📄 তিনি সাহাবিদের বিশেষ গুণ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন
প্রত্যেক সাহাবির (রা) মাঝে যে বিশেষ গুণ ও যোগ্যতা ছিল, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করত, সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত ছিলেন। যেমন তিনি ইরশাদ করেন:
أَرْحَمُ أُمَّتِي بِأُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ، وَأَشَدُّهُمْ فِي دِينِ اللَّهُ عُمَرُ، وَأَصْدَقُهُمْ حَيَاءٌ عُثْمَانُ، وَأَقْضَاهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَأَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، وَأَعْلَمُهُمْ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأَفْرَضُهُمْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا، وَأَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الجراح
'আমার উম্মাহর প্রতি সর্বাধিক দয়ালু ব্যক্তি হলো আবু বকর (রা)। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে সর্বাধিক কঠোর ব্যক্তি হলো উমর (রা)। সর্বাধিক লজ্জাশীল ব্যক্তি উসমান (রা)। সবচেয়ে বিচক্ষণ বিচারক আলি বিন আবু তালিব (রা)। সর্বোত্তম কুরআন পাঠকারী উবাই বিন কাব (রা)। হালাল-হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি হলো মুআজ বিন জাবাল (রা)। ফারায়িজ-সম্পর্কিত বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি হলো জাইদ বিন সাবিত (রা)। আর শুনে রাখো, প্রত্যেক উম্মাহর একজন বিশ্বস্ত মানুষ থাকে, আর এই উম্মাহর বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলো আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা)।'
এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক বড় সাহাবিকে (রা) বিশেষ একটি গুণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন যে, উক্ত গুণ সেই সাহাবির (রা) মধ্যে অন্যদের তুলনায় অধিক হারে বিদ্যমান আছে। যেমন: উসমান (রা)-এর মাঝে লজ্জাশীলতা এবং আলি (রা)-এর মাঝে বিচার-ফয়সালার যোগ্যতা ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে আবু জার (রা)-এর ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مَا أَظَلَّتِ الخَضْرَاءُ وَلَا أَقَلَّتِ الغَبْرَاءُ مِنْ ذِي لَهْجَةٍ أَصْدَقَ وَلَا أَوْفَى مِنْ أَبِي ذَرَّ شِبْهِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ
'সত্যভাষণ ও অঙ্গীকার পালনে আবু জারের (রা) চেয়ে উত্তম কোনো ব্যক্তিকে আসমান ছায়া দান করেনি এবং পৃথিবী তার বুকে ধারণ করেনি। ইসা (আ)-এর সঙ্গে তার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।'
তখন উমর (রা) ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে বললেন, 'তার এই গুণের ব্যাপারে কি আপনি সম্যক অবগত?'
তিনি বললেন, 'হাঁ, তোমরাও তা জেনে নাও।'
তিনি আরও বললেন:
وَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى تَوَاضُعِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَلْيَنْظُرْ إِلَى أَبِي ذَرٍّ
'কেউ যদি ইসা (আ)-এর বিনম্রতাকে দেখতে চায়, সে যেন আবু জারকে (রা) দেখে।'
টিকাঃ
৬১০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৭৯০, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১২২৪।
৬১১. মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা ৩২৯৩৩।
📄 তিনি প্রত্যেক সাহাবির বিশেষ গুণের মূল্যায়ন করতেন
তিনি উমর (রা)-এর আত্মমর্যাদাবোধের মূল্যায়ন করেছিলেন। আবু হুরাইরা (রা) বলেন, 'একদা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে ছিলাম। তিনি বললেন:
بَيْنَا أَنَا نَائِمُ رَأَيْتُنِي فِي الجَنَّةِ، فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا القَصْرُ؟ فَقَالُوا: لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا
"আমি যখন ঘুমে ছিলাম, তখন স্বপ্নে নিজেকে আবিষ্কার করলাম জান্নাতে। হঠাৎ দেখতে পেলাম, একটি মেয়ে একটি বালাখানার পাশে অজু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এই বালাখানাটি কার?” তারা বলল, "উমর বিন খাত্তাবের (রা)।" তখন তার আত্মমর্যাদাবোধের কথা মনে পড়ে গেল আমার। তাই (প্রবেশ না করে) ফিরে আসলাম।"
এ কথা শুনে উমর (রা) কেঁদে দিলেন এবং বললেন:
أَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ
"ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি কি আপনার ওপরও আত্মমর্যাদাবোধ দেখাতে যাব?”'
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের (রা) মূল্যায়ন করতেন।
এই হাদিস থেকে উমর (রা)-এর ফজিলত প্রমাণিত হয়।
এই হাদিস থেকে আরও বোঝা যায়, প্রত্যেক মানুষের স্বভাব বিবেচনা করে তার সাথে আচরণ করতে হয়।
অনুরূপভাবে তিনি উসমান (রা)-এর লজ্জাশীলতার মূল্যায়ন করেছিলেন।
আয়িশা (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে শোয়া ছিলেন। তাঁর উরুদ্বয় অথবা পায়ের গোছা অনাবৃত ছিল। এমন সময় আবু বকর (রা) তাঁর কাছে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন এবং পূর্বের অবস্থায় বহাল থেকে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর উমর (রা) অনুমতি চাইলেন। তিনি পূর্বের অবস্থায় বহাল থেকে তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং কথাবার্তা বলতে লাগলেন। অতঃপর উসমান (রা) প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বসলেন এবং কাপড়-চোপড় ঠিক করলেন। তারপর উসমান (রা) প্রবেশ করলেন এবং কথাবার্তা বললেন।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর উসমান (রা) কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রা) বললেন, "আবু বকর (রা) প্রবেশ করলেন, আপনি পরিবর্তিত হলেন না এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করলেন না। উমর (রা) প্রবেশ করলেন, আপনি পরিবর্তিত হলেন না এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করলেন না। কিন্তু উসমান (রা) প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। কেন এমন করলেন?"
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَلَا أَسْتَحِي مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ
"আমি কি সেই ব্যক্তিকে লজ্জা করব না, যাকে ফেরেশতাগণও লজ্জা পান?"'
এই হাদিস থেকে উসমান (রা)-এর ফজিলত প্রমাণিত হয় এবং আরও বোঝা যায় যে, তিনি ফেরেশতাকুলের নিকট অনেক সম্মানিত ছিলেন। সাথে সাথে প্রতীয়মান হয় যে, লজ্জাশীলতা একটি উত্তম গুণ ও ফেরেশতাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
টিকাঃ
৬১২. সহিহুল বুখারি: ৩২৪২, সহিহু মুসলিম: ২৩৯৫।
৬১৩. ফাতহুল বারি: ৭/৪৫, ইবনে বাত্তাল (রহ) কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ৯/৫৪৪।
৬১৪. সহিহু মুসলিম: ২৪০১।
৬১৫. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৮/১৪১।
📄 তাদের উত্তম পরিণামের সুসংবাদ দিতেন
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রা), উমর (রা) ও উসমানকে (রা) সাথে নিয়ে উহুদে আরোহণ করলেন। (আনন্দে) উহুদ নড়তে শুরু করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
اثْبُتْ أُحُدُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيُّ، وَصِدِّيقُ، وَشَهِيدَانِ
"স্থির হও, উহুদ! তোমার ওপর একজন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, একজন সিদ্দিক (আবু বকর রা) ও দুজন শহিদ (উমর রা ও উসমান রা) রয়েছেন।"'
সিদ্দিক হলেন আবু বকর (রা)। আর শহিদদ্বয় হলেন উমর (রা) ও উসমান (রা)। উহুদ চারজন মহান ব্যক্তিকে একসাথে ধারণ করতে পারার গর্বে নড়ে উঠেছিল।
টিকাঃ
৬১৬. সহিহুল বুখারি: ৩৬৭৫।
📄 তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিতেন
আবু মুসা আশআরি (রা) থেকে বর্ণিত যে, 'তিনি একদিন ঘরে অজু করে বের হলেন এবং (মনে মনে স্থির করলেন যে,) আমি আজ সারা দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কাটাব, তাঁকে ছেড়ে কোথাও যাব না।'
তিনি মসজিদে গিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খবর নিলেন। সাহাবিগণ (রা) বললেন, "তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন।" তিনি বলেন, "আমিও ওই পথ ধরে তাঁর অনুগমন করলাম। তাঁর খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। যেতে যেতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিস কূপের (বাগানে) প্রবেশ করলেন। আমি তার দরোজার নিকট বসে পড়লাম। দরোজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর প্রয়োজন (ইসতিনজা) সেরে অজু করলেন, তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম, তিনি আরিস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা'দুটি খুলে কূপের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন।'
আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং ফিরে এসে দরোজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে, আজ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দারোয়ানরূপে (পাহারাদারের) দায়িত্ব পালন করব।'
এ সময় আবু বকর (রা) এসে দরোজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কে?” তিনি বললেন, "আবু বকর (রা)।" আমি বললাম, “থামুন (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি)!" আমি গিয়ে বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর (রা) ভেতরে আসার অনুমতি চাইছেন।' তিনি বললেন:
ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ
"তাকে ভেতরে আসার অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।"
আমি ফিরে এসে আবু বকরকে (রা) বললাম, "ভেতরে আসুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।" তখন তিনি আল্লাহর হামদ পাঠ করলেন।'
আবু বকর (রা) ভেতরে আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানপাশে কূপের কিনারায় বসে দু'পায়ের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ন্যায় কূপের ভেতরে পা ঝুলিয়ে বসে পড়লেন।'
আমি ফিরে এসে (দরোজার পাশে) বসে পড়লাম। আমি যখন ঘর থেকে বের হচ্ছিলাম, তখন আমার ভাই অজু করছিল। তারও আমার সাথে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। তাই আমি (মনে মনে) বলতে লাগলাম, "আল্লাহ যদি তার কল্যাণ চান, তবে তাকে নিয়ে আসুন!"
এমন সময় এক ব্যক্তি দরোজা নাড়তে লাগলেন। আমি বললাম, “কে?” তিনি বললেন, "আমি উমর বিন খাত্তাব (রা)।" আমি বললাম, "অপেক্ষা করুন (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি)।" তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে সালাম পেশ করে আরজ করলাম, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উমর বিন খাত্তাব (রা) (ভেতরে আসার) অনুমতি চাইছেন।" তিনি বললেন:
ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ
"তাকে ভেতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।"
আমি এসে তাঁকে বললাম, "ভেতরে আসুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।" তিনি আল্লাহর হামদ পাঠ করলেন। অতঃপর ভেতরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বামপাশে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে কূপের ভেতরে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে গেলেন।'
আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম, "আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের কল্যাণ চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন।"
এরপর আরেক ব্যক্তি এসে দরোজা নাড়তে লাগলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কে?" তিনি বললেন, "আমি উসমান বিন আফফান (রা)।" আমি বললাম, "থামুন (আমি অনুমতি নিয়ে আসছি)।" তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে গিয়ে জানালাম। তিনি বললেন:
ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ، عَلَى بَلْوَى تُصِيبُهُ
"তাকে ভেতরে আসতে বলো এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। তবে (দুনিয়াতে তার ওপর) কঠিন পরীক্ষা হবে।"
আমি এসে বললাম, "ভেতরে আসুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন; তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে।"
তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন, "আল্লাহই সাহায্যকারী।"
তিনি ভেতরে এসে দেখলেন, কূপের কিনারায় খালি জায়গা নেই। তাই তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন।'
সাইদ বিন মুসাইয়িব (রহ) বলেছেন, 'আমি এর দ্বারা (পরবর্তীকালে) তাঁদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করছি।'
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে কারও মুখোমুখি প্রশংসা করা বৈধ।
আবু বকর (রা), উমর (রা) ও উসমান (রা)-এর ফজিলত এবং তাঁরা জান্নাতি হওয়ার প্রমাণ। পাশাপাশি আবু মুসা আশআরি (রা)-এর ফজিলতও প্রমাণিত হয়।
উসমান (রা)-এর মতো অবস্থার সম্মুখীন হলে 'আল্লাহই সাহায্যকারী' বলা মুসতাহাব।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মুজিজা। কারণ, তিনি উসমান (রা)-এর বিপদ এবং প্রথম সারির তিন সাহাবির (রা) ইমান ও হিদায়াতের ওপর অটল থাকার হুবহু ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
অনুরূপভাবে নির্দিষ্টসংখ্যক সাহাবির (রা) ব্যাপারে তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। যেমন: 'দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবির (রা) হাদিস' নামে প্রসিদ্ধ হাদিসটিতে স্পষ্ট ভাষায় কয়েকজনের নাম বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ، وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ، وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ، وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ فِي الْجَنَّةِ، وَسَعْدُ بْنُ مَالِكٍ فِي الجَنَّةِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ، سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ فِي الْجَنَّةِ
'আবু বকর (রা) জান্নাতি, উমর (রা) জান্নাতি, উসমান (রা) জান্নাতি, আলি (রা) জান্নাতি, তালহা (রা) জান্নাতি, জুবাইর বিন আওয়াম (রা) জান্নাতি, সাদ বিন মালিক (রা) জান্নাতি, আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) জান্নাতি এবং সাইদ বিন জাইদ (রা) জান্নাতি।'
আরেক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
الْحَسَنُ، وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
'হাসান (রা) ও হুসাইন (রা) জান্নাতি যুবকদের নেতা।'
আরেক হাদিসে ইরশাদ করেছেন:
أُرِيتُ الْجَنَّةَ فَرَأَيْتُ امْرَأَةَ أَبِي طَلْحَةَ، ثُمَّ سَمِعْتُ خَشْخَشَةً أَمَانِي فَإِذَا بِلَالُ
'আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে। সেখানে আমি আবু তালহার (রা) স্ত্রীকে দেখেছি। অতঃপর আমার সামনে একজনের পায়ের খসখস আওয়াজ শুনতে পেলাম, হঠাৎ দেখি সে বিলাল (রা)।'
এভাবে হাদিসের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের (রা) সংখ্যা অনেক রয়েছে। তাঁদের সবার নাম বলে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয় বিধায় সবার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
টিকাঃ
৬১৭. সহিহুল বুখারি ৩৬৭৪, সহিহু মুসলিম: ২৪০৩।
৬১৮. ইমাম নববি (রহ) কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/১৭০।
৬১৯. সুনানু আবি দাউদ: ৪২৪৯, সুনানুত তিরমিজি: ৩৭৪৮, সুনানু ইবনি মাজাহ ১৩৪। সাইদ বিন জাইদ (রা) থেকে বর্ণিত।
৬২০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৭৬৮। আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত।
৬২১. সহিহুল বুখারি: ৩৬৭৯;, সহিহু মুসলিম: ২৪৫৭।