📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিম ভুল করলে কাউকে প্রথমকাতেইও দিতেন না

📄 খাদিম ভুল করলে কাউকে প্রথমকাতেইও দিতেন না


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'দশ বছর যাবৎ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করেছি। এ দীর্ঘ সময়ে কখনো এমন হয়নি যে, তিনি আমাকে কোনো কাজের আদেশ করেছেন আর আমি তাতে শিথিলতা করেছি বা তা বরবাদ করে দিয়েছি, ফলে তিনি আমাকে গালি দিয়েছেন। তদুপরি, আমার পরিবারের কেউ আমাকে গালি দিলে তিনি বলতেন, "তাকে ছেড়ে দাও। তাকদিরে যা হওয়ার ছিল, তা-ই হয়েছে (এতে তার কী দোষ)।”'¹

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৩০০৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিম অপছন্দ হলে জুলুম হওয়ার ভয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলতেন

📄 খাদিম অপছন্দ হলে জুলুম হওয়ার ভয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলতেন


আবু জার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'দাস-দাসীদের মধ্যে যার কাজকর্ম তোমাদের পছন্দ হয়, তাকে সেই মানের খাবার খাওয়াও, যেই মানের খাবার তোমরা খাও এবং সেই মানের পোশাক পরিধান করাও, যেই মানের পোশাক তোমরা পরিধান করো। আর তাদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো না লাগে, তাকে বিক্রি করে দাও এবং আল্লাহর মাখলুককে (অনর্থক) শাস্তি দিয়ো না।'¹
সুতরাং কোনো ড্রাইভার বা কর্মচারী যদি মনমতো না হয় বা তার সাথে কোনোভাবে মানিয়ে চলা সম্ভব না হয়, তবে তাকে বিদায় করে দেওয়া ভালো। এতে তার প্রতি অন্যায় ও তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে।

টিকাঃ
১. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৬১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমকে কখনো মারধর করেননি

📄 খাদিমকে কখনো মারধর করেননি


আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো খাদিম বা স্ত্রীকে কখনো প্রহার করেননি।'¹

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২৩২৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অন্যদেরকেও মারধর করতে নিষেধ করতেন

📄 অন্যদেরকেও মারধর করতে নিষেধ করতেন


আবু মাসউদ বদরি (রা) বলেন, 'একদা আমি আমার এক গোলামকে বেত দিয়ে পেটাচ্ছিলাম। তখন পেছন থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম, "জেনে রাখো হে আবু মাসউদ!" রাগের কারণে শব্দটি আমি বুঝতে পারিনি। যখন তিনি আমার আরও কাছে চলে আসলেন, তখন বুঝতে পারলাম, এ তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই শব্দ। তিনি বলছিলেন, "জেনে রাখো হে আবু মাসউদ! জেনে রাখো হে আবু মাসউদ...!" আমি বেতটি হাত থেকে ফেলে দিলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন:
'জেনে রাখো হে আবু মাসউদ, এই গোলামের ওপর তুমি যে পরিমাণ শক্তি রাখো, আল্লাহ তাআলা তোমার ওপর তার চেয়ে অধিক শক্তি রাখেন।'
আমি বললাম, "আজকের পর থেকে আমি কোনো গোলামকে প্রহার করব না।"'
অপর বর্ণনায় এসেছে, 'আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর জন্য একে আজাদ করে দিলাম।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'যদি তুমি তা না করতে, তবে জাহান্নাম তোমাকে জ্বালিয়ে দিত অথবা (বললেন,) আগুন তোমাকে গ্রাস করত।'¹
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে দাস-দাসীর প্রতি নম্রতা অবলম্বন, তাদের ক্ষমা করে দেওয়া ও রাগ সংবরণ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা যেরূপ তাঁর বান্দাদের ওপর কর্তৃত্ব চালান, সেরূপ কর্তৃত্ব নিজের মালিকানাধীন দাস-দাসীর ওপর চালানোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।'²
অধীনস্থ চাকর-বাকর ও শ্রমিকের ওপর জুলুম করা, তাদের গায়ে হাত তোলা, কটু কথা বলা বা অবজ্ঞা করা কোনো বাহাদুরি নয়। তাই তাদের প্রতি এ ধরনের কোনো জুলুম প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে সাথে সাথে আপনার ওপর আল্লাহর কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করুন।
বর্তমান সময়ে সমাজে অধীনস্থ চাকর-বাকর ও শ্রমিকদের প্রতি যে রূঢ় আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে, তা স্পষ্ট জুলুম। মানুষ ইনসাফ ও ন্যায় থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে এসব প্রকাশ পাচ্ছে। আমাদের স্মরণ রাখা উচিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত শক্তিধর ও সাহসী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অধীনস্থ খাদিম ও স্ত্রী প্রভৃতির প্রতি কখনো অবজ্ঞা প্রদর্শন করেননি এবং কখনো তাদের প্রহার করেননি।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ১৬৫৯।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00