📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমের জানাজা পড়তে না পারলে কবর জিয়ারত করতেন

📄 খাদিমের জানাজা পড়তে না পারলে কবর জিয়ারত করতেন


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, 'জনৈক হাবশি মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতেন। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে না পেয়ে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বললেন, "তিনি মারা গেছেন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা আমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করতে পারতে না?" বর্ণনাকারী বলেন, "আসলে তার মৃত্যুকে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেননি বলে সাহাবিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যাপারে অবহিত করেননি।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে তার কবরের নিকট নিয়ে চলো।” সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁকে তার কবরে নিয়ে গেলেন। তিনি তার জানাজা পড়লেন। অতঃপর বললেন:
"এই কবরসমূহ তার বাসিন্দাদের জন্য অন্ধকারচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু আমি তাদের জানাজা পড়ার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের কবরসমূহকে আলোকিত করে দিয়েছেন।"¹
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'তিনি সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিয়ে বের হলেন, তারপর তার কবরের নিকট দাঁড়িয়ে তাকবির বললেন। মানুষজন তাঁর পেছনে ছিলেন। তারপর তিনি তার জন্য দোয়া করে ফিরে আসলেন।'²
এই মহান নেতার অবস্থা দেখুন! তিনি মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া একজন মহিলার অনুপস্থিতি লক্ষ করেছেন। কী মহান সেই নেতা! কত সুন্দর তাঁর আদর্শ!
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
উম্মাহর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও কোমলতা, তাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করা এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করা।
খাদিম বা বন্ধু অনুপস্থিত থাকলে তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা।
দোয়ার মাধ্যমে উপকারের বিনিময় প্রদান করা।
ভালো মানুষদের জানাজায় অংশগ্রহণের প্রতি উৎসাহ।
সদ্য দাফনকৃত মৃত ব্যক্তির কবরে জানাজা পড়া ওই ব্যক্তির জন্য মুসতাহাব, যে তার জানাজা পড়েনি।
মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ৯৬৫।
২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৫৩৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমদের জন্য দোয়া করতেন

📄 খাদিমদের জন্য দোয়া করতেন


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। তখন ঘরে তিনি, আমি, আমার মা ও আমার খালা উম্মে হারাম (রা) ছাড়া আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, "দাঁড়াও, তোমাদের সাথে নিয়ে আমি নামাজ পড়ব।” অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে (নফল) নামাজ আদায় করলেন। তারপর আমাদের পরিবারের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের দোয়া করলেন। তখন আমার মা বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ আপনার ছোট্ট খাদিম। ওর জন্য দোয়া করুন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য সব ধরনের কল্যাণের দোয়া করলেন। দোয়ার শেষাংশে তিনি বললেন:
'হে আল্লাহ, ওর ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং এতে বরকত দান করুন।'
আনাস (রা) বলেন, (এই দোয়ার বরকতে) "আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী হয়ে উঠলাম। আর আমার মেয়ে উমাইনা আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ (বিন ইউসুফ) বসরা আসার পূর্বেই আমার একশত বিশের অধিক সন্তানসন্ততি মারা গেছে।"¹

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১৯৮২, সহিহু মুসলিম: ৬৬০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাঁর খাদিমদের খোঁজখবর নিতেন

📄 তাঁর খাদিমদের খোঁজখবর নিতেন


বনু মাখজুমের আজাদকৃত দাস জিয়াদ বিন আবু জিয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক খাদিম বা খাদিমা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদিমকে জিজ্ঞেস করতেন, "তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে?"'¹

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১৫৬৪৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমদের সব ইচ্ছা পূরণ করতেন

📄 খাদিমদের সব ইচ্ছা পূরণ করতেন


রাবিআ বিন কাব আসলামি (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রাত্রি যাপন করলাম। তারপর অজু ও প্রয়োজন সারার জন্য পানি এনে দিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "চাও আমার কাছে।” আমি বললাম, "আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই।” তিনি বললেন, "এ ছাড়া অন্য কিছু চাও।” আমি বললাম, "আমি এটাই চাই।” তিনি বললেন, "তাহলে অধিক সিজদার মাধ্যমে তোমার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করো।”'¹
রাবিআ (রা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করতাম এবং সারা দিন তাঁর প্রয়োজন পূরণ করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখতাম। এমনকি যখন তিনি ইশার নামাজ পড়ার পর বাড়িতে প্রবেশ করে দরোজায় দাঁড়াতেন, তখন আমি মনে মনে চাইতাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো প্রয়োজন দেখা দিক (যেন আমি তা পূরণ করতে পারি)। তবে তখন তাঁকে শুধু "সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" বলতে শুনতাম। এতে একসময় আমার বিরক্তি এসে যেত, ফলে আমি ফিরে আসতাম। অথবা আমার চোখ লেগে আসত, ফলে আমি ঘুমিয়ে পড়তাম।'
তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খিদমতের প্রতি আমার আগ্রহ অনুধাবন করতে পারতেন বিধায় একদিন তিনি আমাকে বললেন, "হে রাবিআ, আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দান করব।” আমি বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি একটু ভেবে দেখি, তারপর আপনাকে এ ব্যাপারে জানাব।” এরপর আমি চিন্তাভাবনা করে বুঝতে পারলাম যে, দুনিয়া অস্থায়ী আর এখানে যা রিজিক পাই, তা আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আখিরাতের সফলতা চাইব। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। অতঃপর তাঁর কাছে আসলে তিনি জানতে চাইলেন, কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার কাছে আমি এটা চাই যে, আপনি আপনার প্রভুর কাছে আমার জন্য সুপারিশ করবেন, তিনি যেন আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।” তিনি বললেন, "হে রাবিআ, তোমাকে এটি কে শিখিয়ে দিয়েছে?” আমি বললাম, "সেই সত্তার কসম-যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাবান আপনার মতো মহান ব্যক্তি যখন আমাকে বললেন, "আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দান করব", তখন আমি চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, দুনিয়া যেহেতু অস্থায়ী আর এখানে যা রিজিক পাই, তা আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়-তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আখিরাতের সফলতাই চাইব।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। অতঃপর আমাকে বললেন, "আমি তা করব, তবে অধিক সিজদার (অধিক নামাজ পড়ার) মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা করতে হবে।"²

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ৪৮৯।
২. মুসনাদু আহমাদ: ১৬১৪৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00