📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করতেন

📄 শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করতেন


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
'কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির লোকের প্রতিপক্ষ হব ১. যে ব্যক্তি আমার নামে কসম করে তা ভঙ্গ করে। ২. যে কোনো আজাদ মানুষকে গোলাম হিসেবে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে। এবং ৩. যে মজুরকে খাটিয়ে তার পুরোপুরি কাজ আদায় করে নেয়, কিন্তু তার মজুরি দেয় না।'¹
ইবনে তিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জালিমের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন। তবে এই তিন শ্রেণির লোকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, তিনি এদের প্রতি অন্যদের তুলনায় বেশি কঠোর হবেন।'
'যে ব্যক্তি আমার নামে কসম করে তা ভঙ্গ করে'- অর্থাৎ কোনো অঙ্গীকার করে তা রক্ষা করার ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম খেল, কিন্তু অঙ্গীকার পূরণ করল না।
'যে মজুরকে খাটিয়ে তার পুরোপুরি কাজ আদায় করে নেয়, কিন্তু তার মজুরি দেয় না'-এটাও স্বাধীন ব্যক্তি বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ, সে বিনিময় ছাড়া তার থেকে উপকার আদায় করে নিয়েছে অথবা বিনিময় ছাড়া তাকে বেগার খাটিয়েছে। নিশ্চয় এটা শ্রমিককে গোলাম বানিয়ে তার মূল্য ভক্ষণ করার নামান্তর।²

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ২২২৭।
২. ফাতহুল বারি: ৬/৩৪৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কিয়ামতের দিন খাদিমদের ওপর কৃত জুলুমের বদলা নেওয়া হবে

📄 কিয়ামতের দিন খাদিমদের ওপর কৃত জুলুমের বদলা নেওয়া হবে


আয়িশা (রা) বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে বসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার কিছু গোলাম আছে। তারা আমার সাথে মিথ্যা বলে, আমার সাথে খিয়ানত করে। আমার নাফরমানি করে। (শাস্তিস্বরূপ) আমি এদের গালমন্দ করি এবং মারধর করি। সুতরাং আমার কাজটি কেমন?" তিনি বললেন:
'তোমার সঙ্গে তারা যে খিয়ানত করেছে, নাফরমানি করেছে এবং মিথ্যা বলেছে-আর তুমি এসবের জন্য তাদের যে শাস্তি দিয়েছ, তা হিসাব করা হবে। তোমার শাস্তি যদি তাদের অপরাধের সমপরিমাণ হয়ে থাকে, তবে তা বরাবর হয়ে গেল, তুমিও কিছু পাবে না এবং তোমার কোনো ক্ষতিও হবে না। আর তোমার শাস্তি যদি এদের অপরাধের চেয়ে কম পরিমাণের হয়, তবে অতিরিক্ত তোমার পাওনা থাকবে। আর তোমার শাস্তি যদি তাদের অপরাধের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে, তবে যা অতিরিক্ত হয়েছে, তোমার নিকট থেকে তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'তখন লোকটি একপাশে সরে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি আল্লাহর কিতাব পাঠ করো না:
'আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট।'¹
লোকটি বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কসম, এদের পৃথক করে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার ও তাদের (কল্যাণের) জন্য অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, এদের সবাই স্বাধীন।"²
আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'যে ব্যক্তি আপন গোলামকে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করল, কিয়ামত দিবসে তার ওপর এই মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু গোলাম যদি সত্যিই অপরাধী হয় (তবে অভিযোগকারী আর শাস্তি পাবে না)।'³

টিকাঃ
১. সুরা আল-আম্বিয়া: ৪৭।
২. সুনানুত তিরমিজি: ৩১৬৫।
৩. সহিহুল বুখারি: ৬৮৫৮, সহিহু মুসলিম: ১৬৬০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের ছোটখাটো অপরাধ ক্ষমা করার পরামর্শ দিতেন

📄 তাদের ছোটখাটো অপরাধ ক্ষমা করার পরামর্শ দিতেন


আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন খাত্তাব (রা) বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরজ করলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার একজন খাদিম আছে। সে অপরাধ করে এবং অবিচার করে। আমি কি তাকে মারতে পারব?" [অপর বর্ণনায়: "আমি কতবার তাকে ক্ষমা করব?"] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। লোকটি প্রশ্নটি পুনরায় করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের মতোই চুপ রইলেন। তৃতীয়বার প্রশ্নটি করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
'তাকে প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে।'¹
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন'- তাঁর চুপ থাকাটা সম্ভবত ওহির অপেক্ষার কারণে ছিল। অথবা, লোকটির প্রশ্ন অপছন্দ করছিলেন বলেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ ছিলেন। কারণ, ক্ষমা করে দেওয়াটা সব সময় মুসতাহাব। তা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
'তাকে প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে'-এর দ্বারা অধিকবার ক্ষমা করা বোঝানো হয়েছে; নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উদ্দেশ্য নয়।²

টিকাঃ
১. সুনানু আবি দাউদ: ৫১৬৪, সুনানুত তিরমিজি: ১৯৪৯, মুসনাদু আহমাদ: ৫৬০৩।
২. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৬/৬৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমকে সম্বোধনে সম্মানজনক শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন

📄 খাদিমকে সম্বোধনে সম্মানজনক শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন


খাদিমদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও করুণা এত ব্যাপক ছিল যে, তিনি তাদের 'আমার গোলাম, আমার বাঁদি' বলে ডাকতে নিষেধ করেছেন। বরং এর পরিবর্তে সম্মানজনক শব্দ 'আমার ছেলে, আমার মেয়ে' বলে সম্বোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'তোমাদের কেউ (নিজের গোলামকে) "আমার গোলাম" বলবে না। কেননা, তোমাদের সবাই আল্লাহর গোলাম। বরং এর স্থলে বলবে, "আমার ছেলে”। অনুরূপভাবে কোনো গোলাম তার মনিবকে "আমার প্রভু” বলবে না। বরং বলবে, "আমার অভিভাবক”।'¹
সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে-
'তোমাদের কেউ যেন না বলে, তোমার প্রভুকে খাবার খাওয়াও, তোমার প্রভুর জন্য অজুর পানি আনো, তোমার প্রভুকে পানি পান করাও। আর যেন (গোলাম-বাঁদিরা তাদের মনিবকে) বলে, আমার মনিব, আমার অভিভাবক। তোমাদের কেউ যেন (তার গোলাম-বাঁদিকে) আমার গোলাম, আমার বাঁদি না বলে। বরং বলবে, আমার ছেলে, আমার মেয়ে, আমার খাদিম।'²
এই হাদিস প্রমাণ করে, গোলাম-বাঁদিকে 'আমার দাস বা আমার দাসী' বলা মাকরুহ। বরং 'আমার খাদিম, আমার খাদিমা বা আমার ছেলে, আমার মেয়ে' বলবে। মনিবকে প্রভু বলে ডাকবে না। কারণ, সত্যিকার দাসত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্যই। এ ছাড়াও এতে মাখলুকের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন করা হয়, যার যোগ্য সে নয়।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ২২৪৯।
২. সহিহুল বুখারি: ২৫৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00