📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের ছোটখাটো অপরাধ ক্ষমা করার পরামর্শ দিতেন

📄 তাদের ছোটখাটো অপরাধ ক্ষমা করার পরামর্শ দিতেন


আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন খাত্তাব (রা) বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরজ করলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার একজন খাদিম আছে। সে অপরাধ করে এবং অবিচার করে। আমি কি তাকে মারতে পারব?" [অপর বর্ণনায়: "আমি কতবার তাকে ক্ষমা করব?"] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। লোকটি প্রশ্নটি পুনরায় করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের মতোই চুপ রইলেন। তৃতীয়বার প্রশ্নটি করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তাকে প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে।'¹
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন'- তাঁর চুপ থাকাটা সম্ভবত ওহির অপেক্ষার কারণে ছিল। অথবা, লোকটির প্রশ্ন অপছন্দ করছিলেন বলেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ ছিলেন। কারণ, ক্ষমা করে দেওয়াটা সব সময় মুসতাহাব। তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
'তাকে প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে'-এর দ্বারা অধিকবার ক্ষমা করা বোঝানো হয়েছে; নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য নয়।²

টিকাঃ
১. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৬৪, সুনানুত তিরমিজি: ১৯৪৯, মুসনাদু আহমাদ: ৫৬০৩।
২. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৬/৬৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমকে সম্বোধনে সম্মানজনক শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন

📄 খাদিমকে সম্বোধনে সম্মানজনক শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন


খাদিমদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও করুণা এত ব্যাপক ছিল যে, তিনি তাদের 'আমার গোলাম, আমার বাঁদি' বলে ডাকতে নিষেধ করেছেন। বরং এর পরিবর্তে সম্মানজনক শব্দ 'আমার ছেলে, আমার মেয়ে' বলে সম্বোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'তোমাদের কেউ (নিজের গোলামকে) "আমার গোলাম" বলবে না। কেননা, তোমাদের সবাই আল্লাহর গোলাম। বরং এর স্থলে বলবে, "আমার ছেলে”। অনুরূপভাবে কোনো গোলাম তার মনিবকে "আমার প্রভু” বলবে না। বরং বলবে, "আমার অভিভাবক”।'¹
সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে-
'তোমাদের কেউ যেন না বলে, তোমার প্রভুকে খাবার খাওয়াও, তোমার প্রভুর জন্য অজুর পানি আনো, তোমার প্রভুকে পানি পান করাও। আর যেন (গোলাম-বাঁদিরা তাদের মনিবকে) বলে, আমার মনিব, আমার অভিভাবক। তোমাদের কেউ যেন (তার গোলাম-বাঁদিকে) আমার গোলাম, আমার বাঁদি না বলে। বরং বলবে, আমার ছেলে, আমার মেয়ে, আমার খাদিম।'²
এই হাদিস প্রমাণ করে, গোলাম-বাঁদিকে 'আমার দাস বা আমার দাসী' বলা মাকরুহ। বরং 'আমার খাদিম, আমার খাদিমা বা আমার ছেলে, আমার মেয়ে' বলবে। মনিবকে প্রভু বলে ডাকবে না। কারণ, সত্যিকার দাসত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্যই। এ ছাড়াও এতে মাখলুকের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন করা হয়, যার যোগ্য সে নয়।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২২৪৯।
২. সহিহুল বুখারি: ২৫৫২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিম কাজে দেরি করলে শাস্তি দিতেন না

📄 খাদিম কাজে দেরি করলে শাস্তি দিতেন না


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বাধিক উত্তম চরিত্রের অধিকারী। একদিন তিনি আমাকে কোনো কাজে পাঠালেন। আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি যাব না", কিন্ত আমার অন্তরে ছিল, যে কাজে যাওয়ার জন্য আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, সে কাজে আমি যাবই। তাই আমি বেরিয়ে পড়লাম এবং বাজারে খেলায় রত ছেলেপেলেদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন থেকে এসে আমার ঘাড় ধরলেন।'
আনাস (রা) বলেন, 'আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম। তিনি হাসছিলেন। বললেন, "হে উনাইস, তুমি কি ওখানে গিয়েছিলে, যেখানে তোমাকে যেতে বলেছিলাম?” আমি বললাম, "জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।”'¹

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২৩১০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমের প্রতি খুবই উদার ছিলেন

📄 খাদিমের প্রতি খুবই উদার ছিলেন


আনাস বিন মালিক (রা) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর কোনো খাদিম ছিল না। আবু তালহা (রা) যখন মদিনায় আসলেন, আমার হাত ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমাকে নিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আনাস খুব বিচক্ষণ বালক। তাকে আপনার খাদিম হিসেবে গ্রহণ করুন।"'
আনাস (রা) বলেন, 'এরপর থেকে নয় বছর বা দশ বছর পর্যন্ত ঘরে বা সফরে আমি তাঁর খিদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে "উফ” বলেননি। আমি কোনো (ভুল) কাজ করলে কখনো বলেননি, "তুমি এমন কাজ কেন করেছ?" আর কোনো কাজ না করলে আমাকে বলেননি, "এই কাজ কেন করোনি?"'
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'আমার থেকে কোনো কাজ ছুটে গেলে তিনি কখনো বলেননি, "এটা ছুটে গেছে কেন?"'¹
দশ বছর নিছক কয়েকটি দিন বা মাসের সমষ্টি নয়; বরং অনেক দীর্ঘ একটা সময়। এ সময়ে মানুষের মানসিক অবস্থার কত পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাকে ধমকাননি কিংবা শাসাননি।
লক্ষণীয় বিষয়:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সহনশীলতা, ক্ষমা ও সকল উন্নত গুণাবলির মূর্তপ্রতীক।
খাদিমের কোনো ভুল হয়ে গেলে তাকে শাস্তি না দেওয়া উচিত। কারণ, শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে সে আপনার কথা মানতে চাইবে না।
খাদিমের ভুলের কারণে তাকে শাস্তি না দিয়ে তার মন জয় করে নেওয়া ভালো। তবে শরিয়তের আবশ্যকীয় বিষয়াবলির ক্ষেত্রে অবহেলা করলে ক্ষমা করা যাবে না। কেননা, তখন বিষয়টা সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের আওতায় পড়ে।²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২৭৬৮, সহিহু মুসলিম: ২৩০৯।
২. ফাতহুল বারি: ১০/৪৬০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00