📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সামর্থ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দিতে নিষেধ করতেন

📄 সামর্থ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দিতে নিষেধ করতেন


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
'অন্ন ও বস্ত্র গোলামের অধিকার। আর তার ওপর এমন কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, যা তার সাধ্যের বাইরে।'¹
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উলামায়ে কিরাম এই ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, গোলাম বা চাকরকে তার সাধ্যের অধিক কাজ ও দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যদি একান্তই তার প্রয়োজন হয়, তবে নিজে অথবা অন্য কারও মাধ্যমে তার সাহায্য করা আবশ্যক।'²

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ১৬৬২।
২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৩৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 অসুস্থ কাফির খাদিমকেও দেখতে যেতেন

📄 অসুস্থ কাফির খাদিমকেও দেখতে যেতেন


আনাস (রা) বলেন, 'এক ইহুদি বালক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমত করত। একদিন সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার শিয়রে বসে বললেন, "ইসলাম কবুল করো।” বালকটি তার পাশে থাকা পিতার দিকে তাকালে তিনি বললেন, "আবুল কাসিমের কথা মেনে নাও।” তখন বালকটি মুসলমান হয়ে গেল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলতে বলতে সেখান থেকে বের হলেন:
'সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেমে মুক্তি দিয়েছেন।'¹
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদিমদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের দাওয়াত দিয়ে কল্যাণের পথে নিয়ে আসার প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১৩৫৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমের জানাজা পড়তে না পারলে কবর জিয়ারত করতেন

📄 খাদিমের জানাজা পড়তে না পারলে কবর জিয়ারত করতেন


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, 'জনৈক হাবশি মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতেন। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে না পেয়ে তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বললেন, "তিনি মারা গেছেন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা আমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করতে পারতে না?" বর্ণনাকারী বলেন, "আসলে তার মৃত্যুকে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেননি বলে সাহাবিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে ব্যাপারে অবহিত করেননি।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে তার কবরের নিকট নিয়ে চলো।” সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁকে তার কবরে নিয়ে গেলেন। তিনি তার জানাজা পড়লেন। অতঃপর বললেন:
"এই কবরসমূহ তার বাসিন্দাদের জন্য অন্ধকারচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু আমি তাদের জানাজা পড়ার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের কবরসমূহকে আলোকিত করে দিয়েছেন।"¹
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'তিনি সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিয়ে বের হলেন, তারপর তার কবরের নিকট দাঁড়িয়ে তাকবির বললেন। মানুষজন তাঁর পেছনে ছিলেন। তারপর তিনি তার জন্য দোয়া করে ফিরে আসলেন।'²
এই মহান নেতার অবস্থা দেখুন! তিনি মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া একজন মহিলার অনুপস্থিতি লক্ষ করেছেন। কী মহান সেই নেতা! কত সুন্দর তাঁর আদর্শ!
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
উম্মাহর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও কোমলতা, তাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করা এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করা।
খাদিম বা বন্ধু অনুপস্থিত থাকলে তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা।
দোয়ার মাধ্যমে উপকারের বিনিময় প্রদান করা।
ভালো মানুষদের জানাজায় অংশগ্রহণের প্রতি উৎসাহ।
সদ্য দাফনকৃত মৃত ব্যক্তির কবরে জানাজা পড়া ওই ব্যক্তির জন্য মুসতাহাব, যে তার জানাজা পড়েনি।
মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা।

টিকাঃ
১. সহিহু মুসলিম: ৯৬৫।
২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৫৩৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমদের জন্য দোয়া করতেন

📄 খাদিমদের জন্য দোয়া করতেন


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। তখন ঘরে তিনি, আমি, আমার মা ও আমার খালা উম্মে হারাম (রা) ছাড়া আর কেউ ছিল না। তিনি বললেন, "দাঁড়াও, তোমাদের সাথে নিয়ে আমি নামাজ পড়ব।” অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে (নফল) নামাজ আদায় করলেন। তারপর আমাদের পরিবারের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণের দোয়া করলেন। তখন আমার মা বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ আপনার ছোট্ট খাদিম। ওর জন্য দোয়া করুন।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য সব ধরনের কল্যাণের দোয়া করলেন। দোয়ার শেষাংশে তিনি বললেন:
'হে আল্লাহ, ওর ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং এতে বরকত দান করুন।'
আনাস (রা) বলেন, (এই দোয়ার বরকতে) "আমি আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী হয়ে উঠলাম। আর আমার মেয়ে উমাইনা আমাকে জানিয়েছে যে, হাজ্জাজ (বিন ইউসুফ) বসরা আসার পূর্বেই আমার একশত বিশের অধিক সন্তানসন্ততি মারা গেছে।"¹

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ১৯৮২, সহিহু মুসলিম: ৬৬০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00