📄 বদর যুদ্ধে জনৈক সাহাবির পরামর্শে ছাউনি স্থাপন করেছিলেন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরে পৌঁছে তাতে ছাউনি স্থাপন করলেন। তখন হুবাব বিন মুনজির (রা) বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এই জায়গাটা কি আপনি আল্লাহর নির্দেশেই বাছাই করেছেন, যার থেকে আমরা একচুল এদিক-ওদিক সরতে পারি না, না এটা আপনার নিজের রণকৌশলগত সিদ্ধান্ত?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এটা নেহাত একটা রণকৌশল এবং আমার নিজস্ব চিন্তা।'
হুবাব (রা) বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, জায়গাটি সুবিধার মনে হচ্ছে না। আপনি বরং সৈন্যদলকে এখান থেকে এগিয়ে নিয়ে যান। আমরা ওই কূপের নিকট গিয়ে ছাউনি স্থাপন করব, যা কুরাইশদের অতি নিকটে। এরপর আমরা সেই জায়গার আশপাশে যে কূপ আছে, সেগুলো বন্ধ করে দেবো। অতঃপর সেখানে একটি হাউজ তৈরি করে তাতে পানি ভরে রাখব। পরে যখন আমরা শত্রুদের সাথে লড়াই করব, তখন আমরা পানি পান করতে পারব, কিন্তু ওরা পারবে না।' এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি ঠিকই বলেছ।'
এরপর তিনি সবাইকে নিয়ে উঠলেন এবং কুরাইশদের নিকটে অবস্থিত কূপের কাছে পৌঁছালেন আর সেখানে তাঁবু ফেললেন। তারপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে অন্যান্য কূপ বন্ধ করে দেওয়া হলো। তিনি যে কূপের কাছে তাঁবু ফেললেন, তার কাছে একটি হাউজ তৈরি করে পানি ভরে রাখলেন এবং তাতে পানির পাত্র ফেলে রাখলেন।'
টিকাঃ
৬০৫. সিরাতু ইবনি হিশাম: ৩/১৬৭।
📄 উহুদ যুদ্ধে নিজের রায় থেকে সরে সাহাবিদের রায় গ্রহণ করেছিলেন
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর "জুল-ফাকার" নামক তলোয়ারটি বদর যুদ্ধে গনিমত হিসেবে পেয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধের দিন এটাকে জড়িয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন।'
উহুদের দিন মুশরিকরা যখন আক্রমণ করতে আসলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রায় ছিল, তিনি মদিনায় থেকে তাদের মুকাবিলা করবেন। কিন্তু বদর যুদ্ধে শরিক ছিল না, এমন কতেক লোক বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাদেরকে তাদের ওখানে নিয়ে চলুন, উহুদেই আমরা তাদের সাথে লড়াই করব। এতে আমরা সেই ফজিলত লাভের আশা করছি, যা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ পেয়েছিলেন।"
তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বারবার এই অনুরোধ করতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি বর্ম পরিধান করে নিলেন। কিন্তু যখন তিনি বর্ম পরিধান করলেন, তখন তারা লজ্জিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন, ""ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এখানেই অবস্থান করুন। আপনার রায় অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।" তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
مَا يَنْبَغِي لِنَبِيَّ أَنْ يَضَعَ أَدَاتَهُ بَعْدَ أَنْ لَبِسَهَا، حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَدُوِّهِ
"কোনো নবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্য উচিত নয় যে, তিনি যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে তা শত্রু ও তার মাঝে আল্লাহ তাআলা ফয়সালা করে দেওয়ার পূর্বেই খুলে ফেলবেন।"
আয়িশা (রা)-এর ওপর অপবাদ আরোপের ঘটনায়ও তিনি সাহাবিদের (রা) সাথে পরামর্শ করেছিলেন।
আয়িশা (রা) বলেন, 'আমার সম্পর্কে যখন অপবাদ রটানো হচ্ছিল, অথচ এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না, এমন সময় একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রসঙ্গটি নিয়ে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। অতঃপর প্রথমে তিনি তাশাহুদ পাঠ করলেন এবং আল্লাহর যথাযথ হামদ ও সানা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন:
أَمَّا بَعْدُ: أَشِيرُوا عَلَيَّ فِي أُنَاسٍ أَبَنُوا أَهْلِي وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَأَبَنُوا بِمَنْ وَاللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَلَا دَخَلَ بَيْتِي قَطُّ إِلَّا وَأَنَا حَاضِرٌ وَلَا غِبْتُ فِي سَفَرٍ إِلَّا غَابَ مَعِي
"হামদ ও সালাতের পর এইসব লোকের ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও, যারা আমার স্ত্রী সম্পর্কে অপবাদ রটাচ্ছে। অথচ আল্লাহর কসম, আমার স্ত্রীর ব্যাপারে কখনো মন্দ কিছু আমি জানি না। এরা এমন মানুষকে জড়িয়ে অপবাদ রটাচ্ছে, আল্লাহর কসম, তার সম্পর্কেও আমি মন্দ বলতে কখনো কিছু জানি না। আর আমার উপস্থিতি ব্যতীত সে আমার ঘরে কোনোদিন আসেনি। কোনো সফরে যাওয়ার কারণে আমি যখন অনুপস্থিত থেকেছি, সেও আমার সঙ্গেই অনুপস্থিত থেকেছে।"'
টিকাঃ
৬০৬. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২৫৮৮।
৬০৭. সুনানুত তিরমিজি: ৩১৮০।
📄 সাহাবিদের দুঃখ-কষ্টের খেয়াল রাখতেন
এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ (রা) ইসলামের জন্য অনেক দুঃসহ কষ্ট সহ্য করেছেন। বিশেষ করে যাঁরা একদম শুরুর দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা কঠিন দুঃখ-দুর্দশাময় একটি জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। এই যেমন মুসআব বিন উমাইর (রা)। তিনি পার্থিব ভোগবিলাস ও চাকচিক্য পরিত্যাগ করে এবং মমতাময়ী মা ও পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হিজরত করেছিলেন।
মুহাম্মদ বিন কাব কুরাজি (রহ) বলেন, 'আলিকে (রা) বলতে শুনেছেন এমন এক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আলি বিন আবু তালিব (রা) বলেন, "আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘর থেকে বের হলাম। এর পূর্বে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। তখন আমি খুবই ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে কোনো খাবার থাকলে আমি খেয়ে নিতাম। আমি খাবারের সন্ধানে বের হলাম। জনৈক ইহুদির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে চরকির সাহায্যে বাগানে পানি সেচ করছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে বলল, "হে বেদুইন, কী চাও? প্রতি বালতির বিনিময়ে তুমি একটি খেজুর পাবে-আমাকে পানি তুলে দেবে?" আমি বললাম, “ঠিক আছে। দরোজা খোলো, আমি ভেতরে আসি।" সে দরোজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। সে আমাকে বালতি দিল। প্রতি বালতি পানি তুলতেই সে আমাকে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। এভাবে আমার মুঠি খেজুরে ভরে গেল। তারপর বালতি রেখে দিয়ে তাকে বললাম, "আমার যথেষ্ট হয়েছে।" এরপর খেজুর খেয়ে পানি পান করলাম এবং মসজিদে চলে এলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম।'
আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় চামড়ার তালিযুক্ত একটি ছেঁড়া চাদর গায়ে জড়িয়ে মুসআব বিন উমাইর (রা) এসে আমাদের সামনে হাজির হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বর্তমান করুণ অবস্থা দেখে এবং তাঁর পূর্বের সচ্ছল অবস্থার কথা মনে করে কেঁদে ফেললেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدًا أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ وَرَاحَ فِي حُلَّةٍ وَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ صَحْفَةٌ وَرُفِعَتْ أُخْرَى وَسَتَرْتُمْ بُيُوتَكُمْ كَمَا تُسْتَرُ الكَعْبَةُ؟
"সে সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া পোশাক পরবে আর বিকেলে পরবে আরেক জোড়া। আর তার সামনে খাদ্যভর্তি একটি পেয়ালা রাখা হবে আর অন্যটি উঠিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা তোমাদের ঘরগুলো এমনভাবে পর্দায় ঢেকে রাখবে, যেভাবে কাবা ঘরকে গিলাফে ঢেকে রাখা হয়?"
সাহাবিগণ (রা) আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা তো তখন বর্তমানের চাইতে অনেক ভালো থাকব। বিপদাপদ ও অভাব-অনটন হতে নিরাপদ থাকব। ফলে ইবাদত-বন্দেগির জন্য যথেষ্ট অবসর পাব।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
لأَنْتُمُ اليَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ
"না, সেদিনের তুলনায় তোমরা আজ অনেক ভালো আছ।"'
টিকাঃ
৬০৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৪৭২, ২৪৭৩।
📄 বিশেষ কারণে অনুদানে না দিলে অন্য উপায়ে তাদের মন জয় করে নিতেন
আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ ও আরবের অন্যান্য গোত্রকে বড় অঙ্কের অনুদান দিলেন, কিন্তু আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে আনসাররা (রা) মনে মনে কষ্ট পেলেন, এমনকি তাঁদের মাঝে এর প্রতি আপত্তিসুলভ কথাবার্তাও শুরু হয়ে গেল। তাঁদের একজন তো বলেই বসলেন যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বজনপ্রীতি করেছেন।"
এমন পরিস্থিতিতে সাদ বিন উবাদা (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এই লোকদের (আনসারদের) মনে আপনার প্রতি অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে যে, আপনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে আপনার নিজের কওমকে দিয়েছেন এবং এর বিরাট অংশ আরবের বিভিন্ন কবিলার মাঝেও বণ্টন করেছেন, কিন্তু আনসারদের জন্য কোনো অংশ রাখেননি।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে সাদ, এ সম্পর্কে তোমার অবস্থান কী?"
সাদ (রা) বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমিও তো আমার কওমের একজন সদস্য। আমার অবস্থান কি ভিন্ন হতে পারে?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কওমকে হাদিরায় (সংরক্ষিত প্রাঙ্গণ) একত্রিত করো।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর সাদ (রা) বের হয়ে লোকদের ওই প্রাঙ্গণে একত্র করলেন। সেখানে কিছু মুহাজিরও (রা) একত্রিত হলে সাদ (রা) বাধা দিলেন না। কিন্তু পরে আরও কিছু মুহাজির (রা) আসতে চাইলে তিনি তাদের বাধা দিলেন।'
অতঃপর সবাই যখন একত্রিত হলো, তখন সাদ (রা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "আপনার জন্য আনসারদের একত্র করেছি।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে আসলেন এবং আল্লাহর যথাযথ হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন:
"হে আনসার সম্প্রদায়, আমি এসব কী শুনতে পাচ্ছি যে, তোমরা নাকি মনের ভেতর এমন আপত্তি ধারণ করে আছ? আমি কি এমন অবস্থায় তোমাদের নিকট আসিনি, যখন তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের হিদায়াত দান করেছেন; তোমরা নিঃস্ব ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রাচুর্য দান করেছেন; তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছেন?"
তাঁরা বললেন, "সত্যিই, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দয়ালু ও মেহেরবান।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি আমার প্রস্তাবে সাড়া দেবে না?"
তাঁরা বললেন, "আমরা কীভাবে সাড়া না দিয়ে পারি, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি কত দয়া করেছেন?"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহর কসম, যদি তোমরা বলো যে, "আপনি অন্যদের কাছে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন, আমরা আপনাকে সত্যায়ন করেছি; আপনি লাঞ্ছিত হয়ে এসেছিলেন, আমরা আপনাকে সহযোগিতা করেছি; আপনি বিতাড়িত হয়ে এসেছিলেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি; আপনি নিঃস্ব অবস্থায় এসেছিলেন, আমরা আপনাকে প্রাচুর্য দান করেছি"-তাহলে তোমাদের কথা পুরোপুরি সত্য হবে। কিন্তু হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা কি দুনিয়ার সম্পদ না পাওয়ার দুঃখে মনের ভেতর অভিযোগ লালন করবে, যে সম্পদের মাধ্যমে আমি তাদের অন্তরসমূহকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছি, যেন তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং তোমাদের ক্ষেত্রে তোমাদের ইসলামের ওপর ভরসা করেছি?
সেই সত্তার শপথ-যার হাতে মুহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণ, যদি হিজরত না হতো, তাহলে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি লোকেরা এক পথ দিয়ে চলে এবং আনসাররা অন্য পথ দিয়ে চলে, তখন আমি অবশ্যই আনসারদের পথ দিয়ে চলব। হে আল্লাহ, আপনি আনসারদের প্রতি রহম করুন। তাঁদের সন্তানদের প্রতি রহম করুন। তাঁদের সন্তানদের সন্তানদের প্রতি রহম করুন।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে তাঁরা এমনভাবে কাঁদলেন যে, তাঁদের দাড়ি ভিজে গেল। তারা বললেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বণ্টন করেছেন, তার ওপর আমরা সন্তুষ্ট।"
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন এবং আমরাও যে যার মতো চলে গেলাম।'
টিকাঃ
৬০৯. মুসনাদু আহমাদ: ১১৩২২।