করে দিতেন

📄 তাদের জন্য সব বিষয় সহজ করে দিতেন


জাইদ বিন সাবিত (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দিয়ে ওহির এই অংশটুকু লেখান (لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ..) : মুমিন ঘরে বসে থাকে আর যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তারা সমান নয় ...।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে দিয়ে এই আয়াতটি লেখাচ্ছিলেন, তখন ইবনে উম্মে মাকতুম (রা) সেখানে এলেন। তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সামর্থ্য থাকলে আমি অবশ্যই জিহাদ করতাম।” তিনি অন্ধ ছিলেন। তারপর আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি নাজিল করলেন। তখন তাঁর উরু ছিল আমার উরুর ওপর। তাঁর উরু মুবারক আমার এতটা ভারী অনুভূত হলো-আমার আশঙ্কা হলো যে, আমার উরু থেঁতলে যাবে। তারপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো (অর্থাৎ ওহি অবতরণ শেষ হলো)। আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন : (غَيْرَ أَوْلِي الضَّرَرِ) - “যাদের কোনো ওজর নেই।”'¹
বিশেষ বিশেষ সমস্যাগ্রস্তদের জন্য বিধান কিছুটা সহজ করে আল্লাহ ইরশাদ করেন:
'অন্ধের জন্য, খোঁড়ার জন্য ও রুণের জন্য কোনো অপরাধ নেই এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুগত্য করবে, তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।'²
সুতরাং জিহাদের বাধ্যবাধকতা তাদের জন্য আর প্রযোজ্য রইল না। তবে তাদের কেউ স্বেচ্ছায় জিহাদ করতে চাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করতেন না।
বনু সালামার কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, 'আমর বিন জামুহ (রা) মারাত্মক পর্যায়ের খোঁড়া ছিলেন। তার সিংহের মতো চারজন ছেলে ছিলেন, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিভিন্ন অভিযানে শরিক হতেন। উহুদ যুদ্ধের ডাক এলে তার সন্তানরা তাকে যুদ্ধে যেতে বাধা দিতে চাইল। তারা বললেন, "আল্লাহ তাআলা আপনাকে সামর্থ্য দেননি।” তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "আমার ছেলেরা আমাকে এই অভিযান ও আপনার সাথে বের হতে বাধা দিচ্ছে। অথচ আল্লাহর কসম, আমি আমার এই খোঁড়া পা নিয়ে জান্নাতের দিকে এগোতে চাই।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তোমাকে আল্লাহ তাআলা অপারগ করেছেন, সুতরাং তোমার ওপর জিহাদ করা বাধ্যতামূলক নয়।'
আর তার ছেলেদের বললেন:
'তাকে বাধা না দিলে তোমাদের কোনো সমস্যা হবে না। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাকে শাহাদাত নসিব করবেন।'
অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলেন এবং উহুদ যুদ্ধে শহিদ হলেন।'³
আবু কাতাদাহ (রা) বর্ণনা করেন, 'আমর বিন জামুহ (রা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি যদি আল্লাহর পথে কিতাল করে শহিদ হয়ে যাই, তখন জান্নাতে সুস্থ পা (তিনি খোঁড়া ছিলেন) নিয়ে চলতে পারব?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।” অতঃপর উহুদের দিনে তিনি তার ভাইপো ও গোলামসহ শহিদ হয়ে গেলেন। এরপর তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি যেন তোমাকে সুস্থ পা নিয়ে জান্নাতে বিচরণ করতে দেখছি।"'⁴
অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা সমাজের লোকদেরকে তাদের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ, সমাজ যদি খাওয়া-দাওয়া ও মেলামেশা করার ক্ষেত্রে তাদের এড়িয়ে চলে, তখন তারা মানসিকভাবে কষ্ট পাবে। এ জন্য তাদের সাথে মেলামেশা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন:
'অন্ধের জন্য দোষ নেই, খঞ্জের জন্য দোষ নেই, রোগীর জন্য দোষ নেই এবং তোমাদের নিজেদের জন্যও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে... '⁵
ইবনে জারির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই আয়াতের তাফসিরে মুফাসসিরগণের বিভিন্ন মত রয়েছে। কারও মতে, এই আয়াতে মুসলমানদেরকে অন্ধ, খোঁড়া, রোগী ইত্যাদি শ্রেণির সাথে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কারণ, মুসলমানরা তাদের সাথে খাওয়া থেকে বিরত থাকত এই ভেবে যে, তাদের সাথে খেলে তাদের অংশের খানাও খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে নিষেধ করেছেন:
'হে ইমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয়, তা বৈধ।'⁶-⁷
জাহহাক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নবুওয়াতের পূর্বে মদিনাবাসী অন্ধ ও রোগীদের সাথে একসাথে বসে খাবার খেত না। কেউ কেউ বলত, তাদের সাথে ময়লা-আবর্জনা ও ঘৃণিত বিষয় থাকে (তাই তাদের সাথে খাওয়া যাবে না)। আর কেউ বলত, 'অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তির মতো পূর্ণভাবে খাবার খেতে পারে না, খোঁড়া ব্যক্তি খাওয়া-দাওয়ার সময়কার ভিড় সহ্য করতে পারে না এবং অন্ধ ব্যক্তি ভালো খাবার দেখতে পায় না (এ জন্য তাদের সাথে একসাথে খেলে খাবারের পরিমাণে তারতম্য হয়ে তাদের ওপর জুলুম হতে পারে)। তখন আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন:
'তাতে তোমাদের কোনো দোষ নেই।'⁸
অর্থাৎ অসুস্থ, অন্ধ ও খোঁড়াদের সাথে একসাথে খেতে কোনো সমস্যা নেই।⁹

টিকাঃ
১. এই অংশটুকু নাজিল হওয়ার পর পুরো আয়াতটি দাঁড়ালো - (লা ইয়াসতাউইল কায়িদুনা মিনাল মুমিনিনা গাইরু উলিল দারারি ওয়াল মুজাহিদুন ফি সাবিলিল্লাহ) 'যেসব ইমানদার অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে, তারা এবং নিজেদের জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীরা সমান হতে পারে না ...।' (অনুবাদক)
২. সহিহুল বুখারি: ২৮৩২, সহিহু মুসলিম: ১৮৯৮।
৩. সুরা আল-ফাতহ, ৪৮: ১৭।
৪. সিরাতু ইবনি হিশাম: ৪/৪০।
৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২৬০।
৬. সুরা আন-নুর: ৬১।
৭. সুরা আন-নিসা: ২৯।
৮. তাফসিরু ইবনি জারির: ১৯/২১৯।
৯. সুরা আন-নুর: ৬১।
১০. তাফসিরু ইবনি জারির: ১৯/২১৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00