📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিম ও দাসদের সাথে তাঁর আচরণবিধি

📄 খাদিম ও দাসদের সাথে তাঁর আচরণবিধি


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খাদিমের সাথে এমন স্নেহসুলভ আচরণ করতেন, যা একজন স্নেহশীল পিতা তার সন্তানের সাথে করে এবং একজন মেহেরবান ভাই তার ভাইয়ের সাথে করে। স্নেহ-মমতার ক্ষেত্রে গোলাম, মজদুর ও স্বেচ্ছাসেবী খাদিমের মাঝে কোনোরূপ পার্থক্য করতেন না তিনি। যার ফলে জাইদ বিন হারিসা (রা) তার পিতা ও পরিবারের লোকদের ছেড়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই থেকে গিয়েছিলেন।
ঐতিহাসিকগণ বর্ণনা করেন, জাইদ বিন হারিসা (রা)-এর মা সু'দা বিনতে সা'লাবা জাইদ (রা)-কে সাথে নিয়ে নিজের কওমের সাথে দেখা করতে আসলেন। তখন একদল অশ্বারোহী বনি মাআনের ঘরবাড়িসমূহে হানা দিল। তারা বালক জাইদ (রা)-কে উঠিয়ে নিয়ে গেল। অতঃপর তারা তাকে বিক্রি করার জন্য উকাজ বাজারে তুলল। অতঃপর হাকিম বিন হিজাম (রা) তার ফুফু খাদিজা (রা)-এর জন্য চারশ দিরহাম দিয়ে তাকে ক্রয় করে নিল। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাদিজা (রা)-এর বিয়ে হলে তিনি গোলাম জাইদ (রা)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে হাদিয়া হিসেবে তুলে দিলেন।
তার পিতা হারিসা সন্তান হারিয়ে বিয়োগগাথা গেয়ে বললেন:
বকেয়তু আলা যায়দিন ওয়া লাম আদরি মা ফায়আলা
আহায়য়ুন ফায়ুরজা আম আতা দুনাহুল আজাল
ফাওয়াল্লাহি মা আদরি ওয়া ইন্নি লাসায়িলুন
আগালাকা সাহলুল আরদি আম গালাকাল জাবাল
'জাইদের শোকে আমি কেঁদে চলি নিরন্তর। আমি জানি না, সে কি জীবিত আছে আর আমি তার আশায় দিন গুনব, না মৃত্যু তাকে গ্রাস করে নিয়েছে? আল্লাহর কসম, আমি জানি না। তাই আমি জানতে চাইছি, আমার অনুপস্থিতিতে সমতল ভূমি তাকে শেষ করে দিয়েছে, না পাহাড় তাকে গ্রাস করে নিয়েছে?'
এরপর কালব গোত্রের কিছু মানুষ হজ করতে আসলো। জাইদ (রা)-এর সাথে তাদের দেখা হলো। তারা তাকে চিনল এবং তিনিও তাদের চিনলেন। অতঃপর তিনি তাদের বললেন, 'আমার বাড়ির লোকদের নিকট এই কবিতাটি পাঠিয়ে দিয়ো।
আহিননু ইলা আহলি ওয়া ইন কুনতু নায়িয়ান
বিআন্না ক্বাতিনুল বাইতি ইনদাল মাশায়িরি
ফাকুফফু মিনাল ওয়াজদিল লাজি ক্বাদ শাজা কুম
ওয়া লা তা'মালু ফিল আরদি নাসসাল আবা'ইরি
'যত দূরেই থাকি, পরিবারের প্রতি আমার ভালোবাসা চির অটুট। তবে আমি হজের পবিত্র স্থানের নিকটবর্তী একটি বাড়ির বাসিন্দা। তাই তোমরা আমার ব্যাপারে চিন্তা কোরো না এবং উট হাঁকিয়ে আমায় নিয়ে যেতে এসো না।'
তারা ফিরে গেল। গিয়ে তার পিতাকে তার ব্যাপারে সংবাদ দিল এবং তার বাসস্থানের সার্বিক অবস্থার বিবরণ দিল। তখন পিতা হারিস ও চাচা কাব তার মুক্তিপণ নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা হলো। মক্কায় পৌঁছে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে জানতে চাইল। লোকেরা জানাল, তিনি মসজিদের ভেতর আছেন। ফলে তারা মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেল।
তারা তাঁকে বলল, 'হে আব্দুল মুত্তালিবের বেটা, হে কওমের সর্দারের পুত্র, আপনারা আল্লাহর (ঘরের) প্রতিবেশী। আপনারা বন্দীদের মুক্ত করেন। ক্ষুধার্তদের আহার দান করেন। আমরা আপনার নিকট আমাদের সন্তান ও আপনার গোলামের মুক্তির আবেদন নিয়ে এসেছি, যেন আপনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাকে মুক্তি দান করেন।'
তিনি বললেন, 'এ ছাড়া অন্য পন্থা অবলম্বন করলে কী হয়?' তারা বলল, 'কী সেটা?' তিনি বললেন, 'আমি তাকে ডেকে এনে ইচ্ছাধিকার দান করব। যদি সে তোমাদের সাথে যেতে চায়, তাহলে তা-ই হবে। আর যদি আমার সাথে থাকতে চায়, তাহলে আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি আমাকে বেছে নেয়, আমি তাকে কারও কাছে সোপর্দ করি না।'
তারা বলল, 'আপনি আমাদেরকে অর্ধেকের চেয়ে বেশি দিয়ে দিয়েছেন।'
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'এ দুই ব্যক্তি কে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'ইনি হচ্ছেন আমার পিতা হারিসা বিন শুরাহিল আর ইনি হচ্ছেন আমার চাচা কাব বিন শুরাহিল।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমি তোমাকে স্বাধীনতা দিচ্ছি, তুমি চাইলে এ দুজনের সাথে চলে যেতে পারো, আর চাইলে আমার কাছে থেকে যেতে পারো।'
জাইদ (রা) বললেন, 'আমি বরং আপনার সাথে থাকব।'
তখন তার পিতা বললেন, 'হে জাইদ, তুমি দাসত্বকে স্বাধীনতা, নিজের পিতামাতা, শহর ও কওমের ওপর প্রাধান্য দিচ্ছ!?'
তিনি বললেন, 'আমি এই মহান লোকটির মাঝে যা খুঁজে পেয়েছি-আমি কক্ষনো তাঁর সঙ্গ ছাড়ব না।'
এ কথা বলার সাথে সাথেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরলেন এবং কুরাইশের বড় একটি দলের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, 'তোমরা সাক্ষী থাকো যে, এ হচ্ছে আমার সন্তান। আমরা একে অপরের উত্তরাধিকারী।'
তা দেখে তার পিতার মনও খুশিতে ভরে গেল। সেদিনের পর থেকে জাইদ (রা) নিজেকে জাইদ বিন মুহাম্মাদ হিসেবে পরিচয় দিতেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন:
'তাদেরকে তাদের (আসল) পিতার নাম ধরে ডাকো।'¹-²

টিকাঃ
১. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ৫।
২. তাবাকাতু কুবরা লি-ইবনি সাদ: ৩/৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিম অথবা দাসীর সাথে কোথাও খেতে কুণ্ঠিত হতেন না

📄 খাদিম অথবা দাসীর সাথে কোথাও খেতে কুণ্ঠিত হতেন না


আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, 'মদিনার যেকোনো দাসী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে তাঁকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারত।'¹
অন্য বর্ণনায় আছে, 'যদি মদিনার কোনো ছোটো মেয়ে (দাসী) এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে কোথাও নিয়ে যেতে চাইত, তখন তিনি হাত ছাড়িয়ে নিতেন না; বরং সে যেখানে নিয়ে যেতে চাইছে, সেখানে চলে যেতেন।'²
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এখানে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, কোনো দাসী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার প্রয়োজন পূরণ করিয়ে দেওয়ার আবেদন করলে তিনি তাতে সাড়া দিতে কোনোরূপ কুণ্ঠাবোধ করতেন না। এমনকি, তার প্রয়োজন যদি মদিনার বাইরের কোনো জায়গায় হয়, তিনি সেখানে গিয়ে তার প্রয়োজন মেটাতেন। এটা প্রমাণিত করে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক বিনয়ী ও নম্র ছিলেন এবং সব ধরনের অহংকার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন।'³
ফায়দা: এই হাদিস থেকে বোঝা যায় দাসী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরেছে, অথচ অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো (গাইরে মাহরাম) মহিলার হাত স্পর্শ করেননি-এ বিরোধের নিরসন কী?
উলামায়ে কিরাম এর কয়েকটি উত্তর দিয়েছেন:
১. এখানে হাত ধরার কথা বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অত্যধিক বিনয়-নম্রতা বোঝানো হয়েছে। যেমনটি ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।⁴
২. অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীন মহিলার হুকুমের সাথে দাসীর হুকুমের ভিন্নতা রয়েছে। দাসীকে ক্রয় করা যায়, বিক্রয় করা যায়। এ জন্য গাইরে মাহরাম পুরুষদের সাথে দাসীর পর্দা করা জরুরি নয়।
৩. সম্ভবত ওই দাসী সাবালিকা ছিল না।⁵
মুসনাদে আহমাদের রিওয়ায়াত থেকে তৃতীয় জবাবটি প্রমাণিত হয়।

টিকাঃ
১. মুসনাদু আহমাদ: ১১৫৩০। ইমাম বুখারিও তালিক হিসেবে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাদিস নং: ৬০৭২।
২. মুসনাদু আহমাদ: ১২৩৬৯, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪১৭৭।
৩. ফাতহুল বারি: ১০/৪৯০।
৪. ফাতহুল বারি: ১০/৪৯০।
৫. বলেছেন শাইখ আব্দুল আজিজ আর-রাজিহি। ইসলাম ওয়েব।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদিমদের সঙ্গে খাবার খেতে কুণ্ঠিত হতেন না

📄 খাদিমদের সঙ্গে খাবার খেতে কুণ্ঠিত হতেন না


আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।
'তোমাদের কারও খাদিম যখন তার খাবার নিয়ে আসে, তখন তাকে সাথে বসানো সম্ভব না হলে অন্তত এক-দুই লুকমা খাবার যেন তাকে দিয়ে দেয়। কারণ, সে এর গরম ও ক্লেশ সহ্য করেছে।'¹
সহিহ মুসলিমে হাদিসটি এই শব্দে এসেছে-
'যখন তোমাদের কোনো খাদিম খাবার রান্না করে তার (মনিবের) কাছে নিয়ে আসে। এমন খাবার যার তাপ ও ধোঁয়া সে সহ্য করেছে, তখন তার উচিত হবে, তাকে কাছে বসিয়ে তা থেকে কিছু খাবার প্রদান করা। আর যদি খাবারের পরিমাণ অতি অল্প হয়, তবে সে যেন তার হাতে অন্তত একগ্রাস অথবা দুই গ্রাস খাবার তুলে দেয়।'²
(কারণ, সে এর গরম ও ক্লেশ সহ্য করেছে) অর্থাৎ রান্না করার পূর্বে খাবারের উপাদান সংগ্রহ করার সময় সে কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করেছে এবং চুলায় রান্না চড়িয়ে দেওয়ার পর তার গরম সহ্য করেছে।
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে উন্নত চরিত্র অবলম্বন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও এই হাদিসে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে যে ব্যক্তি খাবার তৈরি করেছে বা খাবার বহন করে এনেছে, তাকে খাবারে শরিক করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ, সে খাবার তৈরি করার সময় আগুন ও ধোঁয়া সহ্য করেছে এবং তার ঝাঁঝালো গন্ধ শুঁকেছে।'³

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৫৪৬০।
২. সহিহু মুসলিম: ১৬৬৩।
৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৩৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 খাদ্য ও বস্ত্রে খাদিম ও মালিকের মাঝে সমতা রক্ষার কথা বলেছেন

📄 খাদ্য ও বস্ত্রে খাদিম ও মালিকের মাঝে সমতা রক্ষার কথা বলেছেন


মারুর বিন সুয়াইদ (রা) বলেন, 'রাবজায় (এলাকার নাম) আবু জার (রা)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তখন তার গায়ে একসেট পোশাক (লুঙ্গি ও চাদর) পরিহিত ছিল এবং তার গোলামের শরীরেও একই মানের পোশাক ছিল। আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:
'আবু জার, তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে এখনো জাহিলি যুগের স্বভাব রয়ে গেছে। জেনে রাখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাআলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার অধীনে তার কোনো ভাই থাকবে, সে যেন নিজে যা খায়, তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের ওপর এমন কাজ চাপিয়ে দিয়ো না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।'¹
'সে যেন নিজে যা খায়, তাকে তা-ই খাওয়ায়'- অর্থাৎ নিজে যে মানের খাবার খায়, সে একই মানের খাবার তাদের খাওয়ায়।²
নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এই হাদিসে মালিক যে মানের খাবার খায় এবং যে মানের পোশাক পরিধান করে, গোলামকেও সে একই মানের খাবার ও পোশাক পরিধান করার যে নির্দেশ এসেছে, এ ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত যে, তা মুসতাহাব, ওয়াজিব নয়। আবু জার (রা) মুসতাহাবের ওপর আমল করেছেন। কারণ, মালিকের ওপর ওয়াজিব হলো, ব্যক্তি ও শহরের নিয়মনীতি অনুযায়ী গোলাম ও খাদিমদের জন্য পরিমিত খাবার ও মানসম্মত পোশাকের ব্যবস্থা করা। তা মালিকের খাবার ও পোশাকের চেয়ে নিম্নমানের হোক বা উচ্চমানের হোক। সুতরাং কোনো মালিক যদি দুনিয়াবিমুখতা বা কৃপণতাবশত তার সমকক্ষদের চেয়ে নিম্নমানের খাবার খায় বা পোশাক পরিধান করে, তখন খাদিম ও গোলামদের সম্মতি ব্যতীত তাদের জন্যও অনুরূপ নিম্নমানের পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করা জায়িজ হবে না।'³
হাদিস থেকে শিক্ষা:
দাস-দাসী ও চাকর-বাকরদের গালিগালাজ করা এবং তাদেরকে তাদের মা-বাবা সম্পর্কে লজ্জা দেওয়া নিষেধ।
মা-বাবা সম্পর্কে কাউকে লজ্জা দেওয়া নিষেধ এবং এটি একটি জাহিলি স্বভাব।
কোনো মুসলমানের মাঝে জাহিলি স্বভাব থাকা উচিত নয়।
দাস-দাসী, খাদিম-খাদিমা ও চাকর-বাকরদের প্রতি অনুগ্রহ করা এবং তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করার প্রতি উৎসাহ।
কোনো মুসলমানের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো ও তাকে অবজ্ঞা করা যাবে না।
সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের গুরুত্ব।
দাস ও খাদিমদের সাথেও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে।⁴

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৩০, সহিহু মুসলিম: ১৬৬১।
২. ফাতহুল বারি: ৫/১৭৪।
৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৩৩।
৪. ফাতহুল বারি: ৫/১৭৫, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00