📄 খাদিম কাজে দেরি করলে শাস্তি দিতেন না
আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বাধিক উত্তম চরিত্রের অধিকারী। একদিন তিনি আমাকে কোনো কাজে পাঠালেন। আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি যাব না", কিন্ত আমার অন্তরে ছিল, যে কাজে যাওয়ার জন্য আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, সে কাজে আমি যাবই। তাই আমি বেরিয়ে পড়লাম এবং বাজারে খেলায় রত ছেলেপেলেদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন থেকে এসে আমার ঘাড় ধরলেন।'
আনাস (রা) বলেন, 'আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম। তিনি হাসছিলেন। বললেন, "হে উনাইস, তুমি কি ওখানে গিয়েছিলে, যেখানে তোমাকে যেতে বলেছিলাম?” আমি বললাম, "জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।”'¹
টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২৩১০।
📄 খাদিমের প্রতি খুবই উদার ছিলেন
আনাস বিন মালিক (রা) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর কোনো খাদিম ছিল না। আবু তালহা (রা) যখন মদিনায় আসলেন, আমার হাত ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমাকে নিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আনাস খুব বিচক্ষণ বালক। তাকে আপনার খাদিম হিসেবে গ্রহণ করুন।"'
আনাস (রা) বলেন, 'এরপর থেকে নয় বছর বা দশ বছর পর্যন্ত ঘরে বা সফরে আমি তাঁর খিদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে "উফ” বলেননি। আমি কোনো (ভুল) কাজ করলে কখনো বলেননি, "তুমি এমন কাজ কেন করেছ?" আর কোনো কাজ না করলে আমাকে বলেননি, "এই কাজ কেন করোনি?"'
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'আমার থেকে কোনো কাজ ছুটে গেলে তিনি কখনো বলেননি, "এটা ছুটে গেছে কেন?"'¹
দশ বছর নিছক কয়েকটি দিন বা মাসের সমষ্টি নয়; বরং অনেক দীর্ঘ একটা সময়। এ সময়ে মানুষের মানসিক অবস্থার কত পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাকে ধমকাননি কিংবা শাসাননি।
লক্ষণীয় বিষয়:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সহনশীলতা, ক্ষমা ও সকল উন্নত গুণাবলির মূর্তপ্রতীক।
খাদিমের কোনো ভুল হয়ে গেলে তাকে শাস্তি না দেওয়া উচিত। কারণ, শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে সে আপনার কথা মানতে চাইবে না।
খাদিমের ভুলের কারণে তাকে শাস্তি না দিয়ে তার মন জয় করে নেওয়া ভালো। তবে শরিয়তের আবশ্যকীয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রে অবহেলা করলে ক্ষমা করা যাবে না। কেননা, তখন বিষয়টা সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের আওতায় পড়ে।²
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৭৬৮, সহিহু মুসলিম: ২৩০৯।
২. ফাতহুল বারি: ১০/৪৬০।
📄 খাদিম ভুল করলে কাউকে প্রথমকাতেইও দিতেন না
আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'দশ বছর যাবৎ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করেছি। এ দীর্ঘ সময়ে কখনো এমন হয়নি যে, তিনি আমাকে কোনো কাজের আদেশ করেছেন আর আমি তাতে শিথিলতা করেছি বা তা বরবাদ করে দিয়েছি, ফলে তিনি আমাকে গালি দিয়েছেন। তদুপরি, আমার পরিবারের কেউ আমাকে গালি দিলে তিনি বলতেন, "তাকে ছেড়ে দাও। তাকদিরে যা হওয়ার ছিল, তা-ই হয়েছে (এতে তার কী দোষ)।”'¹
টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৩০০৫।
📄 খাদিম অপছন্দ হলে জুলুম হওয়ার ভয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলতেন
আবু জার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'দাস-দাসীদের মধ্যে যার কাজকর্ম তোমাদের পছন্দ হয়, তাকে সেই মানের খাবার খাওয়াও, যেই মানের খাবার তোমরা খাও এবং সেই মানের পোশাক পরিধান করাও, যেই মানের পোশাক তোমরা পরিধান করো। আর তাদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো না লাগে, তাকে বিক্রি করে দাও এবং আল্লাহর মাখলুককে (অনর্থক) শাস্তি দিয়ো না।'¹
সুতরাং কোনো ড্রাইভার বা কর্মচারী যদি মনমতো না হয় বা তার সাথে কোনোভাবে মানিয়ে চলা সম্ভব না হয়, তবে তাকে বিদায় করে দেওয়া ভালো। এতে তার প্রতি অন্যায় ও তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে।
টিকাঃ
১. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৬১।